শীলাদেবী
প্রাচীন পূর্ববঙ্গ গীতিকা - চতুর্থ খন্ড - দীনেশ চন্দ্র সেন
শীলাদেবী ( ১ ) মুণ্ডা বাড়ী নাই ঘর নাই জঙ্গলা মুণ্ডারে ফিরে দেশে দেশে দৈবেত আনিল তারর ভালা বামুন রাজার দেশেরে দুষ্মনা জঙ্গলা মুণ্ডারে— মাও নাই বাপ নাই জঙ্গলা মুণ্ডারে ফিরে বাড়ী বাড়ী দৈবেত আনিল তারে ভালা বামুন রাজার বাড়ীরে দারুণা জঙ্গলা মুণ্ডারে— জঙ্গলেতে জনম মুণ্ডারে জাতিত জঙ্গিঁলিয়া দরবারে খাড়াইল মুণ্ডা ছেলাম ত জানাইয়ারে “শুন শুন বামুন রাজারে শুন শুন বামুন রাজারে কহি যে তোমারে আমার দুঃখের কথা ভালা জানাই তোমার দরবাররে হারে শুন বামুন রাজারে দীন দুনিয়ার মালিক তুমিরে আমি পন্থের না ভিখারী বাড়ী ঘর নাই রাজা গাছতলায় বসতি শুন শুন বামুন রাজারে জন্মিয়া না দেখি বাপদমাযেরে গর্ভসোদর ভাই সুতের সেহলা যেমন ভাস্তা ভাস্তা ফিরিরে শুন মোরে দুঃখের কথারে কোন্ জনে দিয়াছে জনম ভালা কে ধইরাছে পেটে কড়ার কাহিনী ১ দিয়া মোরে কে বিকাইল হাটেরে শুন শুন বামুন রাজারে বড় দুক্ষে পইরা আমিরে ভালা ছাড়লাম তার বাড়ী সেইদিন হইতে রাজা আমি দেশে দেশে ফিরিরে শুন শুন বামুন রাজারে মেঘেতে ভিজিয়া মরি রইদে নাই সে পুড়ি বিরক তলায় ২ নাই সে ঠাঁই কপাল হইল বৈরীরে শুন শুন বামুন রাজারে” বামুন রাজা “বড় দয়া লাগে তোরে রে জংলার বাসী আমার রাজ্যেত থাইক্যা কর ঠাকুরালীরে শুন শুন জঙ্ল্যা মুণ্ডারে বাড়ী দিবাম জমিন দিবাম আর দিবাম মাহিনা রাজ্যের কোটাল হইয়া থাকিবা মোর পুরীরে শুন শুন জঙ্গলিয়। মুণ্ডারে” মুণ্ডা “বাড়ী নাই সে চাই আমি রাজাগো জমিন নাই সে চাই তোমার ছিচরণে আমি একটু পাই ঠাঁইরে তবে মোর জনম ভালারে আমার না চক্ষের জলেরে রাজা নদী নালা ভাসে দশ বছর ঘুইরা মল্লাম কত কত না দেশেরে তবে মোর জন্ম ভালারে পায়ের নফর হইয়া আমি রাজা থাকিমু দুয়ারে চোর চোট্টায় রাজ্যের কি করিতে পারেরে শুন শুন বামুন রাজারে জঙ্গলাতে জনম আমার রে জাতিত জঙ্গলী বাঘ ভালুকে রাজা ভয় নাই সে করিরে শুন শুন বামুন রাজারে দুই হাতে ধইরা রাখিরে রাজা জঙ্গলার হাতী জঙ্গলাতে জন্ম আমার জঙ্গলীর জাতিরে শুন শুন বামুন রাজারে লোহার শাবল মোররে হাত দুই খান এ মোর বুকের পাটা পাথর সমানরে শুন শুন বামুন রাজারে” গাবুরালী অঙ্গ দেইখ্যারে রাজার ভয় বাসিল মনে ধীরে ধীরে কয় কথাঙ্গল্যার স্থানেরে “শুন শুন জঙ্গলা মুণ্ডারে কালাদিঘির পাড়েরে কোটালিয়ার খানা সেইখানে পাতিয়া লহরে আপন বিছানারে শুন শুন নতুন কটুয়ালরে ডাইল দিবাম চাইলি দিবাম ভালা রসুই কইরা খাইও বালাখানা ঘর দিবাম শুইয়া নিদ্রা যাইওরে শুন শুন নতুন কটুয়ালরে বারশত কটুয়াল আমাররে করেরে খবরদারী তা সবায় উপরে তুমি করবা ঠাকুরালীরে শুন শুন নতুন কটুয়ালরে” এই কথা শুনিয়া মুণ্ডারে কোন কাম না করে হাজার ছেলাম জানায় ( ভালা ) রাজার দরবারে রে নতুন কটুয়াল হইলামরে (১-৭১) ( ২ ) কাঞ্চানা সোনার অঙ্গরে যেমুন ঝলমল একক কন্যা আছে রাজার দশনা বছরেররে কাঞ্চা বরণ কন্যারে পঞ্চ সখী সনে শীলারে রঙ্গে করে খেলি দেখিতে সুন্দর কন্যা কনক চম্পার কলিরে কাঞ্চা সোনার বরণরে হাটু বাইয়া পড়ে কেশরে যে দেখে নয়ানে আসমানের মেঘ যেমুন লুড়ায় জামিনেরে মেঘের বরণ কেশরে ডালুমের দানা যেনরে দম্ভ সারি সারি চাপালিয়া হাসি কন্যা ঠোটে রাখে ধরিরে ১ মেঘের বরণ কেশরে দুই আঁখি দেখি কন্যার পরভাতের তারা গোলাপী ছুরত কন্যার না যায় পশুয়ারে ২ মেঘের বরণ কন্যারে দুম্মনে পাগল করেরে পর করে আপনা দিনে দিনে হইল রাজার দূরন্ত ভাবনারে মেঘের বরণ কন্যারে যেদিন ফুটিবে এইরে কদম্বের কলি ভাবে রাজা যোগ্গি বর কোন দেশে মিলিরে চিন্তিত হইল বামুন রাজারে দেশে দেশে ভাট রাজারে পাঠাইয়া দিল পান ফুল হাতে লইয়া ভাট না চলিলরে চিন্তিত হইল বামুন রাজারে হাসিয়া খেলিয়া কন্যারে খেলার সময় যায় পঞ্চ সখী সঙ্গে কন্যা রঙ্গেত খেলায়রে বাহারে সোণার বৈবনরে আইল বৈবন কালরে মানা নাই সে মানে কাল নদীতে ডাকে জোয়ার কেউত নাহি জানেরে আইল সোণার বৈবনরে খেল খেল কন্যা তুমি লো শিশূতির খেলা কালুকে বিয়ানে তুমি পড়িবে একেলারে কাল বৈবন কন্যাররে কেউনা দিল খবর তোরে লো কন্যা খেলার সময় যায় দিনে দিনে দিন কত ঘটবে বিষম দায়রে কাল বৈবন কন্যাররে খেলার ঘর ভাইঙ্গা পড়বে লো কন্যা আইজ বাদে কালি যখন ফুটিয়া উইঠে মালঞ্চ মুকলীরে কাল বৈবন কন্যাররে প্রাণের পরাণ পঞ্চ সখীরে দুষ্মন হইবে বনের পাথীর মতন যখন শৃণ্যেতে উড়িবেড়ে কাল বৈবন কন্যাররে “শুন শুন পঞ্চ সখীরে একি হইল দায় আজ কেন কোকিলার ডাক কঠিন শুনায়রে শুন শুন পঞ্চ সখীরে পিঞ্জরার শুক শারীরে কৈছনে গায় গান বুকের ভিতর থাক্যা কাপ্যা উঠে পরাণরে শুন শুন পঞ্চ সখীরে কি হইল কি হইল আমার রে সখী বুঝিতে না পারি ফাপ্লা ’ বেদনে আমার বুক হইল ভারী রে শুন শুন পঞ্চ সখীরে নিলাজ অঙ্গ সে সখী বসন না চায় কি জানি অজানা গান মন-কোকিলা গায়রে শুন শুন পঞ্চ সখীরে কইও কইও পঞ্চ সখীরে কইয়া দিও তোরা যে অঙ্গ বসনে মোর না পইরাছে ঘিরারে শুন শুন পঞ্চ সখীরে বান্ধি না বান্ধিয়াছি কেশ কইয়া দিও মোরে পরভাতে জাগাইয়া দিও যদি ঘুমের ঘোরে লাজে মরি শুন সখীরে ফুল কেন মৈলান দেখিরে চান কেন মৈলান আবেতে ঘিরিয়া লইছে জমিন আসমানরে দেখ দেখ পঞ্চ সখীরে বাপে মায় জানে যদি রে পড়িবে বিপাকে আহার নিদের কথা মোর মনে নাহি থাকেরে শুন শুন পঞ্চ সখীরে ভাঙ্গিয়া চুরিয়া ছুইনাই’ নতুনে গড়িল কোন বিধি হইল বাদী পরাণ কাইড়া নিলরে শুন শুন পঞ্চ সখীরে মুখের আহার নিলরে নিদ্রা নয়নের সর্বস্ব কাইড়া নিল যা ছিল জীবনেরে শুন শুন পঞ্চ সখীরে মুখ বান্ধা ফুলের কলিরে না ফুইটু তোমরা পরাণ ভাঙ্গাইতে আইবে দারুণ তোমরারে শুন শুন ফুলের কলিরে আইজ যে দিন হইল গতরে না আসিব কাইল লোকে কহে সোণার যৈবন আমার কাছে গাইলরে দুঃখের যৈবন কালরে দুনিয়া দুষমন মোররে বিধি প্রতিবাদী মনে লয় নিরালে বসি আনছলেতে কান্দিরে শুন শুন পঞ্চ সখীরে” ন কাইন্দ ন কাইন্দ কন্যা লো চিত্ত কর দর আসিবে মালঞ্চে তোমার মন মধুকররে শুন শুন রাজবালারে এই বসন খুলিয়া কন্যা লো নয়ালী পইরারে আভের গায় চাঁন্দের কিরণ তেমুন শোভা পাবেরে শুন শুন রাজবালারে এহিত কেশের বাঁধন কন্যা লো যতনে খুলিয়া নতুন নবেলা বন্ধু দিবেকে বান্ধিয়ারে শুন শুন রাজবালারে এহিত আঁখির কাজল কন্যা লো যতনে মুছিয়া নতুন নবেলা বন্ধু দিবেেক আঁকিয়ারে শুন শুন রাজার বালারে এহিত কানের ফুলরে যতনে খুলিয়া নতুন মালঞ্চ ফুল দিব সে গাঁথিয়ারে শুন শুন রাজবালারে এহিত নাকের বেশর কন্যা লো যতনে খুলিয়া ফুলের বেশর কন্যা দিবে সে গাঁথিয়ারে শুন শুন রাজার বালারে পুরুষ পরশমণি লো পরশে যে জনা সঙ্গ গুণে রঙ্গ ফলে মাটি হয় সোণারে শুন শুন রাজার বালারে” এক দুই তিন করিতে পাঁচ গুজারী যায়। দরবারে আসিয়া মুণ্ডা ছেলাম জানায়॥ “শুন শুন বামুন রাজা হায় কহি যে তোমারে। পাউনী মাহিনা আমার দেও ত চুকাইয়ারে॥ পাঁচ বছর খাটিলাম আমি তোমার পুরীতে। এই স্থান ছাড়িয়া যাইবাম আমি তিরপুরার সহরে॥” “শুন শুন মুণ্ডা আরে কহি যে তোমারে। তোমারে লইয়া চল যাইবাম রাজত্বির ভাণ্ডারে॥ আপন হাতে লহ ধন বাছিয়া গুছিয়া । ভাণ্ডারের দুয়ার আমি দিলাম ত খুলিয়া ॥” মুণ্ডা “ধনের কাঙ্গাল নহিরে রাজা বুদ্ধি কর স্থির। সাবধানে শুন কথা ভালা না হইও অস্থির ॥ ধনের ত নহিরে কাঙ্গাল শুন মন দিয়া। বিদায় কালে এক ধন যাইব চাহিয়া ॥ দিবা কিনা দিবারে রাজা সে ধন আমারে। শুন শুন ধনের কথা কহি যে তোমারে ॥ ও রাজা তোমার ভাণ্ডারে ওগো রাজা যত ধন আছে। সকল ত ধূলা বালি রাজা সে ধনের কাছে ॥ যুব্বামান ’ কন্যা তোমার রাজা নাইসে দিয়াছ বিয়া। আমার পরাণ রাখত রাজা সেই ধন দিয়া ॥ মুরুই(?) মাইনা কিছু রাজা নাই সে চাহি আমি। এই ধন দেহুত দান লইয়া যাই আমি ॥ পাঁচ বছর খাটুলাম খাটুনিরে যে ধনের আশায়। সেহি ধন কর দান কহি যে তোমায় ॥” এই কথা শুনিয়া রাজা জ্বলন্ত আগুনি যে হইল। যতেক কোটালে মুণ্ডারে ভালা বান্ধিতে বলিল ॥ কেউ-বা মারে কিলরে চাপড় দুহাতিয়া বাড়ি। কেউ-বা কহে দুম্বনেরে আগুন দিয়া পুড়ি ॥ হায় ভালা দেউড়ি থানা ঘরে সব লহেত টানিয়া। কেউ বলে ‘রাজার কন্যায আয় দিবাম বিয়া’ ॥ জল্লাদ ধাইয়া আইল শির লইবারে। ভয় নাই সে পাইল মুণ্ডা ডর নাই সে করে ॥ রাত্রি নিশা কালে মুণ্ডা ছিকল ভাঙ্গিয়া। গেল ত জঙ্গল্যা মুণ্ডা জঙ্গলে পলাইয়া ॥ হায় ভালা এক বছর দুই বছর ও ভালা তিন বছর যায়। বনে ত থাকিয়া মুণ্ডা কোন্ কাম করে— বনে ত থাকিয়া মুণ্ডা কোন্ কাম করিল। জঙ্গলীর দল লইয়া রঙই পাকাইল ॥ “শুন শুন জঙ্গলীর জাতি কহি যে তোমরারে। আইজ রাত্রে যাইবাম মোরা বামুন রাজার ঘরে ॥ ধন দৌলতের রাজার নাই সীমা পরিসীমা। একদিন মারিলে পাইব বৎসরের দানা ॥” একে ত জঙ্গল্যার জাতি হায় ভালা ক্ষুধায় কাতর। ধনের কথা শুইন্যা সবে হইল পাগল ॥ রাত্র নিশা কালে মুণ্ডা কোন্ কাম করিল। জঙ্গলিয়া দল লইয়া মেলা যে করিল ॥ ধরিল কামুলীর বেশ হাতে দাও কাঁচি। বোচকা বাঁধিয়া লইল যতেক সামগ্রী ॥ বাছিয়া লইল সঙ্গে ত ভালা তীর ধনুকখানি। লুকাইয়া লইল ভালা কেহ ত না জানি ॥_ সবে বলে কামুলারা কাম করিতে যায়। যার যার কাম আছে ডাকিয়া জিগায় ॥ মুণ্ডা বলে এই দেশে কাম করা হইল দায়। এই দেশের মানুষ যত বেগাড় খাটায় ॥ কাম করাইয়া দেখ পয়সা নাই সে মিলে। এই দেশ ছাড়িয়া যাইবাম বামুন রাজার দেশে ॥ হায় ভালো এক দুই তিন করি তার তিনমাস পর। অস্তে ব্যস্তে যায়গো মুণ্ডা বামুন রাজার ঘর ॥ দুষ্টবুদ্ধ মুণ্ডা তবে রইল পলাইয়া। কামুলা গণেরে দিল রাজ্যে পাঠাইয়া ॥ ভাব বুঝিয়া দুষ্মন মুণ্ডা হায় ভালা কোন কাম সে করে। নিশি রাইতে পড়লো গিয়া বামুন রাজার পুরে ॥ ভেরংগের চাকে যেমন পুমুকি পড়িল। যত যত পাইক প্রহরী তুরন্তে জাগিল ॥ বাছা বাছা তীর মারে জঙ্গলা দুর্জ্জনে। বামুন রাজার লোক লস্কর পড়িল নিদানে ॥ তীর লইতে তীরন্দাজ রে ভালা যায় জুন্বত ঘরে। জঙ্গলীর তীর খাইয়া পন্থে পইড়া মরে ॥ আগুন লাগাইল মুণ্ডা বামুন রাজার বাড়ি। আগুন ত নিবাইতে গেল যতেক প্রহরী ॥ সুযোগ পাইয়া মুণ্ডা ভাঙ্গার লুটিল। অন্দর মোহলেতে তবে কুঁদিয়া চলিল ॥ দেখে শূন্য পইরা আছে মহলে কেউ নাই। দেশ ছাইড়া বামুন রাজা হায় বৈদেশী হইল। পরগনার রাজার কাছে আশ্রা যে চাহিল॥ (১-৪২) ( ৫ ) বামুন রাজা “শুন শুন পরগনার রাজা ওগো কহি যে তোমারে। ভিক্ষা করিতে আইলাম আমি তোমার নগরে॥ দৈবে ত রাজত্বি নিল ঝুলি দিলক হাতে। বিনা মেঘে ঠাডা বজ্রর আমার মারিলেক মাথে॥ সঙ্গে আছে এক কন্যা নাহি দিলাম বিয়া। বিপদ কালে ত তারে আমি কোথায় যাই থইয়া॥” এই কথা শুইন্যা রাজা কোন কাম করিল। নতুন একখান রাজ্যপুরী বানাইয়া সে দিল॥ বিদেশী রাজা “শুন শুন বামুন রাজা কহি যে তোমারে। কিছুকাল থাক তুমি আমার নগরে॥ কিছুকাল থাক তুমি ভাল চিতে ক্ষমা দিয়া। যাহাব্য ১ জঙ্গলার মুণ্ডায় ভাল না আনি ধরিয়া॥” রাজার পুরীতে দেখ ছয় মাস যায়। এদিকে হইল কিবা শুন সমুদায়॥ সুন্দর যুবা রাজার বেটা ভাল দেখিতে সুন্দর। এইমত নাগর নাহি দেখি সে ভাল পৃথিবী ভিতর ॥ সোণার হরিণ যেমন ভালা আসম্কা’ তার আঁখি। এমন সুন্দর রূপ জগতে না দেখি॥ যৈবনেতে যুব্বামান গায়ে গাবুরালী। রাজ্যের উপরে দেখ করে ঠাকুরালী॥ এমন যৈবন কালে গো না কইরাছে বিয়া। দেখিয়া শুনিয়া বাপে করাইব বিয়া॥ (১-২২) ( ৬ ) অস্তেব্যন্তে ফুলের সাজি কন্যা তুলিয়া লইল। নয়াবাগে ফুল তুলিতে গমন করিল॥ বায়ে উড়ে অঞ্চলখানি গায়ে ফুটে কাঁটা। আজীকে তুলিতে ফুল ঘটলো বিষম লেঠা॥ শুণ শুণ কোকিলারে কহি যে তোমারে। কি দাগা দিহ লো জানি দুষ্মন কোকিল তোরে “শুণ শুণ কন্যা হায় কন্যা কহি যে তোমারে। কি লাগিয়া তুল ফুল কহ লো আমারে॥ নিত্য নিত্য তুল ফুল গো কন্যা কারে পূজা কর। অবিয়াত কন্যা তুমি কিবা মাগ বর॥ দেখিয়া তোমার রূপ কন্যা হইয়াছি পাগেলী। এই ফুল গাঁথিয়া কারে পইরাইবা মালা॥ রাজার কুমারী কন্যা শুণ দিয়া মন। কোন্ জনে বিলাইবা কন্যা এমন যৈবন॥ হেলা নাইসে কর কন্যা শুণ মন দিয়া। বাপেরে কহিয়া কন্যা তোমায় করবাম বিয়া॥” শীলাদেবী “শুন শুন সুন্দর নাগর কহি যে তোমারে। বসন ছাড়িয়া দেও লজ্জায় যাই যে মরে ॥ আছিলাম রাজার ঝি গো হইলাম ভিখারী। দারুণ পেটের দায়ে আইলাম তোমার বাড়ী ॥ দারুণ পেটের দায়ে দেশে দেশে ঘুরি। চোখে নাইসে নিদ রে কুমার ছয়মাস যায়। কান্দিয়া আমার বাপে রজনী পোহায় ॥ সোণার রাজত্বি তোমার রাখিছ বান্ধিয়া’। ভিক্ষু বাউনের কন্যা কেন করিবা বিয়া ॥” রাজকুমার “শুন শুন কন্যা আলো কন্যা কহি যে তোমারে। আর নাইসে দিও লো দাগা আমার অন্তরে ॥ লোকে বলে পুরুষ জাতি কঠিন অন্তরা। আমি বলি নারীর মন পাষাণ দিয়ে গড়া ॥ কেতকী কৈরবী চাম্পা আছে যত ফুল। দেখিতে শুনিতে তোমার নাইসে সমতুল ॥ ধরিতে ছুইতেরে নারি পথে যদি বিন্দে। এহিত পশিল মনে ভার নানা সিন্দে ॥ এহিত কোমলা অঙ্গে লো কন্যা তোমার লাগে যদি হানা। কতদিন ফিরা যাই মনে করি মানা ॥ মনেরে বুঝাইয়া রাখিলো কন্যা শিকলে বান্ধিয়া। আজি না পারিলাম কন্যা কইয়া বুঝাইয়া ॥ চিত্তে ক্ষমা দেওগো কন্যা রাগ নাই সে মনে। না কইয়া না বইলা আইলাম তোমার বাগানে ॥ যেদিন হইতে কন্যা লো আইলা আমার পুরী। যেদিন হেইরাছি কন্যা তোমার সুন্দর মুখখানি। সেদিন হইতে হিয়া আমার হইল উন্মাদিনী ॥ আজি রাত্রে যাইওগো কন্যা আমার মন্দিরে। মনের যতেক লো কথা কহিব তোমারে ॥ না ধরিব না ছুঁইব কন্যা এহি যাইসে কইয়া। কেবল দেখিব রূপ দুরে ত খাড়াইয়া ॥” শীলাদেবী “চিত্তে ক্ষেমা দেহরে কুমার শুন মন দিয়া। মাও বাপে সুন্দর নারী করাইব বিয়া ॥” রাজকুমার কুমার বলে, “শুনগো কন্যা যার মনে যা চায়। পাইলে হাজার দান ভিক্ষা না তার যায় ॥ ধন দৌলত রাজত্বি তোমার দুই পায়ের না ধূলি। তোমার দুয়ারে খাড়া হস্তে ভিক্ষার ঝুলি ॥ ভিক্ষা যদি দেও লো কন্যা হস্ত পাত্যা লইব। রাজত্বি ছাইড়া না আমি বনবাসে যাইব ॥ তোমায় যদি পাইগো কন্যা আর কারে না চাই। এই ভিক্ষা ছাড়া কন্যা অন্য আশা নাই ॥” শীলাদেবী “শুন শুন কুমার ওহে গো কুমার কহি যে তোমারে। বাপের আছে দারুণ পণ কহি যে তোমারে ॥ আমার আছে ব্রত না পূজা মনে মনে পুজি। পুষ্প তুলিতে আইলাম হাতে লইয়া সাজি ॥ আজিকার ব্রত পূজা কুমার বিফল ত গেল। বাপে ত কইরাছে পণ কুমার রাজ্য হারাইয়া। যে জন আনিতে পারে মুণ্ডারে বান্ধিয়া ॥ তাহার কাছেতে বাপে কন্যা দিব বিয়া। হাড়ী চণ্ডাল নাইসে বিচার দুম্মনের লাগিয়া ॥” রাজকুমার “শুন শুন সুন্দর কন্যা আলো কহি যে তোমারে। কালুকা যাইবাম রণে কহিয়া বাপের ॥ মরি কিবান বাঁচি রণে না আইসি ফিরিয়া। দুম্মন মুণ্ডারে আনবাম গলে দড়ি দিয়া ॥ আজির লাগি যাও গো কন্যা আপন মন্দিরে। কালুকা বিয়ানে আমি যাইবাম রণে ॥” শীলাদেবী ( নেপথ্যে ) “কঠিন পরাণ মোররে কুমার কি করিলাম কাম। কেন বা লইলাম আমি দুম্মনের নাম ॥ রাজত্বে দৌলতে মোর কোন কার্য্য নাই। আমার লাগিয়া রণে তোমারে পাঠাই ॥ নিজের কাণা কড়ি মোর ঘোর সায়রের তলে। তাহারে তুলিতে কেন পাঠাই রে তোরে ॥ বড়ই দারুণ মুণ্ডা কি জানি কি কি হয়। রণে ত পাঠাইয়া তোমায় না হইব নির্ভয় ॥” রাজকুমার “না কাইন্দ না কাইন্দ লো কন্যা না করিও ভয়। জঙ্গল্যা মুণ্ডারে আমি করিবাম জয় ॥ রণ জিনি ঘরে তোমার ফিরিয়া আসিব। হাতে গলে মুণ্ডারে যে বাঁধিয়া আনিব ॥” এই কথা শুন্যা কন্যা আরে হরষিত মন। নারীর কোমল অঙ্গ শানে বান্ধা হিয়া। অন্তরে হইল খুশী কন্যা যায় ত চলিয়া ॥ দারুণ জঙ্গল্যার রণে পাঠাইয়া কুমারে। কি মতে থাকিব কন্যা আপন মন্দিরে ॥ (১-৮৮) ( ৭ ) পরভাতে উঠিয়া কুমার কোন্ কাম করিল। বাপের না আগে কুমার মেলানি মাগিল। বামুন রাজার আগে ত কুমার মেলানি মাগিল ॥ যাইতে না পারে আর কুমার কন্যার মন্দিরে। দূর হইতে বিদায় মাগে দুটি আঁখি ঝরে ॥ “থাক থাক কন্যা গো আমার বাপের বাড়ী। যাবৎ মুণ্ডারে লইয়া আমি নাই সে ফিরি ॥ থাক থাক কন্যা লো আশার পন্থে চাহিয়া। রণ জিত্য। যাবৎ আমি না আইসি ফিরিয়া ॥ ভাল কইরা বান্ধিবাম কন্যা জলটুঙ্গির ঘর। ভাল কইরা বান্ধবাম কন্যা কামটুঙ্গির ঘর॥ শীতল পুষ্পেত কন্যা শয্যা বানাইব। মন সুখে দুই জনাতে শুইয়া নিদ্রা যাইব॥” রণে ত চলিল কুমার হায় ভালা সঙ্গে ত লস্কর। মার মার কইরা চলে বামুন রাজার সর ॥ তীরন্দাজ ঘোর ছুয়ারী চলে পালে পাল। ঘোড়ার দাপটে কাপে আসমান আর পাতাল॥ মঞ্চের না ধূলা বালু হায় ভালা আসমানেতে উড়ে। নদী নালা এড়াইয়া যায় বামুন রাজার সরে॥ (১-১৯) ( ৮ ) দিশা— বন্ধু আজ তোমারে স্বপন দেখি রাইতে। লোকলাজে সময় পাই না কইতে॥ আমি যে অবুলা নারী মনের কথা কইতে নারি চক্ষের জলে বুক ভেসে যায় বালিস ভাসে শুতে। সময় পাই না কইতে॥ মনের মানুষ পূজবাম বইলা গাঁথলাম বনমালা। কাল বিধাতা বাদী হইল আমার ছুটলো বিষম জ্বালা॥ ( গো সখি ) সময় পাই না… (আমার) চন্দন বনে ফুল ফুটিল সখি গন্ধের সীমা নাই। কোন দৈবেরে দিল আগুন আমার সকল পুইড়া ছাই॥ (গো সখি) সময় পাই না… একদিন পথের দেখা গো আমি পাঙরিতে না পারি। মনেছিল প্রাণবন্ধুরে আমি কাজল কইরা পরি॥ সময় পাই না… ফুল বাগানে হইল দেখা পুষ্পের ভ্রমরা। সুন্দর নাগর পুরুষ নবীন কিশরা॥ (গো সখি) সময় পাই না… দেখিতে অদেখা হইল দিন দুই চারি। মনেছিল মন পাখীরে রাখি হৃদ্ পিঞ্জিরিয়ায় ভরি॥ (গো সখি) সময় পাই না… বন্ধু যদি হইত আমার কনক চাম্পার ফুল। সোণায় বান্ধাইয়া তারে কাণে পরতাম ফুল॥ (রে সখি) সময় পাই না… বন্ধু যদি হইত আমার পইরন নীলাম্বরী। সর্ববাঙ্গ ঘুরিয়া পরতাম নাইসে দিতাম ছাড়ি॥ (গো সখি) সময় পাই না… বন্ধু যদি হইতরে ভালা আমার মাথার চুল। ভাল কইরা বানতাম খোপাঁ দিয়া চাম্পা ফুল॥ (গো সখি) সময় পাই না… আমার বন্ধু হইত যদি দুই নয়নের তারা। তিলদণ্ড অভাগীরে না হইত ছাড়া॥ (রে সখি) সময় পাই না… দেহের পরাণী ভালা বন্ধু হইত আমার। অভাগীরে ছাইরা বন্ধু না যাইত স্থান দূর॥ (লো সখি) সময় পাই না… এক অঙ্গ কইরা যদি বিধি গড়িত তাহারে। সঙ্গে কইরা লইয়া যাইত এহি অভাগীরে ॥ ( গো সখি ) সময় পাই না… কি জানি কি হয় রণে কে কহিতে পারে। রাজ্য ধনে কোন্ বা কার্য্য আমার বন্ধু যদি না ফিরে ॥ ( গো সখি ) সময় পাই না… ( ৯ ) তিন মাসের পন্থ ভালা সবে তিন দিনে গেল। বামুন রাজার দেশে দাখিল হইল ॥ মার মার কইরা যত ঘোড়ার সোয়ার। বাড়ি ঘর ভাইঙ্গা সব কইল একাকার ॥ তীর বিন্ধিয়া বুকে পড়ে যত মুণ্ডার দল। তবেত দুস্মন মুণ্ডা হইল আগুয়ান। জঙ্গলী হাতীর মতন সেই পালোয়ান ॥ মুণ্ডারে দেখিয়া সবে করে মার মার। বাছাবাছা তীর মারে ভালা মুণ্ডার উপর। তীর খাইয়া মুণ্ডা হইল পরাণে কাতর ॥ তীর খাইয়া জঙ্গলা মুণ্ডা গেল ত পলাইয়া। রণজয় কইরা কুমার গেল দেশে ত ফিরিয়া ॥ ঘন ঘন জয়ডঙ্কা পুরীত উঠে ধ্বনি। অঞ্চল শয্যা ছাইড়া উঠে কন্যা যেমুন পাগলিনী ॥ পরগনার রাজার সঙ্গে বামুন রাজার কথা হয়। বামুন রাজা কন্যা- সহ নিজরাজ্যে গমন করেন। রাজপুত্রের সঙ্গে কন্যার বিবাহ প্রস্তাব হয়। বিবাহের দিন বিবাহ-বাসরে মুণ্ডা আবার দলবল-সহ বামুন রাজার পুরী আক্রমণ করে। ( ১০ ) চম্পা মালতীর মালা গাথে যত সখী। বিয়ার গান গায় দেখ ডালে বইসা পাখী॥ উজান নদী ভাট্যাল বায় খাড়া সুতে চলে। জয়াদি জোকার পড়ে বামুন রাজার পুরে॥ আমলকী গাইষ্ট খিলা হায় ভালা বাটুনি বাটিল। বারতীর্থের জল দিয়া ভালা ছান না করাইল॥ নিছিয়া মুছিয়া তুলে মায় চান্দ মুখখানি। কপালে সিন্দুরের ফোঁটা রূপের বাখানি॥ সোণার তার বাজুয়ারে যতনে পইরাইল। মেঘডুম্বুর শাড়ী খানা যতনে পইরাইল॥ কাণে দিল কম ফুল নয়ানে কাজল। মেন্দিতে আঁকিয়া দিল সে কন্যার রাঙ্গা পদতল॥ সোণার ঘুঙ্গুর দেখ কোমরে পইরাইল। বিবিধ সাজুয়া কড়ি সাজাইয়া লইল॥ কলাগাছ সারি না সারি ঘিয়ের বাতি জ্বলে। নানাজাতি বাজুনিয়া ঢোলের বাদ্যি বাজে॥ উত্তর হইতে আসে একত বাজুনিয়া। জয়ডঙ্কা ফুঁকের বাঁশী বিন্না মুরী লিয়া ’॥ পুরব হইতে আসে পুবের বাজনী। খড়কর তাগী সঙ্গি জয়ঢাকের ধ্বনি ॥ পশ্চিম হইতে আইল চিনি বা না চিনি। বহুত লস্করা সঙ্গে একত বাজুনি ॥ শুন শুন বামুন রাজা কহি যে তোমারে। বাদ্য বাজাইতে আইলাম তোমার না পুরে ॥ হায় ভালা রাত্রি নিশাকালে গো বিয়া ঢোলে মাইল তালি। বামুন রাজার দেশে ভালা উঠল উত্তরুলি ॥ হেন কালেতে দুস্মন মুণ্ডা কোন্ কাম করে। ছাড়িয়া বাজুনিয়ার সাজ ধনু লইল হাতে ॥ বাচ্ছ্যা ১ মারে বিষের তীর বামুন রাজার লস্করে। কাতারীর কলাগাছ যেমন উপড়াইয়া পড়ে ॥ বিয়ার সাজ থুইয়া ভালা কুমার কোন্ কাম করিল। রণের না সাজ কুমার জলৃতি ২ পড়িল ॥ আনিল রণের ঘোড়া কুমার হইল সোয়ার। মুণ্ডার উপরে পড়ে করি মার মার ॥ (১-৩৪) ( ১১ ) “হায় বিকালির গাঁথা মালা হায় না হইল বাসি। মাথার না ফুলের মড়ুক ৩ না হইল বাসি ॥ আর না বাজাইও ঢোল বিয়ার বাজুনিয়া। কপাল পুড়িল মোর খেড়ের আগুন দিয়া ॥ আর না বাজাইও তোরা আমার বিয়ার বাঁশী। না ফুটিতে বিয়ার ফুল কলির মুখ বাসি ॥ না উঠিতে চান্দ মোর আন্ধারে ডুবিল। আষাঢ়ে আশার নদী শুকাইয়া গেল॥ মিছা আশায় বান্ধিলাম রে সোণার বাড়ি ঘর। কোন দৈবে আগুন দিয়া পুইড়া করলো ছাই॥ মনের কথা যত ইতি রহিল রে মনে। কি কার্য্য করিল হায় দারুণ দুষ্মনে॥ পুষ্পের সমান বুকে তাঁর না মারিল। দারুণ বিষের তাঁর পৃষ্ঠে বাহিরিল॥ কিবা ধন লইয়া আমি থাকিবাম ঘরে। দুরন্ত দুষ্মন মুণ্ডা মারিল আমারে। বনের না গাছ গাছালী পশু পক্ষী যত। মনের বেদনা আমি কহিব বা কত॥ আর না সে হইবে দেখা প্রভুর সঙ্গেতে। জন্মের মত অভাগীরে রাইখ্যা গেলা পথে॥ শুনরে গরল বিষ আমার মাথা খাও। যে পথে গিয়াছে বন্ধু সে পথ মোরে না দেখাও॥ সে পথ আন্ধাইর যদি মোরে লইয়া চল। দাগা দিয়া পরাণবন্ধু কৈবা ছাইরা গেল॥ সোণার পালঙ্ক আর ফুলের বিছানা। এই হইতে শেষ আজ দিন দুনিয়ার দানা॥ বিদায় দেও মাও বা পগো বিদায় দেও মোরে। আর না যাইবাম আমি পরগনা সহরে॥ আর না দেখিবাম আমি তোমাদের মুখ। আর না দেখিবাম চাহিয়া পরগনার লোক॥ নিবিল ঘরের বাতি আচমকা বাতাসে। নগর কাণা কালা মেঘরে উড়িল আকাশে॥ চান্দ খাইল তারা না খাইল আসমান জমিন। না থাকিব পাপ সংসারে দারুণ মুণ্ডার চিন ॥ শুনরে দারুণ বিষ মোর মাথা খাও। যে পন্থে গিয়াছে বন্ধু সে পথ দেখাও ॥” (১-৩৬) ( ১২ ) তবে ত বামুন রাজা হায় রাজা কোন কাম করিল। তিরপুরার রাজার কাছে ভালা শরণ লইল ॥ তিরপুরার লোক লস্কর চলিল ধাইয়া। তিরন্দাজ গোলন্দাজ সঙ্গেত লইয়া ॥ হাতিয়ার বান্ধিলেক তারা পিঠের উপর। লম্প দিয়া উঠে ভালা ঘোড়ার উপর ॥ পবন বাহনে ছুটে ঘোড়া ভালা বামুন রাজার দেশে। তিন মাসের পথ দেখ যায় একদিনে ॥ দেখিয়া দুর্জ্জন মুণ্ডা পরমাদ গণিল। জঙ্গলীর দল লইয়া আগ বাড়ন্ত ’ দিল ॥ একেত জঙ্গলীর দল লড়াই নাই সে জানে। ডাকাইতি দাগাবাজি এই সে ভালা জানে ॥ শাউনিয়া ধারা যেমন নালাঙ্গা ছুটিল। মুণ্ডার লস্কর যত বিছাইয়া পড়িল ॥ দড়িবেড় দিয়া সবে মুণ্ডারে ধরিয়া। তিরপুরার সরে দেখ দাখিল করলো নিয়া ॥ রাজার হুকুমে মুণ্ডারে সবে ময়দানে খাড়াইল। তিন তোপ মারিয়া তারে শুইনে উড়াইল ॥ (১-১৮)