বারো ভূঁইয়াদের নেতা ঈসা খাঁ একবার তার কোষা নৌকা বহর নিয়ে রাজধানীতে ফিরছিলেন। পথে কেদার রায় নামের এক স্থানীয় রাজার প্রাসাদে তিনি রাত্রি যাপন করেন। সেখানে অবস্থানকালে স্বর্ণময়ী নামের এক সুন্দরী তরুণী তার দৃষ্টি আকর্ষণ করে। তিনি তার প্রতি এতটাই আকৃষ্ট হয়ে পরেন যে মেয়েটিকে অপহরণ করে সূর্যোদয়ের আগেই নৌকাবহর নিয়ে রওনা দেন। রাজধানীতে ফেরার পথে, তিনি একটি জাঁকজমকপূর্ণ বিয়ের অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নেবার জন্য গহনা এবং মিষ্টি দিয়ে অনেক গুলো নৌকা ভর্তি করেন। ব্রহ্মপুত্রের মধ্য দিয়ে ভ্রমণ করার সময়, ঈসা খাঁ স্বপ্নে গঙ্গাদেবীর দর্শন পেয়েছিলেন। দেবী উপহার হিসাবে মিষ্টি ভরা একটি নৌকা দাবি করেছিলেন। ঈসা খাঁ সে কথা উপেক্ষা করে তার যাত্রা চালিয়ে যান। কিন্তু হঠাৎ, শান্ত জলের মাঝখানে, তার একটি নৌকা ডুবতে শুরু করে। অন্য নৌকাগুলো শিকল দিয়ে সেটাকে টেনে তোলার চেষ্টা করে। কিন্তু শেষ রক্ষা আর হয়না। মনে হচ্ছিলো, অলৌকিক কিছু যেন নৌকাটিকে ভর করেছে।
তারপর অনেক বছর কেটে গেছে। নদীর গতিপথ পরিবর্তন হওয়ায় নদীর তল এখন উন্মুক্ত। যেখানে নৌকাটি ডুবেছিল সেখানে এখনও কোষা নৌকার আকারের একটি মাটির ঢিবি রয়েছে। প্রতি অমাবস্যার রাতে নাকি সেই ঢিবি থেকে আলো ঝিলিমিলি করে। একবার এক লোক নিজের কৌতূহল মেটাতে কোদাল দিয়ে ঢিবিতে একটি কোপ মারেন এবং মাটি থেকে গল গল করে রক্ত প্রবাহিত হতে শুরু করে। সেই দিন থেকে উনি তার শ্রবণশক্তি হারিয়ে ফেলেন এবং তারপর থেকে তার সমস্ত বংশধর বধির হয়ে জন্মায়।