প্রাচীনকালে বর্তমান চট্টগ্রামের অধিকাংশ অঞ্চল ঘন বনে আবৃত ছিল। কয়েকটি যাযাবর উপজাতি ছাড়া ওই এলাকায় কোনো বড় মানব বসতি ছিল না। যারা বসতির জন্য নতুন এলাকা খুঁজছিলেন সেসব সুফি প্রচারকদের জন্য এটি ছিলো একটি সুবর্ণ সুযোগ সেখানে বসতি স্থাপনের। হযরত বদর শাহ নামে একজন সুফি সাধক এই কথা মাথায় রেখে কর্ণফুলী নদীর তীর ঘুরে দেখতে চেয়েছিলেন। তার অনুসারীরা তাকে এই অঞ্চলে লুকিয়ে থাকা প্রাকৃতিক এবং অতিপ্রাকৃত উভয় ধরনের ভয়ংকর সব প্রাণীর গল্প সম্পর্কে সতর্ক করেছিল। কিন্তু বদর শাহ তাদের কথায় কান দেন নি। তখন তিনি একটি বড় পাথরের উপর পা রাখেন এবং তার জাদুশক্তি ব্যবহার করলে এটি জলে ভাসতে থাকে এবং সেই পাথরের উপর ভর করে তিনি নদী পার হন।
আস্তে আস্তে সন্ধ্যা নামতে শুরু করে, তখন বদর শাহ- এর মনে সন্দেহ জাগে যে তাকে অনুসরণ করা হচ্ছে। কিন্তু একজন বিশ্বাসী মানুষ হবার কারণে, তিনি নিশ্চিত ছিলেন যে আল্লাহ তাকে কখনই ক্ষতির দিকে নিয়ে যাবেন না। তিনি সেখানে রাতে থামার সিদ্ধান্ত নেন এবং একটি পাহাড়ে উঠে তার তাঁবু স্থাপন করেন। মাঝরাতে, সাদা পোশাক পরা একদল লোক তার তাঁবুতে প্রবেশ করে, তাকে অপহরণ করে এবং তাকে তাদের নেতার কাছে নিয়ে যায়। আসলে এরা কোন সাধারণ মানুষ ছিল না, তারা ছিল স্থানীয় অশরীরী জ্বীন। আর তাদের নেতা ছিলেন স্বয়ং জ্বীন বাদশা।
“তুমি কে?”,- চিৎকার করে বলল জ্বীনদের রাজা। “মহারাজ, আমি আরবের বদর শাহ এবং আমি এই দেশে বসতি স্থাপন করতে এসেছি।” এই দুঃসাহসী জবাবে রাজা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠলেন। “চুপচাপ এখান থেকে চলে যাও, এই বন হলো জ্বীনদের আধিপত্য। এখানে মানুষকে স্বাগত জানানো হয় না।” রাজার ক্রোধ দেখে সাধু পিছু হটলেন এবং বললেন, “আমি বিনা অনুমতিতে প্রবেশের জন্য ক্ষমাপ্রার্থী। আপনি কি আমাকে শুধু আজকের রাত টা এখানে ঘুমাতে দিবেন(বিনীত সুরে বললেন)? আমি অনেক দূর দেশ থেকে ভ্রমণ করে এসেছি এবং এখন বড়ই ক্লান্ত। আপনার এই দয়ার আমি চিরকাল প্রশংসা করব। ” জ্বীন বাদশা তার বন্দীকে আরও অপমান করতে চেয়েছিল কিন্তু তিনি বললেন, “ঠিক আছে, আমি তোমাকে এক রাত থাকার অনুমতি দিচ্ছি। কিন্তু তুমি কেবল একটি প্রদীপ জ্বালিয়ে সেই আলোকিত স্থানে ঘুমাতে পারবে।” বদর শাহ তখন পাহাড়ের কিনারায় চলে গেলেন। তার ব্যাগ থেকে একটি মাটির প্রদীপ বের করে জ্বালিয়ে দিলেন। সেই মুহুর্তে, সেই একটি মাটির প্রদীপের এতো আলো হয় যে, সমগ্র পর্বতকেই আলোকিত করে ফেলে। আলোক রশ্মি এতই শক্তিশালী ছিল যে তা দ্বারা জ্বীনের চামড়া গলে যায় পরিদের ডানা পুড়ে যায়। ঐশ্বরিক আলো সহ্য করতে না পেরে সমগ্র জ্বীন গোত্র তৎক্ষণাৎ এলাকা ছেড়ে বনে চলে যায়। কথিত আছে, বদর শাহের প্রদীপের আলো কয়েক শত কিলোমিটার দূর থেকে দেখা যেত। কৌতূহলের বশবর্তী হয়ে একদল লোক পাহাড়ের কাছে আসে এবং জ্বীন চলে যাওয়ার খবর পেয়ে তারা এই এলাকায় প্রথম গ্রাম প্রতিষ্ঠার সাহস পায়।
স্থানীয়রা একটি মাটির প্রদীপ বোঝাতে “চাটি” (চাটি) শব্দটি ব্যবহার করে। তাই প্রথমে গ্রামটি চাটিগ্রাম (চাটিগ্রাম) নামে পরিচিতি লাভ করে। সময়ের সাথে সাথে, এই নামটি তার বর্তমান রূপ “চট্টগ্রাম” (চট্টগ্রাম) এ পরিণত হয়েছে।