মনজুর মা

পূর্ববঙ্গ গীতিকা - তৃতীয় খন্ড - দীনেশ চন্দ্র সেন

‘মঞ্জুর মা’র পালা কানির-বাড়ীর ১ মণির ওঝা রে ওঝা আরে কিনা মন্ত্র জানে। ( ১ ) কালনাগে দংশিলে ২ বিষ রে ঝাড়্যা ৩ ভালা উথানালে ৪ আনে॥ গাড়ুরী মন্তর ৫ জানে রে আরে ভালা কিবা মন্ত্রের ধারা ৬। পল ৭ পাত্যা ৮ আণ্যা ৯ pani রে ওরে ওঝা দেয় জল ঝাড়া॥ ৬ এমন কাইরতের ১০ মন্ত্র রে আরে ভালা আচানক ১১ তামাসা। মরা মানুষ উঠ্যা খাড়য় রে ১২ আরে ওঝা না নেয় পয়সা॥ ১০ ভাত না ছুঁয় পাণি না ছুঁয় রে আরে ভালা না ছুঁয় শুয়া পান। বিনা পয়সায় করে করম রে আরে ভালা ওস্তাদের জবান ॥ ১৪ সাত মাসের সাপের ডোকা রে আরে ভালা সেই না মন্ত্রগুণে। পরাণে বাঁচিয়া উঠে রে আরে ভালা, খাড়া হয় জমীনে ॥ ১৮ যেই না মরা ভালা না হয় রে হায়দুন ভালা সেও কয় কথা। দেবংশী মন্ত্রের গুণ রে আরে ভালা না হয় অন্যথা ॥ ২২ আসমান জমীনের মধ্যে আরে ভালা চাইর কোণা পিরথিবী। এমন কাইরতের ওঝা রে আরে ভালা আর নাই সে দেখি ॥ ২৬ দেশ দেশে রাজ্যে রাজ্যে রে আরে ভালা বদনাম হইল তার। ওঝারে তালাশ্যা মানুষ রে হায়দুন ভালা যায় সাত সমুদ্রের পার ॥ ৩০ বিয়া সাদি না করিল রে আরে ওঝা থাকয়ে একেলা। স্তরি জাতি নষ্ট জাতি রে আরে ভালা নারীর মুখ না দেখিলা॥ ৩৪ (২) ইটা নাই ভিটা নাই রে আরে ভালা গাঙ্গের পার ঘর। তার মধ্যে বিরাজ করে রে হায়দুন ভালা জামালদি ফকির॥ ৪ দুধের ছাওয়াল কন্যা রে হায়দুন ভালা দুঃখের কাহিনী। মর্যা গেল মা জননী রে কন্যা আরে জনম দুঃখিনী॥ ৮ দুঃখিতা জামালদি ফকির রে আরে ফকির কন্যা কোলে লইয়া। দিবানিশি কান্দে ফকির রে আরে দুঃখু বিরলে বসিয়া॥ ১২ একদিন তনা চলাল ফকির রে আরে ফকির গাঙ্গের পার দিয়া। আজলে আছিল দুঃখু রে আরে দুঃখু গেল কালুনী ডংশিয়া॥ ১৬ কালুনীর গরল বিষ রে আরে বিষ উদ্বানাল ধায়। পলকে পায়ের বিষ রে আরে দুঃখু উঠিল মাথায় ॥ ২০ ভালা আতা ১ ফকির রে আরে ফকির পড়িল জমীনে। দম দুরুদ নাই রে ২ আরে দুঃখু কইবাম কোনখানে ॥ ২৪ সাতে পাঁচে ধরাধরি রে আরে ভালা আনিল বাড়ীতে। শতে বিশতে ৩ ওঝা রে আরে ভালা আসিল ঝাড়িতে ॥ ২৮ ঝাড়িতে ঝাড়িতে সব রে হায়দুন ভালা পাইল পরাব ৪ । মণির ওঝার তখন রে আরে ভালা হইল বড় খিতাব ৫ ॥ ৩২ পাঁচ জন চলিল রে আরে ভালা ওঝারে আনিতে। ওঝারে লইয়া আইল রে আরে ভালা চউখের পলকে ॥ ৩৬ চালুন ঝাড়া পলা ঝাড়া রে আরে ভালা যত ঝাড়া জানে। গাড়ুরী মন্তর যত রে ওঝা আরে ঝাড়ল একমনে ॥ ৪০ আজলে যে লেখা আছিল রে আরে ভাইরে কে ফিরাইতে পারে। পরাণী ত্যজিল ফকির রে আরে দুঃখু, কালুনীর জহরে ॥ ৪৪ মর‍্যা ১ ত গেছে না ফকির রে আরে দুঃখু মার‍্যা ২ গেছে যে কন্যারে। এমন দুধের ছাওয়াল রে আরে দুঃখু কে বাঁচায় তাহারে ॥ ৪৮ এমন দরদী বান্ধব রে আরে দুঃখু আর ত কেহ নাই। কেমনে দুধের ছাওয়াল রে আরে দুঃখু পরাণে বাঁচাই ॥ ৫২ ভূমিতে পড়িয়া কান্দে রে আরে ভাইরে পুন্নম্যাসীর চান ৩। পাড়া-পড়শী দেখ্যা যায় রে আরে দুঃখু ধইরা না দেয় টান ॥ ৫৬ পরের দরদী বান্ধব রে আরে ভাই রে আছে কয় জনা। স্বার্থের সংসারী ভাই রে আরে ভাইরে কেহ নয় আপনা ॥ ৬০ পাড়া-পড়শী যত রে আরে দুঃখু সবে আইল ১ ফালাইয়া। কাণতে আছে ২ সোণার ছাওয়াল রে আরে দুঃখু কেউ না দেখে চাইয়া ॥ ৬৪ মণির ওঝা রে আরে ভালা দরদী সুজন। দুধের ছাওয়ালের দুঃখু রে আরে ওঝা না যায় পাশূরণ ৩ ॥ ৬৮ ভাবিয়া চিন্তিয়া ওঝা রে আরে ওঝা কোন্ কাম করিল। কাকালে ৪ লইয়া শিশু রে আরে বাড়ী ত ঢল্যা আইল ॥ ৭২ যতন করিয়া ওঝা রে আরে ভালা সেই না শিশুরে। এমন দরদী বান্ধব রে আরে ভালা নাই ত্রিসংসারে ॥ ৭৬ একেলা মণির ওঝা রে আরে ভালা স্তীরি পুত্র নাই। কন্যারে লইয়া ঘরে রে আরে ভালা থাকে এক ঠাঁই॥ ৮০ বিয়া সাদি না করিল রে আরে ভাইরে নারী অবিশ্বাসী। এমন কয় জাতের জাতে রে আরে ওঝা না হইল অভিলাষী॥ ৮৪ দরবেশের আচার ওঝা রে আরে ভালা ফকিরের বেশ। ঝাড়া ফুকা দিয়া ওঝা রে আরে ওঝা ঘুরে নানান দেশ॥ ৮৮ নারী ত না নষ্টা জাতি রে আরে ভালা ফুলের মধ্যে কিড়া ১। এর ফান্দে যে জন মজে রে সেই জনা যায় মারা॥ ৯২ বীতরাগ হইয়া ওঝা রে আরে ওঝা নারীর মুখ না দেখে। তার দরগায় নারীর মানা রে না দেয় মেলা ২ যদি পন্থে নারী দেখে॥ ৯৬ ( ৩ ) শিশু কন্যা পাইয়া ওঝা রে আরে ওঝা পালে যতন করিয়া। পুন্ন মাসীর চান্দ যেমন রে আরে ভালা উঠে গজাইয়া ॥ ৪ আদর করিয়া ওঝা রে আরে ওঝা ডাকে মাঞ্জুর মা। এমন ছুলিকার ’ কন্যা রে হায়দুন ভালা আর দেখি না ॥ ৮ দেখিতে দেখিতে কন্যার রে আরে ভালা পরথম যৈবন। ডাগর ২ নাগর পথে রে আরে ভালা করে বিলোকন ॥ ১২ রান্ধিয়া বাড়িয়া খাওয়ায় রে আরে ভালা মাঞ্জুর মা ওঝারে। ঘরের যত কাম কাজ রে আরে ওঝা কিছু নাই সে করে ॥ ১৬ কন্যারে দেখিয়া ওঝা রে আরে ভালা ভাবে মনে মনে। তিন কাল গেল আমার রে আরে ভালা যোয়ানকির ৩ গরমে ॥ ২০ বিয়াসাদি না করিলাম রে আরে ভালা নাই পুত্র কন্যা। বিদ্ধ বয়সে আমার রে আরে দুঃখু কে দিব দানা পানি ॥ ২৪ নারীজাতি নষ্টা জাতি রে আরে ভালা এই ভাব মনে। মাঞ্জুর মারে পাল্লাম আমি রে আরে ভালা পরম যতনে ॥ ২৮ দিন রাইত চউখে চউখে রে আরে ভালা রাখলাম এত দিন। সতী কন্যা মাঞ্জুর মাও রে আরে ভালা জানি চিরদিন ॥ ৩২ মাঞ্জুর মার হইল অখন রে আরে ভালা সাদির বয়েস। সাদি দিয়া কেমনে থাকবাম রে হায়দুন ভালা এই হইল থিয়্যাস ১ ॥ ৩৬ পরের ঝিরে পালা কেনে রে আরে ভালা বাড়ল অত মায়া। নিজ হস্তে গড়িয়া কাঠাম রে কেমনে দিবাম ফালাইয়া ॥ ৪০ নষ্ট নষ্ট সবই নষ্ট রে কেবল নষ্ট নয় মঞ্জুর মা। যতন করলাম ফলন্ত গাছ রে কেবল পর্যের লাগিয়া ॥ ৪৪ মঞ্জুর মায় না দিবাম বিয়া রে আরে ভালা মন করছি দড়। ভুইপুরা ১ ঘরের বাঁশ রে আরে ভালা লাগাইবম ঘর ॥ ৪৮ ছোট হইতে পাল্যা লাল্যা রে আরে ভালা করলাম অত বড়। সাদি করিবাম নিজে রে আরে ভালা না দিবাম অন্য ঘর ॥ ৫২ জেতা চান্দের ১ জুম্মাবার ২ রে আরে ভালা বাছিয়া গুছিয়া। মণির ওঝা মঞ্জুর মায় রে আরে ভাল; রাখল সাদি করিয়া॥ ৫৬ শেষ বয়সের বিদ্ধ ওঝা রে আরে ভালা কাঁপে থরথরি। পরথম যৈবন কন্যা রে হায়দুন ভালা মঞ্জুর মা সুন্দরী॥ ৬০ লাল পরী মিলল যেমন রে আরে ভালা পিশাচের সনে। পউদের ৩ কলি উজল করল রে আরে ভালা গোবরের ভুবনে॥ ৬৪ এই কি করমে আছিল রে আরে ভালা সহন না যায়। ভরাডুবি হইলাম আমি রে আরে দুঃখু মধ্য দরিয়ায়॥ ৬৮ আঞ্চলে ৪ লুকাইয়া আছিল রে আরে দুঃখু বাও ঠেঙ্গের ৫ জুরী। অম্বরে বসিয়া কান্দে রে আরে দুঃখু মঞ্জুর মা সুন্দরী॥ ৭২ হাছেন সুন্দর যুবা রে আরে ভালা নাগরানির বেশ। ছোটবেলা হইতে তারার রে আরে ভালা প্রণয় আবেশ॥ ৪ মঞ্জুর মা না থাকত পারে রে আরে ভালা হাছেনে ছাড়িয়া। হাছেন না বাঁচে পরাণে রে হায়দুন ভালা তিলেক ছাড়া হইয়া॥ ৮ ছোটবেলা হইতে তারা রে আরে ভালা এক চিত্তে মনে। একসঙ্গে থাকে তারা রে হায়দুন ভালা উঠনে বৈসনে॥ ১২ এইমতে দুইজনার রে আরে ভালা যৌবন আবেশ। পীরিতি ঘনাইল ভালা রে হায়দুন ভালা গোপন আন্দেস ’॥ ১৬ মঞ্জুর মার মনের আলকাপ ২ রে আরে ভালা হাছেনে করত বিয়া। হাছেনের মনের আলকাপ রে হায়দুন ভালা মঞ্জুর মার লাগিয়া॥ ২০ গোপন পীরিতি তারার রে আরে ভালা কেউ না জানে শুনে। গোপনে মিলন হয় রে আরে ভালা নিরলে বিজনে ॥ ২৪ এইনা মতে সুখে দুইজন রে আরে ভালা যৈবনের পথে। মনের হরিষে গুয়ায় রে আরে ভালা কাটা নাই সে তাতে ॥ ২৮ অচলিত১ এই কি হইল রে আরে ভালা ওঝায় করল বিয়া। তিনকাল চল্যা গেছে রে হায়দুন ভালা এককাল ঠেকিয়া ॥ ৩২ এমন দারুণ বিধি রে আরে দুঃখু লেখছিলা কপালে। নিরলা বসিয়া কান্দে রে আরে দুঃখু শয়নে স্বপনে ॥ ৩৬ কেউ ত না সুজন বন্ধু রে আরে দুঃখু পরাণে ধরিব। মনের আগুন মনে জ্বলে রে আরে দুঃখু কে তারে নিবাইব ॥ ৪০ তুষের আগুন জ্বলে রে আরে দুঃখু যুষাইয়া যুষাইয়া। পুড়িয়া আঙ্গার হইলাম রে আরে দুঃখু চিত্ত যায় জ্বলিয়া ॥ ৪৪ দুর্লভ মানুষ জন্ম রে আরে দুঃখু বিধি হইল বাম। কিসের লাগিয়া তবে রে আরে দুঃখু রথের গুরজান ॥ ৪৮ মনের আশা মনে রইল রে আরে দুঃখু না হইল পূরণ। কি কাম হইব ধইরা রে আরে দুঃখু বিফল জীবন ॥ ৫২ মনে লয় কলসী বান্ধ্যা রে আরে দুঃখু জলে ডুবা মরি। মনে লয় জর খাইয়া রে আরে দুঃখু এই জ্বালা পাশরি ॥ ৫৬ মনে লয় বন জঙ্গলায় রে আরে দুঃখু থাকি বাঘভালুকের সনে। মনে লয় পংখী হইয়া রে আরে দুঃখু উড়্যা যাই গগণে ॥ ৬০ মনের দুঃখু মনে রইল রে আরে দুঃখু জনম দুঃখিনী। বন্ধুর লাগিয়া আমি রে আরে দুঃখু হইলাম পাগলিনী ॥ ৬৪ বন্ধুর লাগিয়া আমার রে আরে দুঃখু অঙ্গ যায় জ্বলিয়া। মনে লয় ত্যজিতাম পরাণ রে আরে দুঃখু আগুনে পুড়িয়া॥ ৬৮ আমার উদ্দেশে বন্ধু রে আরে দুঃখু বাজায় মোহন বাঁশী। আমার আসার আশে রে আরে দুঃখু থাকে জলের ঘাটে বসি॥ ৭২ কান্দিয়া বাঁশীর সুরে রে হায় রে বন্ধু কয় মনের কথা। তাহার কান্দন শুন্যা রে আরে দুঃখু আমার চিত্তে হইল ব্যথা॥ ৭৬ বন্ধু আমার চিকণ কালা রে আরে ভালা কাণের কাঞ্চা সোণা। কোন বিধাতা বাদী হইয়া রে আরে দুঃখু ঘটাইল বিড়ম্বনা॥ ৮০ নিশির মতে নিশি গুয়ায় রে আরে দুঃখু কান্দিয়া কান্দিয়া। দিনের মত দিন যায় রে আরে দুঃখু হায় হুতাশ করিয়া॥ ৮৪ কাম কাজ না সুজে ১ অঙ্গে রে আরে দুঃখু বন্ধুর মুখ চাইয়া। কোথায় পাইবাম বন্ধুর দেখা রে আরে ভালা দেখতাম নয়ন ভরিয়া॥ ৮৮ শয়নে স্বপনে আমি রে আরে দুঃখু না পাই বন্ধুর দেখা। কাল কলঙ্কের ভয় রে আরে দুঃখু আমার সুখের কাঁটা ॥ ৯২ বন্ধু আমার ঘাটে বস্তা রে আরে দুঃখু অর্দ্ধঙ্গরে ফালায় পানি। কঠিন হৃদয় আমার রে আরে দুঃখু কেমনে দেখি শুনি ॥ ৯৬ মনে লয় বন্ধুরে লইয়া রে আরে ভালা যাই দেশান্তরী হইয়া। ঝাড় জঙ্গলায় থাকি রে আরে ভালা কুলমান ত্যজিয়া ॥ ১০০ ( ৫ ) একদিন মণির ওঝা রে আরে ভালা ডোকা ঝাড়িবারে। পন্থ উত্তরিল ওঝা রে হায়ছুন ভালা তিন দিনের পথ দূরে ॥ ৪ ফাক পাইয়া মঞ্জুর মা না রে আরে ভালা কোন কাম করিল। জলের ঘাটে গিয়া বন্ধু রে আরে ভালা সঙ্কেত জানাইল ॥ ৮ The image is completely blank. There is no text to transcribe. মাম্বুর মা কর্তৃক তরুণ হাসেনকে জল হইতে উদ্ধার—২৭ পৃঃ সন্ধ্যাবেলা জলের ঘাটে রে হাছেন আরে কান্দিয়া কান্দিয়া। প্রিয়ুয়ার১ দেখা না পাইল রে ছার পরাণ দিবাম ভাসাইয়া ॥ ১২ ঘাটের কুলেতে আস্তা রে আরে বন্ধু চারিদিকে চায়। নিউলিয়া ২ দেখল কত রে আরে দুঃখু প্রিয়ুয়ার মুখ নাহি দেখতে পায় ॥ ১৬ নিরাশা হইয়া বন্ধু রে আরে দুঃখু পিয়ুরে না পাইয়া। বিবেকী ৩ হইয়া বন্ধু রে আরে দুঃখু জলে পড়লা ঝম্প দিয়া ॥ ২০ এমন সময় কিবা হইল রে আরে ভালা হইল কোন কাম। দরদী প্রিয়ুয়া আস্তা রে আরে ভালা বাচায় বন্ধুর প্রাণ ॥ ২৪ হস্তেতে ধরিয়া বন্ধু রে আরে ভালা মাঞ্জুর মা সুন্দরী। গলাগলি দুইজনে রে আরে ভালা ফির‍্যা আইল নাগর নাগরী ॥ ২৮ সন্ধ্যা গুজুরিলে বন্ধু রে আরে ভালা আইলা ওঝার বাড়ী। আদর যতন করিয়া রে বসাইল মাঞ্জুর মা সুন্দরী॥ ৩২ চিড়া দিল পিঠা দিল রে আরে ভালা দুধের কাড়িয়া। নানা ইতি ১ বেমুন দিল রে আরে ভালা রান্ধিয়া বাড়িয়া॥ ৩৬ বুকের না রক্ত দিয়া রে আরে ভালা বন্ধেরে খাওয়াইল। আদর যতন কইরা রে আরে ভালা বন্ধুর মন মজাইল॥ ৪০ সুখের নিশি প্রভাত হইল রে আরে ভালা মধুর আলাপনে। বেহেস্তের সুখের নিশি রে আরে ভালা পোযাইল দুইজনে॥ ৪৪ একদিন দুইদিন রে আরে ভালা তিনদিন গেল। মনের সুখে দুই জনে রে আরে ভালা হরিয়ে গুয়াইল॥ ৪৮ নিরালা বসিয়া দুইজন রে আরে ভালা কিনা যুক্তি করে। এই না দেশে ছাড়া যাইবাম রে আরে ভালা দুর দেশান্তরে॥ ৫২ रात्रि নিশাকাল নাগুর রে আরে ভালা নাগরী দুইজনে। পন্থ মেলা দিয়া গেল রে আরে ভালা গহন কাননে॥ ৫৬ মনের সুখে দুইজনে রে আরে ভালা পংখী উড়া করল। পিঞ্জিরার টিয়া পংখী রে আরে ভালা শিকলি কাট্যা গেল॥ ৬০ নদী নাই নালা নাই রে আরে ভালা বন জঙ্গলা ভাঙ্গিয়া। দুইজনে চলে যেমন রে আরে ভালা তীরনালে ধাইয়া॥ ৬৪ সাত সমুদ্দুর তের নদী রে আরে ভালা গেল পারি দিয়া। দেশের মায়া ছাড়্যা গেল রে আরে ভালা বন্ধুর মুখ চাইয়া॥ ৬৮ পীরিত যতন পীরিত রতন রে আরে ভালা পীরিত গলার হার। পারিত করা যে জন মরে রে আরে ভালা সফল জীবন তার॥ ৭২ (৬) বাড়ীতে আস্তা মণির ওঝা রে আরে ভালা ডাকে মাঞ্জুর মায়। কার বা ডাকে কেবা শুনে রে আরে ভালা কেবা জুয়াপ দেয়॥ ৪ খাটী ১ দুয়ার ধর‍্যা রে আরে ওঝা করে টানাটানি। কোথায় গেল মাঞ্জুর মাও রে হায়দুন ভালা তারে না দেখি শুনি॥ ৮ বেড়ার না ছিদ্রি দিয়া রে আরে ওঝা নিউলিয়া দেখে। শূণ্য ময়দান পড়্যা ঘর রে আরে ভালা পড়িলা বিপাকে॥ ১২ দুয়ার না ঘুচাইয়া ওঝা রে আরে ভালা ডাকে হিক পারিয়া। কেউ ত না জুয়াপ দিল রে আরে ওঝা কান্দে যে বসিয়া ॥ ১৬ কোন বা শত্রু বাদী হইয়া রে আরে ভালা নিছে ভাঙাইয়া। পরথম যৌবনের কন্যা রে আরে ভালা মাঞ্জুর মারে পাইয়া ॥ ২০ খালি বাড়ীতে থুইয়া গেলাম রে আরে ভালা কেউ না নিকামান ২। দুষমনে সুযোগ পাইয়া রে আরে দুঃখু ঘটাইছে নিদান॥ ২৪ সতী কন্যা মাঞ্জুর মাও রে আরে ভালা পালছিলাম যতন করে। না দিলাম পথ ঘাট রে হায়দুন ভালা পাড়াপড়শীর ঘরে॥ ২৮ চউখের আগে আগে রাখা রে আরে ভালা করলাম অতবড়। দারুণ দুর্জন বান্ধে রে আরে ভালা কেমনে খাইল ঘর॥ ৩২ সতী কন্যা মাঞ্জুর মাও রে আরে ভালা অতি সরল মন। জোর করিয়া লইয়া গেছে রে আরে কোন পাপিষ্ঠ দুর্জন॥ ৩৬ মাঞ্জুর মা যে আছিল আমার রে আরে দুঃখু নয়নের মণি। মাঞ্জুর মা যে আছিল আমার রে আরে ভালা নারীর শিরোমণি॥ ৪০ মাঞ্জুর মা আছিলা আমার রে আরে ভালা কলিজার লউ। মাঞ্জুর মা যে আছিলা আমার রে আরে ভালা সতী কুলের বউ॥ ৪৪ মাঞ্জুর মারে না দেখিয়া রে আরে দুঃখু আমার প্রাণ যায়। ঝাড় জঙ্গলার মাঝে রে আরে দুঃখু কোনখানে বিচ্ছরই॥ ৪৮ pagal হইয়া ওঝা রে আরে ওঝা দেশে দেশে ফিরে। মঞ্জুর মায় নি দেখছ তোমরা রে জিগায় আরে পন্থের পথিরে॥ ৫২ বনে জিগায় বন পশুরে আরে দুঃখু বৃক্ষেতে পংখীরে। এইনি পথে যাইতে দেখছ রে আরে ভালা আমার মঞ্জুর মারে॥ ৫৬ চান সুরুযে ডাক্যা কয় রে আরে ভালা দেখছনি যাইতে। দিন রাইতের পরী তোমরা রে মঞ্জুর মারে নি দেখেছ কোন পথে॥ ৬০ আমার না মঞ্জুর মাও রে আরে ভালা নয়নের কাজল। আমার না মঞ্জুর মাও রে আরে ভালা গঙ্গানদীর জল॥ ৬৪ আমার না মঞ্জুর মাও রে আরে ভালা বুকের কলিজা। আমার না মঞ্জুর মাও রে আরে ভালা সাক্ষাৎ দশভূজা॥ ৬৮ আমার না মঞ্জুর মাও রে আরে ভালা তীর্থ বারাণসী। আমার না মঞ্জুর মাও রে আরে ভালা দেবের তুলসী ॥ ৭২ আমার না মঞ্জুর মাও রে আরে ভালা আসমানের চান। আমার না মঞ্জুর মাও রে আরে ভালা বেহেস্তের নিশান ॥ ৭৬ স্বর্গ মঞ্চ ১ পাতাল না রে আরে ভালা দেও দানবের পুরী। পরাণের মঞ্জুর মাও রে আরে ভালা দেখিবাম বিচারি ॥ ৮০ বন জঙ্গলায় ঘুরিলাম রে আরে ভালা ঘুরিলাম পাহাড়ে। ভাল করা খুজ্যা দেখবাম রে আরে ভালা দরিয়ার মাঝারে ॥ ৮৪ সামান যায় খর নদী রে আরে ভালা ঐ না দূরে বইয়া। মঞ্জুর মারে দেখবাম আমি রে আরে ভালা এইখানে বিচরাঁইয়া ॥ ৮৮ এই কথা বলিয়া ওঝা রে আরে ভালা কোন কাম করিল। দৌড়িয়া গেল দরিয়ার পারে রে ঝম্প দিয়া মাঝারে পড়িল ॥ ৯২ আইজ পড়ল কাইল পড়ল রে আরে ওঝা আর না উঠিল। মাঞ্জুর মারে তালাসিয়া রে আরে ভালা বেহেস্তে চল্যা গেল॥ ৯৬