এক রাজ্যে বাস করতো চার বন্ধু। তারা সকলেই ছিল বড় বড় লোকের ছেলে। রাজপুত্র, উজিরপুত্র, নাজিপুত্র ও কোটালপুত্র। সারাদিন তারা একসাথে হাসেখেলে আর ফূর্তি করে বেড়ায়। পড়ালেখায় কারোরই মন নেই। ছেলেরা বখে যাচ্ছে দেখে তাদের মায়েরা একদিন ভাতের পাতে ছাই দিয়ে দিল। সেই দেখে চার বন্ধু মনের দুঃখে দেশ ছেড়ে চলে গেল। তবে তারা একা গেল না , রাজার আস্তাবল থেকে চারটি শক্তপোক্ত ঘোড়াও সঙ্গে নিল। যেতে যেতে তারা গিয়ে পৌঁছালো এক গহীন বনে।
বনের মধ্যে এদিক-ওদিক তারা খাবার খোঁজে, কিন্তু কোথাও কিছু নেই। এরই মাঝে একটা মরা হরিণের ঘাড়টাড়সহ মাথা পড়ে ছিল সামনে। ওখানা দেখে রাজপুত্র বললো, “যা আছে কপালে, আমরা ওই হরিণের মাংসই রেঁধে খাব।” যে-ই কথা, সে-ই কাজ। রান্নার বন্দোবস্ত করার একেক কাজ পড়লো একেকজনের উপর। রাজপুত্র যাবে আগুন আনতে, সেই আগুন দিয়ে উজিরপুত্র উনুনে রান্না চড়াবে। নাজিরপুত্র চালের সন্ধান করবে তো কোটালপুত্র যোগাড় করবে যাবতীয় মশলাপাতি।
এই বন্দোবস্ত হয়ে যখন তিনজন তিনদিকে গেল, তখন উজিরপুত্র ভাবলো, মাংস কেটেকুটে রাখি। সবাই এলে রান্না চড়াব। এই ভেবে সে যখনই কোপ বসিয়েছে হরিণের গায়ে, তখনই এক বিকটদর্শন রাক্ষসী বের হয়ে উজিরের ছেলেকে গপগপ করে খেয়ে ফেললো। একটু হাড়কুটেও পড়ে রইল না। তারপর আবার আগের মতো পড়ে থাকলো হরিণের মাথাখানা। এক এক করে কোটালপুত্র আর নাজিরপুত্রও এই হরিণরূপী রাক্ষসের পেটে গেল। বাকি ছিল শুধু রাজার পুত। সে ঘটনাখানা দূর থেকে দেখে ঘোড়া নিয়ে দিল ছুট- এক ছুটে গিয়ে বেলগাছের সামনে পড়লো। বেলগাছকে সে বললো, “যদি সত্যি বেলের গাছ হও- তবে ফেটে দুভাগ হয়ে যাও।” বেলগাছ ফেটে গেল, ওর মধ্যে গিয়ে রাজপুত্র আশ্রয় নিল। এরপর আবার গাছ জোড়া লেগে গেল। ওদিকে গাছের বাইরে থাকা রাজার ঘোড়াটিকে রাক্ষসী এসে কচমচ করে চিবিয়ে খেল।
এরপরও কি আর রাক্ষসীর খিদে মেটে? সে কী করলো- তক্ষুনি এক রূপসী কন্যার রূপ ধরে সেই বেলগাছের তলায় বসে হাউমাউ করে কাঁদতে লাগলো। সেই সময় সেই জঙ্গল দিয়ে যাচ্ছিল এক মহাপরাক্রমশালী বাদশা। বাদশাদের সেকালে বড় শিকারের শখ ছিল, তাই শিকারের জন্যই জঙ্গলে গেছিলেন তিনি। কিন্তু ভাগ্যের কী পরিহাস- শিকার করতে গিয়ে নিজেই পড়লেন রাক্ষসীর ফাঁদে। বাদশাকে দেখে রাক্ষসী ইনিয়ে-বিনিয়ে কেঁদে বললো, “বাদশার বড় দয়া! আমার ইহকূলে কেউ নাই। একদিন সবই ছিল। সবাইকে এক দুষ্টু রাক্ষসী খেয়ে ফেলেছে। শেষমেশ আমার এক ভাই ছিল- সে এখন এই গাছের মধ্যে। আপনি এই গাছখানা কেটে আমার ভাইকে বের করে দিন।” রাক্ষসীর রূপ দেখে বাদশার মন গলে গেল। তিনি বড় নরম সুরে বললেন, “আহা সুন্দরী তুমি চিন্তা কেন করো! আমি এক্ষুনি এই গাছ কেটে দিচ্ছি। কিন্তু তুমি এই বনে একা কী করবে, চলো আমার সঙ্গে- বাদশাহের বেগম হয়ে থাকবে।”
এইসব কথা শুনে বেলগাছের ভেতর থেকে রাজপুত্র ভয়ে শেষ। তখন সে ফন্দি করে সেই গাছের একেবারে উপরের ডালে থাকা বেলকে বললো, “যদি হয়ে থাকিস ফল- আমাকে লুকাবি কি না বল।” এই বলতেই বেল দুই ভাগ হয়ে রাজপুত্রকে লুকিয়ে ফেললো। সেই বেল টুপ করে নদীর জলে পড়লো আর ওদিকে গাছ কেটেও রাক্ষসী কাউকে পেল না।
জলে ভাসতে ভাসতে বেল গিয়ে ঢুকলো বোয়ালমাছের পেটে। সেই বোয়াল ধরে নিয়ে গেল সেই বাদশারই রাজ্যের এক জেলে। জেলেনি যখন মাছ কুটতে বসলো, তক্ষুনি বোয়ালের পেট থেকে বেরিয়ে এলো সুদর্শন রাজপুত্র। রাজপুত্র বের হয়ে জেলে-জেলেনিকে সব কথা খুলে বললো, কিচ্ছুটি বাদ দিল না। এসব কথা শুনে তারাও মিলিয়ে দেখলো, সত্যিই তো তাদের বাদশার বেগম রাক্ষসীই তো। কারণ এই বেগম আসার পর থেকে রাজ্যের হাতি-ঘোড়া-মহিষ, এমনকি মানুষও দিনের পর দিন শুধু লাপাত্তা হয়ে যায়। নিশ্চয়ই সবাইকে ওই রাক্ষসীই খেয়েছে!
তারা সকলে মিলে ফন্দি করলো, বাদশাকে এই কথাটা জানাতে হবে। কিন্তু রাক্ষসীদের প্রাণ তো থাকে ভোমরা কিংবা পক্ষীর মধ্যে। নিশ্চয়ই সে বস্তুটি রাক্ষসীর রাজ্যে সহি-সালামতে আছে। সেইখানা হাতে না এলে কিছুতেই কোনো লাভ হবে না। তাই রাজপুত্র ভিনদেশী সাজ ধরে বাদশার কাছে গিয়ে বললো, “বাদশাহসালা, আমি বেগমের দেশের মানুষ। এসেছি কোহকাফ নগর থেকে। বেগমকে গিয়ে বলুন, যদি দেশে কোনো খবর পাঠাতে হয়!” এই কথা শুনে রাক্ষসী তো খুশিতে টগবগ! সে তখন বলে পাঠালো, “কোহকাফবাসী মুসাফিরকে বলে দাও, সে যেন আমার বোনের কাছ থেকে আমার প্রিয় পাখিটি নিয়ে আসে।” এই কথা শুনে রাজপুত্র বেমালুম বুঝে গেল, সেই পাখির মধ্যেই আছে তবে রাক্ষসীর প্রাণ!
রাক্ষসীর বোন ছোট রাক্ষসীর কাছে যখন ভিনদেশী রাজপুত্র পাখিটি চাইলো, তখন সে দিল আরেক পরীক্ষা-
“সত্যই যদি আমার বোন তোমায় পাঠায়, তবে খেয়ে দেখাও এই লোহার কালাই
দেখতে চাই তোমার শরীর কেমন মজবুত, আছে নাকি কোনো রোগ-বালাই!”
রাক্ষসদের রীতিনীতি জেনেই তবে রাজপুত্র এসেছে। সে এই লোহার কালাই খাওয়ার নিয়মটিও জানতো। রাক্ষসদের দেশে কেউ নতুন গেলে, তার শক্তি পরীক্ষার জন্য কাজটি করা হয়। তাই রাজপুত্র আগে থেকেই কিছু কালাই নিয়ে গেছিল। ছোট রাক্ষসীর চোখ ফাঁকি দিয়ে তাই সে লোহার কালাইগুলো ফেলে দিয়ে তার নিয়ে আসা কালাই খেতে লাগলো। তখন আর কোনো সন্দেহ রইলো না। রাজপুত্র পেয়ে গেল বেগম-রাক্ষসীর প্রাণপক্ষী।
এরপর আর কী, সে তক্ষুনি আর দেরি না করে চলে গেল বাদশার কাছে। সব কথা খুলে বললো। বাদশা প্রমাণ চাইতেই সে খাঁচার মধ্যে দেখালো প্রাণপক্ষীটিকে। এক এক করে সে প্রাণপক্ষীর পা ছিঁড়লো, ডানা ছিঁড়লো। আর ওদিকে বেগমের অবস্থা নাজেহাল, মাটিতে হামাগুড়ি দিয়ে হাঁটছে আর প্রাণভিক্ষা চাইছে।
এইমতো ভয় দেখিয়ে এক এক করে নিজের তিন বন্ধুকে রাক্ষসীর পেট থেকে উদ্ধার করলো রাজপুত্র। এরপর বাদশার আদেশে সেই দুষ্টু, ছলনাময়ী রাক্ষসীকে সে হত্যা করলো। রাজপুত্রের নিজের রাজ্যের উপর অনেক দুঃখ। তাই সে এ দেশের বাদশার ছেলে হয়ে থেকে গেল, সঙ্গে রইলো তার তিন বন্ধু- উজিরপুত্র, নাজিরপুত্র আর কোটালপুত্র। তারা সকলেও বাদশার রাজ্যে ভালো ভালো চাকরি পেল। বন্ধুরা নতুন বাদশাহীতে বেশ সুখে-শান্তিতে দিন কাটাতে লাগলো। এর মধ্যে একদিন বাদশার খেয়াল হলো, পালক ছেলের বিয়ে দেওয়া দরকার- কিন্তু মেয়ে খোঁজার কাজ করবে কে?
বাদশা দেশ-বিদেশে খবর করে দিলেন, ছেলের জন্য পাত্রী চাই। পাত্রী কেমন চাই? তারও একটা নমুনা বললো রাজপুত্র। বন্ধু উজিরপুত্রকে একটি কাঁইচের (কুঁচ) গোটা দেখিয়ে বললো-
“কন্যা হবে এমনই কুঁচবরণ,
কেশ কালো- করবে মন হরণ।”
উজিরপুত্র তক্ষুনি সেই কুঁচ গোটা নিয়ে বেরিয়ে পড়লো এই রাজ্য থেকে ওই রাজ্যে। কন্যা চাই কুঁচবরণ- টুকটুকে লাল। আর চুল হবে তার কুঁচের মধ্যে থাকা কালো দাগের মতো কুচকুচে কালো। বন্ধুর জন্য উজিরের ছেলে প্রাণও দিতে পারে, তা তার জন্য বউ খুঁজতে পারবে না? এতশত দেশ খুঁজেও যখন কন্যার হদিস পেল না, তখন সে মন খারাপ করে এক নাম না জানা নদীর ধারে বসে থাকলো। নদীর ধারে বসে হঠাৎ করে তার নজরে পড়লো, কোত্থেকে যেন নদীর ভাঁটিয়াল ঢেউয়ে করে ভেসে আসছে লাল রঙ। দেখে রক্ত বলে ভুল হয়। তখন সে গাঁয়ের লোককে জিজ্ঞেস করলো, “নদীর জল এত লাল কেন ভাই?” তখন সে উত্তর পেলো,
“নদীর উজানে আছে দেশ এক- নাম সোনাপুর।
সেই দেশেতে বাস করে কুঁচবরণ কন্যা
কন্যার দেহের লাল যখন ভেসে আসে দূর-
নদীর জলে হয়ে গেল লালেরই এক বন্যা।”
এই কথা শুনে উজিরপুত্র আর দেরি করলো না। তখনই সে বন্ধুকে নিয়ে রওনা দিল সোনাপুরে। সেখানে গিয়ে কুঁচবরণ কন্যার কন্যার সাথে দেখা হলো রাজপুত্রের। ওদিকে বাদশার মহলে বিয়ের ধুম পড়ে গেল। চারদিকে রোশনাই- আজ যে বাদশার নতুন পালক ছেলের বিয়ে!
বিয়ে খুব ভালোমতোই হলো। বিয়ের রাতে বন্ধুর ঘরের বাইরে পাহারায় বসে ছিল বিশ্বস্ত উজিরপুত্র। রাত তখন অনেক। সে বসে বসে নিজের মনে পুরনো কথা ভাবছে- এমন সময় কোত্থেকে শুনতে পেল পাশের গাছে দুই বেঙ্গমা-বেঙ্গমির গল্প। কথায় আছে, বেঙ্গমা-বেঙ্গমীরা নাকি ভবিষ্যতের কথা আগে থেকেই জেনে ফেলে। তাইতো উজিরপুত্র মন দিয়ে তাদের কথা শুনতে থাকলো।
বেঙ্গমী: বাহ কী মজা! আজ বাদশার ছেলের বিয়ে। কন্যাও যে কী রূপসী- একেবারে কুঁচবরণ কন্যা।
বেঙ্গমা: ওতে আর মজার কী আছে? আজই বাদশার ছেলের প্রাণ যাবে এক অজগরের হাতে। ভাগ্যে তাই লেখা আছে।
বেঙ্গমী: ও কী গো! তাহলে উপায়?
বেঙ্গমা: উপায় আর কী, উপায় যা আছে তা না হওয়ার মতোই।
বেঙ্গমী: তাও বলো না।
বেঙ্গমা: তবে শোনো মন দিয়ে। যদি কোনো বিশ্বস্ত বন্ধু রাত ঠিক দুইটার সময় ভাঙা মন্দিরের উঠানে সাপটা বের হয়ে আসলে তলোয়ারের এক ঘায়ে তাকে মেরে ফেলে, আর সেই রক্ত যদি বাদশার ছেলের নজরে না পড়ে- তবে সে বেঁচে যাবে।
বেঙ্গমী: রক্ত নজরে পড়লে কী হবে?
বেঙ্গমা: এই রক্ত চোখে দেখলেও বাদশার ছেলে মারা যাবে। আর এসব কথা জেনে যদি সেই বন্ধুটি অন্য কাউকে কিছু জানায়, তক্ষুনি সে পাথর হয়ে যাবে।
বেঙ্গমী: আহা বেচারা! পাথর থেকে বেঁচে উঠবে কী করে?
বেঙ্গমা: সে বড় দুঃখের কথা। বাদশার প্রথম নাতির রক্ত তার গায়ে মাখাতে হবে।
বেঙ্গমী: আহা রে! সে ছেলে কি আর বাঁচবে না কখনো?
বেঙ্গমা: বাঁচা মুশকিল। তবে একটা উপায় আছে।
কোহকাফ পাহাড়ের মধ্যে একখানা জাদুর কুয়া আছে। সেই কুয়ায় একটা একটা করে তিনটা ঢিল ছুঁড়লে সেখানে ধোঁয়ার জাল থেকে আসবে এক পক্ষিরাজের ছানা। সেই ছানায় উপর চড়ে পরীর দেশে যাওয়া যায়। সেই কুয়ার জল যদি ছিটিয়ে দেয়া যায় বাদশার নাতির গায়ে- সে নিশ্চয়ই বেঁচে উঠবে।
বেঙ্গমা-বেঙ্গমীর এসব কথা শুনে উজিরের ছেলে ভয়ে ঠকঠক কাঁপে। বন্ধুকে বাঁচানো তার দায়িত্ব। তাই ভয় পেলেও সে রাত দুইটার সময় মন্দিরের উঠানে আসে। সাপটা যখনই ছোবল তোলে, তাকে এক ঘায়ে মেরে ফেলে। সে অজগর এতটাই লম্বা ছিল যে তাকে কেটে বহু টুকরো করতে করতে অজগরের শরীরটা গিয়ে ঠেকে একেবারে বাদশার ছেলের বাসরঘরে। সব রক্তই উজিরপুত্র সাফ করে ফেলে, কিন্তু হঠাৎ তাকিয়ে দেখে কোত্থেকে যেন এক ফোঁটা রক্ত গিয়ে ছিটকে পড়েছে কুঁচবরণ কন্যার গায়ে। কিছুক্ষণ ভেবে কোনো সুরাহা না করতে পেরে উজিরপুত্র নিজের জিভ দিয়ে সে রক্ত মুছতে যায়- আর তক্ষুনি জেগে ওঠে রাজপুত্র।
বন্ধুর এহেন কাজ দেখে সে তাকে ধিক্কার দিয়ে ওঠে।
“এই বুঝি তুমি বন্ধু উজিরপুত্র? কুঁচবরণ কন্যা যদি তুমিই চাইতে তবে নিজেই বিয়ে করলে না কেন?”
বন্ধুর এমন কথায় লজ্জায় মাটি থেকে চোখ ওঠে না উজিরপুত্রের। তখন তাকে নিয়ে যাওয়া হয় বাদশার দরবারে। বাদশা এই চার বন্ধুর উপরই অনেক ভরসা করেন। তিনি উজিরপুত্রকে সুযোগ দিলেন, সাফাই দেওয়ার। নয়তো তাকে শূলে চড়াবেন। আর কোনো উপায় না দেখে বেচারা উজিরপুত্র তখন সব কথা খুলে বলতে লাগলো। সেই রহস্যময় গল্প সে যত শোনায়, ততই তার শরীর পাথর হতে থাকে।
এক এক করে তার শরীর গলা পর্যন্ত পাথর হয়ে গেলে বাদশার ছেলে তখন ভয় পেয়ে বলে,
“বন্ধু, আমাকে মাফ করে দাও। আমি বড় ভুল করেছি তোমাকে অবিশ্বাস করে। কী করে তোমাকে আবার ফিরে পাব? সে কথা বলে দাও।”
তখন উজিরপুত্র বেঙ্গমা-বেঙ্গমীর আলাপের পুরোটাই বলে দেয়। কী করে বাদশার নাতি হলে সেই নাতির রক্ত দিয়ে তাকে উদ্ধার করা যাবে- কী করে কোহকাফ নগরীর জাদুর কুয়ার পানি এনে সেই শিশুটিকে বাঁচানো যাবে। যেই সব কথা শেষ হয়, উজিরপুত্র একেবারে পাথর হয়ে গেল। বাদশার দরবারে দাঁড়িয়ে রইলো এক সুদর্শন পাথরের মূর্তি। বাদশার ছেলে রোজ তার দিকে চেয়ে চোখের জল ফেলে আর নিজেকে দোষ দেয়।
এরপর অনেকদিন কেটে গেল। বাদশার ঘর আলো করে এলো এক ফুটফুটে সুন্দর নাতি। সেই নাতি বড় হবার আগেই উজিরপুত্রের ঋণ শোধ করার জন্য তার রক্ত মাখিয়ে দেয়া হলো পাথরের মূর্তিতে।
রাজপুত্রের বন্ধু ফিরে আসতেই তখন সে তাকে বললো,
“এইখনে আমি যাব কোহকাফ নগরী-
জাদুর কুয়ার সন্ধান করে আনবো জাদুর পানি।”
এই বলে সে ঘোড়া ছুটিয়ে টগবগ করে চললো কোহকাফে। সেখানে গিয়ে সেই পানি সংগ্রহ করে সে আবারো ফিরে এলো। বেঁচে উঠলো তার ছোট্ট ছেলেটি। এরপর থেকে আর কোনো সমস্যা হয়নি সে রাজ্যে। কুঁচবরণ কন্যাকে নিয়ে রাজপুত্রের সংসার ভালই চলছে। তার তিন বন্ধু মাঝে মাঝে এসে ছেলেটির সঙ্গে খেলাধুলা করে যায়। তবে আসল বাপ-মায়ের কাছে আর ফিরে যায়নি তারা কেউই। কোনো খবর মেলেনি তাদেরও।