চৌধুরীর লড়াই
পূর্ববঙ্গ গীতিকা - তৃতীয় খন্ড - দীনেশ চন্দ্র সেন
চৌধুরীর লড়াই বন্দনা ধুয়া—অরে অরে অরে অরে অরে অরে অরে। চৌধী সাজিলারে চৌধুরী সাজিলারে ॥ প্রথমে আল্লার নাম মনে করি সার। মুস্কিলে পড়িলে আল্লা করিবে উদ্ধার ॥ ২ প্রথমে আল্লার নাম দ্বিতীয় রসুল। উম্মদে ১ করিলে গুণা ২ নবী ৩ ব্যাকুল ৪ ॥ ৪ পরে বন্দনা করি বিবি বরকত মা। যদি সে না হইত দুনিয়ার লোকে না পাইত দানা৫ ॥ ৬ হজরত আলী বন্দি করি গুণের নাই সীমা। আঁধার ঘরে জ্বলে বাত্তী নুরের মহিমা ॥ ৮ হাসান হোসেন বন্দি করি রসুলের নাতি। ইসলামের কারণে বিস্তে ৬ জ্বলে বাত্তি ॥ ১০ জ্ঞানা ৭ আদমের পানা ৮ কালু জিন্দা ৯ বলে। তিলেক মাত্র না পাইলে তক্তের খুডা ১০ হিলে ১১ ॥ ১২ যার ঘরে আছে দানা গায়ে আছে উম। ধূল বালুয়ে শোইতলে পরে চক্ষে আসে ঘুম॥ ১৪ যার ঘরে নাই দানা খাট পালঙ্গে শোতে। সালুম রাইত পেডের ভোগে যেন পাইল ভূতে॥ ১৬ এতেক কহিতে আমার হবে অনেক ক্ষণ। চৌদিগের বন্দনা লই শুন দিয়া মন। ১৮ ( ২ ) ধূয়া—মনরে তরাইয়া লওরে অসাধনে হইলাম মিলন। পশ্চিমে বন্দনা করি মক্কা মূলস্থান। এ উদ্দিশে জানাই সেলাম হিন্দু মুসলমান॥ ২ মুসলমানের মুসলমানী হিন্দুর একাদশী। সে কারণে মুসলমানী না মানে তুলসী॥ ৪ তার পশ্চিমে করি বন্দি ঠাকুর জগন্নাথ। ভেদ নাই বিচার নাই বাজারে বিকায় ভাত॥ ৬ চণ্ডালে রান্ধে যে ভাত ব্রাহ্মণে খায়। এমন সুধন্য দেশে জাতি নাহি যায়॥ ৮ ভাত মাছ খাইয়া তারা মুখে মোছে হাত। সে কারণে রাইখছে নাম ঠাকুর জগন্নাথ। ১০ This page is blank and contains no text. চৌধুরীদের প্রাচীন দুর্গের ধ্বংসাবশেষ — ৩১১ পৃঃ পশ্চিমে বন্দনা কইরতে হবে অনেকক্ষণ। দক্ষিণের বন্দনা লই শুন দিয়া মন॥ ১২ দক্ষিণে বন্দনা করি ক্ষীর নদী সাগর। চৌদ্দ ডিঙ্গা লইয়া ভাসে মনাই সদাগর ১ ॥ ১৪ চাইর কূল ভাঙ্গিয়া গঙ্গী ২ মধ্য দিল চর। সে চরে রসাই ৩ করে মনাই সদাগর ॥ ১৬ নাড়ও চড়িও গঙ্গী না করিও তল। পরাণে না মাইরো আমার মনাই সদাগর ॥ .৮ দক্ষিণের বন্দনা কইরতে আমার হবে অনেকক্ষণ। পূর্ব্বের বন্দনা লই শুন দিয়া মন ॥ ২০ পূর্ব্বেতে বন্দনা করি পূর্বে ভানুস্বর। একদিগে উদিত ভানু চৌদিকে পসর ৪ ॥ ২২ তার পূর্বে বন্দনা করি মসজিদের চর। চাঁদ সুরুয দুইটি ভাই সেই চরকের ৫ পর ॥ ২৪ এক চরকে তোলে পানি আরক ৬ চরকে ছাড়ে। আনা ৭ জনে আনা বলে প্রভুর দুয়ারে ॥ ২৬ তার পুবেতে বন্দি করি পোবন করা করা ৮। স্ত্রী হইল বলিমন্ত ৯ পুরুষ মরা মরা ॥ ২৮ তার পুবে বন্দনা করি দেলাই সাবের ১০ বাড়া। কোচ্ছাৎ ১১ করি আইনছে মর্দ্দে বাইশ মুল্লুকের হাতী ॥ ৩০ হাতী আনি তার না পুরিল হাইস। হাতে করি আইনল মদ্দে বাইস মুল্লুকের মো’স॥ ৩২ এতেক কহিতে আমার হবে অনেকক্ষণ। উত্তুরের বন্দনা লই শুন দিয়া মন॥ ৩৪ উত্তুরে বন্দনা করি তেমান্ত খেদার। যার হিমাইলে দংশি আইল শয়াল সংসার॥ ৩৬ হস্ত নাই পদ নাই ধরেন ত চাপিয়া। কার বাপের সাধ্য আছে হালাইত ঠেলিয়া॥ ৩৮ উত্তুরের হিমাইলে দক্ষিণে দিল মোড়া। ঝুরিয়া ঝুরিয়া মরে আশী যুগের বুড়া॥ ৪০ বুড়ার মরণ দেখি যোয়ায্যার পাইল ডর। ক্ষেত্য কাছড় লইয়া যায় আট বেড়ার ভিতর॥ ৪২ আর উত্তুরে বন্দি করি পীর গোরা চাঁদ। আস্মানে জমিনে গোরায় পড়িয়াছে ফাঁদ॥ ৪৪ ফান কাছি যেমন তেমন রসি গাছ দড়। সেই ফাঁদে পড়িয়া বন্দা কিবা ছোট বড়॥ ৪৬ চৌদিগের বন্দনা কইতে হবে অনেকক্ষণ। মাতা পিতা বন্দিয়া লই শুন দিয়া মন॥ ৪৮ মা বন্দম গর্ভ ধারিণী বাপ জরম দাতা। জনমে জনমে বন্দি থাক বসুমাতা॥ ৫০ মাতা পিতা বন্দি করি শরিয়তের পীর। যাহার পালনে আমার এই কাম শরীর ॥ ৫২ মাতা পিতা বন্দনা আমার করি দিলাম ইতি। ওস্তাদ চরণ বন্দনা করি করিয়া ভকতি ॥ ৫৪ ওস্তাদ আমার বছমিঞা আচদিয়া ঘর। ওস্তাদ ভজনা করি সভার গোচর ॥ ৫৬ কোথাকারে গেল খলিফা বানাইয়া সাকরিত। সে কারণে গাই আমি রাজচন্দ্রের গীত ॥ ৫৮ চৌদিগ বন্দনা করি মস্তক কইলাম স্থির। শিরের পরে বন্দি করি আশীহাজার পীর ॥ ৬০ আশীহাজার পীর নয় নয় লাখ পয়গম্বর। খোদার দোস্ত মহম্মদ শিরের উপর ॥ ৬২ ওঝা করি বন্দি ওঝা নাগেশ্বরা। সতর তোলা খাইচে বিষ কোটরাতে ভরি ॥ ৬৪ বিষ খাওাইয়া কবিরাজে না খাওয়ালৈ জারণ। নিশ্চয় নাগের হাতে ঘটিল মরণ ॥ ৬৬ বাড়ীর চৌদিক করি বন্দি বাড়ীর ভগবান। পাতালে করি বন্দি সপ্ত কোটি নাগ নারায়ণ ॥ ৬৮ চাড়িগাতে করি বন্দি চাড়েশ্বরী রাই। ভুলুয়াতে করি বন্দি ভুলুয়ার বারাই ॥ ৭০ আগেতে আছিল কালী চাড়িগা সহরে। এখান কালে কইলকান্তা সহরে ॥ ৭২ কইলকান্তা সহরে যাইয়া মহিমাময়ী কালী। সেই কালীর দুয়ারে দিল লোহার পাঠাবলি ॥ ৭৪ বন্দনা কহিতে আমার হবে অনেকক্ষণ। বন্দনা ছাড়িয়া এবে গীতে কর মন॥ ৭৬ রাজচন্দ্রের, রাজিন্দ্রের গীতও গাই। সেই কালে খুড়া ভাতিজায় কইরাছে লড়াই॥ ৭৮ প্রথম খণ্ড রঙ্গমালার বিবাহ ধূয়া—অরে অরে অরে অরে অরে অরে। চৌধ্রী সাজিলারে চৌধুরী সাজিলারে॥ চৌধুরী ছিল রাজিনারাণ রাজ্যের অধিকারী। হিন্দুর-কাইতের জঙ্গল কাটি বাইন্দল রাজবাড়ী॥ ২ আউগ দেউড়ী মাইজ দেউড়ী দেউড়ী সারি সারি। হাইস করি তোলাইছে চৌধুরী রাজ গঞ্জের কাছারী॥ ৪ যে কালে রাজিন্দ্র খুড়ার গায়ে বল ছিল। যাইড ঘর বৈরাগীর যায়গা আগ দরজায় দিল॥ ৬ নাটুয়া নাটুনী কত ছিল সারি সারি। কত রঙ্গে ঢঙ্গে চইলত সব নাগরী॥ ৮ চৌধুরী ছিল রাজিনারাণ রসিয়া নাগর। জল টাঙ্গনের ঘরে শোয় দোসরা নাগর॥ ১০ রাজেন্দ্র চৌধুরীর দীঘি—৩১৪ পৃঃ এই ইমেজটিতে কোনো লেখা বা টেক্সট নেই। ইমেজটি সম্পূর্ণ খালি। সবার চরণে আমি করিয়া ভকতি। মন দিয়া শুনেন সবে রঙ্গমালার পীরিতি ॥ ১২ গান মরি মরি লাজে মরে যাই। কামানলে প্রাণ জ্বলে কব কার ঠাঁই ॥ কি করিব কোথা যাব কব কার ঠাঁই। পাইলে সে ধন ধরি গলে রব মিলে ছেড়ে দিব নাই ॥ ( ২ ) তালেশ্বরপুর নড় বাড়ীতে একটা মহা উৎসব ছিল। সেই বাড়ীতে রাম গেত্যা গুঁজা চিঁড়া খাইতে গেল ॥ ২ চিঁড়া খাইয়া রামগতি বাড়ীত চলিল। রঙ্গমালার সুন্দরীর দেখা পথের মধ্যে পাইল ॥ ৪ আলগে থাকি রামগতি যে নজর করি চায়। সোনার পুতুলা যেন সামনে দেখা যায় ॥ ৬ শুন চাই গো আগো দাসী কৈ তোমার ঠাঁই । এই মাইয়াগা কে দাঁড়াইছে সত্য বল চাই ॥ ৮ শুন শুন রামগতি কই তোমার ঠাঁই। সম্মান লইয়া তুমি চলি যাও চাই ॥ ১০ আপ্তরামের ঘরের মাইয়া গোলাপের ভগিনী। ইছি বাছি রাইখছে নাম রঙ্গমালা রাণী ॥ ১২ এই কথা রামগতি যখনে শুনিল। মনে মনে রামগতি ভাবিতে লাগিল ॥ ১৪ যদি আমি রামগতি পরাণে বাঁচিব। কেমন রঙ্গমালা সুন্দরী নজরে দেখিব ॥ ১৬ ধূয়া—যাই আগে শ্যাযের মায়ের কাছে। ধীরে ধীরে রামগতি যে কৈল্ল আগমন। আপনা বাড়ীত যাই দিল দরশন ॥ ১৮ নিজে নিজে রামগতি যে বুদ্ধি করণ লইল। পিতার কাছেতে যাই দরশন দিল ॥ ২০ শুনেন শুনেন পিতাঠাকুর কই আমনের ঠাঁই। একখান কথা কইতে আমার পরাণে ডরাই ॥ ২১ এই কথা নছিরামে যখন শুনিল। রামগতির আগে কথা কহিতে লাগিল ॥ ২৪ শুনেন পিতাঠাকুর কহি আমনের ঠাঁই। হাইসে রইসে রঙ্গমালারে বিয়া করান চাই ॥ ২৬ আপ্তারামের ঘরে মাইয়া গোলাপের ভগিনী। ইচ্ছি বাছি রাইখ্ছে নাম রঙ্গমালা রাণী ॥ ২৮ এই কথা গুঞ্জার বাপে যখন শুনিল। আলগা পিছা হাতে করি দৌড়াইতে লাগিল ॥ ৩০ তুই কইলি কিয়া গুঁজা তুই কইলি কিয়া। অগো হাত ননাইয়া মাইয়া নিরে তোর তুন দিব বিয়া ॥ ধায় আর রাম গৈচ্যা পিছের দিগে চায়। আর নিরে পিতাঠাকুর আমার লাউগ পায় ॥ ৪ গোস্যা হইয়া রামগতি যে বুদ্ধি করণ লৈল। নছিরামের ঘরে যাই দরশন দিল ॥ ৩৬ যদি আমি রামগতি পরাণে বাঁচিব।নছিরামের বড় সিন্দুক গো ছোড়াইনে খুলিব ॥ ৩৮এতবলি রামগতি যে ছোড়ানি লইল।নছিরামের বড় সিন্দুক ছোড়াইনে খুলিল ॥ ৪০সন্দুক খুলিয়া নজর করি চায়।হাজার টাকার তোড়া সামনে দেখা যায় ॥ ৪২টাকার তোড়া কাঁধে লইয়া রামগতি যে কৈচ্ছে আগমন।আপ্তারামের বাড়িতে যাই দিল দরশন ॥ ৪৪দুরগা দাসী দুরগা দাসী বোলাইতে লাগিল।সামনে আসি দুরগা দাসী খাড়া যে হইল ॥ ৪৬শুন শুন রামগতি আইলা কিসের লাই।একবার আমারে কহনা বুঝাই ॥ ৪৮গানদাসীগো মনের কথা বলিগো তোমায়।করি দাসী এই নিবেদন আমি অধীন কারণ।বিমুখ হইওনা কখন ধরি তোমার রাঙ্গা পায় ॥শুন শুন ওগো দাসী কই তোমার ঠাঁই।পাঁচশ টাকা দিলাম তোমার পান খাইবার লাই ॥ ৫০পাঁচশ টাকা দিলাম তোমার পান খাইবার লাই।বিয়ার কথা হইলে টাকার গণাপড়া নাই ॥ ৫২আর জনে দিব টাকা গণিয়া পড়িয়া।আমি গুঁজায় দিমু টেকা পান সেরায় মাপিয়া ॥ ৫৪_ এই কথা নরের দাসী যখনৈ শুনিল। রামগতির আগে কথা কহিতে লাগিল ॥ ৫৬ শুন শুন রামগতি ক’নু তোমার ঠাঁই। আন্তরবাড়ী ১ যাই আমি ওজন বুঝি চাই॥ ৫৮ ধীরে ধীরে দাসী কৈচ্ছে আগমন। আন্তর বাড়ী যাই দাসী দিল দরশন ॥ ৬০ শুন শুন আপ্তারাম কই তোমার ঠাঁই। এরই ২ আসি কাছে বসি কথা শুন চাই ॥ ৬২ এই কথা আপ্তারাম যখনি শুনিল। দুরগা দাসীর কাছে আসি দরশন দিল ॥ ৬৪ শুন শুন আপ্তারাম কই তোমার ঠাঁই। কপাল উলটিছে তোমারগো ভাইগ্যের সীমা নাই ॥ ৬৬ এই কথা শুনি আপ্তারাম কপালে হাত দিতে চায়। যাগার ৩ কপাল যাগগা আছে এমন দেখা যায় ॥ ৬৮ শুন শুন ওগো দাসী কই তোমার ঠাঁই। যায়গার কপাল যাগাত ৪ আমি দেখতে পাই ॥ ৭০ এই কথা দুরগা দাসী যখনৈ শুনিল। ভাইগ্যের কপাল উলটিছে তোমাগো বুঝাইয়া দিল ॥ ৭২ মেহারকুলীন ৫ এক কুমার আইছেগো চলিয়া। পাঁচশ টেকা দিছে তোমাগো পান খাইবার লাগিয়া ॥ ৭৪ বিয়ার কথা হইলে টেকার গণাপড়া নাই ॥ ৭৬ এই কথা আপ্তারামে যখনি শুনিল। মধুর বচনে কথা কহিতে লাগিল ॥ ৭৮ শুন শুন অগো দাসী কই তোমার ঠাঁই। গোলাপের কাছে তুমি জলতি যাও চাই ॥ ৮০ সে যদি হয় রাজি রাজি আছি আমি। তবে বিয়ার কথা ঠিক কর তুমি। ৮২ এই কথা ঘুরগা দাসী যখনি শুনিল। গোলাপের কাছে যাই দরশন দিল ॥ ৮৪ শুন শুন গোলাপ চন্দ্র কই তোমার ঠাঁই। কপাল উল্টিছে তোগো ভাইগ্যের সীমা নাই ॥ ৮৬ মেহরেকুলীন এক কুমার আইছেগো চলিয়া। পাঁচশো টেকা দিছে তোমাগোরে পান খাইবার লাগিয়া ॥ ৮৮ শুন শুন ওগো দাসী কই তোমার ঠাঁই। মনে মাইন্বে বেরল্যে হইব রঙ্গমালার জামাই ॥ ৯০ টাকা পৈসার কথা সব দিলাগো শুনাই। এমন সুন্দর রঙ্গ কেমনগো জামাই ॥ ৯২ এই কথা দাসী যখনই শুনিল। মনে মনে দাসী ভাবিতে লাগিল ॥ ৯৪ টেকা পৈসা যত কিছু পুরস্কার দিব। জামাই চাইতে কইলে তার গুঁজ কোথায় নিব ॥ ৯৬ এখান হইতে দাসী কৈচ্ছে আগমন। রামগতির কাছে যাই দিল দরশন ॥ ৯৮ শুন শুন রামগতি কইগো তোমার ঠাঁই। আন্তুর বাড়ী নিতে হুকুম হইছে জলতি চল যাই ॥ ১০০ এই কথা রামগতি যখনি শুনিল। শাজিপাড়ি ১ দাসীর সঙ্গে তখনই চলিল ॥ ১০২ ধূয়া—অ ধনি ২ আমার মতন সোনার রতন কপাল আছে কার। আন্তুর বাড়ী যাই যখন দরশন দিল। গোলাপ রাইয়া গোলাপ রাইয়া তখন বোলাইতে লাগিল ॥ ১০৪ আল্গে থাকি গোলাপ রাইয়া তখন নজর করি চায়। রামগেঁত্যা গুঁতারে দেখি বোলে হায়রে হায় ॥ ১০৬ একে তোরে রামগতি দাউদে খাইছে অঙ্গ। দেখিলে তোর রূপ আনন্দ হয় ভঙ্গ ॥ ১০৮ উঁচনেচ ৩ ভাঙ্গিয়া বুক হইছে মোচা ৪। মুখের দিকে চেইনতে ৫ লাগে চৈত্র মাইয়া পেঁচা। ১১০ টেকার লোভে গোলাপ রাইয়া কিছু না কহিল। বিয়ার তারিখ করিয়া যে দিলা ॥ ১১২ (৩) রঙ্গমালার বিবাহের সাজ ধূয়া—তোরা কে যাইবি জলেরে গোকুল নগরে বাঁশী বাজে ঐরে! পয়লা অন্নতারা পদ্মতারা সোনা মালা। জয়তারা কালীতারা কাঞ্চন মালা ॥ ২ কলাবতী মুগাদাসী বেত তোলানী রাই। চলনাগো সব সথীরে জল ছেয়ানে যাই ॥ ৪ মাসমিত্রা বোলাই রঙ্গের কহিতে লাগিল। গাইট গিল্লা চুয়া চন্দন অঙ্গেতে মাখিল ॥ ৬ চতুরদিগে সখীগণে করে ওলামেলা। মধ্যখানে খাড়া আছে সুন্দর রঙ্গমালা ॥ ৮ এইমতে সখীগণে ছেয়ান করাইল। ছেয়ান করাইয়া মাইয়া মউডগা তলে নিল ॥ ১০ বাড়ীর কাছে বামণ আছিল ডাক দিয়া লইল। রামগতি গুঁজারে তখন একত্রে বসাইল ॥ ১২ যে রকম বিয়ার নীতি বামণে করাইল। সমস্ত পূজা শেষ করি বিয়ার মন্ত্র পড়াইয়া দিল ॥ ১৪ চারি চোক্কের দুইজনের দেখা যে হইল। অগ্নির ফুলুকী যেন রঙ্গ জ্বলিয়া উঠিল। ১৬ বাঁশ বনে আগুন দিল গিরা ফুড়ি যায়। তেন মত জ্বলি উঠে রঙ্গমালার গায় ॥ ১৮ আমার ভাইয়া গোলাপ রাইয়া চক্ষু দুটি খাইল। বাড়ীর কাছে রসিক ধুই গুঁজারি তুন বিয়া দিল ॥ ২০ টেকার লোভেতে বাপের বিচার না করিয়া। রামগতি গুঁজারি কাছে আমাকে দিল বিয়া ॥ ২২ যদি আমি রঙ্গমালা পরাণে বাঁচিব। কেমনে রামগেত্যা গুঁজারে নজরে দেখিব ॥ ২৪ বিয়া সমাধা হইয়া নিষ্পত্তি হইল। কণ্যাবরে বড় ঘরেতে নিল॥ ২৬ পালঙ্গেতে রঙ্গমালা শুইয়া রহিল। রামগতি গুঁজা পালঙ্গে বসিল॥ ২৮ আলগে১ থাকি রামগতি গুঁ জারে রঙ্গমালায় নজর করি চায়। কাছে আইয়ে রামগতি এমন দেখা যায়॥ ৩০ লাথি মারি রামগতিরে ফালাইয়া দিল। কেবাড়২ ভাঙ্গে রামগতি উড়গা৩ লড় দিল৪॥ ৩২ যে দিন লাগাত৫ রঙ্গমালার চিন্ল আপন পর। এক দিনও না কইরল্য রামগেত্যা গুঁজার ঘর॥ ৩৪ ধায় আর রামগতি পিছের দিগে চায়। আর কিরে রঙ্গমালায় আমার লাউগ৬ পায়॥ ৩৬ দ্বিতীয় খণ্ড রঙ্গমালার পীরিত ( ১ ) গান ১ম ধূয়া—পারিতি এমন কষ্ট জানি কি আগেতে। জর জর হইল তনু ভাবিতে ভাবিতে॥ ভাবি আমি যার দায় সে মোরে ছাড়িয়া যায়। হায় হায় দুঃখ কব কায় বাঁচি না দুঃখেতে॥ কুল মান পরিহরি হইল কিঁকরী তারি। তবু মোরে যায় ছেড়ে’ ধিকরে পীরিতে॥ য় ধুয়া—মনে মনে গোপনে রাখিও পীরিতি। পীরিতি করিবি পরাণে মরিবি বিচ্ছেদ জ্বালায় মরিবি যুবতী॥ শুন শুন ইন্দ্রসভা তোমরা আমার ভাই। রঙ্গমালার পীরিতের কথা সবারে শুনাই॥ ২ চৌধী বাড়ার দরজায় ছিল শ্যামাপ্রিয়া বৈষ্ণবীর ঘর। ভিক্ষা কৈরতে যায় বৈষ্ণবী আহ্লাদি নগর ॥ ৪ সালুম দিন ভিক্ষা করে ডাইনে আর বাঁয়। দণ্ড চারিখ বেলা থাইতেতে নর বাড়ীতে যায়॥ ৬ ঘাডার আগে যাইয়া প্রিয়ায় ধরিল ঝিকির। রঙ্গমালায় বোলে আইল ঈশ্বরের ফকির॥ ৮ গান শুনলো শুনলো তোরা ওগো সখী। থাক থাক দূরে থাক হৈয়া হেঁটমুখী॥ ১০ দেখিগো দেখিগো আমি একবার দেখি। সে কুলে কদম্বমূলে মনচোর নাকি॥ ১২ শুন চাইগো অগো দাসী কই তোমার ঠাঁই। ভিক্ষা দিয়া বৈষ্টবারে বিদায় করা চাই॥ ১৪ এই কথা দুবগা দাসী যখন শুনিল। রসাই মণ্ডব ঘরে যাই দরশন দিল॥ ১৬ আজঝের চাইল একবুড়ী কড়ি থালে উঠাইল। থালা হস্তে করি শ্যামপ্রিয়ার কাছে গেল॥ ১৮ ভিক্ষা লও শ্যামপ্রিয়া আজাইর কর থালা। গোলাপের আশীর্বাদ আর রঙ্গমালা॥ ২০ রঙ্গমালার কথা প্রিয়া কর্ণেতে শুনিল। মনে মনে শ্যামপ্রিয়া ভাবিতে লাগিল॥ ২২ নামের সুন্দর এত দেইখতে লাগে কি। কিরূপে রঙ্গমালারে নয়নে দেখি॥ ২৪ হেকমত্যা শ্যামপ্রিয়া হেকমত করিল। জুম্বুলের তুন খুঞ্ছনিটা টান দিয়া লইল॥ ২৬ টুঙ্গুর টুঙ্গুর করি খুঞ্জনি টোকা দিল। ছোট ছোট নরের পোলা তাম্সা চাইতে আইল॥ ২৮ খুঞ্জনি বাজায় শ্যামপ্রিয়া আরম্ভিলা গীত। শুনি যত নড়ের বংশ হইল বিপরীত॥ ৩০ গান মনের মানুষ ভবে মিলে না সৈগো কি করি তাই বল না। মনের মানুষ মিল্লে পরে মনে মনে মিলে না॥ মনের মানুষ যদি পেতাম মন প্রাণ সঁপে দিতাম। অগো তার মন আমি নিতেম কই সেই মানুষ ত পেলাম না॥ টুঙ্গুর টুঙ্গুর গায় গীত যেন বীণার টান। পথ ঘাট বুঝা যায় না ভগদে পরাণ॥ ৩২ ঘরে থাকি রঙ্গমালা কর্ণেতে শুনিল। মাসমিত্রা১ বোলাই কথা কহিতে লাগিল॥ ৩৪ শুনেনুন শুনেন মাসমিত্রা কই আমনের ঠাই। আমার মনের চুরদ্রা২ হয় কীর্ত্তন শুনবার লাই৩॥ ৩৬ হৈছ তলক৪ রইছ তুমি জোড় মন্দির ঘরে। এখন কেনে যাইতে চাও আগদরজার পরে॥ ৩৮ এই কথা রঙ্গমালায় যখন শুনিল। রঙ্গমালারে লৈয়া যাত্রা করিল॥ ৪০ ধীরে হাটে অনুগতে৫ কৈছে আগমন। তেড়ী বেড়ার৬ কাছে যাই দিল দরশন॥ ৪২ ঐদিকে শ্যামপ্রিয়ার নজর করি চায়। কেবা আসে কেবা যায় কে শুনে খাড়ায়॥ রঙ্গমালার দিকে প্রিয়ার নজর পড়িল। হেরিতে হেরিতে প্রিয়ার আঁখি উলটিল॥ ৪৬ চারি চক্ষের দুইজনে যখন দেখা হইল। ভাবে মগন হইয়া প্রিয়া ঢুলিয়া পড়িল॥ ৪৮ এই কাণ্ড রঙ্গমালায় যখন দেখিল। মনে মনে রঙ্গমালায় ভাবিতে লাগিল॥ ৫০ রঙ্গমালায় বলে আমি বুঝিরে ভাবিয়া। আমার রূপ দেখি পৈড়ছেরে৭ ঢুলিয়া॥ ৫২ এমন দয়ালী বৈষ্টব যাইবগৈ মরিয়া। কতকাল রাখিব ধর্ম্ম নরকে ঢালিয়া॥ ৫৪ ধীরে হাটে অনুগতে কৈচ্ছে আগমন। শ্যামপ্রিয়ার কাছে যাই দিল দরশন॥ ৫৬ তৈল পানি দিয়া প্রিয়ার সান্ত্বনা করিল। শাড়ীর অঞ্চল দিয়া বাতাস করিল॥ ৫৮ কিছুকাল বাদে প্রিয়া সান্ত্বনা হইল। রাধে কৃষ্ণ বলি ডাক দিয়া উঠিল॥ ৬০ শান্ত হইয়া শ্যামপ্রিয়া চক্ষু মিলি চায়। সোনার পুতুলা যেন সামনে দেখা যায়॥ ৬২ তুমি নাকি রঙ্গমালা বুঝাই কহ আমারে। তোমার রূপ দেখিয়া আমার পরাণ বিদরে॥ ৬৪ এই কথা রঙ্গমালা যখন শুনিল। শ্যামপ্রিয়ার আগে কথা কহিতে লাগিল॥ ৬৬ শুন শুন শ্যামপ্রিয়া কই তোমার ঠাঁই। আমার মত কাঙ্গালিনী পৃথিবীতে নাই॥ ৬৮ কিসের কাঙ্গাল তুমি কহ না আমারে। তোমার রূপের তুলনা আমি না দেখি সংসারে॥ ৭০ শুন শুন রঙ্গমালা কই তোমার ঠাঁই। এমন সুন্দর রঙ্গ কেমন গো জামাই॥ ৭২ এই কথা রঙ্গমালা যখন শুনিল। শ্যাম প্রিয়ার আগে কথা কহিতে লাগিল॥ ৭৪ শুন চাই গো শ্যামপ্রিয়া গো উদ্ধব কালিয়া ১। নিবেছিল চিত্তের আগুন দিলি গো জ্বালিয়া॥ ৭৬ ধনের লোভেতে বাপে বিচার না করিয়া। রামগেত্যা গুঁজীর কাছে আমারে দিছে বিয়া ॥ ৭৮ আমার ভাইয়া গোলাপ রাইয়া চক্ষু দুটি খাইল। বাড়ীর কাছে রসিক থুই ১ গুঁজীর তুন বিয়া দিল। ৮০ বাপের বাড়ী থাকি আমি চিন্ছি আপন পর। এক দিনও না কৈরল্যাম রামগেত্যা গুঁজার ঘর ॥ ৮২ এই কথা শ্যামপ্রিয়া যখনে শুনিল। বাঁশ মুড়ীর ২ ইল্বিষ ৩ যেন ফড়কিয়া৪ উঠিল ॥ ৮ কার বাড়ীত যাইব আমি কার বাড়ীত রইব। রঙ্গমালার সুন্দরীর কথা চৌধুরী বাড়ীত কইব ॥ ৮৬ চৌধুরী আছে রাজচন্দ্র রসিয়া নাগর। জল টাঙ্গনের ঘরে শোবে দোসুরা নাগর ॥ ৮৮ চৌধুরীর সঙ্গে রঙ্গের সঙ্গে প্রেম লাগাই দিব। অনেক কড়ি দিব টেঁকা জনম ভরি খাইব ॥ ৯০ এই কথা শ্যামপ্রিয়া মনেতে ভাবিয়া। সেখান তুন শ্যামপ্রিয়া গেল গৈ চলিয়া ॥ ৯২ ( ২ ) ধুয়া—ঠমকে ঠমকে চলে শ্যাম প্রিয়া বৈষ্টবী। ঝলমল করে রূপ আহা মরি মরি। চৌধুরী বাড়ীর দরজায় যাইয়া দরশন দিল। মনে মনে শ্যামপ্রিয়ায় ভাবিতে লাগিল ॥ ২ পদ নাই পরিচয় নাই কইব কার ঠাঁই। কেমনে কথা কইবারে রাজচন্দ্রের কাছে যাই ॥ ৪ আলূগে থাকি শ্যাম প্রিয়ায় নজর করি চায়। চাচা ভাতিজা তিন জনের দরবারে দেখা যায়॥ ৬ আরক ১ জন বুঝায় কাগজ কাগজ দেখিয়া। রাজচন্দ্র বসি রৈছে তক্যা ২ ঢেলান দিয়া॥ ৮ মনে মনে শ্যামপ্রিয়ার বুদ্ধি যে করিল। জুম্বুলের তুন খুঞ্ছনিগা ৩ টান দিয়া লইল॥ ১০ ধুয়া—বাঁকা নয়নে ঠারিয়া নিলি প্রাণ। কমলিনি মধুকর দান॥ বাজায় অরে শ্যামপ্রিয়া চৌধুরীর দিকে চায়। এই দিগে রাজচন্দ্র নজর করি চায়॥ ১২ শ্যামপ্রিয়া আর চৌধুরীর চক্ষে যখন এক হইল। শ্যামপ্রিয়া বৈষ্টবী তখন চক্ষে ঠার দিল॥ ১৪ আলূগে থাকি রাজচন্দ্রে নজর করি চায়। শ্যামপ্রিয়া ঠারণ লৈচে ৪ এমন দেখা যায়॥ ১৬ শুনেন্ শুনেন্ খুড়া ঠাকুর কই আমনের ঠাঁই। আমার হৃদ্দি হইছে প্রাণের খুড়া শৈলে ৫ আরাম নাই॥ ১৮ এই কথা রাজেন্দ্র খুড়ায় যখনে শুনিল। দরবার ক্ষেমা দিয় ৬ আস্তর বাড়ীত ৭ রাজচন্দ্রেরে পাঠাই দিল॥ ২০ ধীরে হাটে অনুগতে কৈচ্ছে আগমন। আস্তর বাড়ীত যাই চৌধুরী দিল দরশন॥ ২২ সোনালী ধুতির কোঁচা তেপটী ১ পিঙ্কিল ২। গোলাপী চাদর কান্ধের মধ্যে তুলি দিল ॥ ২৪ জরির জুতা পায় দিয়া। শ্যামপ্রিয়ার কাছে গেল হাঁটিয়া ॥ ২৬ শুন চাই গো শ্যামপ্রিয়া কই তোমার ঠাঁই। ঠার মারিয়া ভৈন দিদি ৩ গো আইলা কিসের লাই ॥ ২৮ এই কথা শ্যামপ্রিয়া যখন শুনিল। মধুর বচনে কথা কহিতে লাগিল ॥ ৩০ শুনেন শুনেন মহারাজ কই আপনার ঠাঁই। অপূর্ব এক তামসা দেইখলাম নর বাড়ীতে যাই ॥ ৩২ এই কথা রাজচন্দ্র চৌধুরী যখন শুনিল। শ্যামপ্রিয়ার আগে কথা কহিতে লাগিল ॥ ৩৪ শুন শুন শ্যামপ্রিয়া গো কই তোমার ঠাঁই। কিবা তামসা দেখছ তুমি কহ না বুঝাই ॥ ৩৬ এই কথা শ্যামপ্রিয়ায় যখনি শুনিল। রাজচন্দ্রের আগে কথা কহিতে লাগিল ॥ ৩৮ শুনুন শুনুন নাতিঠাকুর কই আমনার ঠাঁই। পীরিতের দরখাস্তের টেকা দেও মোরে ফেলাই ॥ ৪০ এই কথা রাজচন্দ্র যখন শুনিল। এড়াই বেড়াঁই শ্যামপ্রিয়ারে ঠাঙ্গাইয়া ধরিল ॥ ৪২ যদি রাজচন্দ্র চৌধুরী প্রেমের কথা পায়। আন্ধাইরগা রাত্র হইলে টাঙ্গান ৪ দৌড়াই যায় ॥ ৪৪ বেড়াইয়া শ্যামপ্রিয়ারে যখন ধরিল। রঙ্গমালার কথা প্রিয়ায় কহিতে লাগিল॥ ৪৬ আপতারামের ঘরে মাইয়া গোলাপের ভগিনী। ইচ্ছিবাছি রাইখছে নাম রঙ্গমালা রাণী॥ ৪৮ হাইসে করাইছে বিয়া ফুলেশ্বরী রাই। রঙ্গমালাগার ঠেঙ্গের জ্ঞান আট কপালে নাই॥ ৫০ শুন শুন শ্যামপ্রিয়া গো কই তোমার ঠাঁই। নর বাড়ীর পদ্ম গাছ মোরে দেখাই দেও চাই॥ ৫২ এই কথায় শ্যামপ্রিয়ায় যখনে শুনিল। রাজচন্দ্রের আগে কথা কহিতে লাগিল॥ ৫৪ এমন কথা কইতাম যদি কোন হাইলা চাষার কাছে। বকৃষিস্ বুলি দুই চাইর টেকা ফেলাই দিত পাছে॥ ৫৬ এই কথা রাজচন্দ্রে যখনে শুনিল। শ্যামপ্রিয়ার কাছে চৌধুরী বড় সরম পাইল॥ ৫৮ কি দিব কি দিব বলি ভাবিতে লাগিল। জেবে হাত দিয়া এক্গা টাকা প্রিয়ায় হাতে দিল॥ ৬০ ইহা দেখি শ্যামপ্রিয়া রাগান্বিত হইল। হাতের টেকা শ্যামপ্রিয়া ফেলাইয়া দিল॥ ৬২ আমি হেন জাত বৈরাগী তোমার আগ্ দরজায় ঘর। লক্ষ টেকা আছে আমার জুম্বুলের ভিতর॥ ৬৪ বৈষ্টবীর কাছে চৌধুরী বড় সরম পাইল। মধুর বচনে কথা কহিতে লাগিল॥ ৬৬ শুন চাইগো ভইন দিদি গো শুন মন দিয়া তুমি। এক মুল্লুক তোমার নামে লেখি দিমু আমি॥ ৬৮ টেকার কিবা রাট্, আমার যায়গার কিবা রাট্। দিনে দিনে করি দিমু তোমার নামে রাজগঞ্জের হাট॥ ৭০ এই কথা বৈষ্টবীয়ে যখনে শুনিল। রাজচন্দ্রের আগে কথা কহিতে লাগিল॥ ৭২ বাঁকার নামে ফাঁকি দাদা সর্বলোকে জানে। সারিলে আপন কার্য ফিরি নাহি মোনে॥ ৭৪ এই কথা রাজচন্দ্র যখনে শুনিল। পকেটের তুন চিনের কাগজ টান দিয়া লইল॥ ৭৬ আপনার হস্তে কাগজ লিখিতে লাগিল। যাইট ঘর বৈরাগীর যায়গার মালিক লেখিয়া সে দিল॥ ৭৮ বৈষ্টবার হস্তে যখন কাগজ সে দিল। ইহা দেখি বৈষ্টবা বড় খুসী হইল॥ ৮০ শুন শুন নাতীঠাকুর কই তোমার ঠাঁই। চাইর দণ্ড বেলা থাইকুতে আসিত ভাই॥ ৮২ এই কথা রাজচন্দ্র ফিরি যখনে শুনিল। কত দুরা যাইয়া চৌদ্ধা ভাবিতে লাগিল॥ ৮৪ রাজচন্দ্র বোলে আমি কি কাজ করিলাম। ভেদের কোন কথা বৈষ্টবার তুন না জিজ্ঞাস করিলাম॥ ৮৬ কতদুরা যাইয়া চৌদ্ধা দৌড়িতে লাগিল। শ্যামপ্রিয়া রে বলি চৌদ্ধা রগধি চালল॥ ৮৮ পিছু মুখি শ্যামপ্রিয়ায় নজর করি চায়। রাজচন্দ্রের দৌড়ান লাইগছে এমন দেখা যায়॥ ৯০ শুন শুন নাতিঠাকুর কই তোমার ঠাঁই। তুষ্টি মুষ্টি১ কথার মধ্যে দৌড়াও কিসের লাই ॥ ৯২ শুন চাই গো ভইন দিদি গো দৌড়াই আইছি আমি। জ্ঞেয়ান টেয়ান তন্ত্র মন্ত্র জাননি গো তুমি ॥ ৯৪ এইকথা শ্যামপ্রিয়ায় যখনে শুনিল। হেক্কর করি শ্যামপ্রিয়ায় হাসিয়া উঠিল ॥ ৯৬ যেই দিন লাগাত শিখছি আমি টিপরার জ্ঞেয়ান২। সাতবার হইয়াছি বুড়া সাতবার যোয়ান ॥ ৯৮ হুঙ্কারে আসমানের তারা পারি নামাইববারে। পাতালের বালু আনি পারি৩ গণিবারে ॥ ১০০ যদি আমি বুড়া মুখে পারি দিব পান। ভাটা গাঙ্গ৪ জোয়ারের জল সে ধরে উজান ॥ ১০২ এই কথা রাজচন্দ্রে যখনে শুনিল। শ্যামপ্রিয়ার আগে কথা কহিতে লাগিল ॥ ১০৪ শুন চাইগো ভইন দিদি গো কই তোমার ঠাঁই । পান পড়া জ্ঞেয়ানে মোরে পৈন্তাল৫ দেও চাই ॥ ১০৬ এই কথা শ্যামপ্রিয়ায় যখনে শুনিল। মহরাজের আগে কথা কহিতে লাগিল ॥ ১০৮ কি দিং৬ পৈন্তাল দিমু এখন পৈন্তালের জিনিষ নাই। এক মুলের পান সুপারী আনি দেও চাই ॥ ১১০ এই কথা রাজচন্দ্রে যখনে শুনিল। বৈকালে আনিব বুলি আস্তর বাড়ীত গেল ॥ ১১২ ছেয়ান সন্ধ্যা করি খানা যে খাইল। খানা খাই মহারাজ শয়ান করিল। ১১৪ চাইর দণ্ড বেলা থাইতে উঠিয়া বসিল। রাম ভাঁড়ালী ১ রাম ভাঁড়ালী বোলাইতে লাগিল ॥ ১১৬ শুন শুন রাম ভাঁড়ালী কই তোমার ঠাঁই। জলতি করি ধল্যা টাঙ্গন ২ সাজাই আনা চাই ॥ ১১৮ এই কথা রাম ভাঁড়ালী যখনে শুনিল। ধল্যা টাঙ্গন রামায় সাজাইয়া আনিল ॥ ১২০ রামায় আনিল ঘোড়া করিয়া সাজন। তা দেখি মহারাজের খুসী হইল মন ॥ ১২২ ধূয়া—রাধের মন গৈরবিনী ৩ মনত ভালা নারে। সাজিপাড়ি মহারাজ টাঙ্গনে চড়িল। কালা বারইর বাড়ী বুলি টাঙ্গন ছাড়ি দিল ॥ ২ হেইখানে ৪ যাই মহারাজে ঘোড়ারে দিল বাড়ি। চলিলরে দেবের ঘোড়া মহা দর্প ছাড়ি ॥ ৪ হেইখান তুন ৫ মহারাজ টাঙ্গন ছাড়ি দিল। কালা বারইর বাড়ীত যাই দরশন দিল ॥ ৬ আম গাছের লগে ঘোড়া বন্ধন করিল। কালা বারই কালা বারই বোলাইতে লাগিল ॥ ৮ এক ডাক দুই ডাক তিন ডাক দিল। তিন ডাকের ওক্তে ৬ কালায় স্বর কানে শুনিল ॥ ১০ ডাক শুনি কালা বারই বাইরে আসিল। বাইশ মুল্লুকের হাকিম দেখি কাঁপিতে লাগিল ॥ ১২ হাজার টেকা দিয়া কত্তার না পাইল দরশন। আনে আম্নে ১ আইলেন কত্তা কিসের কারণ ॥ ১৪ এই কথা কালা বারই যখন কহিল। কালার আগে মহারাজ কহিতে লাগিল ॥ ১৬ শুন শুন কালা বারই কই তোমার ঠাঁই। তোমার কাছে আইছি আমি এক বিড়া পানের লাই ॥ ১৮ এই কথা কালা বারই যখন শুনিল। মহারাজের কথা কালায় বিশ্বাস না করিল ॥ ২০ বাড়ীত থাকি মহারাজ দিতেন হুকুম করিয়া। বাড়ীতে দুই তিন গাড়ী পান আমি দিতাম পাঠাইয়া ॥ ২২ সে পানে নয় কালা বারই কই তোমার ঠাঁই। এক মুলি এক বিড়া পান নিজে কিনন চাই ॥ ২৪ এই কথা কালা বারই যখন শুনিল। তখন কালা বারই বিশ্বাস করিল ॥ ২৬ বসিবারে ভাল স্থান করিয়া সে দিল। আপনা বাড়ীত যাই দরশন দিল ॥ ২৮ শুন শুন বারুণী ২ কই তোমার ঠাঁই। ভালা ভালা বাছি বাছি এক বিড়া পান জল্দি আনা চাই ॥ ৩০ এইকথা রাম তারায় যখন শুনিল। ভারল ৩ বরে ৪ বারুণী যাই উপস্থিত হইল ॥ ৩২ বাছি বাছি এক বিড়া পান তুলিয়া আনিল। কালা বারইর হস্তে আনি সেই পান দিল ॥ ৩৪ পান লই কালা বারই কৈচ্ছে আগমন। মহারাজের কাছে আসি দিল দরশন ॥ ৩৬ পান দেখি মহারাজ বড় খুসী হইল। দামের কথা কালা বারইরে জিজ্ঞাসা করিল ॥ ৩৮ কালায় বোলে মহারাজ আমি কৈতাম নয়। যাহা দেন আপনার মুনাছিব হয় ॥ ৪০ এই কথা মহারাজ যখন শুনিল। কি দিব কি দিব বলি ছুছুমছু লইল ॥ ৪২ শ্যামপ্রিয়ার হাতে একবার এউগা টাকা দিয়া। কত সরম দিল মোরে বৈষ্টবী শ্যামপ্রিয়া ॥ ৪৪ ইহা বলি মহারাজ ভাবিতে লাগিল। জেবে হাতদি কালরে হাতদি পাঁচগা টাকা দিল ॥ ৪৬ টাকা পাই কালা বারই বড় খুসী হইল। হাত জোড় করি কালায় নমস্কার দিল ॥ ৪৮ ( ৪ ) রাম ভাঁড়ালী রাম ভাঁড়ালী হুকুম করি দিল। টাঙ্গন সাজাইয়া রাজার সাক্ষাতে আনিল ॥ ২ টাঙ্গনের পরে চড়ি মহারাজ মারে কোড়ার বাড়ি। চলিল দেবের ঘোড়া মহাদর্প ছাড়ি ॥ ৪ কত দূরা আসি মহারাজ দরশন দিল। রামায় বোলে মহারাজ আমার পেড কামড়াইল ॥ ৬ এইকথা বলিয়া রামায় পাইখানাতে গেল। বাড়ীর পূর্ব্ব দিয়া কালার বাড়ীত গেল ॥ ৮_ আলগে থাকি রাম ভাঁড়ালী নজর করি চায়। কালা বারই বাজায় টেকা এমন দেখা যায়॥ ১০ রামায় বোলে কালা বারই কই তোমার ঠাঁই। শীঘীর করি টাকা ফিরাই দে কহিয়া বুঝাই॥ ১২ কালায় বোলে রাম ভাঁড়ালী তুমি বল কি। মহারাজে দিছে টাকা আমি খুঁজি লইয়াছিনি॥ ১৪ রামায় বোলে কালা বারই কই তোমার ঠাঁই। জতি টেকা দেও তুমি আমি চলি যাই॥ ১৬ আজগা দিছে টেকা পঞ্চরত্ন’ দিয়া। কাইল নিব টেকা তিন হলদ ২ দিয়া॥ ১৮ আমারে মহারাজ দিব হুকুম করিয়া। তোর বাড়ীত আইব আমি টেকার লাগিয়া॥ ২০ শালের পালার ৩ লগে ‘ তোরে কসিয়া বান্ধিব। পায়ের জুতা খুলি খুব তোরে লাগাইব॥ ২২ এই কথা কালা বারই যখন শুনিল। দিতাম নয় বোলিয়া টেকা কোমরে বান্ধিল॥ ২৪ আলগে থাকি রাম ভাঁড়ালী নজর করি চায়। কোমরে থঁচ্চে টেকা এমন দেখা যায়॥ ২৬ ধুয়া— মাররে অরে আঁখি পোসাও রঙ্গলাল বেরি বেরি। লানুদি ‘ পড়ি কালা বারইর চুল চাবি • ধরিল। গুডুম গুডুম করি কেবল কিলাইতে লাগিল॥ ২৮ আশ কিল পাশ কিল, কিল অজাগর। চৌদ্দ বুড়ি মাইল্যা কিল মেড়ীর উপর॥ ৩০ এমন কিল কিলাইল তারে তার কমু কি। গুল পিডনী ২ পিডন দিল ভাদির লৈগা ৩ দি॥ ৩২ কিল খাইয়া কালা বারই না কাড়িল রাও। ঘুরাইয়া ঘুরাইযা ধরে রাম ভাঁড়ালীর পাও॥ ৩৪ আল্গে থাকি বারুইনী নজর করি চায়। বারইয়ারে কিলান লাইগছে এমন দেখা যায়॥ ৩৬ লাঠি হস্তে কৈরে বারনী সেখানে আসিল। রামার সাক্ষাতে লাঠি যখন উঠাইল॥ ৩৮ লাফদি পড়ি বারনীর চুল চাবি ৫ ধরিল। চাইর কিল মারিয়া তাইরে হোতাইয়া ৬ ফেলাইল॥ ৪০ ইহা দেখি কালা বারই দিসা নাইরে পায়। কমরের তুন টাকা খুলি রামার হাতে দেয়॥ ৪২ টাকা লইয়া রাম ভাঁড়ালী কৈচ্ছে আগমন। মহারাজের কাছে যাই দিল কি দরশন॥ ৪৪ মহারাজ বোলে রাম কই তোমার ঠাঁই। এতক্ষণ কোন খানে গেছ কহনা বুঝাই॥ ৪৬ রামায় বোলে মহারাজ পেটের কামড় হইল। পায়খানা করিতে আমার এত দেরী হইল॥ ৪৮ ( ৫ ) এই কথা শুনি মহারাজ টাঙ্গন দিল ছাড়ি। চলিয়া আসিল আপনার বাড়ী॥ ২ আগ দরজার পরে যাই দরশন দিল। শ্যামপ্রিয়া শ্যামপ্রিয়া বোলি ডাকিতে লাগিল। সামনে আসি শ্যামপ্রিয়া হাজির হইল ॥ ৫ শুন শুন ভৈন দিদি গো কই তোমার ঠাঁই। পান পড়া কেয়ানি মোরে পৈন্তাল ১ দেও চাই ॥ ৭ দেও দেও বোলি পান হস্ত বাড়াই লইল। জমিনে ২ ফেলাইয়া পান পড়িতে লাগিল ॥ ৯ এক ফুঁক দুই ফুঁক তিন ফুঁক দিল। একটুও নড় চড় পান নাহিক করিল ॥ ১১ রাজচন্দ্রে বোলে ভৈন দিদি তুমি জান না। এক্কান ৩ কথা কমু আমি বেজার হউও না ॥ ১৩ যোয়ান মাগী কোরধ ৪ মুখী আঁখি দুইটা লাল। যোয়ান কালে দাঁত পড়িলে টৈবা ধরে গাল ॥ ১৫ রূপ গেছে রঙ্গ গেছে গেছে মুখের হাসি। পুরাণ কালে বন্দুরে দেইখলে বোলে তুমি আমার মাসী ॥ ১৭ এই কথা শুনি শ্যামপ্রিয়া বড় সরম পাইল। ঘুরাইয়া পান পড়িতে লাগিল ॥ ১৯ শুন শুন নাতি ঠাকুর কই তোমার ঠাঁই। এই পান পড়িতে আমার সাধ্য নাই ॥ ২১ রাজচন্দ্রে বোলে শ্যামপ্রিয়া কই তোমার ঠাই। তোমার হস্তে লও পান আমি পড়ি চাই ॥ ২৩ জয় কালার নাম লইয়া পান পড়ন হইল। থর থর করিয়া হস্ত কাঁপিতে লাগিল ॥ ২৫ শুন শুন নাতি ঠাকুর কই তোমার ঠাঁই। তোমর পড়া পান রাইখতাম আমার বাপের সাধ্য নাই ॥ ২৭ হাত কাঁপিয়া পড়া পান জমিনে পড়িল। জমিনের তুন নই পান জম্বুলে ভরিল ॥ ২৯ পান লইয়া শ্যামপ্রিয়ায় ঘরতে রাখিল। ছেয়ান সন্ধ্যা করি প্রিয়ায় খানা যে খাইল ॥ ৩১ রাত্রি পোসা ১ রাত্রি পোসা ঘন ডাক দিল। হেন কালে কাইলানি রাত্র প্রভাত হইল ॥ ৩৩ সকালে উঠিয়া প্রিয়ায় সন্ধ্যা করিয়া। খানা খাইল খুব আচ্ছন্ন ২ করিয়া ॥ ৩৫ খানা খাই শ্যামপ্রিয়ায় তৈয়ার হইল। নরবাড়ীত যাইব বুলি যাত্রা করিল ॥ ৩৭ এখান তুন শ্যামপ্রিয়ায় কৈচ্ছে আগমন। আইডা ৩ বাড়ীর কাছে যাই দিল দরশন ॥ ৩৯ সেইখান তুন শ্যামপ্রিয়ায় কৈচ্ছে আগমন। নরবাড়ীতে যাই প্রিয়ায় দিল দরশন ॥ ৪১ ( ৬ ) ঘাণ্ডার ৪ আগে যাই প্রিয়ায় ধরিল ঝিকির। রঙ্গের মায় বোলে আইল ঈশ্বরের ফকির ॥ ২ শুন শুন অগো দাসী কই তোমার ঠাঁই। ভিক্ষা দিয়া বৈষ্টবারে বিদায় করা চাই ॥ ৪ এই কথা দুর্গা দাসী যখনে শুনিল। ভিক্ষা লইয়া দাসী আগ দরজায় গেল ॥ ৬ এইখান থাকি মনিন্দ্র বাবু নজর করি চায়। কাইলগার ১ বৈষ্টবী দেখি বোলে হায়রে হায় ॥ ৮ একই দৌড়ে দুর্গা দাসী রঙ্গের কাছে গেল। কাইলগার বৈষ্টবী ফিরি আইজ কেন আইল ॥ ১০ এই কথা রঙ্গমালায় যখনে শুনিল। অগ্নির হুলুকা যেন গর্জিয়া উঠিল ॥ ১২ কাইলগার দিছ ভিক্ষা অনেক করিয়া। সেই লোভে বৈরাগীর জাত আইছে গো ফিরিয়া ॥ ১৪ আনা ইচ্ছায় বৈষ্টবী না যায় চলিয়া। বৈইজ্জত কর তাইরে দাসী লাগাই দিয়া ॥ ১৬ একেত নরের দাসী দোস্রা হুকুম পাইল। ঘির ঘির করিয়া বৈষ্টবারে চৌ-ঘিরা করিল ॥ ১৮ চাইর দিগে দাসীগণ কিলাইতে লাগিল। মধ্যে পড়ি শ্যামপ্রিয়া কান্দিতে লাগিল ॥ ২০ মনে মনে শ্যামপ্রিয়া বুদ্ধি যে করিল। বুদ্ধি করি শ্যামপ্রিয়ায় কহিতে লাগিল ॥ ২২ শুন শুন অগো দাসী কই তোমার ঠাঁই। বিনা দোষে গরীবেরে মার কিসের লাই ॥ ২৪ ভিক্ষার জন্য আসি নাই আমি কৈ যে তোমারে। ভিক্ষা চাইনা ভিক্ষা চাইনা দিওনা আমারে ॥ ২৬ গান ছোট্কালে বৈনধন আমার গেছে গৈ মরিয়া। ভৈনের শোকে ফিরি আমি কান্দিয়া কান্দিয়া ॥ দুই ভৈন আছিলাম মোরা জোড়ের কবুতর। জোড় ভাঙ্গিয়া বিধাতায় কৈরল্য একেশ্বর ॥ যথায় তথায় ফিরি আমি না লাগে আদর। কিঞ্চিৎমাত্র লাইগছে মনে রঙ্গমালা সুন্দর ॥ ২৮ শুন শুন অগো দাসী কৈ তোমার ঠাঁই। ভৈনের লক্ষণ লাগে তাইরে ভৈন বোলাইতাম চাই ॥ ৩০ এই কথা নরের দাসী যখনৈ শুনিল। রঙ্গের কাছে যাই সম্বাদ জানাইল ॥ ৩২ ভিক্ষার জন্য আসে নাই সে কহিল কান্দিয়া। ভৈনের কথা উঠ্ছে মনে তোমারে দেখিয়া ॥ ৩৪ যথায় তথায় ফিরে বৈষ্টব নাই লাগে ভালা। ভৈনের মতন লাগে কিঞ্চিৎ তুমি রঙ্গমালা ॥ ৩৬ এই কথা রঙ্গমালা যখনৈ শুনিল। আন আন বুলি তখন হুকুম করিয়া দিল ॥ ৩৮ দাসী যাই বৈষ্টবীরে আন্তরে আনিল। বসিবার তরে একখান জল চকি ১ দিল ॥ ৪০ কৃষ্ণ নাম করিয়া বৈষ্টবী যখনৈ বসিল। মট্ মড়াইয়া চকির পায়য়া ভাঙ্গিয়া পড়িল ॥ ৪২ মট্ মড়াইয়া চকির পায়য়া ভাঙ্গিয়া পড়িল। খট্ খড়াইয়া দাসীগণ হাসিয়া উঠিল ॥ ৪৪ ভরণ ২ সভার মধ্যে প্রিয়া বড় সরম পাইল। হাত চাপি ধরিয়া রঙ্গ পালঙ্কে বসাইল ॥ ৪৬ দাসীগণের তরে রঙ্গ হুকুম করি দিল। বৈষ্টবারে পান তামুক আনিয়া সে দিল ॥ ৪৮ পান খায় শ্যামপ্রিয়ায় বুদ্ধি করে মনে। প্রেমের কথা রঙ্গের মনে করিব কেমনে ॥ ৫০ গোপ্ত কথা রঙ্গের মনে কেমনে কহিব। রাজচন্দ্রর পড়া পান কেমনে খাওাইব ॥ ৫২ [ শ্যামপ্রিয়া রঙ্গমালারে কইল তোঁয়ারে, আঁই ভৈন বোলাইলাম। তোমার পান তামুক খাইলাম। আঁর সঙ্গেত কিছু নাই তোঁয়ারে খাওাইতাম। যদি তুঁই রাগ না হও তবে আঁই তোঁয়ারে একটা কথা কৈতাম পারি। নিজ খাওনের জন্য বাড়ীর তুন কিছু পান আইনছি যদি তুঁই খাও তবে দিতে পারি। আজ হইতে তোমার মনে আঁর ধর্ম্মস্ত ভৈন বুলি পরিচয় হইল। ] এই কথা রঙ্গমালা যখন শুনিল। দেও দেও বুলি পান হস্ত বাড়াইল ॥ ৫৪ শ্যামপ্রিয়া বৈষ্ণবী পান রঙ্গের হস্তে দিল। রাজচন্দ্রর পড়া পান হেকমতে চালাইল ॥ ৫৬ হাতের মধ্যে লইয়া পান মুখের মধ্যে দিল। আড়া চাবান করি পান ঢোকতল করিল। নয়গুণ পীরিতের আগুন জ্বলিয়া উঠিল ॥ ৫৯ রঙ্গমালা বলে দিদি কৈ তোমার সাঁই। আমার কাছে আসি ঘনাই বসি কথা শুন চাই ॥ ৬১ শুন শুন ভৈন দিদি কৈ তোমার তরে। তোমার পান খাইলাম পরে আমার প্রাণ কেমন করে ॥ ৬৩ विष विष লাগে মোর আষ্ট অলঙ্কার। বিষ বিষ লাগে মোর গজমতী হার ॥ ৬৫ শুন শুন শ্যামপ্রিয়া কই তোমার সাঁই। কি পান খাওাইয়া মোরে সত্য বলা চাই ॥ ৬৭ ভৈন বোলাইলা পান খাওয়াইলা যাইরবে মনের সুখ। কি পান খাওয়াইলা মোরে লাগে বিষম দুঃখ ॥ ৬৯ শুন শুন ভৈন দিদি কই তোমার ঠাঁই। আমার মনে চৌধ্রী চৌধ্রী করে কিসের লাই ॥ ৭১ ধূয়া—বিষের কুমীরে খাইল ধরি। সখারে পীরিতি সাগরে ডুবে মরি ॥ এইকথা শ্যামপ্রিয়া যখনে শুনিল। রঙ্গমালার আগে কথা কহিতে লাগিল ॥ ৭৩ গরীব দেখিয়া কেন ঠাট্টা কর মোরে। ভৈনের সনে ঠাট্টা করা কে শিখাইল তোরে ॥ ৭৫ চৌধ্রী চৌধ্রী কর তুমি আমি নাহি চিনি। চিনিলে এখন তারে দিতাম আনি ॥ ৭৭ অনাহুত কথা কেন কও গো ভগিনী। চৌধ্রী কেবা বাড়ী কোথায় আমি নাহি চিনি ॥ ৭৯ এই কথা রঙ্গমালা যখনে শুনিল। শ্যামপ্রিয়ার আগে কথা কহিতে লাগিল ॥ ৮১ শুন চাইগো ভৈন দিদিগো কই তোমার তরে। পানের লাইয়ে ধৈরছে আমার কেমন থাকি ঘরে ॥ ৮৩ গান অনঙ্গ অনলে মোর প্রাণ জ্বলে যায়। প্রেম জ্বরে কলেবর কাঁপিতেছে থর থর। উথলিছে কামসিন্ধু বন্ধু বিনা করিবেন শান্ত কেবা যাইব কোথায় ॥ [ অগো ভৈন দিদি তুমি অনাহুত কথা আঁরে কও কেন আঁর পানের দোষ নাই। পান খাওয়াইলাম, ভৈন বোলাইলাম মনে লাইগ্জে সুখ। অনাহুত কথা কই তাঁর মনে দুঃখ দেও কেন? আচ্ছা ভৈন দিদি, তুমি কি তোলা জলে ছেন কর না পুকুরের জলে ছেন কর? তবে একটা কথা আছে আমি কমু। রঙ্গমালায় কয় আমি তোলা জলে ছেন করি। তবে ভৈন দিদি অনাহুত আমারে দোষ দেও কেন। আমি ভিক্ষুক মানুষ—ভিক্ষা কৈর্তে চাই। গিরস্থবাড়ী গেলে পান তামুক পাই। তারা ত তাঁরে ভাল ভাল সুপারি ভাল পান দেয়না। কড়া সুপারি হোডা ১ পান দেয়। একটু কথা আমি তোমারে বুঝাই সে সুপারি পানে একটু কিছু লাই আছে। লাইআলা সুপারি যখন তোমার পেটে পড়িল। তোলা জলে ছেন কর তাতে বায়ু উগ্র হইল। যদি তাঁর কথা রাখ সায়ুর দীঘির জলে যাই ছেন করি আইয় ২।] এই কথা রঙ্গমালায় যখনে শুনিল। মাসমিত্রা বোলাই কথা কহিতে লাগিল॥ ৮৫ শুন শুন মাসমিত্রা কই তোমার ঠাঁই। আমার মনে ছরদ্দা ৩ হইল জল ছেয়ানে যাই॥ ৮৭ এই কথা মাসমিত্রায় যখনে শুনিল। মধুর বচনে কথা কহিতে লাগিল॥ ৮৯ হৈছ তলক রৈছ তুমি জোড় মন্দির ঘরে। এখন কেনে যাইতে চাও জল ছেয়ানের তরে॥ ৯১ [ মাসমিত্রা আমি নিশ্চয়ই যামু। আমি কেন কথা শুইনব না। আচ্ছা যদি যাও তবে তোমার সঙ্গে কারে কারে নিবা। তাঁর সঙ্গে দাসীরা যাইব আর ভৈন ডাইকছি শ্যামপ্রিয়া বৈষ্টবীরে সে যাইব। আচ্ছা তা হইলে তুমি যাইতে পাইরবা শীঘ্র আইব।] পয়লা অন্নতারা পদ্মতারা সোণামালা। জয়তারা কালীতারা কলাবতী কাঞ্চনমালা॥ ৯৩ মুগা দাসী বেততোলানী রাই। চলুন গো সব সখীয়ে জল ছেয়ানে যাই ॥ ৯৫ ধূয়া—চল্ নাগরী নিয়ে ঘাগরী যমুনায় বারি আইনতে যাব। এই কথা দাসীগণে যখন শুনিল। গাইট গিল্লা চুয়া চন্দন তৈয়ার করিল ॥ ৯৭ এই কথা দাসীগণে যখন শুনিল। রঙ্গমালার সঙ্গে তখন সাজিয়া চলিল ॥ ৯৯ আগে আগে রঙ্গমালা জল ছেয়ানে যায়। পিছে পিছে শ্যামপ্রিয়ায় বাইচালি খেলায়। ১০১ পিছু মুখা রঙ্গমালায় নজর করি চায়। শ্যামপ্রিয়াগা নাচন লাইগ্ছে এমন দেখা যায় ॥ ১০৩ শুন শুন ভৈন দিদিগো তোরে ভালবাসি। বেগার তালে নাচন লাইগ্ছে বেপার লাইগ্ছে কি ॥ ১০৫ শুন শুন রঙ্গমালা তুমি জান না। আমি বুড়াকালে পীরিত বাদে খাইকতাম পারি না ॥ ১০৭ এই কথা রঙ্গমালা যখনি শুনিল। অগ্নির হুলুকা যেন গর্জ্জিয়া উঠিল ॥ ১০৯ শুন চাই ভৈন দিদি গো কই তোমার ঠাঁই। এমন অযোগ্য কথা কইলা কিসের লাই ॥ ১১১ দুরগা দাসী দুরগা দাসী বোলাইতে লাগিল। সামনে আসি দুরগা দাসী হাজির হইল ॥ ১১৩ শুন চাই ওগো দাসী কই তোমার ঠাঁই। ঘাড় ধরিয়া শ্যামপ্রিয়ারে বাহির করা চাই ॥ ১১৫ একেতরে নরের দাসী দোস্রা হুকুম পাইল। ঘির ঘির করিয়া তারে চোঘেরা করিল ॥ ১১৭ ধুয়া—ধর ধর মার মার বল্রে হনুমান্। লাপ দি পড়ি দাসীগণ চুল চাবি ধরিল। গুড়ুম গুড়ুম করি কেবল কিলাইতে লাগিল ॥ ১১৯ আশ কিল পাশ কিল কিল অজাগর। চৌদ্দ বুড়ি মাইরছে কিল ঘেঁড়ির উপর ॥ ১২১ এমন কিল কিলাইল তাইরে আরে কমু কি। শুইল পিডনি পিডন দিল বাঁশের জিঙ্গল দি ॥ ১২৩ কিল খাইয়া শ্যামপ্রিয়ায় দিশা নাই রে পায়। ঘুরাইয়া ঘুরাইয়া ধরে রঙ্গমালার পায় ॥ ১২৫ শুন শুন ভৈন দিদি গো কই তোমার ঠাঁই। একটা কথা কৈলাম তোমারে মন বুঝিবার লাই ॥ ১২৭ দাসী লাগাই এত মাইর মার কেন মোরে। দোষ গুণা মাপ কর চল জল ছেয়ানের তরে ॥ ১২৯ এই কথায় রঙ্গমালায় যখনে শুনিল। বৈষ্ণবীর কথা শুনি মনে দয়া হইল ॥ ১৩১ চল চল বলি তখন হুকুম করি দিল। এই বুলি রঙ্গমালায় কোন কাম করিল ॥ ১৩৩ এখান তুন রঙ্গমালায় কৈরছে আগমন। সায়ুর দীঘির ঘাটে যাই দিল দরশন ॥ ১৩৫ ঘাটে নামি রঙ্গমালায় ঘাটেতে বসিল। শ্যামপ্রিয়ায় বোলে আমার সময় বৈয়া গেল ॥ ১৩৭ উত্তর পারে শ্যামপ্রিয়ায় এক দৌড়ে গেল। ঘটী কাটি ১ দীঘির জল উঠাইয়া লইল ॥ ১৩৯ ঘটীর মধ্যে রাখি জল পীরিতের পড়া দিল। জল পড়ি শ্যামপ্রিয়ার পানিতে ঢালিল ॥ ১৪১ উৎরাইতে উৎরাইতে জল রঙ্গের কাছে আইল। ঘট ভরি পড়া জল মাথায় তুলি দিল ॥ ১৪৩ ঘট ভরি পড়া জল মাথায় তুলি দিল। নয় গুণ পীরিতের আগুন জ্বলিয়া উঠিল। শ্যামপ্রিয়া শ্যামপ্রিয়া বুলি ডাকিতে লাগিল ॥ ১৪৬ শুন চাইগো ভৈন দিদিগো কই তোমার ঠাঁই। আমার মনে চৌধ্রী চৌধ্রী করে কিসের লাই ॥ ১৪৮ এই কথা শ্যামপ্রিয়া যখন শুনিল। ক্রোধ হইয়া রঙ্গমালারে কহিতে লাগিল ॥ ১৫০ [ অগো রঙ্গমালা সুন্দরী যদি তুমি দোষ না ধর তবে আমি কৈতে পারি এক কথা। এক চৌধ্রী আছে জানি রাজচন্দ্র, জমিদারের পুত। যদি কও তোমার কাছে তারে আনি দিতাম পারি।] এই কথা রঙ্গমালা যখন শুনিল। যাও যাও বুলি তখন হুকুম করিল ॥ ১৫২ ( ৭ ) এই খানি তুন শ্যামপ্রিয়া কৈরছে আগমন। আইড়গা কাছে যাই দিল দরশন ॥ ২ এই স্থানে এই কথা রহুক মঞ্জিয়া ৭। রাজচন্দ্রের কথা লই শুন মন দিয়া ॥ ৪ রাজচন্দ্র বোলে রাম কই তোমার ঠাঁই। এরই আমি কাছে বসি কথা শুন চাই ॥ ৬ [এরে রাম, শ্যামপ্রিয়া বৈষ্টবী যে গেল আর ত আইল না। আমারে কোন ধোকা ১ দিল নাকি। রামায় বোলে মহারাজ এই সব বৈরাগীর জাত নানান কথা বার্তা কয়। কিন্তু টেকা পৈসার লাই এইরূপে বৈরাগীরা যায় যে ঠগাই। তবে রাম উপায় কি। রামায় বোলে মহারাজ যদি হুকুম করেন তবে যাইতাম পারি।] রামারে মহারাজ হুকুম করি দিল। আশীহাত কাপড় দি কোমর বান্ধিল ॥ ৮ এইখান তুন মহারাজেরে বুলি রাম কৈরছে গমন। রুস্তিনের ২ পাথারে ৩ যাই দিল দরশন ॥ ১০ আল্গে থাকি রাম ভাঁড়ালী নজর করি চায়। বৈষ্টবী আইয়ের লাইগছে ৪ এমন দেখা যায় ॥ ১২ ইহা দেখি রাম ভাঁড়ালী নজর করি চায়। বৈষ্টবী আইয়ের লাইগছে এমন দেখা যায় ॥ ১৪ ইহা দেখি রাম ভাঁড়ালী কোন কাম করিল। লাফ দি পড়ি বৈষ্টবীর চুল চাবি ধরিল ॥ ১৬ শুন শুন বৈষ্টবী কই তোমার ঠাঁই। চৌব্রীর তুন যে টেয়া নিছ দেওনাগো ফিরাই ॥ ১৮ শুনিয়া বৈষ্টবী তখন রামারে কহিল। কি টেকা দিছে মোরে তোরে কে শুনাইল ॥ ২০ তুই করি কথা যখন রামারে কহিল। দোন হস্ত বৈষ্টবীর বন্ধন করিল ॥ ২২ কিলাইতে কিলাইতে তাইরে চৌধুরী বাড়ীত নিল কিল খাইয়া বৈষ্ণবী কান্দিতে লাগিল। ২৪ এখান তুন মহারাজ নজর করি চায়। শ্যামপ্রিয়ারে কিলায় রামায এমন দেখা যায় ॥ ২৬ হাতের ঠারে মানা কৈরল্লা মারিও না তারে। এই কথা শুনি রামায় পলাইয়া গেল ডরে ॥ ২৮ কাইনতে কাইনতে শ্যামপ্রিয়ায চৌধ্রীর কাছে আইল। হাসি হাসি রাজচন্দ্র চৌধুরী জিজ্ঞাসা করিল ॥ ৩০ শুন চাইগো ভৈন দিদি কৈগো তোমার ঠাই। কাযের কিবা সুসার ১ কৈরছ কওনা বুঝাই ॥ ৩২ এই কথা শ্যামপ্রিয়া যখনে শুনিল। তর্জ্জিয়া গর্জিয়া কথা কহিতে লাগিল ॥ ৩৪ অন্যের উকিল হইযা আমি টেকা পৈসা পাই। তোমার উকিল হইয়া আমি শূন্য কিল খাই ॥ ৩৬ যে কিল কিলাইল মোরে কই তোমার ঠাই। পাতলা পুত্লা আছিল চুল এক গাছও নাই ॥ ৩৮ এই কথা রাজচন্দ্র যখনে শুনিল। মধুর বচনে কথা কহিতে লাগিল ॥ ৪০ আমি যদি রাজচন্দ্র পরাণে বাঁচিব। এদেশের পাটেশ্বরী তোমারে বানাইব ॥ ৪২ খুসী হৈল শ্যামপ্রিয়া এই কথা শুনিয়া। পীরিতের যত কথা কহিল ভাঙ্গিয়া ॥ ৪৪ শীঘ্র কর নাতি ঠাকুর শীঘ্র চল যাই। দীঘির ঘাটে রঙ্গমালাৱে আইছিরে বসাই ॥ ৪৬ [ অগো ভৈান দিদি কি ভাবে যাইতে হইবে। কতজন লোক লইতাম না গোপনে যাইতাম। ] শ্যামপ্রিয়া বোলে নাতি ঠাকুর যেমনে ইচ্ছা তেমনে চল যাই। রাজচন্দ্রে বোলে আমি একা কেমনে যাই। একখানে যাইতে হইলে কিছু সৈন্য চাই॥ ৪৯ এই বলিয়া রাজচন্দ্র নাগরায় বাড়ি দিল। হাজার বার শ সৈন্য হাজির হইল॥ ৫১ পিছু মুখী শ্যামপ্রিয়া নজর করি চায়। বহুতর সৈন্য দেখি বলে হায়রে হায়॥ ৫৩ শুন শুন নাতি ঠাকুর কই তোমার ঠাঁই। এত সৈন্য লৈছ তুমি বল কিসের লাই॥ ৫৫ প্রেম করিতে যায়রে দাদা একজনে দুইজনে এত সৈন্য লৈছ তুমি কিসের কারণে॥ ৫৭ এই কথা রাজচন্দ্র যখন শুনিল। যত সৈন্য সেনা সব বিদায় করি দিল॥ ৫৯ রামারে বোলাই তখন হুকুম করি দিল। জলতি করি ধৈল্যা টাঙ্গন সাজাইতে বলিল॥ ৬১ রামায় আনিল ঘোড়া করিয়া সাজন। তা দেখিয়া মহারাজের খুসী হইল মন॥ ৬৩ ধুয়া—ঘোড়ার চাল লাগাইলাম কপালে। সোনার নপুর বাজে চরণে॥ বৈষ্টবীরে রাজচন্দ্র টাঙ্গনে তুলি লইল। রাম ভাঁড়ালীর তরে তখন কহিতে লাগিল॥ ৬৫ শুন যাই রাম ভাঁড়ালী কই তোমার ঠাঁই। আমার সোনার মোড়ান্না ১ বাঁশী হস্তে দেও চাই॥ ৬৭ শুনি রাম ভাঁড়ালী বাঁশী হস্তে দিল। হাত বাড়াইয়া মহারাজ বাঁশী হাতে লইল॥ ৬৯ যখনেরে মহারাজ বাঁশীর দিল টান। নগরুয়া কামিনী গো উড়িল পরাণ॥ ৭১ এইমতে মহারাজে টাঙ্গন দৌড়াই যায়। নগরুয়া কামিনীরা থিয়াই রঙ্গ চায়॥ ৭৩ কেহ কেহ বোলে অগো মুখে লইয়া পান। কখন যায় বিদেশী বন্ধু পূর্ণিমাসের চান্দ॥ ৭৫ কোন বধূ খাড়াই রইছে চালের কোণা ধরি। কখন যায় বিদেশী বন্ধু প্রাণী নিল হরি॥ ৭৭ এমন রদিক বন্ধু যেইনা দেশে আছে। সে দেশের রমণীরা কেমন করি বাঁচে॥ ৭৯ এই খানতুন মহারাজ টাঙ্গন ছাড়ি দিল। আইড়গা বাড়ীর পোলে যাই উপস্থিত হইল॥ ২ সেই খানতুন মহারাজে টাঙ্গনে দিল বাড়ি। চলিলরে দেবের ঘোড়া মহাদর্প ছাড়ি॥ ৪ আল্গে থাকি রঙ্গমালায় নজর করি চায়। প্রাণ বন্ধুয়া টাঙ্গনের পরে এমন দেখা যায়॥ ৬ লজ্জিত হইয়া রঙ্গ জলেতে নামিল। দাসীগণের মধ্যে যাইয়া ছাবাইয়া রহিল॥ ৮ এই মতে রাজচন্দ্র কোন কাম করিল। আমগাছের লগে ঘোড়া বন্ধন করিল। শ্যামপ্রিয়ারে বুলাই কা কহিতে লাগিল ॥ ১১ শুন চাইগো শ্যামপ্রিয়া কই তোমার ঠাঁই। এ বেডীগা ১ কে দাঁড়াইছে সত্য বলা চাই ॥ ১৩ শ্যামপ্রিয়ায় বলে চৌধুরী তুমি জান না। এই যে দাঁড়াইছে রঙ্গমালার মা ॥ ১৫ শুন চাইগো শ্যামপ্রিয়া কই তোমার ঠাঁই। এমন ঘেঁচড়ের ২ কাছে আইনূলি কিসের লাই ॥ ১৭ যেই টেকা নিছ আমার দেওনাগো ফিরাই। জল্তি করিয়া আমি বাড়ীত চলি যাই ॥ ১৯ এই কথা শ্যামপ্রিয়া যখন শুনিল। মনে মনে শ্যামপ্রিয়ায় ভাবিতে লাগিল ॥ ২১ [আহা নাতি ঠাকুর তুমি এত রাগ হইলা কেন? দেখ শ্যামপ্রিয়া যার মা এমন তার মাইয়া আর কত সুন্দর। আচ্ছা নাতি ঠাকুর তুমি চাওনা।] এইখান তুন শ্যামপ্রিয়ায় কইর্ছে আগমন। রঙ্গমালার কাছে যাই দিল দরশন ॥ ২৩ শুন শুন রঙ্গমালা শুন মন দিয়া। তোরে না দেখি মহারাজ চৈলছেগো ফিরিয়া ॥ ২৫ এই কথা রঙ্গমালা যখন শুনিল। দাসীর সঙ্গ হইতে আলগা খাড়া হইল ॥ ২৭ এখানে তুন রাজচন্দ্র চৌধুরী নজর করি চায়। দীঘির জলে যেন চান হইল উদয় ॥ ২৯ শ্যামপ্রিয়ারে বোলাই চৌধুরী বুদ্ধি করণ লইল। কিরূপে ইইব কথা জিজ্ঞাসা করিল ॥ ৩১ শ্যামপ্রিয়ায় বোলে চৌধুরী কই তোমার ঠাঁই। রঙ্গমালার মারে আগে কিছু নজর দেও চাই॥ ৩৩ এই কথা মহারাজ যখনে শুনিল। একশ টাকার তোড়া বান্ধি হাডিয়া মেলা দিল ॥ ৩৫ নমস্কার দিয়া চৌধুরী টাকা নজর দিল। ইহা দেখি বুড়ী গর্জিয়া উঠিল॥ ৩৭ টেকার তোড়া দিল ফেলাইয়া। কহিতে লাগিল কথা মনে রাগ হইয়া ॥ ৩৯ তুমি হইলা ভিন্ন পুরুষ মোরা ভিন্ন নারী। কি জন্যে জলের ঘাটে কৈরতে চাও চাতুরী॥ ৪১ আল্গে থাকি রাম ভাঁড়ালী নজর করি চায়। তর্জ্জিয়া গর্জিয়া কয় কথা এমন দেখা যায়॥ ৪৩ লাফ দি পড়ি রাম ভাঁড়ালী বুড়ীর হাত চাবি ধরিল। তর্জ্জিয়া গর্জিয়া কথা কহিতে লাগিল॥ ৪৫ হাত ধরি রাম ভাঁড়ালী দিল এক মোড়া। বুড়ীয়ে বোলে রামা বাবু হাতের ভাঙ্গিল জোড়া॥ ৪৭ হাত ধরিয়া রাম ভাঁড়ালী মাইল্ল এক টান। বুড়ীয়ে বোলে রামা বাবু উড়ালি পরাণ॥ ৪৯ জলে থাকি রঙ্গমালা নজর করি চায়। মারে মারি খুন করে এমন দেখা যায়॥ ৫১ লজ্জা ছাড়ি রঙ্গমালা সাম্নে হাজির হইল। মধুর বচনে কথা কহিতে লাগিল॥ ৫৩ ছাড় ছাড় মা জননীর হস্তের বন্ধন। যে কাযে আসিয়াছ পুরাবে নিরঞ্জন ॥ ৫৫ হাত ছাড়িয়া রাম ভাঁড়ালী আলগে খাড়া হইল। মহারাজের আগে কথা কহিতে লাগিল॥ ৫৭ ( ৯ ) শুনেন মহারাজ কই আমনের ঠাঁই। কি উদ্দেশে আসিয়াছেন কহেন না বুঝাই ॥ ২ শুন শুন রঙ্গমালা কই তোমার ঠাঁই। তোমার হাতের এক খিলি পান খাইতে চাই ॥ ৪ এই কথা রঙ্গমালা যখন শুনিল। ঘোমটার আড়ে আড়ে হাসিতে লাগিল ॥ ৬ আমনে হইলেন শূদ্রের বংশ আমি নরের ঝি। আমার হাতে খাইলে পান জাতি রবেনি ॥ ৮ ধুয়া—জাইতের বিচার কেবা করে যদি মজে মন। শুন শুন রঙ্গমালা কই তোমার ঠাঁই। এরি আসি কাছে বসি কথা শুন চাই ॥ ১০ তোর বাড়ীতে মোর বাড়ীতে রাস্তা বাঁধাই দিব। তোর ভাইয়া গোলাপ রাইয়া মোর ঘোড়া দৌড়াইব ॥ ১২ তোর বাপের নামে দিমু দীঘি আগ্দরজার পারে। নবেদখানা তুলি দিমু আশীহাতের পরে ॥ ১৪ এই কথা রঙ্গমালা যখন শুনিল। রাজচন্দ্রের আগে কথা কহিতে লাগিল ॥ ১৬ প্রেম করিতে আইলে রাজা কত কথা কয়। সারিলে যপনা কার্য্য কারো কেহ নয় ॥ ১৮ আগে প্রেম করে হাত পা ধরিয়া। যাইবার কালে বন্ধু না চায় ফিরিয়া ॥ ২০ [তবে আমি বিশ্বাস করি যদি তোমার সঙ্গে আমার সঙ্গে কোন কিরগা ’ কছম হয়। আগে তুমি মইলে আমি কাষ্ট কইরব। আগে আমি মইলে তুমি কাষ্ট কইরবা। এই কথা মহারাজ স্বীকার করিল। ] আম গাছের ডাইল তখন ভাঙ্গিয়া লইল। আমের কাষ্ঠ হাতে করি কিরগা কাড়িল ॥ ২২ এই কথা রঙ্গমালায় যখনে শুনিল। মহারাজের আগে কথা কহিতে লাগিল ॥ ২৪ এই বেলা প্রাণবন্ধু চলি যাও ঘরে। আমার বাড়ীত আইস তুমি রাত্রে চাইর দণ্ড পরে। দুই জনে কমু কথা যত মনে ধরে ॥ ২৭ এই কথা রাজচন্দ্র যখনে শুনিল। টাঙ্গন সাজাই রামারে আনিতে কহিল ॥ ২৯ টাঙ্গন সাজাই রাম ভাঁড়ালী সামনে আনিল। টাঙ্গন দৌড়াই মহারাজ বাড়ীত চলিল ॥ ৩১ আপনা বাড়ীত যাই দরশন দিল। রাত্রি হউক রাত্রি হউক ভাবিতে লাগিল ॥ ৩৩ ( ১০ ) রাত্রি চাইর দণ্ড যখন হইল। রামারে লইয়া তখন যুক্তি করণ লইল ॥ ২ মহরাজ বোলে রাম কই তোমার ঠাঁই। চলনা দুইজনে নর বাড়ীতে যাই ॥ ৪ সোনালী ধৃতি পরিধান করিল। গোলাপী চাদর কাঁধে ফেলাই লইল। জরির জুতা মহারাজ পায়েতে পরিল ॥ ৭ রামায় আনিল ঘোড়া করিয়া সাজন। তা দেখিয়া মহারাজের খুসী হইল মন ॥ ৯ চড়িয়া ঘোড়ার পরে মারে কোড়ার বাড়ি। চলিলরে দেবের ঘোড়া মহদর্প ছাড়ি ॥ ১১ নরবাড়ী বুলি চৌধুরী টাঙ্গন ছাড়ি দিল। নরবাড়ী যাইয়া চৌধুরী দরশন দিল ॥ ১৩ আম গাছের লগে ঘোড়া বন্ধন করিল। দুরগা দাসী দুরগা দাসী বোলাইতে লাগিল ॥ ১৫ আল্গে থাকি দাসী নজর করি চায়। বাইশ মুলুকের হাকিম দেখি বোলে হায়রে হায় ॥ ১৭ একই দৌড়ে দাসী রঙ্গের কাছে গেল। রাজচন্দ্র চৌধুরী আইছে রঙ্গের কাছে কইল ॥ ১৯ এই কথা রঙ্গমালায় যখনে শুনিল। চালাকি করিয়া কথ কহিতে লাগিল ॥ ২১ এউগা ১ ওগলাধাড়ী ২ জলতি করি তুমি নেও চাই। সুয়ারী বাগানের মধ্যে দেওনা বিছাই ॥ ২৩ এইকথা দূরগা দাসী যখনে শুনিল। ওগলাধাড়ী নিয়া বিছাইয়া দিল। ওগলাধাড়ীর মধ্যে চৌধুরী বসিয়া রহিল ॥ ২৬_ আল্গে থাকি রাম ভাঁড়ালী নজর করি চায়। ওগলাখাড়ী বিছাই দিছে এমন দেখা যায়॥ ২৮ রামায় বোলে মহারাজ এইটা কর কি। ওগলাখাড়ী বসাইছে তোমায় সইতে পারিনি ॥ ৩০ এই কথা মহারাজ যখনে শুনিল। রামারে আগে কথা কহিতে লাগিল॥ ৩২ আমি বলি ওগলাখাড়ী পাইয়াছি ভাই। আর কেহ হইলে যাইত মাইর খাই। ৩৪ প্রেম করিতে আইলে দাদা সহ্য করতে হয়। কেরমে কেরমে ১ হইলে প্রেম চিনা চিনি হয় ॥ ৩৬ এই কথা রাম ভাঁড়ালী যখনে শুনিল। মহারাজের একপাশে বসিয়া রহিল॥ ৩৮ রাত্রি দ্বিপ্রহর যখন হইল। মনে মনে রঙ্গমালায় ভাবিতে লাগিল। দুরগা দাসী বোলাই কথা কহিতে লাগিল॥ ৪১ শুন চাইগো অগো দাসী কহি তোমার ঠাঁই। মহারাজের আন্তর বাড়ীত জতি আনা চাই ॥ ৪৩ এই কথা দুর্গা যখন শুনিল। মহারাজের আগে আসি দরশন দিল॥ ৪৫ পালঙ্গেতে রঙ্গমালায় চৌধুরীরে বসাইল। পান তামুক আপন হস্তে দিল॥ ৪৭ পান তামুক খাইয়া দুইজনে খুসী হইল মনে। কহিতে লাগিল কথা মধুর বচনে॥ ৪৯ ধূয়া— অলো সজনি নূতন পীরিতি। ফুলপালঙ্গে কর বিছানা। রঙ্গমালায় আর মহারাজে আমোদে মাতিয়া। তাসখেড় রঙ্গমালায় লইল টান দিয়া॥ ৫১ আলগে থাকি মহারাজ নজর করি চায়। তাসের ভাণ্ডি হাতে রঙ্গ্যের এমন দেখা যায়॥ ৫৩ পয়লা পীরিতের কালে যদি খেলাই তাস। শূদ্রের বংশ নরের বংশ হইয়া যাবে নাশ॥ ৫৫ এইকথা সুন্দরায়ে যখন শুনিল। তাস ফেলাই পাশা খেড়ই টান দিয়া লইল॥ ৫৭ রঙ্গমালায় আর মহারাজে পাশা খেলান লইল। হাইর জিত দোন জনের সমান হইল॥ ৫৯ পাশা খেলাই দোনজন বড় হরাণ হইল। পাশা থুই দোনজন শয়ান করিল॥ ৬১ রাত্রি পোহাইয়া যখন দিবা উদয় হইল। রঙ্গমালা আর মহারাজ উঠিয়া বসিল॥ ৬৮ হেন কালে রামার কথা মনেতে পড়িল। রাম ভাঁড়ালী রাম ভাঁড়ালী বোলাইতে লাগিল ॥ ৭০ শুন চাইরে রাম দাদা কই তোমার ঠাঁই। দরজা খুলি দেরে দাদা বাড়ীত চলি যাই॥ ৭২ এইকথা রাম ভাঁড়ালী যখন শুনিল। কোরধ হইয়া কথা রামা কহিতে লাগিল॥ ৭৪ শুনেন শুনেন মহারাজ কই আমনের ঠাঁই। আমনে করেন রঙ্গ তামাসা আমি খোয়া যাই। যায়গা না দিতে পাইলো এমন খেচরের বাড়ী আইল কিসের লাই॥ ৭৭ এই কথা রাজচন্দ্র যখন শুনিল। মধুর বচনে কথা কহিতে লাগিল॥ ৭৯ আমি যদি রাজচন্দ্র পরাণে বাঁচিব। সুন্দর তুন এডীগা মাইয়া বিয়া করাই দিব॥ ৮১ এই কথা রাম ভাঁড়ালী যখন শুনিল। মনে মনে রাম ভাঁড়ালী বড় খুসী হইল॥ ৮৩ কেবাড় খুলিয়া তারে ঘরে আনিল। আপনার হাতে পান তামুক রামারে খাওাইল॥ ৮৫ পান তামুক খাইয়া রাম খুসী হইল মনে। কহিতে লাগিল কথা চৌধুরীর সামনে॥ ৮৭ শুনেন্ শুনেন্ মহারাজ কই আমনের ঠাঁই। বেলা অধিক হইল বাড়ীত চলেন যাই॥ ৮৯ এই কথা মহারাজ যখন শুনিল। সুন্দরীর আগে কথা কহিতে লাগিল॥ ৯১ শুন শুন সুন্দরীগো কই তোমার ঠাঁই। হাসি মুখে দেওনা বিদায় বাড়ীত চলি যাই॥ ৯৩ এই কথা সুন্দরীয়ে যখন শুনিল। রাজচন্দ্রের আগে কথা কহিতে লাগিল॥ ৯৫ শুনেন্ শুনেন্ মহারাজ কই আমনের ঠাঁই। আপনার ছাড়ান হইলে আমার ছাড়ান নাই॥ ৯৭ এই কথা মহারাজ যখন শুনিল। মধুর বচনে কথা কহিনে লাগিল॥ ১০০ বাড়ীত আছে কাজ কর্ম্ম কহিয়া বুঝাই। হাসি মুখে সুন্দরীগো বিদায় দেওনা চাই॥ ১০২ ধুয়া—যাবে যদি প্রাণনাথ আসিবে কবে বলে যাও আসিবে কবে বলে যাও। খানিকক্ষণ বিলম্ব হইলে এই দুঃখিনীর মাথা খাও॥ এই মতে রঙ্গমালা কোন কাম করিল। হাসি মুখে মহারাজেরে বিদায় করি দিল॥ ১০৪ টাঙ্গন চড়িয়া চৌধুরী বাড়ীতে চলিল। ছেয়ান সন্ধ্যা করি চৌধুরী খানা আগে খাইল। খানা খাইয়া মহারাজ দরবারে বসিল॥ ১০৭ আলগে থাকি রাজিন্দ্র খুড়া নজর করি চায়। সুন্দর শরীর তার মলিন দেখা যায়॥ ১০৯ এই কথা রাজচন্দ্র যখন শুনিল। খুড়ার আগে কথা কহিতে লাগিল॥ ১১১ শুনেন্ শুনেন্ খুড়াতাকুর কই আমনের ঠাঁই। ছদ্দি লইছে প্রাণের খুড়া শৈল্যে আরাম নাই॥ ১১৩ এই কথা রাজিন্দ্র খুড়া যখন শুনিল। আন্তর বাড়ী যাও বলি হুকুম করি দিল॥ ১১৫ পীরিতখণ্ড সমাপ্ত। তৃতীয় খণ্ড চন্দ্রকলা ( ১ ) ভাত মাছ খাইয়া রাজিন্দ্র খুড়ায় মুখে দিল পান। খবুর্গায় খবর কয় কালমে খাইল ধান॥ ২ মানীষ মইল ভাতে গরু খাইল জোঁকে। কি বেচিয়া দিব খাজনা করিমপুরগা লোকে॥ ৪ এই কথা রাজিন্দ্র খুড়া যখন শুনিল। রাজচন্দ্র বোলাই কথা কহিতে লাগিল॥ ৬ শুন শুন রাজচন্দ্র কই তোমার ঠাঁই। ধান খাইল কালমে বাবু কি হইবে উপায়॥ ৮ এই কথা রাজচন্দ্র যখন শুনিল। বাঁশমুড়ার ইল বিষ যেন ফড়কিয়া উঠিল। রামভঁাড়ালী রামভঁাড়ালী বোলাইতে লাগিল॥ ১১ শুন চাই রামদাদা কই তোমার ঠাঁই। জল্তি করি ধল্যা টাঙ্গন সাজাই আন চাই॥ ১৩ এই কথা রামভঁাড়ালী যখন শুনিল। ধল্যা টাঙ্গন রামায় সাজাইয়া আনিল ॥ ১৫ তারপরে মহারাজ কহে রামার তরে। বন্দুকগুলি আমার সাজাইয়া দেওনা মোরে॥ ১৭
_
একনাইলা দোনাইলা বন্দুক রামায় সাজাইয়া লইল।
ঘোড়ায় চড়িয়া চৌধুরী শিকারে চলিল ॥ ১৯
এখানতুন মহারাজ টাঙ্গন ছাড়ি দিল।
করিমপুর জলাতে যাই দরশন দিল ॥ ২১
আলগে থাকি রাজচন্দ্র নজর করি চায়।
কত কত পক্ষিগণ উড়া দিয়া যায় ॥ ২৩
দোনালী বন্দুক চৌধুরী হাতে তুলি লইল।
আগে আগে মহারাজ শিকার করন লইল ॥ ২৫
আগে আগে রাজচন্দ্র শিকার করি যায়।
পিছে থাকি রামভঁাড়ালী টোগাই টোগাই লয় ॥ ২৭
এইখানে এইকথা রহুক মঞ্জিয়া।
মাইদিয়া গো মাইয়ার কথা শুন মন দিয়া ॥ ২৯
( ২ )
মাইজু দিয়া গো এডুগা মাইয়া লামছর দিছে বিয়া।
বাপের বাড়ীত চলছে মাইয়া নাউরের লাগিয়া ॥ ২
জয়ঢোল কাড়া কঁাশী বাজিতে লাগিল।
ঘরে ঘরে জয়ধ্বনি সকলে করিল ॥ ৪
ঠাকুর ঠাকুরাণী সবে খুসী হইয়া মনে।
বিদায় করিল মাইয়া নাউরের কারণে ॥ ৬
আটজন বেরা সোয়ারী কাঁধে লইল।
করিমপুর পাথরে যাই দরশন দিল ॥ ৮
সেখানে আসিয়া বেরা বড় হয়রাণ হইল।
গাছের তলায় সোয়ারী নামাইল ॥ ১০
জঙ্গলের তুন রাজচন্দ্র আচম্বিতে আইল।
কার সোয়ারী কার সোয়ারী ঘন ডাক দিল॥
আটজন বেরীয তখন উত্তর করিল॥ ১৩
মাইকদিয়া গো এউগা মাইয়া লামছুর দিছে বিয়া।
বাপের বাড়ীত চইলছে মাইয়া নাউয়ের লাগিয়া॥ ১৫
আবুদ্ধিয়া ১ রাজচন্দ্রে কুবুদ্ধিয়া ২ পাইল।
বেরার সামনে কথা কহিতে লাগিল॥ ১৭
পালকির দরজা খোল কই তোমার সাঁই।
তোমার সঙ্গে একটু কথা কহিতাম চাই॥ ১৯
এই কথা অগ্গো মাইয়ার যখনে শুনিল।
বেরা বোলাই চন্দ্রকলা হুকুম করি দিল॥ ২১
পালকি তোল পালকি তোল যখন কহিল।
অষ্টজন বেরা আসি পালকি কাঁধে লইল॥ ২৩
এই মতে রাজচন্দ্র কোন কাম করিল।
আটজন বেরারে হুকুম করি দিল॥ ২৫
শুন শুন বেরাগণ কই তোমার সাঁই।
জলতি পালা তোরা সোয়ারী ফেলাই॥ ২৭
এই কথা বেরাগণ যখনে শুনিল।
তরজিয়া গরজিয়া কথা কহিতে লাগিল॥ ২৯
জঙ্গলের মধ্যে কেন হুলুস্থুলু কর।
আপনার মান লইয়া পথে পথ ধর॥ ৩১
এই কথা রাজচন্দ্র যখনে শুনিল।
বন্দুকের গোড়া দিয়া পিডা ৩ আরম্ভিল। ৩৩
অষ্টজন বেরা তারা মারি ধাবাই দিল।
লাথি মারি পালকির কেবাড় ভাঙ্গিয়া ফেলিল॥ ৩৫
আলগে থাকি রাজচন্দ্র নজর করি চায়।
সোণার পুতুলা যেন সামনে দেখা যায়॥ ৩৭
চন্দ্রকলা বোলে বাবু কই তোমার ছাঁই।
সরল অন্তরে তুমি কথা শুন চাই॥ ৩৯
তুমি হইলা শূদ্রের বংশ আমি ঠাকুরঝি।
অপমান কৈরল্যে তোমার লাভ হবে কি॥ ৪১
জোর করিয়া চন্দ্রকলায় অপমান কৈরল্য।
অপমান হইয়া মাইয়ায় কান্দিস্না উঠিল॥ ৪৩
আমি যদি চন্দ্রকলা এই নাম রাখিব।
শূদ্রের বংশ যত আছ সমাজ বন্ধ করাইব॥ ৪৫
চন্দ্রকলা ছাড়ি চৌধুরী চলিয়া সে গেল।
পালকির কাছে চন্দ্রকলা খাড়ুইয়া রহিল॥ ৪৭
পলাইয়াছিল বেরাগণ ডাক দিয়া লইল।
মাইরের ডরে বেরাগণ পলাইয়াছিল॥ ৪৯
অষ্টজন বেরা তখন হাজির তইল।
অষ্টজন বেরারে তখন হাজির করি দিল।
চৌধুরী বাড়ীর দিগে পালকি তখন যাইতে কহিল॥ ৫২
এখানতুন বেরাগন কৈরছে আগমন।
বাবপুর চৌধুরী বাড়ীত দিল দরশন॥ ৫৪
রাজিন্দ্র খুড়ায় বসি রৈছে রাজসভা লইয়া
রাজকিশোর বুঝায় কাগজ দপ্তর খুলিয়া॥ ৫৬
হেনকালে চন্দ্রকলা সেইখানে গেল।
রাজিন্দ্র খুড়ার কাছে সম্বাদ পাঠাইল। ৫৮
নাম গেরাম রাজিন্দ্র খুড়ায় যখন শুনিল।
আন্তর বাড়ীর দিগে পালকি পাঠাইয়া দিল ॥ ৬০
আন্তর বাড়ীত যাইয়া পালকি দরশন দিল।
পালকি হইতে চন্দ্রকলা বাহির হইল ॥ ৬২
পালকি দেখি সকলে সেখানে আইল।
মাসমিত্রা আসি তখন জিজ্ঞাসা করিল॥ ৬৪
নাম গেরাম পরিচয় জিজ্ঞাসা করিল।
কান্দি কান্দি চন্দ্রকলায় কহিতে লাগিল ॥ ৬৬
শুন শুন মাসমিত্রা কই তোমার ঠাঁই।
তোমার পুত্র কালীর পাড়া ১ পাল কিয়ের লাই ॥ ৬৮
তোমার দুয়ারে মাগো জয়কালী নাই।
জয়কালীর দুয়ারে পুত্র বলি দেও চাই॥ ৭০
শুন শুন মাসমিত্রা শুন দিয়া মন।
বাপের বাড়ীত চল্ছি আমি নাউরের কারণ ॥ ৭২
জঙ্গলের তুন রাজচন্দ্র আচম্বিতে আইল।
হাতচাবি ধরিয়া মোরে অপমান করিল ॥ ৭৪
অষ্টজন বেরা আমার মারি ধাবাই দিল।
কিবা দোষ পাইয়া আমার অপমান করিল ॥ ৭৬
এই কথা মাসমিত্রা যখন শুনিল।
সভার মধ্যে মাসমিত্রায় বড় সরম পাইল ॥ ৭৮
টান দিয়া চন্দ্রকলায় কোলে তুলি লইল।
মুখে মুখা ২ দিয়া কথা কহিতে লাগিল ॥ ৮০_
শুন শুন চন্দ্রকলা কই তোমার তরে।
দোষ গুণা অপরাধ ক্ষমা কর মোরে॥ ৮২
ছেয়ান সন্ধ্যা কর মাগো খানা কিছু খাও।
তারপর পালকিত করি বাপের বাড়ীত যাও॥ ৮৪
আমার লোকজন দিয়া পাঠাইয়া দিব।
রাজচন্দ্র বাড়ীত আসিলে জিজ্ঞাসা করিব॥ ৮৬
এই কথা চন্দ্রকলা যখনে শুনিল।
মাসমিত্রার আগে কথা কহিতে লাগিল॥ ৮৮
শুন শুন মাসমিত্রা কথা কইছ দড়১।
নরের ঘরে খাইতাম ভাত গরজ পইড়ছে বড়॥ ৯০
নর বাড়ীত যায় চৌধুরী নরের খানা খায়।
সে খানা খাইতাম মাগো কহিলা আমায়॥ ৯২
ভরণ সভায় মাসমিত্রায় আরো সরম পাইল।
চন্দ্রকলার আগে কথা কহিতে লাগিল॥ ৯৪
যাও যাও অগো মা বাপের বাড়ীত যাও।
অষ্টজন বেরা বোলাই হুকুম কর্ল্য নেও॥ ৯৬
লোক জন দিয়া মাইয়া বিদায় করি দিল।
অষ্টজন বেরা সোয়ারা নামাইল॥ ৯৮
( ৩ )
চন্দ্রকলার মায় আসি নজর করি চায়।
চন্দ্রকলা আইছে এমন দেখা যায়॥ ২
আসিয়া সে মাসমিত্রা কোলে তুলি লইল।
চক্ষের জল দেখিয়া জিজ্ঞাসা করিল॥ ৪
কান্দ কেন চন্দ্রকলা কহিয়া বুঝাও মোরে।
তোমার চক্ষের জল দেখিয়া আমার পরাণ কেমন করে॥ ৬
এই কথা চন্দ্রকলায় যখন শুনিল।
রাজচন্দ্রের কথা সব বুঝাইয়া কহিল ॥ ৮
এই কথা ঠাকুরাণী যখন শুনিল।
ঠাকুরেরে বোলাই কথা শুনাইয়া দিল ॥ ১০
এই কথা ঠাকুর যখন শুনিল।
অগ্নির হুলুকা যেন গরজিয়া উঠিল ॥ ১২
যত আছিল ঠাকুর বংশ ডাক দিয়া লইল।
শ’দুশ ঠাকুর আসি উপস্থিত হইল ॥ ১৪
কেহ লইল লাঠি সোটা কেহ রামদা লইল।
সকলে মিলিয়া তারা যুদ্ধেতে চলিল ॥ ১৬
বুদ্ধিমান একাঠাকুর সেইখানে আইল।
সকলের আগে কথা কহিতে লাগিল ॥ ১৮
দুইশত ইন্দুর দেখি যুদ্ধে চইলাছে।
যুদ্ধ কইরবা সকলে, মেও ধইরবা কে ॥ ২০
মনে করিয়াছ বুঝি সেখানে যাইয়া।
পরাণ লইয়া ফিরি সবে আসিবা ফিরিয়া ॥ ২২
চাঁদা বড় বীর বাবু চাঁদা বড় বীর।
একলা চাঁদা কাড়ে নয়শ মাইনষের শির ॥ ২৪
ছোটু মোটু চাঁদ ভাঁড়ালী লাল কোত্তা গায়।
আউডৃগা দিয়া মারে গোলইন দেলান ফাড়ি যায় ॥ ২৬
এই কথা ঠাকুর বংশ যখন শুনিল।
সকলে মিলিয়া তখন পরামর্শ করিল ॥ ২৮
যুদ্ধের কাম নাই কই সভার ঠাঁই।
সমাজ বন্ধ কর অগো কহিয়া বুঝাই॥ ৩০
যত আছিল ঠাকুর বংশ জানাইয়া দিল।
অগো কোন কাম-কিরগায় ১ যাইতে নিষেধ করিল॥ ৩২
এই যুক্তি ঠিক করিয়া রহে ঘরে ঘরে।
দেখিনি তাগ ২ বংশ কেহ মরে॥ ৩৪
এইরূপে ঠাকুরগণ সমাজ বন্ধ করিল।
গুোপ্ত কথা কারে আর নাহিক কহিল॥ ৩৬
চন্দ্রকলার পালা সমাপ্ত।
( ১ )
এই স্থানে এই কথা রহুক মঞ্জিয়া।
রাজচন্দ্রের কথা শুন মন দিয়া ॥ ২
চন্দ্রকলা ছাড়ি চৌধ্রী শিকারে চলি গেল।
ঘুরাইয়া ঘুরাইয়া মহারাজ শিকারে মন দিল ॥ ৪
শিকার করি রাজচন্দ্র বড় হয়রাণ হইল।
রামারে বোলাই কথা কহিতে লাগিল ॥ ৬
শুন চাই রামদাদা কই তোমার ঠাঁই।
জল তিরিষায় দেরছে দাদা কি হবে উপায় ॥ ৮
এই কথা রাম ভাঁড়ালী যখন শুনিল।
রাজচন্দ্রের আগে কথা কহিতে লাগিল ॥ ১০
শুনেন শুনেন মহারাজ কই আমনের ঠাঁই।
সায়র দীঘিত চলেন মোরা জল খাইতাম যাই ॥ ১২
এই কথা রাজচন্দ্রে যখন শুনিল।
সায়র দীঘি বলি তাঙ্গন ছাড়ি দিল ॥ ১৪
সায়র দীঘিত যাই চৌধুরী দরশন দিল।
আম গাছের লগে ঘোড়া বন্ধন করিল ॥ ১৬
কলাপাতায় কাড়ি রামায় তখন আনিল।
কলাপাতা করি জল চৌধুরীরে খাওাইল ॥ ১৮
জল খাইয়া মহারাজ শান্ত যে হইল।
দীঘির ঘাটে বৈঠক করিল ॥ ২০
এই থানে এই কথা রহুক মঞ্জিয়া।
ছৈম্যা নাঠার কথা শুন মন দিয়া ॥ ২২
চৈম্যা নাঠা বলি একজন সে গেরামে ছিল।
রাজচন্দ্র শীকারে আইছে কর্ণেতে শুনিল ॥ ২৪
শুণছি রাজচন্দ্র চৌধ্রী প্রেমেতে মজিয়া।
কত টৈকা পৈসা দেয় বকসীদ বলিয়া ॥ ২৬
আমি এক খবর লই সেইখানে যাইয়া।
টৈকা পৈসা আইনব কিছু খবর কহিয়া ॥ ২৮
এইমতে ছমিরদ্দি কোন কাম করিল।
সায়র দীঘির ঘাঙে আসি দরশন দিল ॥ ৩০
আলগে থাকি ছমিরদ্দি নজর করি চায়।
বসি রইছে মহারাজ এমন দেখা যায় ॥ ৩২
হাত জোড় করি চৈমিয়ায় করিল সেলাম।
আশীর্বাদ দিল তারে পড়িয়া কলাম ॥ ৩৪
শুণ চাই ছমিরদ্দি কই তোমার ঠাঁই।
কি মনে করি আইলা তুমি কহনা বুঝাই ॥ ৩৬
এই কথা ছমিরদ্দি যখনে শুনিল।
মধুর বচনে কথা কহিতে লাগিল ॥ ৩৮
মহারাজ শিকারে আইছে কর্ণেতে শুনিয়া।
দেখিতে আইলাম আমি এখানে চলিয়া ॥ ৪০
কিন্তু একটা কথা কহিতে মনে বড় ডর পাই।
হুকুম হইলে মহারাজেরে কহিব বুঝাই ॥ ৪২
এমন সুন্দর আমনে সুন্দরের সীমা নাই।
সে কথা কইতে আমার অন্তরে ডর পাই ॥ ৪৪
হাইসে করাইয়াছিল বিয়া ফুলেশ্বরী রাই।
যুগিনীণঁর ঠেঙ্গের যুগ্য তার তুলনা নাই ॥ ৪৬_
এই কথা রাজচন্দ্র চৌধুরী যখন শুনিল।
এড়াই বেড়াঁই’ ছমিরদ্দিরে ঠাস্সাইয়া ধরিল ॥ ৪৮
যদি রাজচন্দ্র চৌধুরী প্রেমের কথা শুনে।
দুই চার দিন থাকে চৌধুরী অন্নদানা বিনে ॥ ৫০
শুন চাই ছমিরদ্দি কই তোমার ঠাঁই।
যুগী বাড়ীর পথগাছ’ মোরে দেখাই দেওনা চাই ॥ ৫২
এই কথা ছমিরদ্দি যখন শুনিল।
মহারাজের আগে কথা কহিতে লাগিল ॥ ৫৪
শুনেন শুনেন মহারাজ কই আমনের ঠাঁই।
যুগী বাড়ীর পথ দেখাইলে কিবা বক্সীস্ পাই ॥ ৫৬
এই কথা রাজচন্দ্র চৌধুরী যখন শুনিল।
টাকা পৈসা সঙ্গে নাই ভাবিতে লাগিল ॥ ৫৮
ভাবিয়া চিন্তিয়া পরে বুদ্ধি যে করিল।
কাঁধের তুন গোলাপী চাদর খুলিতে লাগিল ॥ ৬০
পাঁচশ টেকার চাদর ঢৈম্যার হাতে দিল।
মনে মনে ছমিরদ্দি বড় খুসী হইল ॥ ৬২
কথা — চাদর পাইয়ারে ঢৈম্যায় ভাবিতে লাগিল। এসব ভাবত বুঝতে ল্লাম না। পথ দেখাই দিলে ফিরি যদি চাদর লই যায় তয় কি করুম। রের মধ্যখান দি ছিড়ি ফেলাইল। কিরে ছমিরদ্দি তুই আঁর চাদর র ফেলাইলি যে। মহারাজ আঁরে দিছেন আঁই চিরি ফেলাই আমনের ক্ষৈতি নাই। তোরে দিছি আঁই গায় দিবি দশজনে দেইখব, আমার হইব। একজনে জিজ্ঞাসা কৈরল্যে কইবি যে অমুক দিছে। মহারাজ নে হে কথা জানেন না আঁর মনের ভাবে আঁই চাদর চিরছি।
আমার পোলা আছে যদি লই বাড়ী যাই তবে পোলায় চাদর খান পায় যাইব। এখন আর কি করি দুই খণ্ড করি লইলাম একখান পোলারে দিমু এক একখান আমি নিজে রাখমু। আচ্ছা ছমিরদ্দি তোরে দিছি তুই যে মনে ধরে হেই করদে যুগীবাড়ীর পথ ঘাট আঁরে দেখাই দে। চলেন মহারাজ আঁর সঙ্গে চলেন।
( ২ )
এই কথা বলি ছমিরদ্দি কোন কাম করিল,
মহরাজেরে লই যুগী বাড়াত গেল।
পথ দেখাই দি চৈম্যা উডি চলি গেল ॥ ৩
বিধির মহিমা ধনী কে বুঝিতে পারে।
হুতার তানা লই যুগিনী নিকালে বাহিরে ॥ ৫
তেড়ী বেডার কাছে যাই গলায় খাওর দিল।
তানা ফেলাই যুগিনী উড়িয়া লড় দিল ॥ ৭
পিছে পিছে রাজচন্দ্র দৌড়াইতে লাগিল।
একই দৌড়ে সৈরপমালা বড় ঘরে সান্ধাইল ॥ ৯
বড় ঘরে সান্ধাই কাড়েতে উঠিল।
শালের পালা বাই চৌধী কাড়েতে উঠিল ॥ ১১
আঁধারিয়া কোঁধারিয়া কেবল টোগাইতে লাগিল।
খুলুর করি সৈরপ মালায় এউগ্যা কাশ দিল ॥ ১৩
রাজচন্দ্র চৌধুরী তখন তাহারে ধরিল।
কাঁড়ের পড়ে দোনগায় হুড়া হুড়ি লইল ॥ ১৫
কাঁড় ভাঙিয়া দোনাগায় মাটিতে পড়িল,
তাঁতের খাদে ১ পড়ি চৌধ্রীর আঙুর ২ জরাপ ৩ পাইল। ১৭
হার্তুন ৪ ছুডি ৫ যুগিনী যে উইড়গা ৬ লড় দিল ॥
দুখ পাইয়া রাজচন্দ্র কোন কাম করিল।
রাম ভাঁড়ালী রাম ভাঁড়ালী বোলাইতে লাগিল ॥ ২০
রামায় আছিল খাড়া বাহির কিনারে।
ডাক শুনি মহারাজের আইল বাড়ার ভিতরে ॥ ২
শুন চাহরে রাম ভাঁড়ালী কই তোমার ঠাই।
পায়ের গিরা ভাইঙ্গচ্ছি আমি কি হবে উপাই ॥ ২৪
এই কথা রাম ভাঁড়ালী যখনে শুনিল।
যেমন মজা তেমন সাজা সৈরপমালায় দিল ॥ ২৬
হাসি হাসি রাম ভাঁড়ালী যখনে কহিল।
শুনিয়া রাজচন্দ্র চৌধ্রী কহিতে লাগিল ॥ ২৮
শুন শুন রামদাদা কই তোমার তরে।
কোন ঔষধ জাননি দাদা জলতি দেও তৈরে ॥ ৩০
জানি, বলি ঔষধ কহিতে লাগিল,
তখনে রাম ভাঁড়ালী কোন কাম করিল।
যুগিনার পাকঘরে যাই দরশন দিল ॥ ৩২
পাক ঘরে যাইয়া রামায় কুলা একখান লইল।
উপরের চাল হইতে কালি যে লইল ॥ ৩৫
ঘরের পিছে যাই রামায় কচুর ডোগা আইনল।
পাক ঘরে যাই লবণ টোগান লইল ৭ ॥ ৩৭
হা দেখি কালাযুগী ভাবিতে লাগিল।
কি করিবে কালাযুগী বুদ্ধি করণ লইল॥ ১৬
সেখান যাইয়া যদি তাহারে ধরিব।
অনানুত আমি কেন কিল কনি’ খাইব॥ ১৮
যা হউক সে হউক আমি তার খুড়ার কাছে যাইব।
খুড়ার কাছে যাইয়া আমি তার খুড়ার কাছে কইব॥ ২০
দৌড়া দৌড়ি কালাযুগী খুড়ার কাছে গেল।
খুড়ার কাছে যাইয়া কালায় কান্দিতে লাগিল॥ ২২
শুন শুন ওরে খুড়া কই তোমার ঠাঁই।
তোমার ভাতিজা কালীর পাত্র পাল কিসের লাই॥ ২৪
তোমার দুয়ারে খুড়া জয়কালী নাই।
জয় কালীর দুয়ারে তোমার ভাতিজারে বলি দেও চাই॥ ২৬
শীকার কৈরতে গেল চৌধুরী করিমপুর পাথারে।
আমি অধীনের বাড়ীত গেল কি প্রকারে॥ ২৮
গেল গেল অরে খুড়া তারে অধিক নাই।
আমার বউগারে মারে বল কিসের লাই॥ ৩০
এই কথা রাজিন্দ্র খুড়া যখনে শুনিল।
ভরণ সভার মধ্যে চৌধুরী বড় সরম পাইল॥ ৩২
অণুসিং বেনুসিং মঙ্গলসিং দুর্গাসিং ডাক দিয়া লইল।
যুগীবাড়ীর তুন রাজচন্দ্রেরে আইনতে বোলাই
হুকুম করি দিল॥ ৩৪
শুন শুন চাইর পেয়াদা কই তোগ ঠাঁই।
যুগী বাড়ীর তুন রাজচন্দ্রেরে বান্ধি আন যাই॥ ৩৬
( ৪ )
খুড়ার হুকুম যখন পেয়াদারা পাইল।
লাডি হস্তে মোচ তাড়ানি যাত্রা করিল ॥ ২
ধীরে হাটে অনুগতে কৈরছে আগমন।
কালা যুগীর বাড়ীত যাই দিল দরশন ॥ ৪
ঘরের সামনে যাই চাইর পেয়াদা খাড়া যে হইল।
রাজচন্দ্র রাজচন্দ্র বলি বোলাইতে লাগিল ॥ ৬
যুগিনীরে ছাড়ি দি তাগো কাছে আইল ॥ ৭
শুন শুন মঙ্গলসিং কই তোরগো ঠাঁই।
তোরা যুগী বাড়ী আইলি কিসের লাই ॥ ৯
এই কথা চাইর পেয়াদা যখনে শুনিল।
রাজচন্দ্রের আগে কথা কহিতে লাগিল ॥ ১১
শুন রাজচন্দ্র চৌধুরী কই তোমার ঠাঁই।
ভুমি আইছ পিয়ার ১ লাই আমি আইছি হিয়ার ২ লাই ॥ ১৩
ঠেসারার ৩ কথা যখন রাজচন্দ্র শুনিল।
তরজিয়া গরজিয়া কথা কহিতে লাগিল ॥ ১৫
হারামজাদা গোলাম বাচ্চা ফিরি ৪ কৈবি কথা।
জবর চোবাড় মারি ভাঙ্গি দিমু মাথা ॥ ১৭
এই কথা চাইর পেয়াদা যখনে শুনিল।
লাপুদি পড়ি রাজচন্দ্র চুল চাবি ধরিল ॥ ১৯
চাইরগায় মিলি তারে বন্ধন করিল।
ধাক্কাইতে ধাক্কাইতে তারে আগদরজায় নিল ॥ ২১
ধুয়া—পীরিতের যেমনি মজা তেমনি সাজা মান অপমান নাই।
এইখান তুন চাইর পেয়াদা কৈরছে আগমন।
খুড়ার দরবারে যাই দিল দরশন॥ ২৩
আলগে থাকি রাজিন্দ্র খুড়ার নজর করি চায়।
রাজচন্দ্রে রে বান্ধি আইনছে এমন দেখা যায়॥ ২৫
মনে মায়া মুখে রাগ কহিতে লাগিল,
শুন শুন রাজচন্দ্র কহি তোমার ঠাই।
তুমি পোলাকালে বুড়া কারবার কর কিসের লাই॥ ২৮
হাইসে করাইছে বিয়া ফুলেশ্বরী রাই।
মনে না লাইগলে তোমার বিয়া কর চাই॥ ৩০
কান্দন
শুন শুন অরে খুড়া কই তোমার ঠাঁই।
এরই আসি কাছে বসি কথা শুনেন চাই॥ ৩২
তজবিজ করিয়া খুড়া কাট দুই কাণ।
বেতজবিজে মাইলরে আমার ত্যজিব জীবন॥ ৩৪
কালাযুগী বাড়ীত গেলাম ঘোড়া চাইবার লাই।
কালাযুগীর ঘোড়ার মত আঙ্কো ঘোড়া নাই॥ ৩৬
এই কথা রাজিন্দ্র খুড়ায় যখনে শুনিল।
রাজচন্দ্রের আগে কথা কহিতে লাগিল॥ ৩৮
সরকারতুন হাজার টাকা লই যাও গণিয়া।
পূববাপুর তুন ধল্যা টাঙ্গন আনগৈ কিনিয়া॥ ৪০
শুন শুন রাজচন্দ্র কই তোমার ঠাঁই।
আগরজায় দৌড়া ঘোড়া আমি দেইখতাম চাই॥ ৪২
এই কথা রাজচন্দ্র যখনে শুনিল।
পূরবাবপুর যাইয়া চৌধুরী ঘোড়া কিনি আইনল।
দেখিয়া রাজিন্দ্র খুড়া বড় খুসী হইল॥ ৪৫
কালাযুগীর পালা সমাপ্ত।
পঞ্চম খণ্ড
রঙ্গমালার দীঘি কাডার’ পালা
গান
এলনা এলনা বন্ধু আমার বন্ধু এলনা।
মরি মরি একি জ্বালা পরাণে আর সহেনা॥ ২
শুনেন শুনেন ইন্দ্রসভা কই সভার ঠাঁই।
রঙ্গমালার দীঘি কাডার পালা সভাতে শুনাই॥ ৪
রঙ্গমালায় বোলে দাসী কইগো তোমার ঠাঁই।
একখান পত্র লেখ কহিযা বুঝাই॥ ৬
ধুয়া—অরে অ বন্ধু কোন দেশে গেলা এলানারে।
বিরহে বিরহে মোর পরাণ বাঁচেনো॥ ৮
এই কথা রঙ্গমালায় যখনে শুনিল।
কাছে আছিল চিনের কাগজ টান দিয়া লইল॥ ১০
রাগেহসে ২ পত্র লিখিতে লাগিল,
পরথমে লিখিল জয়কালীর নাম।
তারপর লিখিল নিজ মনস্কাম॥ ১৩
প্রেম করিতে আইলে দাদা কত কথা কয়।
সারিলে আপন কার্য্য কারো কেহ নয় ॥ ১৫
আগে করে প্রেম ধরি হাতে পায়।
যাইবার কালে অরে দাদা ফিরে না চায় ॥ ১৭
এই যদি মহারাজ ছিল তোমার মনে।
তবে প্রেম করিলা কেন অভাগিনীর সনে ॥ ১৯
প্রেম করিয়া দুঃখ দিয়া দেখা না দেও কেন।
তুমি না আসিলে আমার ত্যজিব জীবন ॥ ২১
বড়র সনে প্রেম করিলে বড় মান্য হয়।
তোমার সনে প্রেম করিয়া বুঝি দূরদশা ঘটয় ॥ ২৩
লেখিয়া পড়িয়া পত্র করি দিলা খাম।
উপরে লিখিয়া দিলা রাজচন্দ্রের নাম ॥ ২৫
শুন শুন অগো দাসী কই তোমার ঠাঁই।
পত্র লইয়া কেবা যাইবা কহনা বুঝাই ॥ ২৭
এই কথা দাসীয়ে যখন শুনিল।
আমি যাইব বুলি তখন কহিতে লাগিল ॥ ২৯
এই কথা রঙ্গমালায় যখন শুনিল।
গোপনে দিবা পত্র কহিতে লাগিল ॥ ৩১
পত্র লইয়া দাসী কইরছে আগমন।
কত দূর দাসী দিল দরশন ॥ ৩৩
হেকমচ্ছা নরের দাসী হেকমত করিল।
বৈষ্টবীর বেশ দাসী তখনে ধরিল ॥ ৩৫
সেখান তুন অগো দাসী কৈরছে আগমন।
বাবিপুর চৌধুরীবাড়ী দিল দরশন ॥ ৩৭
জয় জয় বলি দাসী ধরিল ঝিকির।
সকল বোলে আইল ঈশ্বরের ফকির ॥ ৩৯
ভিক্ষা লয় আর বৈষ্টবীরে নজর করি চায়।
চাচা ভাতিজা দুইজনে দরবারে দেখা যায় ॥ ৪১
সেইখানে যাইয়া উপস্থিত হইল।
পত্র দিব কি প্রকারে ভাবিতে লাগিল ॥ ৪৩
ভাবিতে ভাবিতে বুদ্ধি যে করিল।
হাতের মধ্যে পত্র তখন বাহির করি লইল ॥ ৪৫
পত্র হাতে লইয়া দাসী লাড়ে আর চাড়ো।
দরবারে থাকি রাজচন্দ্র দেখিল নজরে ॥ ৪৭
রাজচন্দ্র বলে খুড়া কই আমনের ঠাঁই।
অন্দরে যাইমু আমি কহিয়া বুঝাই ॥ ৪৯
এই কথা বলি চৌধুরী হাটিয়া মেলা দিল।
বৈষ্টবীরে ঠার মারিয়া বাড়ীর দক্ষিণ দিকে গেল ॥ ৫১
ঠার বুঝিয়া বৈষ্টবী সেইখানে গেল।
রাজচন্দ্রের আগে কথা কহিতে লাগিল ॥ ৫৩
শুনেন শুনেন মহারাজ কই আমনের ঠাঁই।
রঙ্গমালার কথা বুঝি আমনের মনে নাই ॥ ৫৫
ইহা বলি পত্র খুলি রাজচন্দ্রেরে দিল।
পত্র পাই রাজচন্দ্র বড় খুসী হইল ॥ ৫৭
( ২ )
যাও যাও করি তখন দাসীরে বিদায় দিল।
পত্র হাতে করি চৌধুরী রামার কাছে গেল ॥ ২
শুন চাই রাম ভাঁড়ালী কই তোমার ঠাঁই।
কিবা বুদ্ধি দিবা আমার বুদ্ধি ধড়ে নাই ॥ ৪
হাতের পত্রখানি রামারে শুনাইল।
মহারাজের আগে রামায় কহিতে লাগিল॥ ৬
শুনেন মহারাজ কই আমনের ঠাঁই।
বুদ্ধি বাতাইব আমি কহিয়া বুঝাই॥ ৮
শীঘ্র করি খুড়ার আগে যাওনা চলিয়া।
নর বাড়ীর খাজনার কথা দেও উল্লেখ করিয়া॥ ১০
তোমার হাতে আদাই খাজনা খুড়ায় জানে না।
তিনচাইর বছরের খাজনা বাকী দেখাওনা॥ ১২
এই কথা রাজিন্দ্র খুড়ায় যখন শুনিব।
তদ্দণ্ডে তোমারে পাঠাইয়া দিব॥ ১৪
এই কথা রাজচন্দ্রে যখন শুনিল।
খুড়ার কাছে নর বাড়ীর খাজনা বাকী দেখাইল॥ ১৬
এই কথা রাজিন্দ্র খুড়া যখনে শুনিল।
খাজনা আদায় করিবারে হুকুম করি দিল॥ ১৮
হুকুম পাই রাজচন্দ্র কোন কাম করিল।
রামারে বোলাই কথা কহিতে লাগিল॥ ২০
শুন শুন রামদাদা তুমি আমার ভাই।
চল এখন আমরা নর বাড়ীতে যাই॥ ২২
রামায় আনিল ঘোড়া করিয়া সাজন।
দেখিয়া মহারাজের খুসী হইল মন॥ ২৪
এই খানতুন মহারাজ টাঙ্গন দিল ছাড়ি।
এক দৌড়ে চলি গেল রঙ্গমালার বাড়ী॥ ২৬
রঙ্গমালা রঙ্গমালা বোলাইতে লাগিল।
গোসা হইয়া রঙ্গমালা জবাব নাহি দিল॥ ২৮
ঘরে যাই মহারাজ নজর করি চায়।
পালঙ্গেতে রইছে শুইয়া এমন দেখা যায়॥ ৩০
আস্তে আস্তে রঙ্গমালার গায়ে হাত দিল।
ছাড়ামারি হাত তখন ফালাইয়া দিল ॥ ৩২
রাজচন্দ্র বোলে সুন্দরী কই তোমার তরে।
দোষগুণা অপরাধ ক্ষমা কর মোরে ॥ ৩৪
কোন কাজেতে আমি গিয়াছিলাম বাড়ী।
এইবার তোমারে আর না যাইব ছাড়ি ॥ ৩৬
এই কথা রঙ্গমালা যখনে শুনিল।
মহারাজের আগে কথা কহিতে লাগিল ॥ ৩৮
পুরুষের কথা যে জন বিশ্বাস করয়।
ধর্ম্ম কর্ম্ম দুই কুল হারায় ॥ ৪০
তোমার কথায় আমি বিশ্বাস করিয়া।
জীবন যৌবন ধন দিয়াছি সঁপিয়া ॥ ৪২
এই কথা রাজচন্দ্র চৌধুরী যখনে শুনিল।
মধুর বচনে কথা কহিতে লাগিল ॥ ৪৪
শুন শুন সুন্দরীবো কই তোমার ঠাঁই।
অপরাধ মাপ কর কহিয়া বুঝাই ॥ ৪৬
কিবা আপত্তি তোমার কহনা বুঝাই।
এখন সে আপত্তি আমি দিমুগো পুরাই ॥ ৪৮
এই কথা সুন্দরীয়ে যখনে শুনিল।
রাজচন্দ্রের আগে কথা কহিতে লাগিল ॥ ৫০
কি কথা কইছিলা বন্ধু সায়নবাঁধা ঘাটে।
আমার বাপের নামে দীঘি দিতা আগদরজার পরে।
নবদখানা উডাই দিবা আশী হাতের পরে ॥ ৫২
এই কথা রাজচন্দ্র চৌধুরী যখন শুনিল ।
দিমু দিমু বলি তখন কহিতে লাগিল ॥ ৫৫
হাত মাপা রসি যদি থাকে তোমার ঘরে ।
শীঘ্র করি রসি তুমি আনি দেগো মোরে ॥ ৫৭
কত হাত দিবা দীঘি তুমি লৈবা মাপিয়া ।
সেইমতে দীঘি আমি দিমু কাটাইয়া ॥ ৫৯
এই কথা রঙ্গমালায় যখন শুনিল ।
আপ্তারামের কাছে যাই কহিতে লাগিল ॥ ৬১
শুনেন শুনেন পিতা ঠাকুর কই আপনারে ।
হাত মাপা রসি গাছ আঙ্গো জলতি দেননা মোরে ॥ ৬৩
এই কথা আপ্তারাম যখন শুনিল ।
রঙ্গমালার আগে কথা কহিতে লাগিল ॥ ৬৫
কি করিবা রসি তুমি কহনা আমারে ।
আপনার নামে দিমু দীঘি আগদরজার পরে ॥ ৬৭
এই কথা আপ্তা নর যখন শুনিল ।
মনে মনে আপ্তা নর বড় খুসী হইল ॥ ৬৯
কারো পুত্র হইয়া সংকার্য্য করিতে না পারে ।
আমার নামে দীঘি দিব রঙ্গে আগদরজার পরে ॥ ৭১
খুসী হইয়া আপতা নরে রসি আনি দিল ।
রসি হাতে লইয়া চৌধুরীর কাছে গেল ॥ ৭৩
দেও দেও বলি চৌধুরী রসি হাতে লইল ।
রঙ্গমালারে সঙ্গে লইয়া তখনে চলিল ॥ ৭৫
কোন্ খানে দিবা দীঘি দেখাই দেও আগে ।
এই কথা শুনি গেল বাড়ীর পশ্চিম ভাগে ॥ ৭৭
শুন শুন সুন্দরীগো কইয়া বুঝাই তোরে ।
কত হাতে দিবা দীঘি মাপি দেওনা মোরে ॥ ৭৯
আপন হস্তে রঙ্গ মাপিয়া সে দিল।
এই মাথায় সেই মাথায় রসি ফালাইয়া দিল॥ ৮১
এই মাথায় সেই মাথায় যখন কালিক করিল।
সাড়ে বাইশ দোরণ জমী কালিকের মধ্যে হইল॥ ৮৩
শুন চাইরে রামদাদা কই তোমার ঠাঁই।
এইবার কি বুদ্ধি দিবি আমার ধড়ে বুদ্ধি নাই॥ ৮৫
এতদূর জমিন আমি ফালাইমু কাটিয়া।
শুনিলে খুড়ায় মোরে ফালাইবে মারিয়া॥ ৮৭
এই কথা রাম ভাঁড়ালী যখন শুনিল।
বুদ্ধি করিয়া কথা কহিতে লাগিল॥ ৮৯
শুন শুন রঙ্গমালা কই তোমার ঠাঁই।
বেজুইতে দাগি দিলে কোন লভ্য নাই॥ ৯১
চৌখুট করিয়া দাগি দিলে সুন্দর হইব।
আমার হাতে দেও রসি মাপিয়া যে দিব॥ ৯৩
এই কথা রঙ্গমালায় যখন শুনিল।
মাইয়া পোলা মানুষ রঙ্গ বুঝিতে নারিল॥ ৯৫
রামার হাতে রসি মাপিয়া সে লইল।
এই মাথায় হেই মাথায় তখন রসি ফেলাইয়া দিল॥ ৯৭
এই সে দিক তখন কালিক করিল।
আড়াই দোরণ জমীন কালিকেতে পাইল॥ ৯৯
চাইর কোণায় চাইর রাম কলাগাছ তখনই গাড়াইল,
এই মতে রাজচন্দ্র রঙ্গের আগে কইতে লাগিল।
মগের জন্য যামু আমি শীঘ্র বাড়াত চল॥ ১০২
বাড়ীত যাইয়া সুন্দরীরে দিল দরশন।
ছেন ১ সন্ধ্যা খানা আদি করিল তখন ॥ ১০৪
রাজচন্দ্র বোলে সুন্দরী কই তোমার ঠাঁই।
শীঘ্র করি দেও বিদায় মগ আইনতাম যাই ॥ ১০৬
এই কথা সুন্দরীরে যখন শুনিল।
মহারাজের আগে কথা কহিতে লাগিল ॥ ১০৮
ধূয়া—যাবে যদি প্রাণনাথ আসিবে কবে বলে যাও।
খানিকক্ষণ বিলম্ব হইলে সে দুঃখিনীর মাথা খাও ॥ ১১০
( ৩ )
হাসি মুখে রাজচন্দ্রেরে বিদায় করি দিল।
রামারে লইয়া চৌধুরী তখন চলিল ॥ ২
এইখানতুন মহারাজ টাঙ্গন দিল ছাড়ি।
সেইখানতুন চলি গেল রাম্যা মগের বাড়ী ॥ ৪
গাছের লগেতে ঘোড়া বন্ধন করিল।
রাম্যা মগ রাম্যা মগ বোলাইতে লাগিল ॥ ৬
সোণার খাডে ২ হোচ্চে ৩ মৈগ্যা রূপার খাডে পাও।
পঞ্চ দাসীয়ে দাবে ৪ মগ্যার হস্ত পাও ॥ ৮
এক ডাক দুই ডাক তিন ডাক দিল।
ঘরে তাকি রাম্যা মগ স্বর কাণে শুনিল ॥ ১০
শুন শুন অগো দাসী কই তোমার ঠাঁই।
খাণ্ডার ও আগে কেবা ডাকে কহনা বুঝাই ॥ ১২
এক নাম দরিয়া ১ ডাইকতে পারে আমার মায়ে আর বাপে।
যৎকিঞ্চিৎ বোলাইতে পারে বাবুচাঁদের পুতে ॥ ১৪
বুড়া যদি হয় তবে দেও শালে উঠাইয়া,
পোলা পাইন ২ হলে তারে দেও বান্দি থানায় পাঠাইয়া।
যোয়ান জান ৩ হলে তারে ফেলাইবা কাটিয়া ॥ ১৭
এই কথা মগের দাসী যখনে শুনিল।
ধামা হাতে করি তখন রাগেতে চলিল ॥ ১৯
কতদূর যাই দাসী নজর করি চার।
বাবুচাঁদরে দেখি বোলে হায়রে হায় ॥ ২১
একই দৌড়ে অগো দাসী মগ্যার কাছে গেল।
এই সমাচার তখন মগ্যারে কহিল ॥ ২৩
সোণার খাডে শুইতছ তুমি রূপার খাডে পাও।
তোমার দেশের মধ্যে হুলুস্থূল বাত্তা ৪ নাহি পাও ॥ ২৫
বাবুচাঁদের পুত্রের কথা যখনে শুনিল।
হোতাতুন উডি মগ্যায় আগদরজায় গেল ॥ ২৭
গলাতে কাপড় বাঁধি নমস্কার দিল।
মহরাজের আগে কথা কহিতে লাগিল ॥ ২৯
হাজার টেকা দিয়া কর্ত্তা না পাই দরশন।
আমনে আমনে আইলেন কর্ত্তা ভাগ্যের কারণ ॥ ৩১
এই কথা রাজচন্দ্র যখনে শুনিল।
রাম্যা মগের আগে কথা কহিতে লাগিল ॥ ৩৩
শুন রাম সদ্দার তুমি আমার ভাই।
তোমার কাছে আইছি আমি এডগ্যা দীঘি কাডাইতাম চাই ॥ ৩৫of
এই কথা রাম্যা মগ যখন শুনিল।
মহারাজের আগে কথা কহিতে লাগিল॥ ৩৭
বাড়ীত থাকি মহারাজ দিতেন হুকুম করিয়া।
দুই চাইর হাজার মগ আমি দিতাম পাঠাইয়া॥ ৩৯
এই কথা রাজচন্দ্রে যখন শুনিল।
গোপ্ত ভাবে দিমু দীঘি কহিতে লাগিল॥ ৪১
রাম্যা মগে বোলে আমি বুঝিরে ভাবিয়া।
গোপ্ত ভাবে দীঘি আমি দিমু কাটাইয়া॥ ৪৩
বারশত নাতি আমার তেরশত পন্তি।
কেহ পাইব তোলা তোলা কেহ রত্তি রত্তি॥ ৪৫
এই কথা বলি মগ্যায় কোন কাম করিল।
পিতলা নাগরার মধ্যে দমদম বাড়ি দিল॥ ৪৭
যত আছিল মগের সৈন্য লইল দৌড়াদৌড়ি।
একে একে রাম্যা মগে নাম ধরিয়া ডাকে।
ওড়া কোদাল লইয়া মগ চলে লাখে লাখে॥ ৫০
মগ লইয়া মহারাজ কইরছে আগমন।
তালেবপুর নরবাড়ীতে দিল দরশন॥ ৫২
এইদিগে সুন্দরীরে নজর করি চায়।
মহারাজ আসিয়াছে এমন দেখা যায়॥ ৫৪
রন্ধন করিয়া অন্ন তৈয়ার করিল।
দাসীর আগে তখন হুকুম করি দিল॥ ৫৬
খাওয়া লাওয়া শেষ করিয়া আগ দরজায় গেল।
যত আছিল মগের স্যৈ দেখাইয়া দিল॥ ৫৮
তোলা জল আনি চৌকুরে ছেয়ান করাইল।
পাক ঘরে আনি তারে ভোজন করাইল॥ ৬০
সুন্দরীয়ে বলে চৌধুরী কই তোমার ঠাঁই।
রাম্যা মগের নাম শুইনছি দেখিবারে চাই। ৬২
(৪)
রামসর্দ্দার রামসর্দ্দার যখন ডাক দিল।
মহারাজের সামনে আসি খাড়া যে হইল॥ ২
আলগে থাকি সুন্দরীয়ে নজর করি চায়।
পাহারের মত মগ্যা এমন দেখা যায়॥ ৪
রাম্যা মগেরে দেখি সুন্দরী ভাবিতে লাগিল।
মহারাজের আগে কথা কহিতে লাগিল॥ ৬
দীঘির কায্য নাই মহারাজ দীঘির কায্য নাই।
তুমি থাইলে বাঁচি কত দীঘি পাই॥ ৮
আইজগা রামা মগে আমারে যাইবগো দেখিয়া,
কাইলগা আসি তোমার মুণ্ড ফালাইব কাটিয়া।
পরশু আমি দুঃখিনীরে লই যাইব বাঁধিযা॥ ১১
এই কথা মহারাজ কাণেতে শুনিয়া।
রঙ্গমালার আগে কথা কহিল ভাঙ্গিয়া॥ ১৩
মগ পাড়ায় গেছি আমি খাজনার লাগিয়া।
কত মগ আইনছি আমি কাণচাবি ধরিয়া॥ ১৫
সুন্দরী তোমার কোন ভাবনা নাই। এই সব মগ আমার পরজা।
মার সঙ্গে বেয়াদপি কথা কখনও কইত নয়।
মহাব্রাজ আমি বিশ্বাস করি না। যদি আমনে এক কায় করেন তা হইলে
বশ্বাস করি যদি রাম্যামগের পায়ের মধ্যে বেড়ী লাগাই দেন।
রাজচন্দ্র বোলে রাম তুমি আইও কাছে। রঙ্গমালার লগে আমি ঠেকলাম মহা পেঁচে। রঙ্গমালায় কয় রাম্যা মগের পায় বেড়ী লাগাইতাম। আঁই কি পরকারে বেড়ী লাগাই। যদি বেড়ী লাগাইতাম যাই যদি রাম্যামগে কয় মহারাজ আঁই কি অপরাধ করলাম আমার পায়ে বেড়ী দিবেন তখন আমি কি উত্তর কইরব।
রামায় বোলে মহারাজ বুদ্ধি আছে। মাইয়া পোলার পীরিতে মইজলে ঠেকতে হয় পেঁচে। যখন আমনে বেড়ী লই যাইবেন রাম্যা মগের কাছে, যদি রাম্যা মগে আমনেরে জিজ্ঞাসা করে আমনে উত্তর করবেন এই দেখ রামসর্দ্দার, আমি তোমার পার মধ্যে বেড়ী লাগামু কি জানি যদি আঁর দীঘি কাডা ফেলাই পলাই টলাই যাও। তা হইলে ত আঁর সরম হইব। এইজন্যে আমি তোমার পার মধ্যে বেড়ী দিউম।
এই কথা রাম্যা মগ যখন শুনিল।
হাসি হাসি কয় মগ্যায় বেড়ী লাগাইল॥ ১৭
আইয়ারা, কইয়ারা, ইরুসিং বিরুসিং দীঘি।
খোয়াসাগর, জগন্নাথ, কমলার দীঘি॥ ১৯
কমলার দীঘি সকল কাটাইছি।
দমদমা কাটিতে আঁডুর জরাপ পাইছি॥ ২১
এই কথা কই মহারাজ বড় দিলেন লাজ।
এই দোঘি কাইটে আমার কতক্ষণের কাজ॥ ২৩
এই বোলি মগের সৈন্য হুকুম করি দিল।
ফারাফারা বোলি মগে দীঘির কোব ধরিল॥ ২৫
মহারাজ খাড়াত থাইতে দল চডি করিল।
ইহা দেখি মহারাজ বড় খুসী হইল ॥ ২
রঙ্গমালার কাছে যাই দরশন দিল।
মধুর বচনে কথা কহিতে লাগিল ॥ ৪
শুন শুন সুন্দরী কই তোমার ঠাঁই।
আর কিছু আপত্তি আছেনা কহনা বুঝাই ॥ ৬
সুন্দরীয়ে বোলে চৌধুরী কই আমনের ঠাঁই।
নবদখানা তোলাই দিবেন কহিলাম বুঝাই ॥ ৮
শুনি মহারাজ তখন কোন কাম করিল।
নন্দ ছৈয়াল বোলাই তখন হুকুম করি দিল ॥ ১০
বাড়ীর কাব্য ফেলাই এখন নবদ থানার কাব্য কর।
আশী হাতের পরে নবদ শীঘ্র তৈয়ার কর ॥ ১২
আর কি আবিত্তি আছে সুন্দরী কহনা বুঝাই।
দিনে দিনে আবিত্তি তোমার দিমুগো মিটাই ॥ ১৪
আর একটি আবিত্তি চৌধুরী আমার মনে আছে।
সেই আবিত্তিটা কই আমনের কাছে ॥ ১৬
মগে দাফি কাডে, নবদিয়ে নবদ বাজায় কই আমনের ঠাঁই।
ছোট বড় সকলেরই একটু জল পান করাইতাম চাই ॥ ১৮
ধুয়া—পীরিতে মজিলে মন দুখ সুখ সইতে হয়।
পীরিতে মজিলে মন অর্থ দণ্ড কইরতে হয় ॥
এই কথা মহারাজ যখন শুনিল।
তখন মহারাজ রাজি যে হইল॥ ২০
কাছে আছিল চিনের কাগজ টান দিয়া লইল।
দেশ বিদেশ পত্র লিখিতে লাগিল॥ ২২
একখানা পত্র শিমলা পাঠাই দিল।
শিমলাগো (?) হাজার টাকা নজর ধরিল॥ ২৪
গোলাপ রাইয়া দেয় দীঘি অমূল্য রতন।
বুধ বাইরগা তারিখে হইল চিড়ার নিমন্ত্রণ॥ ২৬
ছোট বড় সকলে এইখানে আসিবা।
পেট ভরিয়া চিড়া খাই জলতোলা চাইবা॥ ২৮
দেশে বিদেশে পত্র পাঠাইয়া দিল।
বুধ বাইরগা তারিখে সবায় নিমন্ত্রণ পাইল॥ ৩০
যার যে রকম অবস্থা হবে নজর ধরিল।
গোলাপ রাইয়া দীঘি দেয় পত্রেতে লিখিল॥ ৩২
সুন্দরী তোমার যা চাইবার তা আমি স্বীকার করছি। কিন্তু আর একখান কথা কহিবা। সকলের নিমন্ত্রণ দিলাম তোমার একালা। আমার এই কথায় তুমি না কইরবান। আমার খুড়া খুড়ীরে নিমন্ত্রণ দিতাম চাই তুমি কি কও। রঙ্গমালায় বোলে চৌধুরী তোমারে আমি মানা করি। তুমি একাজ কৈরল্যে ভালা হইত না। তুমি ত গোপ্পে কাজ কর খুড়ায় জানে না খুড়ায় রে জানাইলে তোমার ভালা হইত না।
এই কথা রাজচন্দ্র যখন শুনিল।
মনে মনে রাজচন্দ্র বড় রাগ করিল॥ ৩৪
রাগ হইয়া রাজচন্দ্র কোন কাম করিল,
কাছে আছিল চিনের কাগজ টান দিয়া লইল।
সোণালী কলমে পত্র লিখিতে লাগিল ॥ ৩৭
গোলাপরাইয়া দেয় দীঘি অমূল্য রতন।
বুধ বাইরগা তারিখে হইল চিড়ার নিমন্ত্রণ ॥ ৩৯
খুড়া খুড়ী দুইজন একত্রে আসিবা।
পেট ভরিয়া চিড়া খাই জলতোলা চাইবা ॥ ৪১
রাম ভাঁড়ালী রাম ভাঁড়ালী বোলাইতে লাগিল।
হাতের পত্র তখন রামার হাতে দিল ॥ ৪৩
পাইরতাম নয় বুলি রামায় বার বার কাহল।
এই কথা শুনিয়া চৌধ্রা বড় রাগ হইল ॥ ৪৫
পাইরতাম নয় বলিয়া যদি ফিরি কও কথা।
জবর চোয়াড় মারি ভাঙ্গি দিমু মাথা ॥ ৪৭
এই কথা শুনিয়া রামায় বেজায় করে মুখ।
পত্র হাতে করি চলে মনে হইল দুখ ॥ ৪৯
আলগে থাকি রঙ্গমালায় নজর করি চায়।
পত্র লইয়া বুঝি রামায় খুড়ার কাছে যায় ॥ ৫১
কান্দন
এই পত্র নয়রে পত্র বিষম কাল।
এই পত্র হইতে আমার ঘটিবে জঞ্জাল ॥ ৫৩
শুনেন শুনেন মহারাজ কই আমনের ঠাঁই।
দিবেন না দিবেন না পত্র কহিয়া বুঝাই ॥ ৫৫
চাঁদা বড় বীর মহারাজ চাঁদা বড় বীর।
একলা চাঁদায় কাড়ে নয়শ মাইনষের শির ॥ ৫৭
ছোট্ট মোট চাঁদমীঁড়ালী লাল কোত্তা গায়।
আউড্গা দিয়া মারে গোলইন দেলান ফাড়ি যায় ॥ ৫৯
এই পত্র খুড়ায় যখন পাইব।
চাঁদারে বোলাই তখন হুকুম করি দিব ॥ ৬১
তোমার আমার মুণ্ড একত্রে কাটিয়া।
খুড়ার দরবারে চাদায় যাইব লইয়া ॥ ৬৩
( ৬ )
এই কথা রাজচন্দ্রে কিছুনা শুনিল।
পত্র লইয়া রামারে পাঠাইয়া দিল ॥ ২
পত্র লইয়া রাম ভাঁড়ালী কইরছে আগমন।
চৌধুরীবাড়ীর দরজায় যাইয়া দিল দরশন ॥ ৪
কিরূপে দিব পত্র ভাবিতে লাগিল।
চাঁদার ডরে রাম ভাঁড়ালী কাঁপিতে লাগিল ॥ ৬
ভাবি চিন্তি রাম ভাঁড়ালী বুদ্ধি করি সার।
পত্র হাতে লই গেল রামায় দরবার মাঝার ॥ ৮
এক পা আউগায় ১ রামায় আরক পা পাছে।
সেলাম জানাইল যাই রাজিন্দ্র খুড়ার কাছে ॥ ১০
হেকমচ্যা রাম ভাঁড়ালী হেকমত করিল।
খুড়ার গায় পত্র ফালাই উড্গা ২ লড় ৩ দিল। ১২
ধায় আর রাম ভাঁড়ালী পিছের দিগে চায়।
আর নিরে চাঁদা গোলমায় আমার লাউগ ৪ পায় ॥ ১৪
পত্র ফালাইয়া রামায় যখন উঠিয়া দৌড় দিল।
খাম খোঁয়াইয়া রাজিন্দ্র খুড়ায় পত্র পড়িতে লাগিল ॥ ১৬
পত্র পড়ি রাজিন্দ্র খুড়ায় ওয়াকিব হইল।
গেছি গেছি করি খুড়ায় মাথায় মারিল ॥ ১৮
গেল তার জাইত আমার জাইত মারিল।
চিড়া খাইবার নিমন্ত্রণ নর বাড়ীতে দিল ॥ ২০
ধূয়া—কোথায় রইলি রে চাঁদা বুদ্ধির পাথর।
চান্দভাঁড়ালী চান্দভাঁড়ালী বোলাইতে লাগিল।
সামনে আসি চান্দভাঁড়ালী হাজির হইল ॥ ২২
শুন শুন চান্দাবাবু কই তোমার ঠাঁই।
কুল গেল মান গেল কলঙ্কের সীমা নাই ॥ ২৪
কিবা বুদ্ধি দিবা আমার বুদ্ধি ধড়ে নাই।
চিড়া খাইতাম পত্র দিল নর বাড়ীতে যাই ॥ ২৬
চান্দায় বোলে শুনেন শুনেন রাজিন্দ্র খুড়া কই আমনের ঠাঁই।
আমি চান্দা বাঁচি থাইকূলে কোন চিন্তা নাই ॥ ২৮
একবার যদি ওরে খুড়া তোমার হুকুম পাই।
নরের বংশ কাডি আমি সায়রে ভাসাই ॥ ৩০
কচু খেলানি খেলাই দুর্গারে ধেয়াই।
যদি রাজিন্দ্র খুড়া তোমার হুকুম পাই ॥ ৩২
এই কথা রাজিন্দ্র খুড়ায় যখনে শুনিল।
চান্দভাঁড়ালীর আগে কথা কহিতে লাগিল ॥ ৩৪
ভাইর ঘরের ভাতিজা আমার ফেলাইবি কাটিয়া।
আমি মইলে কাষ্ট কইরব কোন পুতে আসিয়া ॥ ৩৬
যাও যাও চান্দভাঁড়ালী কই তোমার ঠাঁই।
তির গুল্লি ১ না লাগে ভাতিজার গায় কহিয়া বুঝাই ॥ ৩৮
( ৭ )
এই হুকুম চান্দভাঁড়ালী যখন পাইল।
আশী হাত কাপড় দি ২ কোমর বাঁধিল ॥ ২
দুই হাতে দুই কিরিচ টান দিয়া লইল।
আপনার সাজে চান্দায় সাজিতে লাগিল ॥ ৪
সাজি পড়ি চান্দভাঁড়ালী কপালে দিল ফোঁটা।
আচম্বিতে খাড়া হইল জয়কালীর বেটা ॥ ৬
জয় কালী জয় কালী বোলাইতে লাগিল।
জয়কালীর দুয়ারে পাডা বলিদান করিল ॥ ৮
বলিদান করি চান্দায় আগ দরজায় গেল।
গায়ের জোরে চান্দভাঁড়ালী পলট্ দেওন ৩ লইল ॥ ১০
আলগে থাকি রাজিন্দ্র খুড়ায় নজর করি চায়।
বাঘের মতন চান্দভাঁড়ালী এমন দেখা যায় ॥ ১২
যদি এই বাঘ নর বাড়ীতে যায়।
আমার মনে বিশ্বাস না হয় বাছি বাছি খায় ॥ ১৪
নিশ্চয় ভাতিজা আমার ফালাইব মারিয়া।
সামুনে পড়িলে চান্দায় না দিবে ছাড়িয়া ॥ ১৬
এই মতে চান্দভাঁড়ালী কোন কাম করিল।
ঘোড়ার পরে চান্দায় শোয়ার হইল ॥ ১৮
সাওরাম নামে ঘোড়া চান্দার আছিল।
কতদূরা যাইয়া ঘোড়া মাজা ভাঙ্গি গেল ॥ ২০
আরবারে ঘোড়ার পরে সোয়ার হইল।
সেই ঘোড়া সেই রকম আউডৃগা ১ দিয়া গেল ॥ ২২
গায়ের রাগে চান্দভাঁড়ালী হাটিয়া চলিল।
আইডগা বাড়ীর পোল চান্দায় পার হইয়া গেল ॥ ২৪
সেইখানে যাই চান্দভাঁড়ালী কোন কাম করিল।
গায়ের পোষাক খুলি চান্দায় বৈষ্টব হইল ॥ ২৬
ধীরে ধীরে চান্দভাঁড়ালী কৈরছে আগমন।
তালেবপুর গেরামে যাই দিল দরশন ॥ ২৮
নর বাড়ীর পশ্চিমদিগে নজর করি চায়।
মগেরা কাড়ে দীঘি এমন দেখা যায় ॥ ৩০
আর কদ্দূর যাইয়া চান্দায় করিল নজর।
নবদিয়ে নবদ বাজায় আশী হাতের পর ॥ ৩২
এইখান তুন চান্দভাঁড়ালী কৈরছে আগমন।
নরবাড়ী যাই চান্দায় দিল দরশন ॥ ৩৪
আউগ দেউড়ি মাইজ ২ দেউড়ি দেউড়ি সারি সারি।
হাইস করি তোলাইছে রাজচন্দ্রে এক কাচারি ॥ ৩৬
কতদ্দূর যাই চান্দায় করিয়া নজর।
পশু পক্ষী করে খেলা গাছের উপর ॥ ৩৮
ফুলের উপর বসি ভোমরা মধু খায়।
নটুয়া নাটুনী কত খেমা নাচায় ॥ ৪০
বাজীকরে বাজি করে দেখিতে সুন্দর।
হংসা হংসী খেলা করে জলের উপর ॥ ৪২
ইহা দেখি চান্দভাড়ালী তাজ্জব হইল।
অপূর্ব্ব তামাসা বুঝি নরবাড়ীতে আইল ॥ ৪৪
যদি আমি চান্দভাড়ালী এই নাম রাখিব।
নরের বংশ কাড়ি আমি সায়রে ভাসাইব ॥ ৪৬
হেকমতে রাজচন্দ্রে রে বাড়ীত লইয়া যাইব।
অপরে আসিয়া আমি কার্য সমাধা দিব ॥ ৪৮
সেই খানতুন চান্দভাড়ালী কৈরছে আগমন।
আন্তর বাড়ীর কাছে যাই দিল দরশন ॥ ৫০
জয় জয় বলি চান্দায় ধরিল ঝিকির।
রঙ্গমালায় বোলে আইল কোথাকার ফকির ॥ ৫২
চৌধুরীরে লইয়া রঙ্গ শোয়ইয়া রহিল।
বৈরাগীর তরে রঙ্গে ভিক্ষা না যে দিল ॥ ৫৪
আবার ফিরি বৈষ্ণবে ভিক্ষা যে খুঁজিল।
টেন্টেনাইছনা বৈরাগীর জাত ধাবাইয়া দিল ॥ ৫৬
দিলানা দিলানা ভিক্ষা চলিলাম আমি।
আশীর্ব্বাদ করি যাই সুখে থাইকুবা তুমি ॥ ৫৮
ইহা কহি চান্দভাড়ালী কৈরছে আগমন।
আইড়ংগা বাড়ী আসি দিল দরশন ॥ ৬০
আপনা পোষাক চান্দায় পরিধান করিল।
চৌধুরী বাড়ীত আসি চান্দায় দরশন দিল ॥ ৬২
( ৮ )
চান্দায় বোলে খুড়াতাকুর না ভাবিও তুমি।
কাজের সুসার করি আইছি আমি ॥ ২
শুনেন শুনেন খুড়াটাকুর কই আমনের ঠাঁই।
একখান পত্র আমনে শীঘ্র লেখেন চাই ॥ ৪
এই কথা খুড়াটাকুর যখন শুনিল।
কাছে আছিল চিনের কাগজ টান দিয়া লইল ॥ ৬
শুন শুন রাজচন্দ্র কই তোমার ঠাঁই।
কি কাষ করিলে তুমি আমারে না জানাই ॥ ৮
কৈ রল্যা কৈরল্যা এই কায মনে ভালবাসি।
কিছু পরামিস কর তুমি আমার সঙ্গে আসি ॥ ১০
তোমার টেকা না কুলাইলে আমার টেকা দিব।
নতুবা সভার মাঝে বড় লজ্জা পাইব ॥ ১২
পত্র পাইয়া জলতি আইবা কই তোমার ঠাঁই।
কাষ সমাধান কইরব তুমি আমি যাই ॥ ১৪
লেখিয়া পড়িয়া পত্র করি দিল খাম।
উপরে লিখিয়া দিল রাজচন্দ্রের নাম॥ ১৬
মঙ্গলসিং বোলাই তারে পত্র হাতে তুলি দিল।
নরবাড়ীতে রাজচন্দ্রের কাছে যাইতে কহিল ॥ ১৮
পত্র হাতে করি মঙ্গলসিং কৈরছে আগমন।
নরবাড়ীত যাই মঙ্গল দিল দরশন॥ ২০
দাসী দাসী বলি মঙ্গল যখন ডাক দিল।
সামনে আসি দাসী তখন হাজির হইল ॥ ২২
দাসীর হাতে পত্রখান দিল যে ঠেলিয়া।
রাজচন্দ্রের হাতে দিবা পত্র কহিলাম ভাঙ্গিয়া। ২৪
এই কথা বলি মঙ্গল বাড়ীত চলি মাইল।
খুড়ার কাছে আসি তখন জানাইল ॥ ২৬
এইখানে পত্র দাসী রাজচন্দ্রেরে দিল,
পত্র খুলি রাজচন্দ্র পড়িতে লাগিল।
রঙ্গমালার আগে কথা কহিতে লাগিল ॥ ২৯
শুন শুন সুন্দরীগো কই তোমার ঠাঁই।
তুমি মানা কইরছ মোরে পত্র দিবার লাই॥ ৩১
পত্র পড়ি খুড়া আমার বড় খুসী হইল।
আমারে যাইতে বুলি পত্রেতে লিখিল॥ ৩৩
আমার টেকায় না কুলাইলে খুড়ায় দিব টেকা।
আনন্দে আসিয়া এথায় নিমন্ত্রণ খাইব॥ ৩৫
রঙ্গমালায় বোলে চৌধুরী কই তোমার তরে।
পত্রের কথা শুনি আমার কলিজা বিদরে॥ ৩৭
এই পত্র পত্র নয় পত্র বিষম কাল।
এই হইতে আমার ঘটিবে জঞ্জাল॥ ৩৯
নিমন্ত্রণার কায্য নাই খাবার কায্য নাই কই তোমার ঠাঁই।
তুমি আমি থাকলে বাঁচি কোন চিন্তা নাই॥ ৪১
যাইওনা যাইওনা তুমি মানা করি আমি।
বাড়ীত গেলে মহারাজ ফিরি আইসবানা তুমি॥ ৪৩
এই কথা রাজচন্দ্রে যখন শুনিল।
নিশ্চয় যাইব আমি রঙ্গেরে কহিল॥ ৪৫
ইহা বলি মহারাজ বিদায় হইতে চায়।
রঙ্গমালা উঠি চৌদ্ধার ধরে দোন পায়॥ ৪৭
যাইওনা মহারাজ আমারে ছাড়িয়া।
বড় খুসী হইছি তোমারে পাইয়া॥ ৪৯
এই কথা রাজচন্দ্রে কিছু না শুনিল।
রঙ্গমালার হাত তখন ঠেলিয়া ফেলিল॥ ৫১
আলগে থাকি রাজচন্দ্রে নজর করি চায়।
মজবূতে বাইনছে১ কেবাড় এমন দেখা যায়॥ ৫৩
লাথি মারি আনার ১ কেবাড ভাঙ্গিয়া ফেলিল।
রামারে বোলাই তখন হুকুম করিল ॥ ৫৫
জলতি করি ধল্যা টাঙ্গন সাজাই আন চাই।
সাজইয়া আনিল টাঙ্গন রামায় হুকুম পাই ॥ ৫৭
টাঙ্গনে চড়িয়া চৌদ্ধী যখন দিল বাড়ি।
চলিল দেবের ঘোড়া ২ মহাদর্প ছাড়ি ॥ ৫৯
এই খানে এই কথা রহুক মঞ্জিয়া।
চান্দভাঁড়ালীর কথা শুনেন মন দিয়া ॥ ৬১
( ৯ )
হেকমত্যা ৩ চান্দভাঁড়ালী হেকমত ৪ করিল।
রাজচন্দ্রের ভৈনের কাছে দরশন দিল ॥ ২
শুন শুন দূরগামালা কই তোমার ঠাঁই।
একখান কথা তোমারে আমি কহিয়া বুঝাই ॥ ৪
তোমার ভাই রাজচন্দ্র নরবাড়ীতে গেল।
নরের হাতে খাইয়া ভাত জাতি ডুবাল ॥ ৬
টাকা পৈসা যায়গা জমি দিল নরিনীরে।
এই ঘোষশা শূদ্রের বংশ করে ঘরে ঘরে ॥ ৮
তুমি একটি কায যদি পার করিবারে।
ইহার কিছু অনুসন্ধান করি দি তোমারে ॥ ১০
একটা সরবৎ পড়া শিখিয়াছি আমি।
যদি তারে খাওাইতে পারগো তুমি ॥ ১২
নরবাড়ীর কথা চৌধুরী মুখে না লইব।
যত দিছে টেকাকড়ি লইয়া আসিব ॥ ১৪
আর কারো হাতে খাইত নয় মনে হইয়া খুসী।
তোমার হাতে খাইব সরবৎ মনে ভালবাসি ॥ ১৬
এই কথা দুরগামালায় যখনে শুনিল।
পারিব পারিব বুলি দুরগায় কহিতে লাগিল ॥ ১৮
এই কথা চান্দ ভাঁড়ালী যখনে শুনিল।
এক গেলাস ভাঙ্গের সরবৎ তৈয়ার করল ॥ ২০
সরবৎ তৈয়ার করি দুরগার হাতে দিল।
দুরগামালা লইয়া সরবৎ পরীক্ষা করিল ॥ ২২
হাতের অঙ্গুলীদ্বারা মুখে তুলি দিল।
মিঠা বুলি দুরগামালায় চোকতল করিল ॥ ২৪
কতক্ষণ পরে দেখে পরীক্ষা করিয়া।
কিছু না হইল তার সরবৎ মুখে দিয়া ॥ ২৬
মনের চিন্তা দুরগামালার দূর হইয়া গেল।
খাইব সরবৎ আমি চান্দারে কহিল ॥ ২৮
এই সরবৎ দিয়া চান্দায় গেল পলাইয়া।
এই দিগে মহারাজ আইল হয়রাণ হইয়া ॥ ৩০
টাঙ্গন ছাড়ি দিয়া চৌধুরী বাড়ীত আসিল।
চুপে চুপে রাজচন্দ্র আস্তর বাড়ী গেল ॥ ৩২
আস্তর বাড়ী যাই চৌধুরী নজর করি চায়।
দুরগামালা খাড়ই রইছে এমন দেখা যায় ॥ ৩৪
দুরগারে দেখিয়া চৌধুরী জিজ্ঞাসা করিল।
কবে আইছ তুমি আছত ভাল ॥ ৩৬
মধুর বচনে কথা দুরগারে বোলে ॥ ৩৮
শুন চাইগো দুরগামালা কই তোমার ঠাঁই।
কার লাগি রাইছছ সরবৎ সত্য বল চাই ॥ ৪০
এই কথা দুর্গামালা যখন শুনিল।
ভাইর আগে কথা কহিতে লাগিল ॥ ৪২
সরবৎ বানাইছি আমি আপনার লাই।
শুনি চৌধুরী বোলে তবে দেও নাগো খাই ॥ ৪৪
দেও দেও বলি সরবৎ বাড়াইয়া লইল।
একদমে সরবৎ সব খাইয়া ফেলিল ॥ ৪৬
ভাঙ্গের সরবৎ চৌধুরী যখন খাইল।
ঢুলু মুলু কেবল ঢুলিতে লাগিল ॥ ৪৮
শুন চাইগো দুর্গামালা কই তোমার ঠাঁই।
তোমার সরবতে আমায় ঘুরায় কিসের লাই ॥ ৫০
এই কথা দুর্গামালায় যখন শুনিল।
আমারে বুঝি আপনার অবিশ্বাস হইল ॥ ৫২
রৌদ্রমধ্যে আসিয়াছেন হয়রাণ হইয়া।
সেই জন্যে ঘুরায় দাদা কহিলাম ভাঙ্গিয়া ॥ ৫৪
কহিতে বুলিতে কথা ঢুলিয়া পড়িল।
সকলে ধরিয়া তারে পালঙ্কে শোয়াইল ॥ ৫৬
( ১০ )
আল্গে থাকি চান্দভঁাড়ালী নজর করি চায়।
ভাঙ্গের নিশায় ধেরছে তারে এমন দেখা যায় ॥ ২
আপনার সাজে চান্দায় তখন সাজিল।
জয়কালী বলি চান্দায় তখনে চলিল ॥ ৪
এখান তুন চান্দভঁাড়ালী কৈরছে আগমন।
আইডা বাড়ীর পোলের কাছে দিল দরশন ॥ ৬
সেইখানে যাইয়া চান্দায় তৈয়ার হইল।
( যেইখানে ) রাম্যা মগে দীঘি কাডে সেইখানে গেল ॥ ৮
আচম্বিতে চান্দভাড়ালী যুদ্ধ আরম্ভিল।
ঘুরাইয়া ঘুরাইয়া সৈন্য কাডিতে লাগিল ॥ ১০
ধূয়া—অসথের বলে যুদ্ধ লাগিলরে।
দুই হাতে দুই কিরিচ১ মারিয়া যে যায়।
ছাগলের পালে যেন বাঘ সান্ধায় ২॥ ২
সৈন্য কাটিতে চান্দায় না ভাবিল মনে।
ঘুরাইয়া ঘুরাইযা কাটে যত সৈন্য গণে॥ ১৪
আল্গে থাকি রাম্যা মগে নজর করি চায়।
চান্দভাঁড়ালী কাড়ে সৈন্য এমন দেখা যায়॥ ১৬
পায়ের মধ্যে লোহার বেড়ী ভাবিতে লাগিল।
কিরূপে ছিড়িবে বেড়ী যুক্তি যে করিল॥ ১৮
হারা তারা বলি মগ্যায় যখন দিল টান।
ছিড়িয়া লোহার বেড়ী হইল খান খান॥ ২০
কোদাইল ৩ হাতে করি মগ্যায় রণখেড়ে ৪ নামিল।
চান্দতাড়ালীর লগে যুদ্ধ লাগাইয়া দিল॥ ২২
চান্দতাড়ালী মারে কোব রাম্যা মগের গায়।
কোদাইলের বাড়ীতে মগ্যায় ফিরাইয়া ফেলায়॥ ২৪
রাম্যা মগে মারে বাড়ি চান্দভাঁড়ালীর গায়।
লোহার জামা কাটি চান্দার চাইর আঙ্গুল বসায়॥ ২৬
রাম্যা মগের লগে চান্দায় কিছুতে না পারে।
হাতের কিরিচ ফেলাই চান্দায় কিলা কিলি করে॥ ২৮
রাম্যা মগে চান্দভাঁড়ালীয়ে করে কিলা কিলি।
তারপরে দোনগায় করে ঠেলা ঠেলি॥ ৩০
একবার আছাড়ে চান্দায় আরবার মগ্যায়।
এইরূপ দোনগায় যুদ্ধ যে করয়॥ ৩২
চান্দভাঁড়ালী বলে আমি কি উপায় করি।
এইবারকার যুদ্ধে বুঝি মগ্যার হাতে মরি ॥ ৩৪
হেকমত্যা চান্দভাঁড়ালী হেকমত করিল।
মগ্যার হাত তুন ছুডি চান্দায় উডুগান লড় দিল ॥ ৩৬
বনের ভিতরে যাইয়া উপস্থিত হইল।
জয় কালী জয় কালী বোলাইতে লাগিল ॥ ৩৮
এইবারকার সমরে মাগো উদ্ধার কর মোরে।
জোরের পাড়া বলি দিমু তোমার দুয়ারে ॥ ৪০
এইকথা জয়কালী যখনে শুনিল।
চান্দার অগ্রেতে কথা কহিতে লাগিল ॥ ৪২
দুই দিগে সমান শিষ্য কারে দিমু বল।
কাহারে করিব আমি একেবারে তল ॥ ৪৪
এই কথা চান্দভাঁড়ালী যখনে শুনিল।
কান্দি কান্দি চান্দভাঁড়ালী জয়কালীরে কইল ॥ ৪৬
যদি মাগো মগের হাতে মুণ্ড হারাইব।
তোমার সাক্ষাতে এখন পরাণ ত্যাজিব ॥ ৪৮
এই বলিয়া চান্দভাঁড়ালী কিরিচ লইল হাতে।
আপনি মারিতে চায় আপনার মাথে ॥ ৫০
জয়কালী বোলে চান্দ কই তোমার তরে।
জিতিবি আজিকার সমর রাম্যা মগের লগে ॥ ৫২
এই বলিয়া জয়কালী চান্দার গায়ে সোয়ার হইল।
আবার ফিরি চান্দভাঁড়ালী যুদ্ধেতে চলিল ॥ ৫৪
রাম্যা মগের লগে যুদ্ধ আরম্ভ করিল।
কোদাইল হাতে লইয়া মগ্যায় যুদ্ধেতে নামিল ॥ ৫৬
রাম্যা মগ মারে কোচ চান্দভাণ্ডালীর গায়।
কিরিচের আগে চান্দায় ঠেলিয়া ফেলায়॥ ৫৮
ডাইনে বায়ে চান্দভাণ্ডালী পলটন দেওন লইল।
রাম্যা মগের পরে চান্দায় কিরিচ মারিল॥ ৬০
এক কোবে রাম্যা মগের মুণ্ড যে কাটিল।
হাতীর কল্যা যেন জমিনে পড়িল॥ ৬২
( ১১ )
যুদ্ধ জিনি চান্দভাঁড়ালী বড় খুসী হইল।
একদমে কালীর নাম হাজার বার লইল॥ ২
শাক্ত হইয়া চান্দভাণ্ডালী কোন কাম করিল।
নরবাড়ীর দিগে চান্দায় যাত্রা করিল॥ ৪
আউগ দেউড়ী মাইজ দেউড়ী সকল ভাঙ্গিল।
ষোল দুয়ারী টঙ্গির ঘরে উপস্থিত হইল॥ ৬
লাথি মারি ঘরের কেবাট ভাঙ্গিয়া ফেলাইল।
রঙ্গমালা কই রঙ্গমালা কই টোগাইতে লাগিল॥ ৮
আল্গে থাকি চান্দভাণ্ডালী নজর করি চায়।
দ্বিতীয়ার চন্দ্র যেন পালঙ্কে দেখা যায়॥ ১০
ধূয়া—অ দারুণ বিধিরে লাহোরে নিঠুর কালের ঘুম নাইরে।
ঘুমে আছিল রঙ্গমালা কইব কার ঠাঁই।
চান্দভাণ্ডালী বলে তার পালঙ্কেতে যাই॥ ১২
ঘুরাই ঘুরাই রূপ তার হেরিতে লাগিল।
নিদারুণ চান্দভাণ্ডালীর দয়া না হইল॥ ১৪
জব্বর চোয়ার তার গালেতে মারিল।
বিগ বি গাইয়া রঙ্গমালা কান্দিয়া উঠিল॥ ১৬
The page is blank.
চাঁদ ভাণ্ডারী ও রঙ্গমালা-৪০৭ পৃঃ
চক্ষু মেলি রঙ্গমালা নজর করি চায়।
চান্দভাঁড়ালী মাইরছে চোয়ার এমন দেখা যায় ॥ ১৮
আমি এই কথা দিব চৌধুরীরে লাগাইয়া।
তোমার মুণ্ড মহারাজ ফেলাইব কাটিয়া ॥ ২০
এই কথা চান্দভাঁড়ালী যখনে শুনিল।
রঙ্গমালার দোন হস্ত তখনই বাঁধিল ॥ ২২
রঙ্গমালায় বোলে চান্দা এই কি তোর মনে।
এত জোরা জোরি কেন কর আমার সনে ॥ ২৪
চান্দায় বোলে সুন্দরী কই তোমার ঠাঁই।
আমার হস্তে তোমার মরণ কহিলাম বুঝাই ॥ ২৬
দোন হস্ত রঙ্গের যখন বন্ধন করিল।
ইহা দেখি রঙ্গমালায় কান্দিতে লাগিল ॥ ২৮
রঙ্গে বলে চান্দ ভাই ধরি তোমার পায়।
আমারে মারিলে আমার মা দুঃখিনীর না থাকিবে উপায় ॥ ৩০
চৌধুরীরে কৈরাছে প্রেম শুন আমার কথা।
তার জন্য কেন চান্দ কাট আমার মাথা ॥ ৩২
রাজচন্দ্রে কৈরাছে প্রেম ধরি হাতে পায়।
আমারে কাট তুমি কাহার কথায় ॥ ৩৪
এই সময়ে যদি দেইখতাম রাজচন্দ্রের মুখ।
তুই চান্দা কাইটতি কল্লা ১ না পাইতাম দুখ ॥ ৩৬
এই সময় শুইন্তাম যদি রাজচন্দ্রের কথা।
তুই চান্দ কাটতি কল্লা না পাইতাম ব্যথা ॥ ৩৮
মাইর না মাইর না চান্দা তোমায় ভালবাসি।
খুসী থাক মোরে লই হই তোমার দাসী ॥ ৪০
এই কথা চান্দভাঁড়ালী যখন শুনিল।
রঙ্গমালার আগে কথা কহিতে লাগিল ॥ ৪২
নিদয়া নিষ্ঠুর আমি কই তোমার ঠাঁই।
তোমারে রাইতাম আমার খুড়ার হুকুম নাই ॥ ৪৪
ধাক্কা মারি রঙ্গমালার বাহির করিল।
উঠানে আনিয়া তারে খাড়া যে হইল ॥ ৪৬
আলগে থাকি গোলাপ রাইয়া নজর করি চায়।
ভৈনেরে মারে চান্দায় এমন দেখা যায় ॥ ৪৮
ছিলা ডাকে গোলাপ রাইয়া রণ খেউরে নামিল।
চান্দভাঁড়ালীর লগে যুদ্ধ লাগাইয়া দিল ॥ ৫০
চান্দভাঁড়ালী গোলাপ রাইয়া করে কিলা কিলি।
এউগ্যার উপরে আর এউগ্যা করে ঠেলা ঠেলি ॥ ৫২
চান্দারে গোলাপ রাইয়া আছাড়ি ফেলাইল।
নীচে পড়ি চান্দভাঁড়ালী ধড় ফড় লইল ॥ ৫৪
জয়কালীর নাম লইয়া লাথি মারিল।
পোনর হাতের পরে যাইয়া গোলাপ রাইয়া পড়িল ॥ ৫৬
লাথি খাইয়া গোলাপ রাইয়া নরম হইল।
নরম শরীর পোলামাইনষ কান্দিয়া উঠিল ॥ ৫৮
ভাই ভৈন দোনগার হস্ত একত্রে বান্ধিল।
কেলা গাছ কাড়িয়া চান্দায় যন্তর বানাইল ॥ ৬০
ইহা দেখি রঙ্গমালায় কান্দিতে লাগিল।
চান্দভাঁড়ালীর আগে কথা কহিতে লাগিল ॥ ৬২
শুন শুন চান্দভাঁড়ালী কই তোমার তরে।
ছোট্ট ভাই আমার মার কি প্রকারে ॥ ৬৪
আমি কইরাছি দোষ মারিবা আমারে।
আমার ভাইয়া গোলাপ রাইয়া কোন দোষ না করে ॥ ৬৬
ইহার তুন অধিক দুঃখ আর কিছু নাই।
তার তুনও অধিক দুঃখ মা’র সোদর ভাই ॥ ৬৮
তার তুন অধিক দুঃখ মা’র মনে হয়।
যাহার সামনে এমন ভাজন বেটা১ মারা যায় ॥ ৭০
বিদেশেশে বিঘাটে যার বেটা মরি যায়।
পশু পক্ষী না জানিতে আগে জানে মায় ॥* ৭২
মায় সে কেমনে জানে গৃহেতে বসিয়া।
দিবানিশি আঙ্গুন২ জ্বলে পুতের লাগিয়া ॥ ৭৪
দুঃখের উপরে দুঃখ না যায় খণ্ডন।
কাটা ঘায়ের মধ্যে যেন মাথিল লবণ ॥ ৭৬
কান্দা কাটি চান্দ ভাঁড়ালী কিছু না শুনিল।
ভাই ভৈন দোনগারে৩ যন্তরেতে দিল ॥ ৭৮
ধূয়া—ভাবে বুঝি দুঃখের কপাল আমার রে।
যে গাছ ধরি আমি সে গাছ ভাঙ্গেরে ॥ ৮০
আল্গে আল্গে চান্দ ভাঁড়ালী কিরিচ ভাজন লইল।৪
ভাই ভৈন দোনগার মুণ্ড একত্রে কাটিল ॥ ৮২
গোলাপ রাইয়ার মুণ্ড চান্দায় শালে উঠাই দিল।
রঙ্গমালার মুণ্ড চান্দায় চাদরে বাঁধিল ॥ ৮৪
েএখান তুন চান্দ ভাঁড়ালী ঘোড়া ছাড়ি দিল।
বাবূপুর চৌন্ধ্রী বাড়ীত দরশন দিল ॥ ৮৬
রাজিন্দ্র খুড়ার কাছে যাই দরশন দিল।
সেলাম করিয়া চান্দায় রঙ্গের মুণ্ড নজর ধরিল॥ ৮৮
চাদর খুলিয়া খুড়ায় যখনে দেখিল।
দরবারেতে রাজিন্দ্র খুড়ায় ঢুলিয়া পড়িল॥ ৯০
ধূয়া—হায়রে দারুণ বিধি লাগিল কাল গুণে।
কি করিছ চান্দ ভাঁড়ালী না জানাইয়া মোরে।
এমন সুন্দর রঙ্গ কাইট্লা কি প্রকারে॥ ৯২
রঙ্গের মুণ্ড কাটিয়াছ তাতে ক্ষতি নাই।
ভাতিজা হইব পাগল রঙ্গমালার লাই॥ ৯৪
এই মাইয়া হইত যদি শূদ্রের বংশের ঘরে।
লক্ষ টাকা দান করিতাম কালী নামের পরে॥ ৯৬
আগে যদি জাইন্তাম আমি সুন্দর রঙ্গমালা।
সহ্য করিতাম ভাতিজার জ্বালা॥ ৯৮
যত টাকা লাইগত আমার সমাজে লাগাইতাম।
পরাচিত্ত ১ করাইয়া বিয়া করাইতাম॥ ১০০
শুন শুন চান্দ ভাঁড়ালী কই তোমার ঠাঁই।
ভাতিজা হইব পাগল রঙ্গমালার লাই॥ ১০২
এই খানে এই কথা রহুক মন্থিয়া।
রাজচন্দ্র লই কথা শুন মন দিয়া॥ :০৪
( ১২ )
ভাঙ্গের নেশা ছাড়ি চৌদ্ধী উঠিয়া বসিল।
লোটা হাতে করি * * * চলিল॥ ২
আগ দরজার পরে চান্দায় ঘোড়া দৌড়ায়।
রক্ত সৃষ্টি দেখে চান্দার গায়॥ ৪
রাজচন্দ্র বলে চান্দা কই তোমার ঠাঁই।
রক্ত কেন তোমার গায় কহনা বুঝাই॥ ৬
এই কথা চান্দ ভাঁড়ালী যখন শুনিল।
হরিণের মাংস খাইত তোমার খুড়ায় কহিল॥ ৮
হরিণের রক্ত লাগিয়াছে গায়।
ইহা শুনি রাজচন্দ্র মনেতে ভাবয়॥ ১০
নরবাড়ীর দিগে চৗধ্রী নজর করিল॥ ১২
নরবাড়ীর দিগে চৌধুরী নজর করি চায়।
হুহু শব্দে আগুন জ্বলে এমন দেখা যায়॥ ১৪
-
* রাজচন্দ্র চৌধুরী দৌড় ভালা দিল।
নরবাড়ী যাই চৌধুরী দরশন দিল॥ ১৬ ঘোল দুয়ারগা টঙ্গীর ঘরে আগুন দেখা যায়। ইহা দেখি রাজচন্দ্র বোলে হায়রে হায়॥ ১৮ অগ্নি মধ্যে চৌধুরী ঝাঁপ দিয়া পাড়ল। রঙ্গমালা কই রঙ্গমালা কই টোগাইতে লাগিল॥ ২০ রঙ্গ রঙ্গ করি চৌধুরী কান্দিতে লাগিল। চান্দার কাণ্ড এই মনেতে ভাবিল॥ ২২ রঙ্গমালা কই রঙ্গমালা কই টোগাইতে লাগিল। উঠানের মধ্যখানে ধড়খানি পাইল॥ ২৪ রঙ্গমালার ধড় লই বাহির হইল। বহুত বিচারি ২ মুণ্ড নাহিক পাইল॥ ২৬ যদি আমি রাজচন্দ্র এই নাম রাখিব। বাবূপুর মধ্যে আমি আগুন লাগাই দিব॥ ২৮ খুড়ার মুণ্ড আমি ফেলাইব কাঁটিয়া। চান্দার মুণ্ড আমি দিব শালে উঠাইয়া ॥ পাগলের মত চৌধুরী পাগল হইল। রঙ্গ রঙ্গ করি চৌধুরী কান্দিতে লাগিল ॥ ( ১৩ ) এইখানে এই কথা রহুক মঞ্জিয়া। রাজিন্দ্র খুড়ার কথা শুন মন দিয়া ॥ রাজিন্দ্র বোলে চান্দা কই তোমার ঠাঁই। বাড়ীঘর ছাড়ি মোরা পলাই চল যাই । এই কথা চান্দ ভাঁড়ালী যখন শুনিল। খুড়ারে লইয়া চান্দায় পলাইয়া গেল ॥ ছোড খুড়ী বোলে আমার কোন দোষ নাই। রাজচন্দ্রের ডরে কেন যামু গৈ পলাই ॥ এই কথা বলিয়া খুড়ী রহিল। ’ছোটু এউগা দুধের পোলা কোলেতে লইল ॥ এইখানে রাজচন্দ্র বাড়ীত আসিল। পাগলের মতন কেবল টোগাইতে লাগিল ॥ খুড়া কই চান্দা কই মুখেতে ফুকারে। অগ্নির হুলুকা যেন জ্বলয়ে অন্তরে ॥ চাইর দিগে টোগাইল নাহিক পাইল। আস্তর বাড়ীত যাই চৌধুরী দরশন দিল ॥ আলগে থাকি রাজচন্দ্রে নজর করি চায়। ঘরে বসি ছোড খুড়ী পোলারে দুধ খাবায় ॥ উড়িয়া মারি কোলের পোলা টান দিয়া লইল। আছাডিয়া মাইরত বলি উপরে তুলিল ॥ ইহা দেখি ছোড় খুড়ী বেড়াইয়া ধরিল। বাবু বাবু করি কান্দিতে লাগিল ॥ ২২ দুগ্ধের ছাবাল আমার কোন দোষ নাই। এই কথা বলিয়া খুড়ী যখন ধরিল। আতাই্ল্যা পাতাই্ল্যা কেবল কিলাইতে লাগিল ॥ :৫ কিল খাইয়া ছোড় খুড়ী দিশা নাইরে পায়। ঘুরাইয়া ঘুরাইয়া ধরে রাজচন্দ্রের পায়। ২৭ হস্তেয় বালক তার ফেলাইয়া দিল। আবার ফিরি খুড়ারে ঢোগাইতে লাগিল ॥ ২১ না পাইয়া মনের মধ্যে গোস্না যে হইয়া। বড় বড় আটচালাতে অগ্নি দিল লাগাইয়া ॥ ৩১ জঙ্গলে থাকিয়া চান্দায় নজর করি চায়। বড় ঘরে আগুন দেয় চৌধুরী এমন দেখা যায় ॥ ৩৩ চান্দায় বোলে খুড়ঠাকুর হুকুম দেও মোরে। দেখি রাজচন্দ্র কি করিতে পারে ॥ ৩৫ এই কথা রাজিন্দ্র খুড়ায় যখন শুনিল। চান্দার আগে কথা কহিতে লাগিল ॥ ৩৭ শুন শুন চান্দ ভাঁড়ালী কই তোমার ঠাঁই। আমিত এই অগ্নি দিয়াছি লাগাই ॥ ৩৯ ভাতিজার মনের কষ্ট যাউক পানি হইয়া। জায়গা জমিন না থাকিলে খাইব ভিক্ষা করিয়া ॥ ৪১ যদি পার সঁকেঁপেতে কায করিবার। মারামারির কিছু আর নাহিক দরকার ॥ ৪৩ এই কথা চান্দ ভাঁড়ালী যখন শুনিল। লুকির তাবিজ চান্দা মস্তকে বান্ধিল ॥ ৪৫ লুকি ধরি রাজচন্দ্রের পিছেতে আসিল। দুই চাইর কিল ঘেঙির পরে দিল ॥ ৪৭ কিল খাইয়া রাজচন্দ্র পিছের দিগে চায়। মানুষ গরু না দেখিয়া মনেতে ভাবয় ॥ ৪৯ ছাড়ার মধ্যে আসি বুঝি ভূতে কিলায়। মনের ডর পাইয়া চৌধুরী সেখান থেকে যায় ॥ ৫১ রাম ভাঁড়ালীর কাছে যাইয়া উপস্থিত হইল। দুইজনে বসি কথা কহিতে লাগিল ॥ ৫৩ ঝগড়া ফাচাদের আর কোন কায্য নাই। সক্ষেপে করিব কায্য কহিয়া বুঝাই ॥ ৫৫ চুপ করিয়া কতদিন থাক বসিয়া। রাজিন্দ্র খুড়ায় বসুক দরবারে আসিয়া ॥ ৫৭ এইকথা রাজচন্দ্র যখন শুনিল। রামার কথা প্রবোধ মানিল ॥ ৫৯ রঙ্গমালার দিঘি কাটার পালা সমাপ্ত। ইঙ্গা চৌধুরীর পালা ( ১ ) রাজচন্দ্রে বলে রাম কহি যে তোমারে। আর কিবা পরামীশ দিবা কহনা আমারে॥ ২ রামায় বোলে রাজচন্দ্র কই আমনের ঠাঁই। ইঙ্গা চৌধুরীর বাড়ী চলেন পরামীশের লাই॥ ৪ খুড়ার তুন ও বড় জমিদার ইঙ্গা চৌধুরী হয়। পরামীশের লাই চল যদি মনে লয়॥ ৬ চাইর আনি হিস্যা ১ তারে দিবা ছাড়িয়া। তোমার বাপের বাড়ীর জমিদারী লই দিব আনিয়া॥ ৮ এই কথা রাজচন্দ্র যখন শুনিল। রামার আগে কথা কহিতে লাগিল॥ ১০ রাজচন্দ্রে শুনি কথা বলে হয় রে হয়। তুমি যে কইছ কথা আমার মনে লয়॥ ১২ এইখান তুন দোনজনে কইরছে আগমন। বৈঠকখানা ঘরে যাই দিল দরশন॥ ১৪ রাজচন্দ্রে বোলে রাম কহিয়া বুঝাই তোরে। রঙ্গমালার কিরগা ২ আছে আমার উপরে॥ ১৬ আমার আগেতে যদি রঙ্গমালা মরে। করালে ৩ আবদ্ধ আছি কাষ্ঠ কইরতাম তারে॥ ১৮ এই কথা রাম ভাঁড়ালী যখন শুনিল। রঙ্গমালার ধড় যেইখানে দোনজনে সেইখানে উপস্থিত হইল॥ ২০ রাজচন্দ্রে বোলে রাম ঠাকুর আন তুমি। কাষ্ঠের আয়োজন করিতেছি আমি॥ ২২ এই কথা রাম ভাঁড়ালী যখন শুনিল। মাইজ দি ঠাকুরবাড়ী রওনা হইল॥ ২৪ ধীরে হাটে অনুগতে কইরছে আগমন। চন্দ্রনাথ ঠাকুরের বাড়ী দিল দরশন॥ ২৬ ঠাকুর বোলি রামায় যখন ডাক দিল। ঘরে থাকি চন্দ্রনাথ স্বর কাণে শুনিল॥ ২৮ তেড়ী বেড়ার কাছে আসি নজর করি চায়। রাজচন্দ্রের পেয়াদা রাম দেখিবারে পায়॥ ৩০ পূর্ব্বের কথা তার স্মরণ পড়িল। মনে মনে ঠাকুর ভাবিতে লাগিল॥ ৩২ বাড়ীর পশ্চিম দিগ দিয়া ধাইবার চেষ্টা করিল্য। বাড়ীত নাই বলিয়া ঠাকুরাণীরে কৈল॥ ৩৪ আবার ফিরি রাম্যায় যখন ডাক তারে দিল। বাড়ীত নাই ঠাকুরাণীয়ে মানা করিল॥ ৩৬ শুনি রাম ভাঁড়ালী বুঝিতে পারিল। বাড়ীর পশ্চিম দিগ দিয়া ঘূরিতে লাগিল॥ ৩৮ এইখানে ঠাকুর কোন্ কাম করিল। রামারে দেখিয়া ঠাকুর লুকাইয়া গেল॥ ৪০ রামায় দেখিয়া তারে চিনিতে পারিল। পথ আগুলি রাম ভাঁড়ালী খাড়া যে হইল॥ ৪২ এই ভাবে দুইজনে কতক্ষণ রইল। রামায় বলে ঠাকুর তোমার দশা ১ যে ঘনাইল॥ ৪৪ কাছে যাইয়া রাম ভাঁড়ালী ডাক দিয়া কয়। ভেঙ্গচা ধৈরাছ ১ ঠাকুর আমার মনে লয়॥ ৪৬ যাইবা কিনা যাইবা সত্য করি বল। যাইতে যদি হয় শীঘ্র করি চল॥ ৪৮ সে কথা শুনিয়া ঠাকুর উঠিয়া দাঁড়াইল। যাইতাম নয় বলিয়া ঠাকুর কহিতে লাগিল॥ ৫০ যেই কাষে আইসাছ মাপ কর মোরে। সমাজীরা ধৈরব মোরে প্রতি ঘরে ঘরে॥ ৫২ এই কথা রাম ভাঁড়ালী যখন শুনিল। লাপ দি পড়ি চন্দ্রনাথের গলায় কাপড় দিল॥ ৫৪ গুড়ুম গুড়ুম করি কেবল কিলাইতে লাগিল। চাইর কিলে ঠাকুরেৱে হোতাইয়া ফেলিল ২ ॥ ৫৬ যামু যামু বাপের ঠাকুর কই যে তোমারে। পায়ে ধরি তোমার মারিওনা মোরে॥ ৫৮ এই কথা বলিয়া ঠাকুর রওনা হইল। আপনা বাড়ীতে আসি দরশন দিল॥ ৬০ পাঁজি পাতা লইয়া ঠাকুর কৈরছে আগমন। রামার সঙ্গে বাবুপুৱে দিল দরশন॥ ৬২ এই খানে আসিয়া কোন্ কাম করিল। কাস্ট কিৱগার মন্ত্র ঠাকুর পড়াইয়া দিল॥ ৬৪ কাস্ট সমাধা করি আদায় হইল। রাজচন্দ্র রামার আগে কহিতে লাগিল॥ ২ শুন শুন রাজচন্দ্র তুমি আমার ভাই। ইঙ্গা চৌধুরীর বাড়ীত চল পরামীশের লাই ॥ ৪ যুক্তি করি দুইজনে কৈরছে আগমন। মাধব পাটনীর ঘাটে যাই দিল দরশন ॥ ৬ ধূয়া—যবুন। পার করি দেরে মাধব। মাধব পাটনীর ঘাট তারা পার হইয়া গেল। ইঙ্গা চৌধুরীর দরবারে যাই উপস্থিত হইল ॥ ৮ আলগে থাকি ইঙ্গা চৌধুরী নজর করি চায়। বাবুচন্দ্রের পুত্র দেখি কাছেতে বসায় ॥ ১০ কি জন্যে আসিয়াছ জিজ্ঞাসা করিল। খুড়ার হাল সমাচার সকলি কহিল ॥ ১২ এই কথা ইঙ্গা চৌধুরী যখন শুনিল। রাজচন্দ্রের আগে কথা কহিতে লাগিল ॥ ১৪ চাইর আনি হিস্যা মোরে দিবা লেখিয়া পড়িয়া। তোমার বাপের জমিদারি দিমু যে লইয়া ॥ .৬ আলগে থাকি ভেলুচন্দ্র নজর করি চায়। রাজচন্দ্রেরে পরামীশ দেয় এমন দেখা যায় ॥ ১৮ দাদা বুলি ভেলু কাছেতে আসিল। পরামীশ দিবার লাই মানা যে করিল ॥ ২. ইঙ্গায় বলে ভেলু তুমি জান না। রাজিন্দ্র খুড়ার ভাতিজা এই তুমি চিন না ॥ ২ চাইর আনি হিস্যা লইব লেখিয়া পড়িয়া। তার বাপের জমিদারি দিমু যে লইয়া ॥ ২৪ হিস্যার কার্য্য নাই দাদা হিস্যার কার্য্য নাই। আমরা বাঁচি থাইকলে বহুত জায়গা পাই ॥ ২৬ চান্দা বড় বীর দাদা চান্দা বড় বীর। একলা চান্দায় কাডে নয়শ মাইনষের শির ॥ ২৮ ইঙ্গা চৌধুরী বলে ভেলু হয় রে হয়। আমার কথা লুইনলে ১ মাথা তুই লত নয় ॥ ৩০ এই কথা ভেলু চৌধুরী যখনে শুনিল। ইঙ্গার আগে কথা কহিতে লাগিল ॥ ৩২ এক দিন পাঠাইছিলা মোরে টেকা কর্জ্জের লাই। লাডির ২ গুতা গড়ের পানি দিছেরে খাবাই ॥ ৩৪ যত মাইর মাইরছে মোরে কমু কার ঠাঁই। মারি ধরি আমারে দিছেরে ধাবাই ॥ ৩৬ এই কথা ইঙ্গা চৌধুরী যখনে শুনিল। অগ্নির হুলুকা যেন গর্জিয়া উঠিল ॥ ৩৮ আমনা ইচ্ছায় জমিদারি না দিলে ছাড়িয়া। বাবুপুরের মধ্যে অগ্নি দিমুরে লাগাইয়া ॥ ৪০ রাজচন্দ্রেরে তখন হুকুম করি দিল। খুড়ার কাছে যাইবারে কহিতে লাগিল ॥ ৪২ আমার কাযে আমি আছি তুমি যাও চলি। আমার বাপের জমিদারি দেও খুড়ার কাছে বলি ॥ ৪৪ এই কথার উত্তর জানাইবা আমারে। বুঝিয়া করিবা কাম জানাইবা অন্তরে ৩ ॥ ৪৬ ইহা শুনি রাজচন্দ্র রামারে লইয়া। আপনা বাড়ীর দিগে আসিল চলিয়া ॥ ২ এই খানে রাজিন্দ্র খুড়া কোন্ কাম করিল। চান্দার পরামীশ মত দরবারে বসিল ॥ ৪ আলগে থাকি রাজচন্দ্রে নজর করি চায়। খুড়। চান্দায় দরবারে দেখা যায় ॥ ৬ দরবারে যাইয়া রাজচন্দ্রে দরশন দিল। খুড়ার সামনে কথা কহিতে লাগিল ॥ ৮ শুন শুন রাজিন্দ্র খুড়া কই তোমার ঠাঁই। আমার বাপের জমিদারি দেওনা বুঝাই ॥ ১০ পাশা খেলাই আমার বাপে জমিদারি পাইল। সেই কালে রাজিন্দ্র খুড়ায় কোথায় আছিল ॥ ১২ উদয়চন্দ্র রাজকমল তাগরে ১ নিল যমে। ষোল আনা জমিদারি তুমি খুড়ার নামে ॥ ১৪ এত দিন খাইচ খুড়া পোলারে তাড়াইয়া। এখন কালে লইব আমি যোগরে ২ ঠেঙ্গাইয়া ॥ ১৬ তুমি কর জমিদারি আমি মাগি খাই। বুঝি চাইলাম রাজিন্দ্র খুড়ায় দয়া ধৰ্ম্ম নাই ॥ ১৮ এই কথা রাজিন্দ্র খুড়ায় যখন শুনিল। সাননের ৩ কাগজ তখন বাহির করি লইল ॥ ২০ ষোল আনা জমিদারি হিসাব করিল। সাত আনি অংশ সাননেতে পাইল ॥ ২২ তারপর সানন এক লিখিতে লাগিল। সাত আনি হিস্যা পিরথেক করিল ॥ ২৪ আল্গে থাকি চাদ ভাঁড়ালী নজর করি চায়। রাজচন্দ্রেরে দেয় হিস্যা এমন দেখা যায় ॥ ২৬ কাছে আসি চান্দ ভাঁড়ালী সানন হাতে লইল। মধ্যখান দি সানন চিরিয়া ফেলিল ॥ ২৮ শুন শুন রাজিন্দ্র খুড়া কই তোমার ঠাঁই। দম থাকিতে রাজচন্দ্রেরে হিস্যা দিব নাই॥ ৩০ আইজ দিবা জমিদারি লিখিয়া পড়িয়া। কাইল হারাইব চৌদ্ধী পীরিতে মজিয়া ॥ ৩২
-
-
-
- ।
-
-
-
-
-
- ॥ ৩৪ সাননের কাগজ যখন চিরিয়া ফেলাইল। ঝাপ দি পড়ি চান্দ ভাঁড়ালীর চুল চাবি ধরিল ॥ ৩৬ আমার বাপের জমিদারি দিব আমারে লিখিয়া। তুই কারে হারামজাদা ফেলাইলি চিরিয়া ॥ ৩৮ তিন চাইর কিল মারে তারে ঘেণ্ডুর উপর। খাড়াই রইছে চান্দ ভাঁড়ালী যেমন পাথর ॥ ৪০ খুড়ার ডরে রাজচন্দ্রেরে কিছু না কহিল। কিল খাইয়া চান্দ ভাঁড়ালী চুপ করিয়া রহিল ॥ ৪২ মার ধর রাজচন্দ্র মনে পাইয়া দুঃখ। আমার কথা মজা লাইগব যখন পাইব সুখ ॥ ৪৪ ( ৪ ) এই কথা এইখানে রহুক মঞ্জিয়া। ইছা চৌদ্ধীর কথা শুন মন দিয়া ॥ ২ এইখানে ইঙ্গা চৌত্রী কোন্ কাম করিল । ইঙ্গা চৌত্রী যুদ্ধের সাজসজ্জা করিল । ৪ এইখানে রাজচন্দ্র মনে রাগ পাইয়া । ইঙ্গা চৌত্রীর কাছে পত্র দিল পাঠাইয়া ॥ ৬ পত্র পাইয়া ইঙ্গা চৌত্রী কোন্ কাম করিল । রাজচন্দ্রেরে যাইবারে চিঠিতে লিখিল ॥ ৮ চিঠি পাইয়া রাজচন্দ্র সেইখানে গেল । সামনে বসাইয়া কথা কহিতে লাগিল ॥ ১০ চাইর আনি হিস্যা দিব বলি যে কাগজ হইল । রাজচন্দ্রের নিজের হাতের দস্তখত লইল ॥ ১২ কাছে আছিল চেনের কাগজ টান দিয়া লইল । রাজেন্দ্রের আগে পত্র লিখিতে লাগিল ॥ ১৪ রাজকমল উদয়চন্দ্র তাগরে নিল যমে । ষোল আনা জমিদারি রাজেন্দ্রের নামে ॥ ১৬ তুমি কর জমিদারি ভাতিজা মাগে । এই কীর্তি গেছে তোমার দেশে আর বৈদেশে ॥ ১৮ তার বাপের জমিদারি তারে না দেও কেন । পাইয়া পরের মাল বাপের তালুক জান ॥ ২০ তাৰ্জ্জিয়া গৰ্জ্জিয়া পত্রে দিল যে লিখিয়া । অনেক রকম তার অসন্মান করিয়া ॥ ২২ যদি তার জমিদারি না দেও ছাড়িয়া । বাবুপুরের জঙ্গলা কাডি দিমু ভাসাইয়া ॥ ২৪ লেখিয়া পড়িয়া পত্র ভরি দিল খাম । নীচে লিখিল ইঙ্গা চৌত্রীর নাম ॥ ২৬ পেয়াদা ডাকিয়া দিল হুকুম করিয়া। বাবুপুরে যাও তুমি পত্র লইয়া ॥ ২৮ পত্র লইয়া পেয়াদায় কৈরছে আগমন। সিন্দুবকাইত babupure দিল দরশন ॥ ৩০ আলেগ থাকি জান মোহাম্মদ নজর করি চায়। চান্দা খুড়া দুইজনে দরবারে দেখা যায় ॥ ৩২ পত্র নিয়া জান মোহাম্মদ খুড়ার হাতে দিল। কুলুপ খুলিয়া পত্র পড়িতে লাগিল ॥ ৩৪ পত্র পড়িয়া খুড়া ওয়াকিব হইল। চান্দারে ডাকিয়া খুড়া কহিতে লাগিল ॥ ৩৬ ধুয়া-কোথায় গেলিরে চান্দা বুদ্ধির পাথর। শুন শুন চান্দ ভাঁড়ালী কই তোমার ঠাঁই। আগুন লাগাইছে পাগলায় সদর ঘরে যাই ॥ ৩৮ এই কথা চান্দ ভাঁড়ালী যখন শুনিল। খুড়ার আগে কথা কহিতে লাগিল ॥ ৪০ যদি রাজিন্দ্র খুড়া হুকুম কর মোরে। ইহার কিছু অনুসন্ধান পারি করিবারে ॥ ৪২ এই কথা রাজিন্দ্র খুড়ায় যখন শুনিল। চান্দ ভাঁড়ালীর পরে সব ভার পোষা দিল ॥ ৪৪ তুমি জান তোমার কার্য্য আমি জানি না। আর এসব জ্বালা যন্ত্রনা সহ্য হয় না ॥ ৪৬ তার বাপের জমিদারি তারে দিতাম ছাড়িয়া। পারিনা আমি কেবল তোমার লাগিয়া ॥ ৪৮ শুন শুন অ খুড়া দোষ দিওনা মোরে। দেখ কিবা হয় প্রভুয়ে কি করে॥ ৫০ পত্র দিছে ইস্গা চৌধুরী যুদ্ধের লাগিয়া। বাঘের সামনে পানি যেমন যাইমু হইয়া॥ ৫২ তুমি একখান পত্র লিখ খুড়া ইস্গা চৌধুরীর কাছে। তোমার আমার মনোবাদের কি আবশ্যক আছে॥ ৫৪ তুমি মোছলমানের পুত্র আমি হিন্দুর ছেলে। বড় খুসী হই আমি দোস্তী মায়া হইলে॥ ৫৬ তার বাপের জমিদারি সে যাইব লইয়া। তোমার আমার যুদ্ধ হইব কিসের লাগিয়া॥ ৫৮ তোমার আমার মনোবাদে কোন কায্য নাই। দোস্ত বলি মনে করি তোমারে কহিলাম বুঝাই॥ ৬০ আমি আসিব কই তোমার ঠাঁই। পরামিশ করিব দোন দোস্তে তোমার বাড়ী যাই॥ ৬২ দোস্তীর কারণ পত্র দিল যে লেখিয়া। মঙ্গল সিং বোলাই পত্র দিল পাঠাইয়া॥ ৬৪ পত্র লইয়া মঙ্গল সিং কৈরছে আগমন। মাধব পাটনীর ঘাটে যাই দিল দরশন॥ ৬৬ ঘাট পার হই মঙ্গল হাটিয়া মেলা দিল। ইস্গা চৌধুরীর বাড়ী যাই দরশন দিল॥ ৬৮ পত্র নিয়া ইস্গা চৌধুরীর নিজ হাতে দিল। পত্র খুলি ইস্গা চৌধুরী পড়িতে লাগিল॥ ৭০ ধুয়া—অরে লিখন এসাছেরে ভেলু লিখন এসাছে। পত্র পড়ি ইস্গা চৌধুরী ওয়াকিব হইল। ভেলু চৌধুরী বোলাই কথা কহিতে লাগিল॥ ৭২ শুন চাই ভেলু চৌধুরী কই তোমার ঠাঁই। দোস্তীর কারণে পত্র দিয়াছে পাঠাই॥ ৭৪__ আমি হেন জমিদার ভাটীর বাঙ্গলায় নাই। কত জন আছে চলে আমারে ডরাই ॥ ৭৬ পত্র দিছি আমি যুদ্ধের লাগিয়া। (সে) দিন তারিখ করি দিছে দোস্তীর লাগিয়া ॥ ৭৮ দিন তারিখ করি দিছে আসিবেরে লাই। এইখানে আসিয়া হিস্যা দিবরে বুঝাই ॥ ৮০ এই কথা ভেলু চৌধুরী যখনে শুনিল। কচর করি ভেলু চৌধ্রীর পেডে কামড় দিল ॥ ৮২ শুন শুন বড় দাদা কই তোমার ঠাঁই। আগে দোস্তী পাছে কোস্তী ১ দিবরে লাগাই ॥ ৮৪ ঈসায় বোলে ভেলু কই তোমার ঠাঁই। সেই কারণে তোমার কোন চিন্তা নাই ॥ ৮৬ এইখানে ঈসা চৌধুরী কোন্ কাম করিল। থানার সামগ্রী তৈয়ার করিতে লাগিল ॥ ৮৮ আসিবার দিন তারিখ মত তৈয়ার করিল। স্থানে স্থানে পাডা খাঁসী বান্ধিয়া রাখিল ॥ ৯০ ( ৫ ) এইখানে এই কথা রহুক মঞ্জিয়া। চান্দা খুড়ার কথা শুন মন দিয়া ॥ ২ শুনেন্ শুনেন্ রাজিন্দ্র খুড়া কই আপ্নের ঠাঁই। তারিখ উপস্থিত হইল চলেন মোরা ঈসার বাড়ীত যাই। ৪ লোকজন লইয়া খুড়ায় তৈয়ার হইল। বন্ধু তরে সামগ্রী সঙ্গেতে লইল ॥ ৬ পাল্কিত চড়ি রাজিন্দ্র খুড়া বন্ধুর বাড়ীত চৈল্যা। অষ্টজন বেরা আসি পাল্কি কান্ধে লইল॥ ৮ এইখান তুন রাজিন্দ্র খুড়ায় কৈরছে আগমন। মাধব পাটনীর ঘাটে যাই দিল দরশন ॥ ১০ ধূয়া—যমুনা পার করি দেরে মাধব, যমুনা পার করি দে। মাধব পাটনী মাধব পাটনী বোল্লাইতে লাগিল। নৌকায় থাকি মাধব পাটনী নজর করিল॥ ১২ পাল্কির কাছে আসি মাধব বকসীষ চাহিল। পাঁচশ টেকা রাজিন্দ্র খুড়া পাটনীর হাতে দিল॥ ৪ বকসীষ পাইয়া মাধব পাটনী বড় খুসী হইল। পালকি সহ রাজিন্দ্র খুড়ায় নৌকাতে তুলিল॥ ১৬ বাও বাও করি ডিঙ্গা বাইতে লাগিল। নদীর মধ্যখানে যাই উপস্থিত হইল॥ ১৮ বালুচরে যাইয়া নৌকা আট্কিয়া রহিল। তা দেখি মাধব পাটনী ভাবিতে লাগিল॥ ২০ কি করিবে মাধব পাটনী মনে ভাবি সার। নৌকা চলিব ফিরি আসিলে জোয়ার॥ ২২ চান্দায় বোলে মাধব পাটনী কি ভাবিতেছ তুমি। ইহার অনুসন্ধান ১ কিছু করি দিব আমি॥ ২৪ এই কথা মাধব পাটনী যখনে শুনিল। বিনয় বচনে কথা কহিতে লাগিল॥ ২৬ কি করিব নৌকা চরেতে আট্কিল। এই কথা চাঁদ তাড়ালী যখনে শুনিল ॥ ২৮ জয়কালীর নাম লইয়া নদীতে নামিল। নৌকার গোলইর১ কিনার ধরি এক ঠেলা দিল ॥ ৩০ একই ঠেলায় নৌকা সেই পারে গেল। ইহা দেখি মাধব পাটনী তাজ্জব হইল ॥ ৩২ দেওর২ মতন চান্দায় যখন ঠেলা দিল। পানিতে নামাইবার নৌকা যো না রহিল ॥ ৩৪ সেখান তুন বেরাগণে সোয়ারী কান্দে লইল। মাধব পাটনী আসি চান্দার পায়েতে পড়িল ॥ ৩৬ তোমরা যাইবা নিমন্ত্রণায় আমার উপায় কি। শুকুনা’তে রইল নৌকা নামাই দিবা নি ॥ ৩৮ এই কথা চান্দ ভাঁড়ালী যখনে শুনিল। গোলই ধরি নৌকাখান জলে নামাই দিল ॥ ৪০ এইখান তুন লোকজন লই কৈরছে আগমন। ইঙ্গা চৌধুরীর আগ-দরজায় দিল দরশন ॥ ৪২ একখান পাল্কিতে ইঙ্গা চৌধুরী উঠিল। অষ্টজন বেরা আসি সোয়ারী কান্ধে লইল ॥ ৪৪ বন্ধুরে আউগাইত বুলি৩ আগবাাড়ানী দিল৪। দোন বন্ধু দেখাশুনা ছেলাম আদাব হইল ॥ ৪৬ পাল্কি লইয়া বন্ধুরে বাড়ীত আমিল। বসিবার তরে ভাল জায়গা দিল ॥ ৪৮ যার যেমন নিয়মত বসিবারে দিল। তার বাদে খানার আয়োজন করিতে লাগিল ॥ ৫০_ পোলাউ কোরম তৈয়ার করিল। পাঠাখাসী বহুত মারিল॥ ৫২ (৬) এইখানে এই কথা রহুক মঞ্জিয়া। চান্দ ভাঁড়ালী লই কথা শুন মন দিয়া॥ ২ চান্দায় বলে আমি বসি রইলাম কেন। এমন সময় আমি করি অনুসন্ধান॥ ৪ এই মতে চান্দ ভাঁড়ালী কোন্ কাম করিল। বাড়ীর চৌতুরদিগে হাটিতে লাগিল॥ ৬ চারিদিগে ছাদ দেওয়াল ঢুকবার সাধ্য নাই। এক দুয়ারী পথ রাইখছে দেখিবারে পাই॥ ৮ চৌতুরদিগে রণগড় দেখিবারে পায়। কার বাপের সাধ্য আছে রণগড় পারই যায়॥ ১০ হেকমচ্যা চান্দ ভাঁড়ালী হেকমত করিল। কান্ধে আছিল জল গামছা পরিধান করিল॥ ১২ গামছা পিন্ধি চান্দ ভাঁড়ালী রণগড়ে নামিল। এই পারে হেই পারে মাপ দিয়া চাইল॥ ১৪ মাপিয়া চান্দ ভাঁড়ালী যখন চাইল। ষাইট হাত লম্পা গড় মনেতে রাখিল॥ ১৬ এইখান তুন চান্দ ভাঁড়ালী কৈরছে আগমন। খুড়ার কাছে যাই দিল দরশন॥ ১৮ খানাপিনা যাই সমাধা করিল। ইঙ্গা চৌধুরী বোলাই খুড়া যুক্তিকরণ লইল॥ ২০ কি জন্মেতে রাগ হইয়াছেন আমার উপরে। তার বাপের জমিদারি দি ফালামু তারে ॥ ২২ এই কথা ইঙ্গা চৌধুরী যখন শুনিল। ‘বাড়ীত যাইয়া সানন খুলি, দিমু হিস্যা’ বুঝাইয়া দিল ॥ ২৪ (আচ্ছা) আমি আপনার বাড়ীত গেলাম যে বেড়াই। আম্নে কবে যাইবেন আমার বাড়ী কহেন না বুঝাই ॥ ২৬ এই কথা ইঙ্গা চৌধুরী যখন শুনিল। হাসিয়া হাসিয়া কথা কহিতে লাগিল ॥ ২৮ এক মাসের পরে আমি যাইব চলিয়া। কিন্তু জমিদারি আম্নে দিবেন হিস্যা যে করিয়া ॥ ৩০ এই কথা রাজিন্দ্র খুড়ায় স্বীকার করিল। দেশে যাইবার তরে বিদায় চাইল ॥ ৩২ শুনিয়া ইঙ্গা চৌধুরী বিদায় করি দিল। কায্য সাধন হইছে বুলি মনেতে জানিল ॥ ৩৪ এইখান তুন রাজিন্দ্র খুড়ায় কৈরছে আগমন। মাধব পাটনীর ঘাটে যাই দিল দরশন ॥ ৩৬ ঘাটে পার হই খুড়া বাড়ীত চলি গেল। চান্দ ভাঁড়ালীর কথা তখন স্মরণ পড়িল ॥ ৩৮ হেকমচ্যা চান্দ ভাঁড়ালী কোন্ কাম করিল। বাঞ্ছারাম বাড়ুইর বাড়ীত যাই দরশন দিল ॥ ৪০ বাঞ্ছারাম বাঞ্ছারাম যখন ডাক দিল। চান্দ ভাঁড়ালীর কাছে আসি হাজির হইল ॥ ৪২ শুন শুন চান্দ ভাঁড়ালী কই তোমার ঠাঁই। আমার কাছে আইছ তুমি কিয়ের লাই॥ ৪৪ তোমার কাছে আইছি আমি একটা চঙ্গা বানাইতাম চাই। যাইটু-হাতী একখান চঙ্গা দিবা বানাই। উচিতমত পুরস্কার দিমু কহিলাম বুঝাই॥ ৪৭ এই কথা বাঞ্ছারাম যখনে শুনিল। চান্দ ভাঁড়ালীর আগে কথা কহিতে লাগিল॥ ৪৯ যাইটু-হাতো চঙ্গা দিয়া কি কাম করিবা। নাকি দাদা তুমি হাতীর হাল যোড়াইবা॥ ৫১ মাতিচ্ না মাতিচ্ না বাঞ্ছা কই তোমার ঠাঁই। গোপ্ত কথা আছে আমার কহিলাম বুঝাই॥ ৫৩ বাঞ্ছায় বোলে দাদা ঠাকুর কই আম্নের ঠাঁই। কিবা গোপ্ত কথা আমি শুনিবারে চাই॥ ৫৫ এই কথা চান্দ ভাঁড়ালী যখনে শুনিল। বাঞ্ছারামের আগে কথা কহিতে লাগিল॥ ৫৭ যদি কারো কাছে তুমি গোপ্ত কথা না কইবা। তবে গোপ্ত কথা আমার শুইতে না পাইবা॥ ৫৯ যদি বাবু কারো কাছে এই কথা কইবা। স্ত্রীপুত্র সবার পরাণ হারাইবা॥ ৬১ কৈতাম নয় কৈতাম নয় বুলি বাঞ্ছায় কিরগা যে কাড়িল। তবে বাঞ্ছারামের আগে কথা ভাঙ্গিয়া কহিল॥ ৬৩ ইঙ্গা চৌধুরীর লগে যুদ্ধ দিমু যে লাগাইয়া। এই চঙ্গা দিয়া পথ করুম বাড়ীর পিছন দিয়া॥ ৬৫ যদি বাড়ীর মধ্যে যুদ্ধ দি লাগাইয়া। এক দুয়ারগা পথ তার দিমু দুই পথ করিয়া ॥ ৬৭ এইদিগে মাইর লাইগলে ঐদিগে দি যাইব। ঐদিগে দি মাইর লাইগলে এই দিগে দি ধাইব ॥ ৬৯ এই কথা বাঞ্ছারামে যখন শুনিল। চান্দারে লইয়া তখন বাঁশ মুড়াতে গেল ॥ ৭১ মধ্যখানের বাঁশ ধরিয়া কাটিতে লাগিল। বাঁশ ধরিয়া বাঞ্ছারাম টানাটানি লইল ॥ ৭৩ আল্গে থাকি চান্দ ভাঁড়ালী নজর করি চায়। টানাটানি করে বাঞ্ছায় এমন দেখা যায় ॥ ৭৫ আঁজা ১ করি বাঁশের মুড়া একত্রে ধরিল। গোড়াসহ মুড়াসহ উপাড়িয়া দিল ॥ ৭৭ আল্গে থাকি বাঞ্ছারাম নজর করি চায়। মুড়াসহ তুইলেছে বাঁশ এমন দেখা যায় ॥ ৭৯ কি করিলা দাদাঠাকুর কই তোমার ঠাঁই। এই বাঁশ-মুড়ার গতিকে ২ মোরা বাল-বাচ্চা বাঁচাই ॥ ৮১ মুড়াসহ তুইলো বাঁশ যাইব শুখাইয়া। ক্রমে ক্রমে কাইটূতাম বাঁশ খাইতাম বসিয়া ॥ ৮৩ এইকথা চান্দ ভাঁড়ালী যখন শুনিল। বাঞ্ছারামের আগে কথা কহিতে লাগিল ॥ ৮৫ ইন্দ্রা চৌদ্ধীর বাড়ীত হইতে যামু যেদিন যুদ্ধ জিনিয়া। ধন কড়ি দিয়া যামু বক্সীষ বলিয়া ॥ ৮৭ শুনি বাঞ্ছারাম বড় খুসী হইল। যাইটু হাত মাপি বাঁশ বাড়ীত লইয়া গেল। ঘরের পিছে নিয়া চঙ্গায় কুন্দিতে লাগিল ॥ ৯০ এই স্থানে এই কথা রহুক মঞ্জিয়া। রামধনার কথা কিছু শুন্ মন দিয়া ॥ ২ বাঞ্ছারামের ছোট ভাই রামধনা হয়। ইঙ্গা চৌধুরীর বাড়ীত সে চাকরী করয় ॥ ৪ সেই রাত্রে রামধনা বাড়ীত আইল। খানা খাই রামধনা শুইয়া রহিল ॥ ৬ ঘরের পিছে বাঞ্ছারাম চঙ্গা কুন্দন লইল। রামধনার কাণেতে আবাজ শুনিল ॥ ৮ রামধনায় বলে বড় বিবি কই তোমার ঠাঁই। ঘরের পিছে বাঁশের কোব শুনি কিসের লাই ॥ ১০ এই কথা বউ ঠাকুরান যখন শুনিল। রামধনার আগে কথা কহিতে লাগিল ॥ ১২ ঘরের পিছে আমগাছ গেছে শুকাইয়া। কুড়াইলা পৈখে মারে ঠোকর কহিলাম বুঝাইয়া ॥ ১৪ এই কথা রামধনায় যখন শুনিল। বাড়ইয়ার পুতু ধনা বুঝিতে পারিল ॥ ১৬ বাইশের কোব আর পৈখের কোব বুঝিতে পারিয়া।
-
-
-
- যাইব আমি কহিলাম বুঝাইয়া ॥ ১৮ গড়ু হস্তে রামধনা বাহির হইল। আস্তে আস্তে রামধনা ঘরের পিছে গেল ॥ ২০ আল্গে থাকি রামধনায় নজর করি চায়। চঙ্গা কুন্দে বাঞ্ছারাম এমন দেখা যায় ॥ ২ পিছের কিনারা দি’ রামধনায় যাইয়া খাড়া হইল। আস্তে আস্তে রামধনা ঘরের পিছে গেল॥ ২৪ আলগে থাকি রামধনায় নজর করি চায়। চঙ্গা কুন্দে বাঞ্ছারাম এমন দেখা যায়॥ ২৬ পিছের কিনার দি রামধনায় যাইয়া খাড়া হইল। দাদা বুলি বাঞ্ছারামে জিজ্ঞাসা করিল॥ ২৮ রাত্রে বসি চঙ্গা কুন্দ বল কিসের লাই। এত বড় চঙ্গা তুমি বানাও কার লাই॥ ৩০ এই কথা বাঞ্ছারাম যখনে শুনিল। মাতিচ না মাতিচ না ১ রামধনা কহিতে লাগিল॥ ৩২ তুমি যাও তোমার কাজে ঘরেতে চলিয়া। কি লাভ হইবে তোমার এই কথা শুনিয়া॥ ৩৪ এই কথা রামধনায় যখনে শুনিল। এড়াই বেড়াঁই বাঞ্ছারামেরে ঠাইন্যায়া ধরিল॥ ৩৬ কহ কহ বড় দাদা আমারে ভাঙ্গিয়া। এই চঙ্গা কুন্দ তুমি কিসের লাগিয়া॥ ৩৮ শুন শুন রামধনা কইয়া বুঝাই তোরে। এই কথা যে কহিব সেইজন মরে॥ ৪০ তুইও মৈরবি আমারে মাইরবি কই তোমার ঠাঁই। সেই কথার প্রয়োজন তোমার কিছু নাই॥ ৪২ এই কথা রামধনায় যখন শুনিল। বাঞ্ছারামের আগে কথা কহিতে লাগিল॥ ৪৪ হেকমচ্যা রামধন্যা হেক্মতে কহিল। চঙ্গার কথা কইলে মানুষ মরে, কোন জায়গায় কহিল। ৪৬ রামধনায় বলে আমি এই নাম রাখিব। চঙ্গার কথা আমি বাঞ্ছার তুন লইব ॥ ৪৮ আচ্ছো আমি শুইন্যলে আমি সে মরিব। আমার মরণের পর আর না শুনিব ॥ ৫০ এই কথা বাঞ্ছারামে যখনে শুনিল। ঠেকাঠ্যাকি ১ লাইগছে কথা কহিতে লাগিল ॥ ৫২ রাজিন্দ্রের লগে যুদ্ধ ইস্পা চৌধুরীর হইব। এই চঙ্গা দিয়া গড় পার হইব ॥ ৫৪ এই কথা কারো কাছে না কহিবা তুমি। কন্তু কইলে কথা মারা যাইব আমি ॥ ৫৬ এই কথা রামধনায় যখনে শুনিল। ঘরেতে আসিয়া ধনায় বুদ্ধি-করণ লইল ॥ ৫৮ যার মুণ খাই আমি তার গুণ গাই। এই কথা কমু আমি ইস্পার বাড়ীত যাই ॥ ৬০ রাত্রি পোসা রাত্রি পোসা ঘন ডাক দিল। হেনকালে কাইলানী রাত্রি প্রভাত হইল ॥৬২ খানা পিনা না খাইয়া হাডিয়া মেলা দিল। ইষ্পা চৌধুরীর কাছে যাই দরশন দিল ॥ ৬৪ শুনেন শুনেন চৌধুরী সাহেব কই আমনের ঠাঁই। একখান কথা কইতে আমার পরাণে ডরাই ॥ ৬৬ সুখের খানা খাও চৌধুরী সুখের নিদ্রা যাও। রাজ্যের মধ্যে হুলুস্থুলী বাত্তা নাহি পাও ॥ ৬৮ ধূয়া—তোমার মুল্লকে লাগিল আবাজ, রাজা ছাড়া হইলরে মহারাজ। রাজিন্দ্র বুড়ার সনে দোস্তী দিহ লাগাইয়া। দোস্তীর মধ্যে কোস্তী লাইগব কহিলাম ভাঙ্গিয়া ॥ ৭০ ইহার কিছু অনুসন্ধান পাইয়াছি আমি। আঁধাইরগা গুঁতা দিব চৌধুরী হুসিয়ার হইও তুমি ॥ ৭০ এই কথা ইস্পা চৌধুরী যখন শুনিল। রামধনীর আগে কথা কহিতে লাগিল ॥ ৭৪ ছোটমুখে বড় কথা কইলি কিসের লাই। তুই শালা আইছত বন্ধের দোস্তী ভাইঙ্গবার লাই ॥ ৭৬ পা’রতুন জুতা খুলি মারিতে লাগিল। মাইর খাইয়া রামধনী কাঁদিতে লাগিল ॥ ৭৮ রাজা হইয়া রাজ্যের বিচার যে না করে। তাহার রাজ্য যায় চাড়েখাড়ে ॥ ৮০ আমি আইলাম সংবাদ দিতাম, মাইর খাইলাম, মনে হইল দুখ। আচ্ছা ইস্পা চৌধুরী তোমার হউক মনে সুখ ॥ ৮২ হিতে বিপরীত বুঝে যেই জন। তাহার মঙ্গল নাই হয় কদাচন ॥ ৮৪ কান্দি কাডি রামধনা চুপ করিয়া লইল। আপনা কাজেতে যাই মকরা হইল ॥ ৮৬ এইস্থানে এই কথা রহুক মঞ্জিয়া। চান্দ ভাঁড়ালী কথা লই শুন মন দিয়া ॥ ২ সাতদিন পরে চান্দায় বাঞ্ছারামের বাড়ীত আইল। হৈছেনি চঙ্গা বানান জিজ্ঞাসা করিল ॥ ৪ হইছে বুলি বান্ধারামে চঙ্গা দেখাই দিল । কান্দের পর চান্দ ভাঁড়ালী চঙ্গা তুলি লইল ॥ ৬ চঙ্গা লইয়া চান্দ ভাঁড়ালী কৈরছে আগমন। আপনা বাড়ীত যাই দিল দরশন ॥ ৮ আপনা সাজনে চান্দা সাজিতে লাগিল। যত ছিল ঢাল তরোয়াল পৃষ্ঠেতে বাঁধিল ॥ ১০ রাজিন্দ্র খুড়ার আগে যাই বিদায় লইল। দোয়া কর চান্দা যুদ্ধেতে চলিল ॥ ১২ যখনে চান্দ ভাঁড়ালী জানাইল ছেলাম। আশীর্বাদ করিল খুড়া পড়িয়া কলাম’। ১৪ সাজি পড়ি চান্দ ভাঁড়ালী কপালে দিল ফোঁটা। আচম্বিতে খাড়া হইল জয়কালীর বেটা ॥ ১৬ একদমে কালীর নাম হাজার বার লইল। চঙ্গা কান্ধে করি চান্দায় যাত্রা করিল ॥ ১৮ এখান তুন চান্দ ভাঁড়ালী কৈরছে আগমন। মাধব পাটনীর ঘাটে যাই দিল দরশন ॥ ২০ রাত্রি নিশিকান্তে সেইখানে গেল। ঘাটে নাই মাধব পাটনী দেখিতে পাইল ॥ ২২ কি করিব চান্দ ভাঁড়ালী মনেতে ভাবিল। কালীর নাম লইয়া চান্দায় নদীতে নামিল ॥ ২৪ জলহাছুরী ২ সেই পারে গেল। নিশিরাত্রে যাইয়া ইজার বাড়ীতে উঠিল ॥ ২৬ এক দুই সাত দেউড়ী মারিয়া ফালাইল। বাড়ীর মধ্যে বড় গণ্ডগোল হইল ॥ ২৮ ঘরের বাহির হইয়া ইন্দ্রায় নজর করি চায়। চান্দ ভাঁড়ালী কাড়ে সৈন্য এমন দেখা যায়॥ ৩০ সাজিয়া ইন্দ্রা চৌধুরী বাহির হইল। মনে ভাবি চান্দ ভাঁড়ালী ফালাইয়া গেল॥ ৩২ দরজায় আসিয়া চান্দায় বুদ্ধি করিল। চঙ্গাখান লইয়া চান্দায় পিছন দিয়া গেল॥ ৩৪ এই পারে সেই পারে গড়ের চঙ্গা ফেলাই দিল। দুই দিগে দুই পথ করিয়া লইল॥ ৩৬ আচম্বিতে রণ খেউড়ে আসিয়া পড়িল। ইন্দ্রা চৌধুরীর লগে যুদ্ধ লাগাই দিল॥ ৩৮ সিংহে আর বাঘে যেন করে গড়াগড়ি। চারিদিগে সৈন্য সেনা করে দৌড়াদৌড়ি॥ ৪০ এমন যুদ্ধ কভু আর শুনি নাই। আঁধাইরগা রাইত, করে কাড়াকাডি, চিন পরিচয় নাই॥ ৪২ এউগারে তুলি মারে অরে এউগার গায়। ছোটু মোটু পাইলে চান্দায় হাল্লাইয়া ১ ফেলায়॥ ৪৪ কিরিচে কিরিচে করে খান খান। কিরিচ হইল যেন করাতের সমান ॥ ৪৬ কিরিচ এড়িয়া দোন বাহুযুদ্ধ করে। দুইদিগে সমান সমান কেহ নাহি হারে॥ ৪৮ ছাড়ি দিয়া চান্দ ভাঁড়ালী তীর হাতে লইল। তীরে তীরে দুইজনে লড়িতে লাগিল॥ ৫০ বাঁ দিগ দিয়া চান্দ ভাঁড়ালী ডাইন দিগে যায়। এমন সময় মারে তীর ইন্দ্রা চৌধুরীর গায়॥ ৫২ বুকেতে লাগিয়া তীর পৃষ্ঠে পার হইল। গোছ করি ১ ইস্তায় ঢুলিয়া পড়িল ॥ ৫৪ আলগে থাকি ভেলু চৌধুরী নজর করি চায়। বড় ভাই মারা যায় এমন দেখা যায় ॥ ৫৬ ছিলা ডাকে ২ ভেলু চৌধুরী রণ খেড়ে ৩ নামিল। চান্দ ভাঁড়ালীর লগে যুদ্ধ লাগাইয়া দিল ॥ ৫৮ পোলা মইন্য ভেলু চৌধুরী যুদ্ধ জানে কি। হোতাইয়া ফেলাইল চান্দায় তিন কান ৪ দি ॥ ৬০ আলগে আলগে চান্দ ভাঁড়ালী কিরিচ ভাজন লইল। ভেলু চৌধুরীর মাথা কাডি দুই খান করিল ॥ ৬২ ঘরে ছিল মোহাম্মদ রাজা নজর করি চায়। দুই ভাই মারা গেছে এমন দেখা যায় ॥ ৬৪ ধনের ডরে মোহাম্মদ রাজা পলাইয়া গেল। ঘরে থাকি তিন বিবি যুদ্ধ করন লইল ॥ ৬৬ ( ৯ ) হিরা বিবি মুছা বিবি তিন বিবি আর। তারা তিনজনে যুক্তি করি বুদ্ধি কইরলেন সার ॥ ২ তিনজনে তিন কিরিচ টান দিয়া লইল। চান্দ ভাঁড়ালীর লগে যুদ্ধ লাগাইয়া দিল ॥ ৪ হিরা বিবি মারে কিরিচ চান্দ ভাঁড়ালীর গায়। লোহার জামা কাডি চান্দরে চাইল আঙ্গুল বসায় ॥ ৬ তিন দিগে তিনজন যুদ্ধ করন লইল। মধ্যে পড়ি চান্দ ভাঁড়ালী ভাবিতে লাগিল ॥ ৮ মহম্মদ রেজা ও সৈনাদল—৪৩৮ পৃঃ This page is blank and contains no text content to transcribe._ রণে ভঙ্গ দিয়া চান্দায় উড়গা লড় দিল। আাগ দরজার পরে যাই দরশন দিল ॥ ১০ জয় কালী জয় কালী বোলাইতে লাগিল। হেনকালে জয়কালী সাক্ষাতে আসিল ॥ ১২ অধম্ম চান্দা তোর ধম্ম নাই মনে। কেন যুদ্ধ কর তুমি নারীদের সনে ॥ ১৪ আইজগের যুদ্ধে তুমি পরাজয় হইবা। নারীদের সঙ্গে যুদ্ধ আর না করিবা ॥ ১৬ অবলা নারীগণ পড়িয়া পেচেতে১। জব্দ হইব কেন তোমার হাতেতে ॥ ১৮ ধৰ্ম্মেতে কৰ্ম্ম হয় জানে সর্ব্বলোকে। অধৰ্ম্ম করিলে সে যাইব নরকে ॥ ২০ আইজগার রণে তুমি যাও ক্ষেমা দিয়া। যদি নাহি যাও তুমি আমার কথা শুনিয়া ॥ ২২ এই কথা চান্দ ভাঁড়ালী যখন শুনিল। বিনয় বচনে কথা কহিতে লাগিল ॥ ২৪ মায়ালোকের হাতে মাগো লজ্জা পাইলাম আমি। আইজগার সমরে মাগো উদ্ধার কর তুমি ॥ ২৬ এই কথা জয়কালী যখন শুনিল। তেক্ত২ হইয়া জয়কালী চলিয়া গেল ॥ ২৮ এইখানে তিন বিবি কোন কাম করিল। চান্দা কই চান্দা কই টোগাইতে লাগিল ॥ ৩০ বেধৰ্ম্মিয়া চান্দ ভাঁড়ালী ধম্ম নাহি তার মনে। আবার ফিরি যুদ্ধ কর নারীগণের সনে ॥ ৩২ আল্গে থাকি চান্দ ভাঁড়ালী তীর মারণ লইল। এক তীর হীরা বিবির ঘেঙিতে লাগিল ॥ ৩৪ বিষাক্ত তীর যখন গায়েতে লাগিল। গেছি গেছি করি হীরা ঢুলিয়া পড়িল ॥ ৩৬ ইহাতে ছোট বিবি কোন্ কাম করিল। আল্লার নাম লইয়া বিবি রণ-খেউড়ে নামিল ॥ ৩৮ বড় ভাসুর ছোট ভাসুর গেছে মারা, মারা গেছে জাল ১। নুর বিবি বোলে আল্লা ঘটাইলে জঞ্জাল ॥ ৪০ জীবনের নাই সাধ বাঁচিয়া যে আমি। মারা গেল তিন জন পলাই গেল স্বামী ॥ ৪২ দুইহাতে দুই কিরিচ টান দিয়া লইল। চান্দ ভাঁড়ালীর লগে যুদ্ধ লাগাইয়া দিল ॥ ৪৪ ডান হাতে বাম হাতে মারিতে লাগিল। যুদ্ধ দেখি চান্দ ভাঁড়ালী মনে ডর পাইল ॥ ৪৬ মনে মনে চান্দ ভাঁড়ালী ভাবিতে লাগিল। বিপক্ষে বুঝি মোর জয়কালী আইল। ৪৮ এইকথা বলিয়া চান্দায় পলাইয়া গেল। কতদূরা আসি চান্দায় দরশন দিল ॥ ৫০ আর না যাইব আমি নারীদের কাছে। মনের সাধনত আমার পূর্ণ হইয়াছে ॥ ৫২ সমাপ্ত