শ্যাম রায়
পূর্ববঙ্গ গীতিকা - তৃতীয় খন্ড - দীনেশ চন্দ্র সেন
শ্যাম রায়ের পালা ( ১ ) কাঙ্কে কলসী ডোমের নারী জলের ঘাটে যায়, রংমলায় থাকা তাহা দেখে শ্যাম রায়। ২ বাডি গুডি ডোমের নারী দিগল আগল কেশ এহার যৈবন না দেখ্যা পাগল হইল দেশ। ৪ পিন্ধনে পাটের খুয়া বায়েতে উড়ায় এহারে দেখ্যা পাগল হইল মায়ের শ্যাম রায়। ৬ আমার যদি হইতে লো কন্যা করতাম তোরে বিয়া বান্ধ্যা দিতাম চিরল কেশ সোনা ঝুরি দিয়া। ৮ খাট দিতাম পালং দিতাম আর শীতল পাটি কেলি-কদম্ব রসে কন্যা পোয়াইতাম রাতি। ১০ পিন্ধনে পাটের খুয়া, তারে খসাইয়া— যৈবন ঢাকিয়া দিতাম নীলাম্বরী দিয়া। ১২ গলায় সণ্ কাচের মালা তাহার খসাইয়া গজমূতি হার কন্যা দিতাম পরায়া। ১৪ হাতেত দিতাম তার বাজু গলায়ত দিতাম হাসুলী নিজহাতে আক্যা দিতাম দুই নয়ানের কাজুলী। ১৬_ আমার যদি হইতে লো কন্যা পাইতাম মনে সুখ জ্বালিয়া ঘিরতের বাতীব দেখতাম চান্দ মুখ। ১৮ ( ২ ) দিশা—আমি নারী পরের অধীন রে:— সন্ধ্যাবেলা আইলে ১ দুতীলো পাছ দুয়ারে খাড়া একেত অবুলা নারী শ্বাশুরী পাহারা রে। ২ আমি নারী— সন্ধ্যা বেলা আইলে দুতীলো ঘরে নাই মোর বাতী বেসাত লইয়া ঘরে আইব ২ পরাণ পতিরে। ৪ আমি নারী— ভরা ভাদরে দুতীলো দুতী আমার মাইঝ গাঙ্গেতে চড়া কোন ছলে যাইবাম জলে কলসী আমার ভরা রে। ৬ আমি নারী— ছানের সময় নয়লো দুতী সিনানের ছলে ভরা কলসী ঢাল্যা রাখ্যা যাইবাম জলে রে। ৮ আমি নারী— বণিক বেপারী নইলো দুতী বেসাতী লইয়া চক্ষের দেখা সোনা বন্ধে আইব দেখিয়া রে। ১০ আমি নারী— বাথানের ৩ রাখালী নইলো দুতী গোষ্টেতে যাইব গোষ্টের ছলে প্রাণ বন্ধে দেখিয়া আইব রে। ১২ আমি নারী— মালীর মালী না হইলো দূতী দূতীলো মালা গাঁথি লব ধোপার ধোপানী নইলো দূতী কাপড় আনতে যাব রে। ১৪ আমি নারী— দেখ্যায়া’ দেখ্যায়া লো দূতী আমার দুই নয়নের ধারা শুয়া-শালিক নইলো দূতী শূন্যে দিব উড়া রে। ১৬ আমি নারী— জোরের কইতরী নইলো দূতী আধারের ছলে দেখ্যা আইব পরাণ বন্ধে মরণ সময় কালে। ১৮ আমি নারী— ডালের পুষ্প হইতাম লো দূতী তবে যাইতাম সাথে আপনারে গাথ্য মালা দিতাম তোর হাতে রে। ২০ আমি নারী— ফুর ফুর ফুল নইলো দূতী বায়েতে মিশিয়া পরাণ বন্ধের কাছে যাইতাম ভাসিয়া রে। ২২ আমি নারী— ভাব ডালুমের রস নয়লো দূতী পিয়াসা মিটাব ডাবুর ভরিয়া দূতী হস্তে তুল্যা দিব রে। ২৪ আমি নারী— পাণ নয় গুয়া নয় লো দূতী ভইরা দিমু বাটা চুয়া চন্দন নয় লো দূতী কপালে দিমু ফোটা রে। ২৬ আমি নারী— শশা কলা নয় লো দূতী আলো দূতী রেকাবী ভরিয়া পরাণ বন্ধুর আগে দিতাম পাঠাইয়া রে। ২৮ আমি নারী— পলাঙ্ক পায়স নয়লো দুতী এ মোর যাইবন বাটী ভরিয়া দিতাম বন্ধুর ভোঞ্জন ১ কারণ রে। ৩০ আমি নারী— নয়াত ২ গাঙ্গের পানি নয় লো দুতী এ মোর্যৈবন লোটায় ভইরা দিতাম বন্ধুর ধুইয়াইতে চরণ রে। ৩২ আমি নারী— ধাই ধান্ধুরী ৩ নইলে দুতী ধুইয়ায়ামু চরণ এমতি নিদানে ৪ কেন না হয় আমার মরণ রে। ৩৪ আমি নারী— বনের কুইলা ৫ হইতাম দুতী লো পুষ্পের ভুমরী মধু না আনিবার ছলে যাইতাম উড়ি রে। ৩৬ আমি নারী— নিতাই চান্দে ডাক দিয়া • কয় ভুবন নিছিয়া৭ যৈবন গড়িল বিধি কোন্ কোন্ চিজ৮ দিয়া রে। ৩৮ আমি নারী— বাঁশের বাঁশী হইতাম দুতী লো পাইতাম মনে সুখ বাজনের ছলে দিতাম বঁধুর মুখে মুখ রে। ৪০ আমি নারী— পরের অধীনা নারী লো দুতী এই সে হইল দায় মনে লয় পতিরে কাট্যা দিতাম বন্ধের পায় লো। ৪২ আমি নারী— ঘরের বাতী নিমি ঝিমি দুতী লো গিরে চিল্যা যাও আইজ না হইব দেখা বন্ধেরে বুঝাও রে। ৪৪ আমি নারী— গির কর্ম্ম কর লো কন্যা কামে দিছ মন। আমারে পাঠাইল রায় তোমার কারণ॥ ৪৬ আমার কথা শুন লো কন্যা একটু খানি রৈয়া। তোমার বন্ধু গাঙ্গের পারে আছে খাড়াইয়া ॥ ৪৮ আমি যে আইসাছি লো কন্যা ঠেক্যা বিষম দায়। তোমারি যৈবন দান লো মাগে শ্যাম রায়॥ ৫০ ( ৩ ) দিশা—পন্থা ছাড় রে শ্যাম রায়:— পন্থা ছাড় সর সর জল আনিবার সময় যায় পন্থা ছাড় রে— আমি ত ডোমের নারী রে বন্ধুরে হাত দিও না গায় ছোটর সঙ্গে বড়র পিরীত বড়র জাতি যায় রে বন্ধু। ২ পন্থা ছাড় রে— তুমি ত বাগের ১ পুষ্প আমি হইলাম কাটা জিয়ন মরণে বন্ধু রে দেশে থাকব খোটা ২ রে বন্ধু। ৪ পন্থ ছাড়— রাজার ছাওয়াল ৩ তুমি রে বন্ধু আমি ডোমের নারী সমুদ্র সায়র ৪ থুইয়া বন্ধু শুকনায় ৫ বাইছ তরী রে বন্ধু। ৬ পন্থ ছাড়— চান্দের সঙ্গে সাফলার ৬ পিরীত রে বন্ধু উজান সুতে ৭ ভাসা ছোটর সঙ্গে করলে পিরীত জাতি কুল নাশা রে বন্ধু। ৮ পন্থ ছাড— রাজার ছাওয়াল বন্ধু রে পুন্ন মাসীর ৮ চান ৯ আস্মান ছাইড়া ১০ কেন বন্ধু জমিনে বিছান ১১ রে বন্ধু। ১০ পন্থ ছাড়— ( ৪ ) খাট আছে পালং আছে বন্ধু সুখে নিদ যাবে, কডিন ১২ মাটির শেষ ১৩ বন্ধুরে অঙ্গেতে বাজিবে রে বন্ধু। ২ পন্থ ছাড়— অসময়ে জলের ঘাটে বন্ধু ফালাইলে বিপাকে, কই ১৪ থাক্যা দুস্মন চক্ষু ১৫ উকি মাইরা দেখে রে বন্ধু। ৪ পন্থ ছাড়— আমরা ১ খাইলে বুঝিবে কি বন্ধু আমের সুয়াদ ঘোলে কি পাইবা বন্ধু রে দধির আস্বাদ রে বন্ধু। ৬ পন্থ ছাড়— ময়ূরা হইয়া কেন রে বন্ধু ভৈউরের ২ পেখম খঞ্জনা হইয়া কেন বন্ধু চড়ার ৩ নাচন রে বন্ধু। ৮ পন্থ ছাড়— মণি মুক্তা থুইয়া কেন বন্ধু বাছ্যা তুলছ কড়ি। হার রাখিয়া কেন বন্ধু গলায় বান্ধ ৪ দড়ি রে বন্ধু। ১০ পন্থ ছাড়— হীন জাতি ডুমনী আমি বন্ধু রে নাই সে বুঝ দায় সায়র থুইয়া কুয়ার পানি কোন গাবরে ৫ খায় রে বন্ধু। ১২ পন্থ ছাড়— গজমুতি থুইয়ারে বন্ধু পর হাড়ের মালা আবির কঙ্কুম থুইয়া বন্ধু অঙ্গে মাখ ধুলা রে বন্ধু। ১৪ পন্থ ছাড়— বিধি বিরম্বিলরে ৬ বন্ধু তোরে করিতে পরখাই ৭ চন্দন থুইয়া বন্ধু কেন অঙ্গে মাখ ছাই রে বন্ধু। ১৬ পন্থ ছাড়— তুুমিত রাজার বেটা বন্ধু রে আমিত ডোমনী পাথর নিংড়াইয়া বন্ধু পাইতে চাও কি পানি রে বন্ধু। ১৮ পন্থ ছাড়— ( ৫ ) হায়—সুন্দর ডোমের নারী লো অল্পে না ছাড়িবু কলঙ্ক কাজলী ৮ কইরারে দুই নয়ানে দিবু। ২ দুন্মনে বলিব মন্দ লো কন্যা তাতে নাই সে ক্ষতি যৈবন নয়লো ধূলা মাটি কন্যা জাইত ’ নয়লো পিরীতি । ৪ তোমারে লইয়া কন্যা লো হইব দেশান্তরী রাজ্য না ছাড়িয়া আমি হইমু দণ্ডধারী ২। ৬ গির করব বিরক্ষতলে ৩ লো কন্যা বসতি জঙ্গল। ৪ গজমুতি থুইয়া গলে পরব হাড়ের মালা। ৮ এ সব ওদলে ৫ কন্যা লো তোরে যদি পাই সুগন্ধি চন্দন থুইয়া অঙ্গে মাখব ছাই। ১০ দধি দুগ্ধ থুইয়া লো কন্যা খাইব বনের ফল। উত্তম বসন থুইয়া পরিবাম বাকল। ১২ খাট পালঙ্কে কন্যা কোণু কার্য্য নাই। মাটিতে শুইলে কন্যা বড় সুখ পাই। ১৪ সায়রের লোনা পানি মুখ হইল তিতা তা হইতে কুয়ার পানি শত গুণে মিঠা ৬। ১৬ থাকুক কলঙ্ক লো কন্যা লোক অপযশ পাথর নিংড়াইয়া দেখি পাই কিনা রস। ১৮ নিতাই চান্দে কয় পিরীত আসল যদি হয়। রসিকে পাইলে তারে শিরে তুল্যা লয়। ২০ পশ্থ ছাড় রে বন্ধু চলি যাই রে ঘরে। এখনও সন্ধ্যার বাত্তি না জাইলাছি ঘরে ॥ ২২ দারুণা শাশুড়ী ঘরে বন্ধু রে মোরে দিবে গালি। না ভরিলাম জলের কলসী কাঙ্কে ৭ রৈল খালি ॥ ২৪ সন্ধ্যাত মিলাইয়া যায় রে বন্ধু বন্ধু আরে পাউপাধালী’। অন্ধকাইরা পথে আমি কেমুনে যাই ঘরে ॥ কাইল যাইব আমার ডোম বাঁশ কাটিবারে ॥ ২৭ “আমি কইলো জলেরি ঘাটে ভইরা দেই ঘাগুরী২।” “পর না পুরুষ তুমি বন্ধু আমি একলা নারী ॥” ২৯ “আমি কইলো আন্ধাইর পন্থে কন্যা দেই আগুয়াইয়া ৩।” “দুষমনে কলঙ্ক বন্ধু দিবেত রটাইয়া ॥” ৩১ “পলাইয়া যাইলো কন্যা চল মোর সাথে।” “কলঙ্কর পশরা বন্ধু কেনরে লও মাথে ॥” ৩৩ “পন্থেতে লাগালি পাই কন্যা নাইসে যাইমু ছাড়ি।” “বুরলতা ৪ হইয়া কেমুনে চন্দনবারে বেড়ি ॥” ৩৫ “কার্য্য নাইরে পরাণ বন্ধু একলা যাইমু ঘরে। কাইলসে যাইব আমার ডোম বাঁশ কাটিবারে ॥ ৩৭ আজিকার রাত্রিরে বন্ধু চিতে ক্ষেমাদিউ ৫। কালুকা নিশিতে বন্ধু আমার বাড়ী যাইও ॥ ৩৯ ভাঙ্গা ঘরে যৈবন লইয়া থাকিমু একেলা। শাশুরীর অপরকে ৬ রাখমু পাছের দোয়ার’ খোলা ॥ ৪১ সুখেরে কইরাছি বৈরীরে বন্ধু দুঃখেরে দোসর। তুই বন্ধের পিরিতে মজ্জা আপন কইলাম পর॥ কুলেরে করিলাম বৈরীরে আমি অবুলা রমণী। তোমার পিরীতে ডাক্যা কলঙ্কেরে আনি॥ ঘরেতে লাগিল আগুনরে বন্ধু দোয়ারেতে কাটা। সাধ করিয়া খাই পিরীত গাছের গোটা’ বন্ধু পিরীত গাছের গোটা॥ যেজনে খাইয়াছে বন্ধু পিরীত গাছের ফল। কলঙ্ক মরণ দূর বন্ধু জীবন সফল॥ পাছ দোয়ারে আনাগুনারে বন্ধু খেজালতে মরেি। রাজার ছাওয়াল বন্ধুরে পরের ঘরে চুরি॥ অভাগ্যা ডোমের নারীরে বন্ধুরে খাট পালং নাই। তোমারে শুইতে বন্ধু কি দিব বিছাই॥ ঘরে আছে চাটি মাটিরে বন্ধু তাই দিব পাতিয়া। এইখানে ঘুমাওরে বন্ধু খাট পালং ছাড়িয়া॥ এইনা ভাবে শুইয়া শুইয়ারে বন্ধু যদি পাও ক্লেশ। মেজেতে বিছাইয়া দিমু চাচর চিকন কেশ॥ ফুলের বিছানা বন্ধুরে তোমার কঠিন ঠেকে গায়। কেশে কি পাইবা সুখ এত সে হইল দায়॥ কেশের বিছানে বন্ধুরে সুখ নাইসে পাও। অবুলার বুকে শুইয়া নিরলে ঘুমাও ॥ ৬১ চক্ষের জলে ধুইয়ারে পাও বন্ধুরে কেশেতে মুছাব। শিথানের সিন্দুর দিয়া চরণ রাঙ্গাইব ॥ ৬৩ না জ্বালিলাম ঘরের বাতিরে বন্ধু অন্ধ আমার আঁখি। হাত বুলাইয়া বন্ধু তোমার মুখখানি দেখি ॥ ৬৫ একটুখানি রওরে বন্ধু একটুখানি রও। মুখেতে রাখিয়া মুখ বন্ধু মনের কথা কও ॥ ৬৭ আমি যে অবুলারে নারী বন্ধুরে আর কারে বা দোষি। বুকেতে আঁকিয়া রাখি বন্ধু তোমার মুখের হাসি ॥ ৬৯ নিশি বুঝি নাইরে বন্ধু বন্ধুরে ঘুমেত কাতর। গাছেত কুইলা ডাকে পুষ্পেত ভ্রমর ॥ ৭১ সুয়ামি গেছে নল কাটিত দুরের না হাওরে। কাইল নিশি আইও বন্ধু মোর না বাসরে ॥ ৭৩ যতেক ফুলের মধু বন্ধুরে তোমারে খাওয়াইব। যৈবন নিগড়াই মধু মুখে তুল্য। দিব ॥” ৭৫ মায়ত বুঝায় ভইনেত বুঝায় বুঝান হইল দায়। ডোমনীর লাগ্যা পাগল হইল মায়ের শ্যামরায় ॥ ২ “শুন শুন পরাণের ভাইরে শুন মন দিয়া। কাঞ্চন বরণ কন্যা তোমায় করাইব বিয়া ॥” ৪ “শুন শুন গুণের ভইনগো কইষে তোমারে। এহিত ডোমের নারী বিয়া করাও মোরে ॥” ৬ “জাতি নাশ ধরম নাশ ভাইরে এতত হইবে দায়। হীন ডোমের নারী ছুইলে জাতি যায় ॥ ৮ পহু থুইয়া কেন ভাইরে গইচে ১ দেও পারা ২। জাতি সাপ হইয়া কেন হইতে যাও ঢোড়া ॥ ১০ পদ্ম ফুল হইয়া কেন ভাই গাও ৩ গোবরে আশা। শুয়া পঙ্খ ৪ হইয়া কেন ভূমিত কর বাসা ॥” ১২ মায়ে সে বুঝায় ভইনে সে বুঝায় বুঝান হইল দায়। সাচ্চা সাপে ৫ খাইবে যারে কি করে উঝায় ৬ ॥ ১৪ জাতি ধরম ভূয়া কথা নিতাই চান্দে বলে। বিষ অমিরত ৭ হয় ওঝায় পাইলে ॥ ১৬ সন্তান সন্তান নাই সুজন কুজন। ধূলা মাটী বাছিয়া ৮ লও পীরীতি বড় ধন ॥ ১৮ আসল পিরীত জানে নাই জরা মরা। দুষমনে কাটিলে অঙ্গ পিরীত লাগায় জুরা ॥ ২০ নিতাই চান্দে কয় পীরীতি আসল যদি হয়। হউকনা ডোমের নারী তাতে কিবা ভয় ॥ ২২ চান্দরায় বলে রায় কি কর বসিয়া। তোমার পুত্র পাগল হইল ডোমনী লাগিয়া ॥ ২৪ চান রায় বলে রায় কি কর বসিয়া। তোমার পুত্র শ্যাম রায় ডোমনীরে করে বিয়া ॥ ২৬ কানা কানি জানা জানি লোক মুখে শুনি। গুসায় জ্বলিল রায় জলন্ত আগুনে ॥ ২৮ লোক লাট্যালের ডাক্যা রায় কোন কাম করিল। বাড়ী ঘর ভাইঙ্গা ডোমের সায়রে ভাসাইল ॥ ৩০ (৭) বৈদেশী না হইওরে বন্ধু বন্ধু আরে বৈরাগী না হইও। রাজ পাট জমিদারী ছাইরা না সে যাইও ॥ ২ আমি ছাইরা যাই রে বন্ধু তুমি দেশে থাক। আপনা মায়েরে বন্ধু মা বলিয়া ডাক ॥ ৪ আপনা ভইনেরে বন্ধু বইন বলিয়া ডাক। আমি যাইরে ভিন্ন দেশে বন্ধু রে এই দেশ ছাড়িয়া। বাঁচিবা না বাঁচি তোমার পায়ের নিছুন লইয়া ॥ ৭ ঝাইড়া ফালাও রে বন্ধু ঐ না পায়ের ধূলা। গজমুতি ছাইড়া পর হাড় গোটাঁর মালা ॥ ৯ পিড়ির বদলে কেন বন্ধু ছাড় সিঙ্ঘাসন। শুধাই আইঞ্চলে গির বন্ধু ফেলিয়া কাইঙ্কন ॥ ১১ অমৃত বদলে বন্ধু রে বিষ কর দানা । বাখর লইতে বন্ধু ছাড় গোরচনা ॥ ১৩ সোনা ঝুড়ি ছাইরারে বন্ধু লওরে ধুলা মাটী । মলুয়া পাইতে বন্ধু ছাড় শীতলপাটী ॥ ১৫ রাজার ছাওয়াল বন্ধু রে কেন ছাইরা যাও। অভাগ্যা ডুমুনীর লাগি কেন কষ্ট পাও ॥ ১৭ না জানি দারুনা বৃক্ষে কোন ফল ফলে। জাতি সাপ গলে বান্দ মালার বদলে ॥ ১৯ ডোমনী হইয়া হইলাম সুখের পথে কাটা। আমার লাগি দেশ বিদেশে তোমার থাকব খুঁটা ॥ ২১ চিত্তে ক্ষেম। দেওরে বন্ধু না যাও পলাইয়া। শতেক রাজার কন্যা মায় করাইব বিয়া ॥ ২৩ বিযাদের কথা বন্ধু রে না ভাব সহজে। পরদিম ঝিমাইয়া কেবা অন্ধকার বুঝে ॥ ২৫ আমাকে লইয়া বন্ধুরে পরবা যে বিপাকে। হাতের আঙ্গুল কেবা আরসী দিয়া দেখে ॥ ২৭ ( ৮ ) হায় ভালা গাবরিয়া মুলুকের ভাই রে শুন বিবরণ। সহজে গাবরিয়া জাতি অতি কদাচন ॥ ২ রাজার পছন্দ যারে সেই পড়ে ফেরে। দেখিলে সুন্দরী নারী আন্ধা বিয়া করে ॥ ৪ দেশের নিয়ম কথা শুন্যা লাগে ধাঙ্গ । আজ যে সুন্দর নারী কাইল সেই মন্দ ॥ টাটকা ফুলের কলি না হইতে বাসী। আইজ যে জয়ের রাণী কাইল সেই দাসী ॥ কদাচার গাবরিয়া মুখে কড়া দাড়ি। এক এক পুরুষের দশ বিশ নারী ॥ আচার ব্যাপার তার রাক্ষসের মত। দৈব যোগে সেই না দেশে হইল উপনীত ॥ ডোমের বেশেতে নল কাট্যা আনে রায়। খাড়ি বিউনী বানাইয়া বাজারে বিকায় ॥ ফাল্গুন চৈতের রইদে শ্যাম রায়ের অঙ্গ জইলা যায়। কান্দেরে ডোমের নারী করে হায় হায় ॥ রাজার ছাওয়াল বন্ধুরে ছিলে রাজার বেটা। মুঞি অভাগীর লাগিল হইল এতেক লেটা ॥ কোন দারুণ লোকে মোরে দিল গালি। সোনার বরণ বন্ধু মোর বরণ হৈল ছালী ॥ আর কারেবা দোষি আমি নিজে কর্ম দোষী। রাজার ছাওয়াল বন্ধু মোর হইল বনবাসী ॥ কাঞ্চন জিনিয়া অঙ্গরে বন্ধু ঘামেতে মৈলান । আমাবস্যার কোলে যেমন পূর্ণমাসীর চান ॥ অঙ্গ বাইয়া পড়ে ঘাম কেশ ধইরা মুছে। বন্ধুর কপালে মোর এত দুঃখ আছে॥ ২৬ গাবরিয়া জাতির দেশ দয়া ধর্ম্ম নাই। এই দেশ ছাইরা চল বন্ধু ভিন্ন দেশে যাই॥ ২৮ গুপ্তচর শুন শুন গাবর রাজা বলি যে তোমারে। আইসাহে ডোমনী এক তোমার নগরে॥ ৩০ চান্দের ছুরত ১ কন্যা অগ্নি হেন জ্বলে। না দেখি এমন রাজা গাবরিয়া মুল্লুকে॥ ৩২ তোমার যতেক রাণী মনে হেন লয়। ডোমের নারীর কাছে ধাই দাসী নয়॥ ৩৪ এরে শুণ্যা ২ গাবের রাজা কোন কাম করিল। ডোমনীরে ধইরা তবে নগরে আনিল। ৩৬ হুকুম করিল রাজা ডোেমরের দেও শুলে। রায়েরে বান্ধিয়া তারা লইল হাতে গলে॥ ৮ ( ৯ ) শুন শুন গাবরিয়া রাজা আমার বচন। জোরে বশাইতে ৩ চাও রমণীর মন॥ ২ শুন শুন গাবর রাজা আমার কথা শুন। শিকলে বানতে চাওরে নারীর যৌবন॥ ৪ গাবুরিয়া রাজার প্রতি ডোম-কন্যার উক্তি—২৮৮ পৃঃ The provided image is completely blank. There is no Bengali text or any other content to transcribe. গাছ না রোপিয়া আগে ফল খাইতে আশ। না বঞ্চিলাম ১ ঘরে তোমার দুই চারি মাস ॥ ৬ ফল না পাকিলে আগে কোথা পাও রস। বলে কি করিতে চাও অবলারে বশ ॥ ৮ খিদা লাগিলে ভাত না জুরাইয়া ২ খাও। আগে ত পীরীতি কর পাছে মধু খাও ॥ ১০ ধাঙ্গরা ৩ গাবরিয়া রাজা জাতি তাহাতে বর্বর। একদিন না কইরাছ ভাল নারীর ঘর ॥ ১২ প্রেম পীরীতির কিছু নাহি জান ভাঙ ৪। পুষ্প বাটিয়া খাইলে মধু কোথা পাও ॥ ১৪ এই কথা শুন্য। রাজা হরষিত হইল। বিয়া করিতে রাজা মন স্থির কৈল। ডোমনীর কথায় রাজা ডোমেৱে ছাইরা দিল ॥ ১৭ আইল বিয়ার দিন বাজিল বাজন। নারী পুরুষ মিল্যা গাবরের নাচন ॥ ১৯ মইষের চামরা দিয়া বানাইয়াছে ঢাক। নারীগুলা নাচে যেমন কুমারের চাক ॥ ২১ মইষের শিং দিয়া বানাইয়াছে শিঙ্গা। ডেউয়ার ৫ ছাল খাইয়া করাছ দুই ঠোঁট রাঙ্গা ॥ ২৩ নাচন গাওন আইজ মিল্যা যত পাইল ৬। নিশ্চিত তাকলো ৭ কন্যা বিয়া হইবে কাইল ॥ ২৫ গাবুরিয়া রাণীর ভয়-প্রদর্শন ভিন্-দেশী সুন্দর কন্যা বলি যে তোমারে। গোয়ার ১ সুয়ামৌর ২ গুণ কি কইব তোরে ॥ ভাত জুরাইয়া গেলে নাক চুল কাটে। একটু করিলে দোষ বেচে নিয়ে হাটে ॥ ২৯ পানে যদি চুণ কম চুল দেয় ছিঁড়ি। উদলা ৩ পিষ্ঠেতে ৪ মারে দুহাতিয়া বাড়ী ৫ ॥ ৩১ শুনিলে গুণের কথা গায়ে আসে জ্বর। তুমি কি করিবে কন্যা এমন গোয়ারের ঘর ॥ ৩৩ আষাঢ়ের মেঘ যেমন রইদে যায়রে গলি। এত দুখে পড়িয়া কন্যা হাসে খলখলি ॥ ৩৫ কন্যা বলে “গাবর রাণী মোর কথা ধর ৬। দুইজনে মিল্যা করি গাবরের ঘর ॥ ৩৭ গাবর রাজারে কাট্যা কর দুই খান। তুিমত অৰ্দ্ধেক লও আমি অৰ্দ্ধেক খান ॥ ৩৯ দুই সতিনে বইসা সুখে বাস করি। পাইয়াছি রাজত্ব পাট অল্পে কেন ছাড়ি ॥ ৪১ এই কথা শুনিয়া রাণী কাইনদিয়া জারে জার ৭। বিহিত ৮ করিয়া বুঝায় দুঃখের পরকার ৯ ॥ ৪৩ এত দুঃখ পাইয়া তবু ছাড়তে১ না জুয়ায়২। মড়ার কীয়া৩ যেমন মড়াতে লুকায়॥ ৪৫ ডোমের কন্যা কয় “রাণী দুঃখ নাই সে কর। আমি না করিতে চাই গোয়ারের ঘর॥ ৪৭ পলাইতে পারিলে আমি পলাইয়া যাই। গাবর ভাতার লইয়া থাকিতে না চাই ॥ ৪৯ এই কথা রাণী কর অবধান। মুস্কিলে পড়িয়া কি সে পাই পরিতান৪ ॥ ৫১ রাজা আনিয়াছে মোর অষ্ট অলঙ্কার৫। বাছা নিছ্যা৬ আনছে শাড়ী পবন বাহার৭॥ ৫৩ এই সবে আমার নাহিক কোন কাজ। এই সব পরিয়া তুমি বিয়ার কন্যা সাজ॥ ৫৫ যতেক দাসীর সাজ আমারে পরাও। পলানের৮ কথা মোর কারে না জানাও॥ ৫৭ হুমে ধূমে৯ আমি যাই পলাইয়া। গাবর রাজারে তুমি ফির্যা কর বিয়া॥ ৫৯ ( ১০ ) হায় ভালা অনেক পরকারে রায় দেশেতে ফিরিল ভাইরে দেশেতে ফিরিল। পাষণ্ডি১০ বাপের কথা সকলি শুনিল॥ ২ ছয় শত লাঠিয়াল সহিত মেলা ১ যে করিয়া। তুরস্ত ২ গাবরের দেশে মিলিল আসিয়া ॥ ৪ গাবরের বাড়ী ঘর ভাঙ্গিয়া ফালায়। বাড়ী ঘর ভাঙ্গিয়া তবে সায়রে ভাসায় ॥ ৬ দাড়িতে বান্ধিয়া দাড়ি কুবে ৩ মুণ্ড কাটে। পালাইতে না পথ পায় গাবরেরা কান্দে ॥ ৮ ধরিয়া গাবর রাজায় শূলেতে চড়ায়। গাবরের লৌয়ে ৪ নদী রাঙ্গা হইয়া যায় ॥ ১০ হায়, কোথায় রইলে সুন্দর কন্যা এমন সময় কালে। বিষে ত ছাইল অঙ্গ দেখা নাই সে দিলে ॥ ১২ মাইরাছে বিষের তীর দুরন্ত গাবরে। পাষণ্ড হইল পিতা দোষ দিব কারে ॥ ১৪ ছাইরা ৫ যাই রে সুন্দর কন্যাগো সংসারের সুখ। নিদান কালে ৬ না দেখিলাম তোমার চান্দ মুখ ॥ ১৬ এক দিন না ভুঞ্জিলাম তোরে লইয়া কোলে। একবার না দেখিলাম মরণ সময় কালে ॥ ১৮ আর না পাতিয়া দিবেলো কন্যা কোনেতে বিছানা। বিদেশী হইতে মোরে আর না করবে মানা ॥ ২০ আর না দেখিব কন্যা তোমার মুখের হাস। জিয়ন্তে না পুরাইল বিধি আমার মনের আশ ॥ ২২ বিরক যদি হইলো কন্যা তুমি হইও লতা। বন বিরলে ৭ বইস্যা কইতাম মনের কথা ॥ ২৪ পক্ষী যদি হইলো কন্যা হইও পক্ষিনী। উড়িয়া বুড়িয়া কহিতাম দুঃখের কাহিনী। নদী যদি হইলো কন্যা তুমি হইও পানি॥ ২৭ শুয়া যদি হইল কন্যা তুমি হইও সারি। ভমর যদি হইলো কন্যা হইয়ো ভমরী॥ ২৯ দুষমন ১ মানুষ জন্ম কন্যা আর নাই সে চাই। জিয়নে মরণে কন্যা তোরে যেন পাই॥ ৩১ কন্যার খেদ ও মৃত্যু কান্দে সুন্দর কন্যা প্রভো ২ কোলে লইয়া। অল্প কালেট প্রভো গেলারে ছাড়িয়া॥ ৩৩ পাষণ্ডি তোমার বাপরে বন্ধু দুষমনি ৩ করিল। গাবরিয়া দেশে বন্ধু তোমারে পাঠাইল॥ ৩৫ মানা ৪ না শুনিলে বন্ধুরে হইল বিপরীত। কেমনে ভুলিব বন্ধু তোমার পীরীত॥ ৩৭ গলায় পুষ্পের মালারে বন্ধু না হইল বাসি। এক দণ্ড না দেখিলাম বন্ধু তোমার মুখের হাসি॥ ৯ মাও বাপ রাজ পাটরে বন্ধু রে পায় না ঠেলিয়া। বনবাসী হইলা বন্ধু আমার লাগিয়া॥ ৪১ সুন্দর রাজার पुत्रরে বন্ধু আমিত ডোমিনী। হেলায় হারািলাম রত্ন আমি অভাগিনী॥ ৪৩ ভালবাস রে বন্ধু চক্ষু মেলি চাও। মরিবার কালে বন্ধু কিবা কইয়া যাও॥ ৪৫ উঠ উঠ পরাণ বন্ধুরে মোরে না তাড়াও ১। মাটীতে শুইয়া কেন বন্ধু কষ্ট পাও॥ ৪৭ বুকেতে লইয়া বন্ধুরে দূরেতে পলাই। গাবরের দেশ ছাইড়া ভিন্ন দেশে যাই॥ ৪৯ সংসার সায়র বন্ধুরে মোর আর কেউ নাই। হাসী মুখে কউ কথা পরাণ জুরাই॥ ৫১ এক রাত্তি না বঞ্চিত্ম বন্ধুরে সুখ সম্মানে। এই সে দুঃখ রইল বন্ধু আর সে দুঃখ নাই। তোমার চরণে বন্ধু দিও মোরে ঠাই॥ ৫৪ একদিন না করিলামরে বন্ধু ভালমতে ঘর। আপন হইয়া বন্ধু আইজ যে হইলা পর॥ ৫৬ দেহার মধ্যে পরাণরে বন্ধুরে পরাণের মধ্যে হিয়া। আগে যদি জানতাম তোরে রাখতাম লুকাইয়া॥ ৫৮ বুকের কালিজা বন্ধুরে হৃদয়ের তুমি শাল। কার ঘরে কইছিলাম চুরী কে দিল রে গাল॥ ৬০ দারুণ গাবরিয়া বন্ধুরে বধিল পরাণ। এহি বিষ খাইয়া আমি ত্যজিব পরাণ॥ ৬২ সোনার বরণ বন্ধু রে বিষে হইল কালি। এমুন আশায় মোর কেবা দিল ছালী॥ ৬৪ আমি যে মরিব বন্ধু রে তাতে দুঃখ নাই। জিয়নে মরণে বন্ধু তোমারে যেন পাই॥ ৬৬ অভাগ্য ডোমোর নারী সফল জীবন। রাঙ্গা পায়ে মাথা রাখ্যা হয় যেন মরণ॥ ৬৮ নিতাই চান্দে ডাক্যা কয় যমে ভয় নাই। পরাণের পরাণ মিশে পুনঃ জন্ম নাই॥ ৭০ আসল পিরীতি দেখ যেই জন চায়। দুই অঙ্গ মিলাইয়া এক হইতে চায়॥ ৭২