সে বহু বহুকাল আগের কথা। এক দেশে থাকতো এক রাজা। রাজা-রাজড়ার যেমন হয়, তেমনি তার ভাণ্ডারে ধনদৌলতের ছড়াছড়ি। হাতিশালে হাতিরা শূঁড় তুলে আনন্দ করে, ঘোড়াশালে ঘোড়ারা খুর শানায়। লোক-লস্করও যথেষ্ট। শুধু দুঃখ মনে একটাই, রাজার কোনো সন্তান নেই। কী হবে এত ধন-সম্পদ দিয়ে, যদি বংশের প্রদীপই না থাকে? রাজার বড় দুঃখে দিন কাটে।
একদিন মনের দুঃখে রাজা আত্মহত্যা করতে চলে যায় গহীন বনে। তখন মধ্যরাত। দুঃখী রাজাকে দেখতে পেলেন শিব-পার্বতী। রাজার সব কথা শুনে শিব তাকে বর দিলেন, অল্প ক’দিনের মধ্যেই রাজার ঘরে আসবে ফুটফুটে সন্তান। মনে আনন্দ নিয়ে রাজা ফিরে গেল মহলে। শিবের বরও ফলে গেল দ্রুতই, রাজমহলে জন্ম নিল এক পরমাসুন্দরী কন্যা– যার নাম হলো মালঞ্চ। মালঞ্চ বেড়ে ওঠে আনন্দের সাথে, মালঞ্চের জীবনে কিছুরই অভাব নেই। আর সেই আনন্দ ভাগ করে নিতে তার সঙ্গী হলো উজিরপুত্র– মাধব। দুজনে একসাথে খায়, একসাথে পড়াশোনা করে, খেলাধুলা করে। এমনি করে সুখের দিন গত হতে হতে কেটে গেল বারোটি বছর। আর ছোট্টবেলার বন্ধুত্ব গড়ালো প্রেমে। কিন্তু রাজার মেয়ের সাথে কি উজিরের ছেলের মিলন হয়? এমন জিজ্ঞাসা কুরে কুরে খায় মাধবকে। একদিন সে বলেই বসে, মালঞ্চকে প্রতিজ্ঞা করতে হবে, সে তাকেই বিয়ে করবে। নইলে তাদের আর একসাথে থাকা হয় না।
“জলে থাকে জল হংস
এইন্যা গাছে থাকে টিয়া
মাধব যে কইর্যাছে সত্য,
মালঞ্চ তোমায় করবো বিয়া না হে।”
কিন্তু রাজকন্যা-উজিরপুত্রের মনের এসব খবরের খবর তো আর অন্য কেউ রাখে না। তাই বাবা মেয়ের বিয়ে ঠিক করলো আরেক রাজপুত্রের সাথেই। এ কথা শুনে বাজ পড়লো কপোত-কপোতীর মাথায়। তারা যে একে অন্যকে কথা দিয়েছে! সাতপাঁচ ভেবে ঠিক হলো, দুজনে যাবে পালিয়ে। মালঞ্চ মাধবকে বললো পবন কাঠের নৌকা, হিরামন কাঠের বৈঠা ও মন মন কাঠের সেঁওতি, মানে নৌকার সেঁচনি বানিয়ে আনতে। মাধব তক্ষুণি বেরিয়ে গেল এইসব কাঠের খোঁজে। কিন্তু তিন তিনটি মাস কেটে গেল, তবু মাধব না পেল হিরামন কাঠের গাছ– নাইবা পবন কাঠের গাছ, নাইবা তার কপালে জুটলো মন মন কাঠের গাছ। মনের দুঃখে জঙ্গলে এক গাছের নিচে শুয়ে রইলো মাধব। তখনই শুনতে পেল গাছের মাঝে কে যেন কথা বলে। এ যে জাদুকরী তোতা-ময়না। নিজেদের মধ্যে গল্প করছে মাধবকে নিয়েই! ভালো করে কান পাতলো মাধব, কী বলে তারা?
তোতা–
ইনি আবার কিনি রে? কোথা থেকে এলেন?
এলেন তো এলেন বটে, ইখানেতেই বসলেন?
ময়না–
ইনি হলেন নামে মাধব, খুঁজতে আসলেন কাঠ।
কাঠ না পেলে বিয়ে হবে একেবারেই বাদ!
মালঞ্চকন্যা যাবে তখন রাজপুত্রের বাড়ি,
রাজপুত্র দেবে তাকে স্বর্ণ-হীরার শাড়ি।
তোতা–
আহা! কী কাঠ চাই? কী কাঠ চাই?
আমাদের এইখানে কি নাই?
ময়না– বনে থাকো, বনের খোঁজ কি রাখো?
এই বলে ময়না বাতলে দিলো, সকল কাঠের হদিস। মাধবও জানতে পারলো, যে গাছের নিচে সে শুয়ে আছে, তাই হিরামন কাঠ, এর পশ্চিম দিকে আছে পবন কাঠ, পূর্বদিকে আছে মন মন কাঠের গাছ। এই তিন কাঠ দিয়ে নৌকা, বৈঠা আর সেঁওতি বানালে দুনিয়ার সকল অসাধ্য সাধন করা যায়।
সকালবেলাই মাধব নৌকা-বৈঠা-সেঁওতির কাজ শুরু করে দিলো।
“নৌকা এতদিন আছিলো কার?”
– কারো না।
“এখন কার?”
–তোমার।
“যদি আমার হও, তবে এক্ষুনি নিয়ে যাও মালঞ্চের মহলে।”
যে-ই কথা, সে-ই কাজ। জাদুর নৌকা উড়তে উড়তে মাধবকে নিয়ে গেলো মালঞ্চের বাড়ি, যেখানে এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে বিয়ের বাদ্যি-বাজনা। মালঞ্চ তখন শিবের পূজায় ব্যস্ত, গানে গানে সে মাধবকে জানান দিল– সে যেন তার জন্য নৌকায় বসে অপেক্ষা করে। ওদিকে শিবের কাছে রাজকন্যা বর চাইল, যতক্ষণ না সে রাজ্য ছেড়ে পালাতে পারছে, ততক্ষণ যেন রাজ্যের সকলে অজ্ঞান হয়ে পড়ে থাকে। শিব এবারও ভক্তের কথা শুনলেন। মালঞ্চের কথামতো কাজ হলো। কিন্তু ওদিকে আরেক বিপদ ঘটে বসে আছে, মাধব-মালঞ্চ কেউই জানে না।
রাজ্যে তখন বাস করতো এক ন্যাকা চোরা, স্বভাবে ভীষণই ভয়ানক এই চোরটি কুমারী মেয়েদের বলি দিয়ে বেড়াত। মালঞ্চের উপরও তার নজর পড়েছে, তাই সে মাধব সেজে এরই মাঝে গিয়ে বসে আছে জাদুর নৌকায়। মালঞ্চ যখন নৌকায় পৌঁছালো, তখন সে বুঝতে পারলো। কিন্তু ততক্ষণে তো অনেক দেরি হয়ে গেছে। ন্যাকা চোরা মালঞ্চকে নিয়ে পৌঁছে গেল নিজের বাড়ি, সেখানে গিয়েই সে জাদুর নৌকাখানা ভেঙে ফেললো– যাতে মাধব-মালঞ্চের মিলন না হয়। এরপর সে যখন কামারবাড়ি গেল নতুন খড়গ বানাতে, তখন মালঞ্চ শুনতে পেল– বাড়ির পাশের কুয়া থেকে কারা যেন বিশ্রীভাবে হাসছে। মনে ভয় নিয়ে মালঞ্চ এগিয়ে গেল কুয়ার দিকে।
“কে হাসে কুয়ার মাঝে?”
–আমরা শত কুমারীর আত্মা গো, ন্যাকা চোরার শিকার গো।
শত কুমারীর আত্মারা মালঞ্চকে জানালো, যদি কোনো ভাবে ন্যাকা চোরাকে হত্যা করে তার এক ফোঁটা রক্ত কুয়ার মাঝে দেয়া যায়, তাহলেই সবাই আবার বেঁচে উঠবে। তারা মালঞ্চকে এও বলে দিল, এই বাড়ির পূবদিকে এগিয়ে গেলে দেখা মিলবে এক পরীজাত ঘোড়ার। সেই ঘোড়ার কাছেই আছে এই সমস্যার সমাধান। ঘোড়ার কাছে গিয়ে মালঞ্চ ফন্দি আঁটলো, ন্যাকা চোরাকে মারবার।
কিছুক্ষণ পর চোরা বাড়ি ফিরে এলো। তখন সে মালঞ্চকে বললো তার দেবতাকে প্রণাম করতে। মালঞ্চ বললো, “আমি রাজার মেয়ে– প্রণাম করতে পারি না। আমাকে শিখিয়ে দাও।” আর যখনি চোরা প্রণাম শেখাতে গিয়ে মাথা ঝোঁকালো, মালঞ্চ খড়গের এক ঘায়ে তার মাথা কেটে ফেললো। আর তার এক ফোঁটা রক্ত নিয়ে দিল কুয়ার মধ্যিখানে, যেখানে শত কুমারীর আত্মা কেঁদে মরে। সবাই একবারেই বেঁচে উঠলো। মালঞ্চ দড়ি দিয়ে বেঁধে তাদের সবাইকে এক এক করে টেনে তুললো, ভালোমতো খেতে-পরতে দিল। এরপর যার যার বাড়িতে পাঠিয়ে দিলো। এভাবেই রাজকন্যার হাতে স্বাধীন হলো একশোটি কন্যা আর প্রাণ হারালো ভয়ানক ন্যাকা চোরা।
এতকিছু ঘটে গেল। কিন্তু মাধব এসবের কিছুই জানে না। জানবেই বা কীভাবে? শিবের বরে যে রাজ্যের সবাই অজ্ঞান হয়ে পড়েছিল, এর মধ্যে মাধবও তো ছিল। কিন্তু মালঞ্চ রাজ্য ছেড়ে যাবার সাথে সাথেই তার জ্ঞান ফিরলো। চারিদিকে তাকিয়ে সে দেখে, এখনো বিয়ের বাদ্য বাজছে। কিন্তু হায়, মালঞ্চ কই? মহলের ভেতর-বাহির, রাজ্যের এদিক-ওদিক, কোনোদিকেই তো মালঞ্চ নেই।
শত কুমারীর প্রাণ বাঁচিয়ে সেই যে পরীজাত ঘোড়া ছুটিয়ে মালঞ্চ বের হয়ে গেল ন্যাকা চোরার বাড়ি থেকে, তারপর আর দিক-বিদিক খেয়াল নেই তার। এ যেন দুনিয়া দেখার এক অভিযানে বেরিয়েছে সে। যেতে যেতে একসময় সে পৌঁছালো এক অচিন রাজার দেশে। সেই রাজ্যে ঘোড়াকে বিদায় দিয়ে মালঞ্চ এক গাছের নিচে বসলো, আর কিছুক্ষণ পরই দেখা হলো রাজার সাথে। মালঞ্চ কিন্তু নারীবেশে ছিল না। অভিযানে যাতে সুবিধা হয়, সেজন্য সে নিয়েছিল এক পুরুষের ছদ্মবেশ। তবে ছদ্মবেশেও রূপের আলো কি আর লুকানো যায়?
রাজা মালঞ্চকে চাকরির প্রস্তাব দিলেন। মালঞ্চও রাজি হয়ে গেলো। কিন্তু তার ছিল এক অদ্ভুত শর্ত। সে বললো, চারদিক পাঁচিলে ঘেরা একটি বাড়ি চাই তার। সে বাড়িতে থাকবে একাই, তার হুকুম ছাড়া কাকপক্ষীও যেন সেই বাড়িতে না ঢুকতে পারে। রাজা তার শর্ত মেনে নিলেন।
মালঞ্চ সেই বাড়িতে থাকে, রাজার চাকরি করে আর মনে মনে ভাবে মাধবের কথা। কই পাবে সে মাধবকে খুঁজে? ওদিকে মাধবের আরো দুর্দশা। মালঞ্চকে খুঁজতে সে দেশান্তরী হয়েছে। আজ এই রাজ্য, কাল সেই রাজ্য করে একদিন ভাগ্যগুণে সে এসে পৌঁছালো মালঞ্চের রাজ্যে। কিন্তু তাদের মিলন এত সহজ ছিল না। এই রাজ্যেই বাস করতো এক দুষ্টু জাদুকরী। যার যে রাজপুত্রকে মনে ধরে, তাকেই জাদুবলে ভেড়া বানিয়ে রাখে আর ইচ্ছেমতো তাদের কাজে লাগায়। মাধবকে দেখেও তার খুব ভালো লাগলো, তাই ছলে-বলে-কৌশলে তাকেও ভেড়া বানিয়ে ফেললো। মাধব দিনে ভেড়ার পাঁঠা, আর রাতে মানুষের জীবন কাটাতো।
রাজবাড়িতে মালঞ্চের দিন খারাপ কাটে না। একদিন এমনি করে সে পড়লো রাজকন্যার নজরে। মালঞ্চের পুরুষবেশী রূপ দেখে রাজকন্যা মুগ্ধ হলো। কিন্তু মালঞ্চ সেসব বুঝতে পারলো না, তার মনে মাধবের কথাই ঘুরেফিরে আসে।
একদিন রাজসভা বসেছে। সকলে বসে আছে। রাজকন্যা, মালঞ্চ, উজির– সকলেই উপস্থিত। এই সময়টাতে খবর এলো, রাজ্যে হানা দিয়েছে এক ভয়ানক রাক্ষস। কেউ তাকে হারাতে পারছে না। যাকে ইচ্ছা তাকে বাড়ি থেকে উঠিয়ে নিয়ে যাচ্ছে রাক্ষস। তখন রাজা ঘোষণা করলেন, “রাক্ষসকে যে বধ করিবে– রাজকন্যা তারই হবে।” কিন্তু কেউই এ কাজে জয়ী হতে পারছিল না। দলে দলে মানুষ উধাও হচ্ছিল রাক্ষসের হাতে। তখন মালঞ্চকে আলাদা করে ডেকেও রাজা জানালেন রাক্ষসের কথা এবং তাকে অনুরোধ করলেন, যেভাবেই হোক রাক্ষসকে মারতে হবে। যে-ই কথা, সে-ই কাজ। মালঞ্চ চড়ে বসলো তার পরীজাত ঘোড়ায়, উড়লো বাতাসের আগে– আকাশের পানে। পৌঁছে গেল সেই জঙ্গলে, যেখানে থাকে সেই রাক্ষস। মালঞ্চ গিয়ে দেখে, হাজারে-বিজারে মানুষ খেয়ে আরাম করে ভাতঘুম দিচ্ছে রাক্ষস। মালঞ্চের সাথে ছিল এক বন্দুক। সে ভাবলো, এখনই মোক্ষম সময়। জঙ্গলে পা না রেখে, আকাশ থেকেই গুলি ছুঁড়লো মালঞ্চ। সোজা রাক্ষসের মাথায় গিয়ে লাগলো। রাক্ষস বাবাজি সেখানেই কুপোকাৎ! আশেপাশে কাউকে না দেখে আর সুবিধা করতে পারলো না। রাক্ষসের মৃত্যু হলো। রাক্ষসের মরা মাথা কেটে আনলো মালঞ্চ, দেখালো রাজামশায়কে।
রাক্ষসের মাথা পেয়ে রাজামশায় তখন ভারি খুশি। তিনি তার পুরস্কারের কথা বললেন– “রাক্ষস মারিছে সে, রাজকন্যা তারই যে!” মালঞ্চের মাথায় বাজ পড়লো। এ কেমন করে সম্ভব? কিন্তু রাজার কথা, না রাখলে গর্দান যাবে। তাই একখানা শর্ত জুড়ে মালঞ্চ রাজি হলো–
“মহারাজ, আমাদের দেশে প্রথমে তলোয়ারের সাথে বিয়ে হয়। তার ছয়মাস পর বরের সাথে। যদি এই নিয়মে দেন বিয়ে, আমি আছি সবটা রাজি।”
রাজা মালঞ্চকে খুবই পছন্দ করতেন, তাই এ শর্তও মেনে নিলেন। কিন্তু ছয়মাস খুব বেশি সময় নয়। একে একে কেটে গেলো ছয়টি মাস, মাধবকে খুঁজে পেলো না মালঞ্চ। অগত্যা রাজকন্যাকে ঘরে নিয়ে গেলো। রাত্তিরে তাদের মাঝে রাখা হয় এক ধারালো তলোয়ার, আর মালঞ্চ রাজকন্যাকে বলে– “একটু নড়লেই প্রাণ যাবে গো!” রাজকন্যাও সেইমতো চলে। এমনই এক রাতে মালঞ্চ স্বপ্নে দেখলো, একশো ভেড়ার পাঁঠা বলি দিয়ে তাকে একটি পুকুর খনন করতে হবে। ঘুম থেকে উঠে মালঞ্চ রাজার কাছে বললো, “খুঁড়িতে হইবে পুকুর– একশো ভেড়ার পাঁঠা আনো।” রাজা রাজ্যের মধ্যে ঢোল-বাদ্যির লোক পাঠালো, যেভাবেই হোক একশো ভেড়ার পাঁঠা চাই! সেই যে দুষ্টু জাদুকর মহিলা ছিল, তার কাছেই তো আছে জাদুর একশো ভেড়ার পাঁঠা। কিন্তু সেই জাদুকরী আর নেই এতদিনে। সাপের কামড়ে তার প্রাণ গেছে চলে। জাদুকরীর একটি চাকর ছিল, সেই দেখভাল করতো সকল ভেড়ার। কিন্তু সে তো আর জানতো, এই ভেড়াগুলো আসলে মানুষ! তাই লোভে পড়ে, রাজার কাছে সে বেচে দিলো এই একশো ভেড়ার পাঁঠা। বলি দেবার আগে মালঞ্চ এসে দেখলো, ভেড়াদের সবাইকে পুকুরে স্নান করাতে হবে। কিন্তু সব ভেড়ার মধ্যে একটি ভেড়াকে তার বড় বেশি সুন্দর মনে হলো। সেই ভেড়ার শিং রূপা দিয়ে বাঁধাই করা। এই একটি ভেড়াকে সরিয়ে রেখে বাকি নিরানব্বই ভেড়াকে পুকুরে নামানো হলো। জাদুকরী যখন তাদের রাজপুত্র থেকে ভেড়া বানিয়েছিল, তখন সে মাথার উপরে একটি জাদুর গাছ বেঁধে দিয়েছিল। পুকুরে স্নান করানোর সময় সবগুলো গাছ মাথা থেকে পড়ে যায়, আর একেকটি রাজপুত্র তাদের মানুষজীবন ফিরে পায়। এসব দেখে মালঞ্চের মনে বড় সন্দেহ হলো, তখন সে রাজকন্যাকে বললো, “চলো আমরা এই ভেড়াকে নিয়ে যাই– মহলে স্নান করাই।” রাজকন্যারও ভেড়াটি বড় মনে ধরেছিল। সেও রাজি। মহলে গিয়ে স্নান করানোর সাথে সাথেই সেই ভেড়ার মাথার গাছও পড়ে গেল। সামনে দেখা দিল এক রূপবান যুবক। সে আর কেউ নয়, মালঞ্চের হারিয়ে যাওয়া মাধব। ওদিকে মাধবের রূপ দেখে মন হারালো রাজকন্যাও। তাকে দেখে মালঞ্চ মিটিমিটি হাসলো।
মালঞ্চ যেহেতু পুরুষবেশে ছিল, মাধব প্রথমে তাকে চিনতে পারেনি। তাকে বিশ্রাম করতে দিয়ে মালঞ্চ গেল অন্দরমহলে। পুরুষের রূপ ছেড়ে সে মাধবের পছন্দের শাড়ি পরলো। তার পর আস্তেধীরে মাধবের কাছে দেখা দিল। এর আগে অবশ্য রাজকন্যাকে সবই বুঝিয়ে বললো। রাজকন্যাও খুব একটা রাগ করলো না, কেননা ততক্ষণে সে যে মাধবকে মন দিয়ে ফেলেছে। মালঞ্চ বললো, “তুমি যেমন রাজকন্যা– আমিও তাই। মাধব যেমন আমার, তেমনি তোমারও হোক।” এই বলে মালঞ্চ মাধব ও রাজকন্যাকে নিয়ে গেল রাজার কাছে, সব কথা খুলে বললো। মাধবের সাথে মহা ধুমধামে বিয়ে হলো দুই রাজকন্যার। মিলন হলো মাধব-মালঞ্চেরও। অতঃপর তারা সকলেই সুখে-শান্তিতে বাস করতে লাগলো।