Cover illustration for কমলা রানীর দীঘির কিংবদন্তি

কমলা রানীর দীঘির কিংবদন্তি

CATEGORY
Bengal Legend

BASED ON THE BOOK

বাংলা কিংবদন্তী

by আসাদুজ্জামান জুয়েল

সময়টি ছিলো ১৮৫০ খ্রিষ্টাব্দ। রাজা সুবিধ নারায়ন বর্তমান মৌলভীবাজারের রাজা ছিলেন। একরাতে গঙ্গাদেবী তার স্বপ্নে এলেন এবং তাকে ১২ বিঘা জমির উপর একটি দিঘি খনন করার আদেশ দিলেন, সেই সাথে দপবি বললেন, প্রথম কোদালের কোপ দানকারীকে স্বর্নের হার উপহার দিতে। দেবীর ক্রোধ ও রাজ্যের অনিষ্ঠের কথা চিন্তা করে রাজা দিঘি খনন শুরু করলেন। কিন্তু যতোই খোড়ে পানি আর উঠে না।

এমতাবস্থায় গঙ্গাদেবী আবারো রাজার স্বপ্নে এলেন এবং বললেন, তার প্রানপ্রিয় পত্নী কমলা রানি যদি দিঘিতে নেমে গঙ্গাদেবীর পুজো করে তবেই দীঘি তে জল আসবে৷ কিন্তু এটি হলে যে নবজাতক সন্তানদের মা কমলারানী ডুবে মারা যাবেন তা ভেবে রাজা সুবিধ নারায়ন এটিকে গোপন রাখেন৷

এদিকে গঙ্গাদেবী নিজেই কমলারানীর স্বপ্নে এসে তাকে পুজো করতে রাজি করে ফেললেন। তার পরেরদিনই রানী পুজো করতে যান৷ এবং দীঘিতে তার পা পরতেই চতুর্দিক থেকে দ্রুতবেগে জল উঠা শুরু করলো এবং সে জলেই কমলা রানীর সমাধি ঘটলো।

রানীর মৃত্যুর পর রাজা যখন পাগলপ্রায়, তখন তিনি স্বপ্ন দেখলেন, রানী তাদের সন্তানদের রাতের বেলা দীঘির পাড়ে নিয়ে যেতে বলছেন যাতে তিনি সন্তানদের দুধ পান করাতে পারেন। তবে শর্ত থাকে যে ১২ বছরের আগে রাজা তাকে স্পর্শ করতে পারবেনা৷

এভাবে রাজা মাসের পর মাস বাচ্চাদের দীঘির পাড়ে নিয়ে যায় এবং দুর থেকে রানীকে দেখে। কিন্তু এভাবে আর কতো? একদিন সব শর্ত ভুলে রাজা, রানীর শাড়ির আচল ধরে ফেলেন৷ ওমনিই রানী দীঘিতে ঝাপ দিয়ে অদৃশ্য হয়ে পরেন।

ওই দিনের পর থেকেই রাজার প্রতিটি সন্তানের রহস্যজনক মৃত্যু হয়। এবং রাজা নিজেও মৃত্যুবরন করেন৷

সমস্ত রাজপরিবার নির্বংশ হলেও কালের সাক্ষী হিসেবে থেকে গেলো কমলা রানীর দিঘি