অণ্ডশন কইন্যা

রংপুর গীতিকা - বদিউজ্জামান

অণ্ডশন কইন্যা

কাহিনী শুরু যাওয়া অণ্ডন নামোতে কইন্ত্য।
পশ্চিম দ্যাশোতে রে
( মোন মোর মজিলো রে ও মায়াজালে )
চাঁদ সুরুজের নাহান কইন্ত্য।
দিনে আইতে জলে রে
( মোন মোর মজিলো রে ও মায়াজালে )
সয়াত্ত র কোশ জুড়িয়া সেই
পশ্চিম দ্যাশো ধরে রে
( ও মোন মোর মজিলো রে ও মায়াজালে )
শওরের চাইয়্যো পাকে
বোরমাজালে ঘিরা রে ।
( ও মোন মোর মজিলো রে ও মায়াজালে )
সইনজাকালে ঘরে ঘরে
বাতি নাগার মানা রে
চউরাহা সপ্তম দুয়ারী
সাত তল মোট রে ৷৷
সইনজা নাইগ লে অণ্ডন ভানু
চড়ে সেই মোটোতে রে
আইতো যেমন আলো দেয় চাদ
জ্ঞগোত সংসারে রে ।
( মোন মোর মজিলো রে ও মায়াজালে ) অই ধেরান আলো দেয় কইন্যা পশ্চিম দ্যাশোতে রে সইন্‌জা হাতে আইত দোপোর তিক থাকে তাঁই মোটোতে রে ॥ নিশুতি হয় নগরবাসী নিদোঁতে বেভোর রে তিশিব্বিয়া শোতে অগ্শন নিজেরো মহোলোত্ রে। ( মোন মোর মজিলো রে ও মায়াজালে ) নিজে आजा হয়া কইন্যা বহিস্‌চে তাঁই দরবারোত্ রে ! নাজীর উজীর তামানৈ সইগ বেটি ছাওয়ার কারখানা রে ॥ সুকোতে তাঁই চলাই আইন্দো আজার আজকুমারীরে অবিরাম্ভা আচে কইন্যা ন। বইসে তাঁই সাদী রে। ( মোন মোর মজিলো রে ও মায়াজালে ) তিবিশ বচ্চোর বস হইচে কইন্যার দ্যাকিতে যোবোতি রে সতিয়ার জন্মে কইন্যার চাইরোপাকে দোয়াই খাটে রে ॥ যেই জোনে বিয়ার কত। কয় আসিয়া রে কাটিয়া তারে মাতা নটকে দেয় দরবারে রে ॥ ( মোন মোর মজিলো রে ও মায়াজালে ) এ্যাক এ্যাক কইরতে সেও কতা ছড়ে গ্যালো দুনিয়ার রে ফকির এ্যাকজোন আইলো দ্যাকে। জালাল সাদুর আগোত্ রে ॥ অণ্ডশন ভানুর কতা দ্যাকে। শু নিলো জালালে রে অণ্ডশন ভানুর নাম দ্যাকে। যিদিনে শুনিলো রে ॥ ( মোন মোর মজিলো রে ও মায়াজালে ) জল্মের মতোন তাই পোর্তিগ গা করিলে। রে হয় সে জেবোন পটাইকে নাতে কইল্যাক পাইবে রে ॥ দ্যাকির‍্যা কইন্যারে। ছবি জেবোন পটাইবে রে কি কইরবে জালাল সাদু বিবিকে বলিলো রে। ( মোন মোর মজিলো রে ও মায়াজালে ) শোন বিবি কতা মোরে বিদ্যায় দেও আমারে রে ভাংগিয়। কও মোনের কতা শোনেক নিজের কানেরে ॥ অণ্ডশন ভানু নামে কইন্যা পশ্চিমেঁ- মুলুকে রে সেই বা কইন্যাক সপ্নোতে দ্যাখিয়া মোন বা উড়াঙ পাড়াঙ করে রে ।। ( মোন মোর মজিলো রে ও মায়াজালে ) তিনো মাসের জন্মে বিদ্যায় স্থাহো না করিয়া রে তিনেঁ- মাসো বাদে বিবি আসিম মুই ঘুরিয়া রে ।। আল্লা চাহে অণ্ডশন ভানুক করিয়া দেমেঁ দাসী ডাইনোত্‌ বসি কইরবেন বিবি সুকের সংসার খানি । ( মোন মোর মজিলোঁ রে ও মায়াজালে ) এই কতা শুনিয়া বিবি কান্দোন জুড়িয়া দিলো আহা রে নিদারুণ পতি মোর ও পতি পরলোভাবী হইলো । ( ও আহা কি আহা রে ) এ্যাক গাচে। দুই বা কুড়াল না মারেন যে তুমি দুই নৌকাত পাইকলে পাউ সাগোরোত্‌ মইরবেন ডুবি । ( ও আহা কি আহা রে ) না যান না যান সোয়ামী হামাকে ছাড়িয়া অভাগিনিক বন্দিয়া গেইলে না আইস্পেন ঘুরিয়া। ( ও আহা কি আহা রে ) কপালোত্ যার আচে দুদ্ধোরে কাঁই খণ্ডৈবার পারে দুই পাওয়ে হাটিয়া যায় সাধু আইনা যমেরো দুয়ারে ॥ ( ও আহা কি আহা রে ) না দ্যাকে তাঁর কারো দিকি না দ্যাকে বউয়ের মুক ওরে বাইর হয়া প্যাল্যো সাধু কালা করিয়া মুক। ( ও আহা কি আহা রে ) যকোন বারাইলো সাধু মোর সাজিরায় গুজিয়া বাঙ পাকে বসিল মাচি বোন বোন করিয়া। ( ও আহা কি আহা রে ) যকোন বারাইলো সাধু রে কইন্যাক ছাড়িয়া শাও দিনে আইনা কইন্যায় গোম্মাতে জলিয়া। ( ও আহা কি আহা রে ) অণ্ডশন বলিয়া যবোন সাধু বাড়েয়া দিলে পাও শুকান ডালোত্ পড়িয়া কাগা
বলে খাও রে খাও।
( ও আহা কি আহা রে )
শুকান ডালোত্ পইলো কাগ। রে
ডাল বা ভাংগি গ্যালো
সেই ডাল পইলো দ্যাকে।
সাদুর মাতারো ওপোরি।
( ও আহা কি আহা রে )
কুযাত্রা হইলো সাদুর
তাকো নাই রে জানে
বাইরা খুলিত্ঁ যায়া দ্যাকে
শুয়ো কলসী কাকে।
( ও আহা কি আহা রে )
ছাড়িলো দ্যাশের বাড়ী
সাদুই ছাড়িলো বাপো ভাই
অদ্দেক ঘাটাত যায়া বা সাদু মোর
করে বা মঁাই মঁাই রে।
( ও আহা কি আহা রে )
আজদাহা এ্যাক সাপ দ্যাকে। রে
ধরিয়া তাই যে ফেন!
সাদুকে ধইএবার বুলি সাপ রে
সামনোত্ আসি হইলে। খাড়া।
( ও আহা কি আহা রে )
ধরিয়া সাদুর পাও
তাই টানে ওঁদোর মুখে কান্দিয়া কয় অঙশন ভানু
না থাকিনু তোরে।
( ও আহা কি আহা রে )
গিলিয়া খাইলে সাদুক
পাহাড়িয়া সাপে
ছি মুরুগ ছেঁ। মারি সাদুক
নিয়া যায় আস্ মানের দিকে।
( ও আহা কি আহা রে )
ভাসাত্ আচিল দুকনা বাচ্চা
আহারের নাগিয়া
দুই বাচ্চাকে খিলাইল সাপোক
বাচিয়া চিরিয়া।
( ও আহা কি আহা রে )
সাপ সুন্দায় গ্যালো সাদু রে
সাপেরো ওদ্দোরে
খোঁজ না পাইলো কেউ তার
আল্লারো মেহেরে।
( ও আহা কি আহা রে )
তিনেঁ। মাসো থাকে সাদু রে
অইনা সাপেরো ওদ্দোরে
উড়িয়া চলিলো মুরুগ
অইনা নদীরো বাতাতে।
( ও আহা কি আহা রে )
এ্যাক বিশাল বালুচরোত্ যায়! মুরুগ আর যাবার
পায় না।। সেত্তেই পড়ি মুরুগ কাল্লা আচড়ায় আর কান্দে।
২৯— কানতে কানতে কয় : মুই কোন আজিনিস আহার করনু। আর বুজিকেল মোর জেবোন বাচে না। মুরুগ হেই জাগাত্ পড়িয়া গড়াগড়ি কইরব্যার নাগিল। এ্যামোন সোমে আইলো এ্যাক জংলির দল। তাম্রা দুনিয়াত্ যে যে জিনিস আচে, তার কোন কিছুই ছাড়ে না। পইক্, পকালী, কুত্তা শিয়াল, বেজি, কাকড় কুচিয়া যেটা যে সোমে মুকে আগোত্ পড়ে, তার কোনোটায় ছাড়ে না। ঐ মুরুগ ধরিয়া ছিড়ি হটিয়া সউগ গোস্ত ভাগ করি নিলে। এ্যামন সোমে দ্যাকে ভোত্রোত্ একটা সাপ। সাপ দ্যাকি তাম্রা খুশি হইলো। ক্যানে না সাপ তামার খুবে ভালো আহার। কুলকুলা হয়া তাম্রা সাপ কাইট- প্যার বসিলো। কাইটপ্যার বসি দ্যাকে ভেতোর হাতে এ্যাকটা মানুষ বারাইল। এই জংলির ঘরে মাইন্ষের ওপুরোত্ খুবে মহোব্বত। এই মানুষ পাইলে তাম্রা যত্তোন করি পালে। সেই জন্মে তামরা কল্লে কি মানুষ কোনা না নিয়া বাড়ীত্ গ্যালো। গাওতাও ধোয়া দ্যায়, ভালো ভালো ফুল ফল খিলায়। যতই দিন যায়, ততই খুব সোন্দান্ব চাহারা হয়। জংলির দল। দ্যাকিয়া খুশির ওপুরোত্ খুশি। এই দ্যান ভাবে কিছুদিন যায়। অই জংলির সদ্দার তার আচিল এ্যকনা বেটি। জংলির আশা অই বেটি কোনাক দিয়া বিয়া দিয়া জামাই কইরবে। পাত্তোরে যদিকেল এ্যাকলায় এ্যাকটা বাগ ধইরব্যার পায় তেইহিলে বিয়া হয়। যাইবে। এ্যাক দুই কইরতে কইরতে থকোন জংলির বেটি শিয়ানা হইলো, তকোন বিয়ার দিন তারিক করিলে। বিয়ার আগের দিন পাত্তোরের ধইরবে, পাত্তোরী বসিয়া দেইক্‌পে। যদিকেল বাগ ধইরতে কোন জাগাত্ জকোম হয়, তেহিলে খুব শক্তিশালী পাত্তোরী হইলে তাক মনোত্ নাগায় না। সিদিন বেটিক আর জালাল সাদুক এ্যাকসাতে ভীষণ এ্যাক জংগোলোত্ দিয়া পটাইলো। সেই জংগোলোত্ যেটায় চান সেটায় আচে। অই জংলোত্ থাকে একদল পরী। তাঁরী এ্যামোন স্যামোন পরী নেঁয়ায়। জেনের ঘরোত্ যে কইন্যা জলমে তাম্রাঙ পরীর নাহান, উড়ব্যার পায়। এ্যাকদল জেনের বেটি অই জংলোত্ বহুদ্দিন হাতে থাকে। যকোন দোনজোন অই জংলোত গ্যালো, জংলোত যায়া দ্যাকে, এ্যাকটা কেন্ডুয়া রাগ আর এ্যাকটা ব্যাড়া ভাঙ্গা। তামরা এই যে হুড়াহুড়ি নাগাইচে সেটকার মাটি খুড়িয়া থল পাতাল করি ফ্যালইচে। থাপাতে গাওয়ের চামড়া ছিড়ি ছুটি অক্তের ঢেউ খেইলব্যার নাইগচে। পাত্তোরী কইলে এই দুই বাগের মারামারি ভাংগি দিয়া এই ব্যাড়াভাঙ্গা বাগোেক যদিকেল ধইরবার পান তে হইলে এত্তেই হামার বিয়া হয়। যাইবে। এই কতা শুনি জালাল ভয়েতে দল দল করি কাপে। তাঁই মোনে মোনে কবার নাগিল যা আগে পাচে তো মরোন। কেস্ত মোরো তো ব্যাটা ছাওয়ার মোতোন মরিম। বেটি ছাওয়াগুলার নাহান হয়। এই পিতিমিতি বাচি থাইক্‌প্যার নত্ত। এই কতা না করা পেন্দনের তওবন্দ কাছাটা করিয়া হাতোত এ্যাকটা ব্যাতের ছড়ি নিয়া মারমার বুলি যাবার নাগিল। যায়া দ্যাকে মারামারি কইরতে কইরতে দুই জোনকার চউক দুটি যায়া কানা হয়া গেইচে। ড্যাকিয়া জালালে কয়: এই সোমে মোর ‘কারদা। ব্যাতের ছড়ি ঘুমিয়া ব্যাড়া ভাঙ্গার মিজ্জারী ছাঁদিয়া এ্যাক বাড়ি বাইড়াইল। এ্যাক বাড়িতে গোস্ত ছ্যাদ করি হাড়োত্ যায়া বসি গ্যালো। হাড়োত্ বইসা ব্যাত তাঁই কি অল্পতে উটপ্যার চার। গুটেন। গুটেনা ড্যাকি যেই এ্যাকটা টান দিচে অমনি ব্যাড়া ভাঙ্গা চেতোর হয়া পড়ি গ্যালো। কেম্পুর বাগে টের পায়া এই যে, ছ্যাচড়া দউড় মার্রিলো। আর তাঁই ইতি উতিও দ্যাকে না। এই যে কাল্লা তিরভিন কইরচে, আর কাল্লা হালায়ও না। ইতি কল্পে কি, ব্যাড়া-ভাঙ্গার হাত-পাও না বান্দি কইন্যার মুখের আগোত্ নিয়। আসি ফ্যালে দিলে। যকোন এই ব্যাপার কইরচে ফুলের গাছ হাতে সাতজোন জেনের কইন্যা সউগে দ্যাকিল। তামার ভেত্রোত্ এ্যাক কইন্যা আচিল, নাম হইলো জরিনা কাঞ্চন, সেই কইন্যা এ্যাক নও-জাতে আসিয়া এ্যাক থাপা দিয়া জালাল সাদুক ওপ্রোত্ তুলি নিলে। ফুলের গাছের ওপ্রোত্ তুলিয়া সাতো কইন্যায ঘিরি বসিয়া নানা থেরান মজাক তিসকারি করে। জংলির বেটি অই গাছের গোরেত্ যায়া কাইদব্যার নাগিল। সেস্তেই আচিল এ্যাক আজদাহা ভালুক তাঁই নাপ দিয়া দিয়া আসি জংলির বেটিক ধরিয়া খাবার নাগিল। গাছের ওপোর হাতে জালাল সাদু কয়: আর অইঞ্চা কইরবার পানু না বইন। মুই হইচোঁ পরীর হাতোত্ বন্দি। এই ভাব দ্যাকিয়া সাতো পরী জালাল সাদুক নিয়া কুঙ্কোট নগোর ভুলি উড়ি গ্যালো। সেই নগোরোত্ কোনোয় মানুষ নাই খালি জেনের বসোবাস। জালাল সাদু সেত্তেই কিছুদিন থাকে। সাত কইন্যাক নিয়া ডিগরি ব্যাড়ায়। সাতজোন কইন্যার ভেতোরোত্ জুরিন। কানচোনে জালাল সাদুর পেয়ারী তঁাই এ্যাকনা সোমায়ের জম্যে ছাড়াছাড়ি হবার চায না। এ্যাকদিন নদী ফিরব্যার বুলি জালাল সাদু ভাগি গ্যালো। এ্যাকদিনে তাঁর জেনের আইচ্ছো পার হয়া ডাকাইতের দ্যাশোত্ গ্যালো। সেই জাগাত পাহাড়ের চিপায় চিপায় ঘাট। আর সেই চিপায় চিপায় ডাকাইতের দল বান্দিয়া থাকে। এ্যাকদল ডাকাইত অজুগবী জালাল সাদুক আসি ঘিরি ফ্যালাইল্। ভয়েতে জালাল কাইদ্যার নাগিল। কাইদলে কি আর ডাকাইতে মানে? জালাল সাদুর সাথে ত্যানা-টোকুয়া আছিল্ সউগ কাড়ি ছিড়ি নিয়া উয়াক ঘাড় ধরি খ্যাদে দিলে। খানিক দূর হাটি যায়া দ্যাকে মাইনষের বসবাস। সে দ্যাশোত্ এ্যামোন চলোন, তিনদিন যদিকেল কেউ না খায়াও মরে তাতো কেউ কাকো এ্যামনি খাবার দ্যায় না। সগলে হইলো কামের মানুষ। সগলে এ্যাকটা না এ্যাকটা কাম করি খায়। সউগ যায়া থুইয়া জামালের সাতোত্ আছিল্ এ্যাকখ্যান ধুতি আর, এ্যাকখ্যান আংগা। কল্পে কি, আংগাটা তাই সাতকোনা ট্যাকাত্ বিক্রি না করিয়া গোয়াল সাজিল। দই বিকায় আর দই বিকায়। যা পায় জামালে তাকে খায় আর পশ্চিম মুলুক বুলি যায়। যাইতে যাইতে এ্যাকসোমে যকোন ধান্ধা নাগি যায়। কোন জাগা হাতে কোন জাগাত্ যাইবে তাক আর কবার পায় না। তকোন তাঁইযে মাইনষোকে পায়, সেই মাইনষোকে পুচ করে পশ্চিম মুলুক কুতি? আর কোন ফাঁয় যাওয়া নাইগবে? কেউ কবার পায় আর কেউ কবারে পায় না। এইদ্যান কইরতে কইরতে পশ্চিম ছাড়া আর কোনদিকি ঘাটা হাটে না। হাইটতে হাইটতে এ্যাক মাস হাটি যায়। পাইলে এ্যাক অগোম দরিয়া। সে দরিয়াত নাও জাহাজ কোন কিছুই নাই। ও পারোত্ কিবেন আচে আর কিবেন নাই তার কোনটায় দিশ্ পাওয়া যায় না। নদীর বাতাত্ নাবঁসি জালাল সাদু অওশনের নাম নিয়া কান্দে। যিদিন জাল পলেয়া আইলচে, সিদিন হাতে জরিনা কাঞ্চন সাতজোন দাসীক ভঁায়, যেটেই পাবার নাইগচে। সেত্তেই উটকি ব্যাড়বার নাইগচে। উটকি ব্যাড়াইতে ব্যাড়াইতে কোন জাগাত্ না পায়া শ্যাষের সোমে অই জংগোলের মুড়িত্ আসিয়া জালাল সাদুর নাম নিয়া কাইদব্যার নাগিল। কাইনদে কাইনদে অজগুবী মোনে হইলো জালাল সাদু নদীর বাতাত বসিয়া টুলটুলা হয়া কাইদব্যার নাইগচে। অজগুবী জরিনা কানচোন কল্লে কি উয়াক না পিটির ওপরোত্ তুলি নিয়া উড়ি যাবার নাগিল। উগলা কইঙ্গা পাচোত পড়ি অইলো। বেষোম এ্যাক জঙ্গলের ভেতরোত যায়া কইন্যা ভোকোতে যাবারে পারে না। এ্যাক গাছের গোড়োত নামিয়া জরিনায় কইলে তুই এতেই থাকিস মুই কিছু ফলমুল নিয়া আইসোঁ। কইন্যার সে কতা এ্যাকনাও পত্তেক করে না। কইন্যার মাতাত আছিল দিগ্ লা পাচ হাত চুল, মাতা হাতে এ্যাক গোপা না চুল উকড়ি নিয়া সেই চুল দিয়া তিন জাগাত তিনটা বাদোন দিয়া জালালোক সেই জাগাত ফ্যালেয়া আকিল। সেই চুল খসেয়া হবার তার আর কোন বলে আইলো না। জরিনা এ্যাক পাও দুই পাও করি যাইতে যাইতে দুই কোশের নাহান চলি গ্যালে!। আল্লাহর উয়ার কপালৌত আইক্ছে দুঃখো তাই কি আর সুক হয়? কইন্যা যকোন জংলোত গ্যালো সেই সোমে তুগান শওরের ভাটু আজা, সুমসেনা নিয়া শীকার করব্যার বুলি আলছিল। শীকার কইরতে কইরতে অজগুবী তাঁই দ্যাকে, পুন্নিমার চাদের নাহান এ্যাকজোন কইন্যা কি গাছে গাছে কিবেন উটকি ব্যাড়বার নাইগছে। কইন্যা দ্যা কি ভাটু আজার আর হুস ঘুশ নাই। সুমসেনাক হুকুম দিলে এ্যালায় সগলে মিলি ঘিরাও করি ন্যাও। এই কইন্যা যদিকেল ধরি দিবার পান তে হইলে সাত সালের খাজনা মাপ। আর যার মুড়ি দিয়া উড়ি যাইবে তার বিচের নাই। বিনি বিচেরেই মণ্ড নটকামেঁ। দ্যাকো দেওয়ান—
ফুল খাবার বুলি আইলচে পরী
পরীস্তান থাকিয়া
মানষের গোল্প পায়া পরী
এ্যালায় বুজিল যায় ভাগিয়া।
তকোন,
নাজীর উজীর শুয়ালদার হাওয়ালদার পাইক পিয়াদা
সগলে চাইরো পাকে ঘিরি নিলে।
জরিনায় ভাবনা কইরব্যার নাগিলঃ মুই এ্যালায় হেটেই
হাতে যদিকেল পলে যাওঁ তে হইলে এম্রা এ্যালায় যায়া
সাদুক ধরি নিয়া আইস্পে। যাউক সেটা হবার হইবে।
মুই আর দুক্কো দিবার নওঁ। এতেই হাতে না যায়া সাদুর
গার বদোন হোস্কে দিয়া বাতাসের সাতে মুই উড়ি
যাইম।
এই কতা যকোন ধারোনা করিল, উতি ভাটু আজায়
হাজারে হাজারে দোনালা বন্দুক ঘেগে নিলে।
কইন্তায় খালি কবার নাগিলঃ
হায়রে উড়্যার সাতে তো মোক এ্যালা গুলি কইরবে, মুই
এ্যালা যাওঁ কোন ফাঁয়? না উড়লেও তো ভাটু আজায়
বন্দি কইরবে। এইগলা মোনে করি কইন্তায় আর উড়াইলে
না। ভাটু আজায় আসি বন্দি করি নিলে। কইন্তাক নিয়া
যায় আর কইন্তার চউকের পানি শাড়ীর আচোল ভিজি
পড়ে।
যাবার সোমে খালু জালাল সাদুক কয়। গ্যালো জল্মের
মোতোন তোক ছাড়ি গেনু, মোর মাতায় চুল আছে তোর
কাচে কোন সোমে অই চুল ছাড়িস না। অই চুল যদিকেল তোর সাথে থাকে, তে হইলে, বাগ ভাল্লুক, হাতি ঘোড়া, আগুন পানি কোনটাতেই মরোন হবার নয়! আর এ্যাকনা কতা, মোক ছাড়া তোর সেই অশ্বন ভানুর মন্দিরের ভেতরোত কেউ নিয়া যাবার পাবার নয়। যদিকেল মোক উদের কইরবার পাইস, তে হইলে ভালো। আর যদিকেল না পাইস তে হইলে মার ছাওয়া মার কোলোত ঘুরি যাইস। জরিনাক তো নিয়ায় গ্যালো। জরিনার যাওয়া দ্যাঁকি জালাল হাত ঠ্যাংগের বাদোন না হোস্কেয়া সেই চুল সোপা না হাতোত নিয়া যে মুকে মুকে জরিনা কাঙ্কন গেইচে সেই মুকে যাবার নাগিল। জংগোলের বাগ ভাল্লুক আইসে জোরে জোরে উয়াক খাবার বুলি কেস্তমুড়ি ত আসি সউগগুলা ছালাম করি ভাগি ভাগি যায়। তকোন জালালে দিশ পায়া কবার নাগিলঃ কইন্টার চুলের গুণে মোক কোন কিছুই খায় না। তকোন কল্পে কি, চুল গোপা পাক না দিয়া এক্কেবারে এ্যাক গোপা গলাত্ দিলে আর এ্যাক গোপা দিলে কমরোত ছিকাই করিয়া। বাগ ভাল্লুকে আর খায় না দ্যাঁকি মোনৌত খুব সাওস হইলো। দিন আইত এ্যাকাাকার করি খালি দক্ষিণ মুল্লো- কোত যায়। জরিনা এ্যামোন চালাক যে ফঁায় যে ফঁায় তাই গেইচে ফি গাছোতে এ্যাকটা করি চুলের নরা বাদিয়া থুইয়া গেইচে। চুল না দ্যাঁকি জালাল সাদু কুলকুলা হইলে। গালার চুলের সাথে মিলার করি দ্যাকে। এ্যাকে চুল। তকোন জালাল সাদু খাওয়া দাওয়া না ফাম পাশরি যারা দিন আইত একাকার করি অই নিশান ধরি ক্যবোল যাবার লাগিল। যার যায় জালাল সাদু ঘুরি ঘুরি চায় না জানে কোকোনখেন মোর কোন বা দুক্কো হয়। ভোক নাইগলে না খায় ভাত খালি গাছের পাতা খায়। জরিনা জরিনা বুলি সাদু ব্যাড়ায় কান্দিয়া।। দিন আইত একাকার করি যকোন যায় যাইতে যাইতে মুকের আগোত পাইলে কলের দরিয়া। বাপরে বাপ, কলের দরিয়া য্যামোন কামে তার সেইস্থান। এ্যাক জাগাত আগুন আর এ্যাক জাগাত পানি আর এ্যাক ঠাই ধুমা। এই দ্যান না দ্যাক্রিয়া জালাল সাদু ভয়েতে কাইপব‍্যার লাগিল। কাইপতে কাইপতে দ্যাকো সাধুই মোনাজাতো করে। তঙ্কো হাতে ধনি আল্লায় পাইলো জানিবারে। আল্লায় কয় যাওরে জিবরিল শিয়ালের উপ হয়া। কলের দরিয়া পার হও দুই পাওয়ে হাটিয়া। তকনে তকনে গ্যালো জিবরিল জামালের আগোতে শিয়াল হয়া বা তাঁই পার বা হবার ধরে। শিয়ালোক না দ্যাকিয়া জালাল ঝাপ দিয়া উঠিল। ঝাপি না উঠিয়া তাঁই কবার নাগিলঃ বাপরে বোনের এ্যাকটা শিয়াল তাঁইও এইদ্যান এ্যাকটা দরিয়া হাটিয়া পার হবার নাইগচে, মুই মানুষ হয়া এত্তেই বসিয়া কাইদ্যার নাইগচৌ ক্যামোন। মোর কি এন্তু এ্যাজলাও’ তিক’ নাই। নাই নাই তিক মোর কি গাউয়োত এ্যাকনা বল নাই। এই কতা কয়া জালাল বিসমিল্লা বুলি পাও বাড়ৈয়া দিলে। এ্যামোন এ্যাকটা কলের দরিয়া যার পানির কোন খাও নাই, সেই জাগাতে জালালের এ্যাক হাটু পানি হইলো। এ্যাক হাটু পানির ওপর দিয়া জালাল সড় সড় করি পার হয়া গ্যালো। ওপারোত যকোন পার হয়া গ্যালো বালুচর দ্যাকিয়া জালালের কইলজ। কাইপব্বার নাগিল। কাইপলে কি হইবে। তাক যাওয়া নাইগবে। সেই জয়ে তাঁই খুব জোরে জোরে হাটি যাবার নাগিল। য্যামোন অইদ সেইদ্যান বালাই গরোম। সেই অইদ আর বালার ৩ মইদো দিয়া যায়া জালালের গাওয়োত আর অক্তো অইলো না। ব্যাহস হয়া বালার ওপরোত উলটি পড়ি গ্যালো। গোল মেহেরি নামোতে কইন্যা দেবোস শওরৌত ঘর সাতদিন বাদে বাদে যায় কইন্যা দ্যাবোরো শওর। ১. একটুও ২. জেদ। ৩. বালুর অইপাকে৪ যকোন গোলমেহেরী উড়িয়া যায়, যাইতে যাইতে দ্যাকে, ইচল্যামাচের মোতোন বালুচরের মইদোত এ্যাকটা মানুষ কাইপপ্যার নাইগচে। মানুষটাক দ্যাক কইনয়ার মোনোত খুব দয়া হইলো। গোলমেহেরী মোনে মোনে কবার নাগিলো : মানুষ বেপোদোত পইড়চে দ্যাক যদিকেল ছাড়ি যাওঁ তে হইলে ছোলেমান পয়কামবরের আগোত মুই কি জওয়াব দেইম। তকোন গোলমেহেরী কইন্যায কল্পে কি, অত না অই জাগাতে নামেয়া সেই তরের মইদোত জালালোক তুলি নিয়া দেবোস শওরোস গ্যালো। দেবোস শওরের খলক আজা মাইনষের ওপরোত খুবে দয়াবান। তাঁই যদিকেল কোন সোমে মানুষ পায় তে হইলে তাকে তাঁই ব্যাটার সোমান করি পালে। যিদিন গোলমেহেরী জালালোক নিয়া গেইচে সিদিন হাতে খলক আজার এই যে উন্নোতি হবায় ধৈরচে। চইতোর পাক হাতে ধনমাল ট্যাকাপইসা সতের মোেত আইসপ্যার নাইগচে। জালালোক কপালী মোনে করি আজায় তামাল দিনে আদোর করে আর যাঁই আইসে তারে আগোত কয়: মুই আর হেটেই তাতে জালালোক যাবার দিবার নওঁ। দেইকতে দেইকতে অনেকদিন গ্যালো। এ্যাকদিন খলোক আজায় জালালের সাতে গোলমেহেরী বিয়া দিলে। গোল- মেহেরির সাতে বিয়া দিয়া খলোক আজায় নিজের আইদ্ধো জালালের নামে লেখি দিলে। ৪. ঐ পার্শ্বে। জালাল দিকিন হাতে নউতোন আজ্ঞা হইলে। সউগ আইজ্ঞের আজ্ঞা জালালের নাম শুনিয়া তাকে মনিব বুলি মানি নিলে। জালালের নামে দোয়াই ফির ব্যার্ নাগিলে। জালালের চাইরো পাকে সুকের কোনোয় অভাব অইলো না। সুক হইলে হইবে কি, সুকের ভেত রৌত_ থাকিয়াও জালাল অওশন কইন্যার নাম কোন সোমে ফ্যাম্-পাশরে না। এ্যাকদিন জালাল সাদু দরবারোত্ বসি দেওয়ানোেক ডাকেয়া কইলে : পশ্চিম মূলুকোত্ আচে ভাটু আজ্ঞা নাম তার ঘরোত আচে কইন্যা এ্যাক জরিনা কুান্ চোন। এ্যালা কতা হইলো, অই ভাটু আজ্ঞার বোগলোত পতরো ন্যাকেো। কতা শুনি দেওয়ান শ্যালায় এ্যাকখান পতরো না ন্যাকিয়া ভাটু আজ্ঞার বাড়ীত পটে দিলে। পতরো দ্যাক্ষি ভাটু আজ্ঞা খুবে ভাবিত হয়্যা গ্যালো মোর সুন্নোসেনা কিছুই নাই কি দিয়া এ্যালা মুই কি করিঁ। দ্যাকো যায়া নয়া আনী যদিকেল কোন বুদ্ধি দিবেব পায়। এই কতা কইতে আর মোতোন কাইন্তে কাইন্তে পতরো কোনা নিয়া যায়া নউতোন আনীর হাতোত দিলে। তারপাচে হাতোত না দিয়া গোয়াত মাতাত চড়েয়া তাঁই কবার নাগিল : ৫. ভুলিয়া যায় না দ্যাকেক আনী দেবোস শওরের জালাল সদাগর তোমাক জোর করি কাইন করি নিয়া যাবার চায় তাতে তোমার মত কি? কইত্যার কয় : দ্যাকে সোয়ামী ব্যাটাছাওয়া হইলো নিদয়া জাতি এ্যাকজলাও দয়া নাই তারে এ্যাকশো বেটিছাওয়া থাকে যদিল তাতো তাঁর্য আইরা বাইরা খোঁজে। মোকে কি তোমারে না হান পাইচেন? জাইত কুল সউগে তোমাক দিছোঁ, তোমারে হাতোত্ যেন মোর মরোন চিটীর ওত্তোর দেও। দ্যাকেঁাঁ দেবোস শওরের জালাল আজায় কতো শুর আইন- ব্যার পায়। কইত্যার কতা শুনি ভাটু আজায় যিগলা পাইলে সেইগুলা ল্যাকিয়া উত্তর দিলে। উতি কল্পে কি জরিনা কাঞ্চোন গোপ্ত চিঠি ল্যাকি কসেদের হাতোত দিলো। চিটিকোনা কাসেদের হাতোত দিলে।। চিটিকোনা কাসেদের হাতোত না দিয়া কহিলে এই চিটি কোনা নিয়া যায়া জালাল সাদুক দেও—দাকি তার কতো বড়ো খ্যাত।। ওপরোত গোমগোমা; ভেতরোত জালাল সাদুর চিটি পায়া কইন্ত্যা খুবে খুশি। পত্ত্রো নিয়া যায়া কাসেদ যকোন সেই পত্ত্রো কোনা দেবোস শওরের জালাল আজার হাতোত দিলে পত্ত্রো পড়ি জালাল আজা খুবে ভাবিত হইলো। না জানি ভাটু আজার কতোবেন শক্তি আচৈ, নাতে এ দ্যান সাণ্ডস করি তাঁই কি পত্ত্রো নেইকপ্যার পায়। কেনুতো জরিনা কাঞ্চোনের চিটি পড়ি তাঁই মোনে মোনে হাইসপ্যার নাগিল। হাইসতে হাইসতে তাঁই কবার নাগিল যাও কাসেদ এই চিটিকোনা নিয়া যায়া জেনের আজার হাতোত দিয়া আইসো। কতোদিন হাটি যায়া যকোন জেনের আজার হাতোত দিচে, চিঠি দ্যাকিয়া তাঁই বারুদের নাহান জলি গেইচে। ঘর সুন্দায় এ্যাকনা বেটি জরিনা কারুচোন সেই বেটিকে ভাটু আজায় কইরুচে বন্দুকোন। দেওয়ান সাজাও সুন্ন ভাটু আজাক মজা দ্যাকেরা দেমেঁ। হুকুম পাইতে আর মোতোন চল্লিশা কুটি পরীর সুন্ন এ্যাকবারে সাজিয়া গ্যালো। সগলে হাতোত এ্যাকখ্যান পাচশোমনি আর হাজার মোন্নি- পাতোর নিয়া মার মার শব্দো কইরতে কইরতে যায়া দেবোস শাওরোত পঁচিল। ইতি জালাল সাদু নিজেও চল্লিশ কুটি সুন্ন সাজোন করিল। সগলে মিলি যকোন যাবার নাগিল তকোন পাওয়ের বাড়ীতে হাজার হাজার মুনি পান্তোর ভাংগিয়া ছোরমা হয়া গ্যালো। আর যে ফাঁয় আশিল কুটি সুন্ন হাটিয়া যায় সেত্তেই মাটি না সরি যায়। দরিয়া হয়া যায়। আর যে ফাঁয় যাবার নাগিল চাইরো পাকের বেটিছাওয় ব্যটাছাও্যা বাড়ীঘর ছাড়ি দিয়া দউড়া দউড়ি কইরব্যার নাগিলে। বাওয়া সাজিলো জালাল আজা সুন্নের ঘরোক নিয়া, দেবোস হইলো আন্ধার সুন্নগণ দ্যাকিয়া।। ওপোনীত হইলো জালাল ভাটু আজার দ্যাশে কাইপ প্যারে নাগিলো জমিন স্বুয়োরো দাপোটে।। হায়রে বসিয়া আছিল ভাটু আজা পাত্ রোগনোক নিয়া, খবোর দিলো দরোয়ানীব্যাটা সামোনোতে গিয়া।। বসিয়া আছেন ভাটু আজায় দ্যাকোনা চাহিয়া, এইব্যারে তোমার আইঞ্জো দেমেঁ গারোদ করিয়া।। দ্যাগ দ্যাাগিতে জালাল আজা ঘিরাও করিয়াও নিলো, সাতহারা করিয়া তামান পাকে ঘিরিয়া ফ্যালাইলো। মাটিত্ হইলো জালালের স্বুয় ওপরেতে পরীগণ, নাকে নাকে ফিকি দ্যায় পান্তোর ওজনোতে হাজার মোন।। বাওয়া ভাংগিয়া দালানের চূড়া জইম্‌নোত্ মিশিয়া দিলো, বাড়ীঘর ছাড়ি নগোরবাসী দউড়াইতে নাগিলে।। কাঁই বা কার ডাক শোনে না চায়রে ফিরিয়া ছাওয়ার পোয়াতী দউড়ায় তার বুকের ছাওয়া ফ্যালে দিয়া ॥ হাজারোতে এ্যাকজনেঁা ভাই বাচিয়া না অইলো মহোল হাতে জরিনা কানচোন্ বাহির হয়া আসিলো ॥ হুকুম দিলো জরিনা বালী ভাটুক আজাক বান্ধিতে হাত-পাও তার বাদিল দ্যাকো তার নোয়ারো শেকোলে ॥ ধরা পইলো ভাটু আজা আপোদ মিটিয়া গ্যালো সেই তকতোতে জালাল সাদু তকতের আজা হইলো ॥ ভাটু আজাক ডাকেয়া কতা নাইগচে বলিবারে শোন শোন ভাটু আজা বিচার দ্যাকো মোরে ॥ কোটাল ব্যাডাক ডাকেয়া কতা হুকুম করিয়ায় দিলো হাজার টুক্রা করিয়া ভাটুক এ্যালায় তোমরা কাটো ॥ ৩০ — হুকুম পায়া জল্লাদ ব্যাটারে
বেলোম নাই যে করে
চামটি চামটি করিয়া ভাটুক
নাইগচে কাটিবারে।।
অই শওরের কুত্তা শিয়ালোেক
ভাগ করিয়ায় দিলো।
জুল্মের মোটোন ভাটু আজায়
এস্কের আগুন গ্যালো।।
য্যামোন কাম সেইন্যান সাজারে
নগোরবাসী বোলে
দেওরানোকে আইজ্ঞে দিলে আজ্ঞা
জরিনাক নিলো তাঁরা সাথে।।
আহা মোর জরিনা কাঞ্চোন
তুই নিদয়া রে হইয়া
ক্যামোন করি আচলু কইন্যা তুই
মোকে ফাম পাশরিয়া।।
উদ্ধের করিয়া কইন্যাক নিয়া গ্যালো রে
অই যে আপোনার শওরে
ওরে জরিনার আগোত যতো দুক্কো
নাইগচে বলিবারে।।
বিদ্যায় দেও জরিনা কাঞ্চোন
না থাকো মুই বসিয়া
কট্টাই আটে মোর অণ্ডন ভানু
দ্যাঁকো মুই উটকিয়া।। তাঁই হইলো মোর জেবনের জেবোন রে মুই হনু তারে কলিজা না দ্যাঁকিয়া সেই কইন্যাক মোর দুই চউক গেইচে অনন্দো হইয়া ॥ কতা শুনিয়া জরিনা ভানু কান্দে জারে জারে আহারে জাল সাদু তুই এ্যালাও নাই ভুলিস তারে॥ এ্যাকে হইলো অঙশন ভানু দেইক্ তে পুন্মিমারো চাদ তারে যদিকেল পায় সাদু না ফিরিবে আর॥ মোনোপ্ যতো আচিল আশা বরবাদ হুয়ায় গ্যালো পাও সাপটে ধরি সাতো দিনকার সোমায় ভালা নিলো॥ যাদুকর আচিলো যতো দেবোস শওরে, এ্যাক এ্যাক করি চলায় যাদু তামরা জালালের ওপোরে॥ না পায়া জরিনা কান্চোন গোল মেহেরিকে বলে তোমার সাদু চলিয়া যাইবে অঙশন ভানু কোলো ॥ এ্যাক দিনকার সাধু তোমার
আলচিল ১ এ্যাক দিনকার বুলি কোলে
সাতদিন বাদে যাইবে সাধু
না পাইবে আকিতে ।।
এই কতা শুনি গোলমেহেরি
কান্দে জারে জারে
আহারে দারুণ বিদি
বিদি মোর এই আচিল কপালে ।।
আহা বাপ মোর তকতের আক্রা
হয়া ক্যানে নিদয়া,
ক্যানে দিলেন বিয়া
এ্যাকদিনের সোয়ামীর হাতে রে ।।
মাও জনোনী কোলোত করি
আনিয়া দিলে মোর চউকের মনি
যাক না থ্যাকিলে মোর
বুক যায় ফাটিয়া রে ।।
ভাই বন্ধু কেহই নাই
এই বেপোদোত্ আসি খাড়া হইবে তঁাই
কোন দোষে সাধু
যাইবে ছাড়িয়া রে ।।
কাইদব্যার নাগিল ভানু ধুলাত পড়ি
শুনব্যার পাইলো আজার আনী
আইলো আনী ক্যabol
১. আসিয়াছিল। বিজলীর নাহান রে ॥ ( হায় হায় রে ) কতো মোতে বুদ্ধি দিলো যাদু বুলি জামাইক কোলোত্ নিলো আহা মোর চউকের পুত্ লা না যান ছাড়িয়া রে ॥ ( হায় হায় রে ) দিন যায় আইত হইলে। জরিনা গোলমেহেরী বোগলোত্ গ্যালো দ্যাঁটী হয়া কইন্যা দুইজোন বসিলো বোগোলে রে ॥ ( হায় হায় রে ) দ্যাকো সোয়ামী মোর মুখে তোমার নেবু ডাগোর গাচে সেই নেবু ওরে সোয়ামী দ্যাকোনা বোলেয়া রে ॥ ( হায় হায় রে ) তোমার বিচনা পাইড়চোঁ মুই মোর বুকের মাঝে, এ্যাকবার দ্যাকো চক্ষু ম্যালে, কি সুকের বিচনাত্ আচেন পড়িয়া রে ॥ ( হায় হায় রে ) কয় না কতা জালাল আজা চউক মুজি থাকে পাগলা হয়া, তাগুসিয়া১ কয় ক্যাবোল কটাই অণ্ডশন ভানু রে ৷৷ ( হায় হায় রে ) হাত ধরিয়া ডালিমোত স্বায় মরার নাহান সাদু পড়িয়া অয় মরা জিতা কইন্যার না পারে বুজিতে রে ॥ ( হায় হায় রে ) তুলিয়া স্বায় কোমলা বুকে স্যাং স্যাংগা২ হয়া সাদু পড়ে জমিনে, কাম কোরোধ নাই বুজিকেল তারো শরীরে রে ॥ ( হায় হায় রে ) দুই গাল কইন্যার পাতিয়া স্বায় দাত নাগিয়া সাদু পড়িয়া অয়, কাটাইয় দিয়া ডাকে সাদুর সেই দাত খসায় রে । ( হায় হায় রে ) ছলনা করি জরিনা বালী ডাকায় তারে সোয়ামী বুলি ওঠো ওঠো পানের সোয়ামী- আইলচে অণ্ডশন ভানু রে ॥ ( হায় হায় রে ) ১. বারে বারে । ২. যে পার্শ্বে রাখা যায় সেইভাবে। মোর নাম হইলো অংশোন ভানু তোর নাম শুনি উতালা তনু আসিমু দ্বাকিতে তোকে মাও বাপ ছাড়িয়া রে॥ (হায় হায় রে) অংশনের নাম যকনে শুনলো দড়বড়ে জালাল উঠিয়া বইস্লো। চাইরো পাকে চায়া দ্যাকে নাই অংশন ভানু রে॥ (হায় হায় রে) চউক ম্যালিয়া ভালো করি দ্যাকে নাই অংশন তার বুকের কাছে, টলিয়া পড়ে অইনা জালাল মরোন ভাবিয়া রে॥ (হায় হায় রে) অইনা ভাবে কতো দিন যায় দিন যায়। ভাই তিনেঁ মাস হয় তাতো সেই জালাল সাধু চ্যাতোন নাহি হয় রে॥ (হায় হায় রে) কি কইরবে আর জরিনা বালী গোলমেহেরিক কয় তাঁই ডাকি ইয়াকে নিয়া হাটো অংশনের মন্দিরে রে॥ (হায় হায় রে) অই দেলখোশ নামোতে বাশশা নোহাৱ বরমোজাল্লে দ্যাশ ঘিরা সাত তল্লা করিয়া বাশশা ঘিরাও করিয়া নিচে রে ॥ (হায় হায় রে) পইক পকালী যাবার না পায় হাজার হাজার সুন্ পহোরা দ্যায় থাকে সেই ক্যামোল চইন্দো তেউড়ি ঘরে রে ॥ (হায় হায় রে) চইন্দো তেউড়ি দলান থাকি দলান ছেদি উপ হয়া কইনযার তিন কোশ থাকিয়। কইনযার বাতি নাহিন নাগে রে ॥ (হার হায় রে)- সেই জাগাতে ক্যামোন করি যামে। চইন্দো তেউড়ি ক্যামোন করি কাইটমেঁ। ক্যামোন করিয়া দেমেঁ। সাদুক অশ্লন বালীর কোলে রে ॥ (হায় হায় রে) যা আচে কাপালোত্, ল্যাকা , অই নদী দুদে বিষ মাকা হাটে। নিয়া তাই তাক অশ্লনের শওরে রে ॥ (হায় হায় রে) মহোলোত্ নিরাব বুলি তদবীর কইরমেঁ। না পাইলে নিজের জান কোরবান দেমেঁ। বাপো মাওয়ের ঘরোত্ আর না আইসমেঁ ঘুরিয়া রে।। (হায় হায় রে) অই নিলো সাদুক কোলোত্ করি আসমান দিয়া দোন যায় উড়ি, এ্যাক পাজ্লানে গ্যালো দুইজোন অঙশন ভানুর দ্যাশে রে।। (হায় হায় রে) যকোন গ্যালো তাম্রা অঙশনরো দ্যাশে আকিল যারা সাদুক ফুলের বোনে দুই কইন্যা গ্যালো ক্যাবোল শওর ঘুরিবারে রে।। (হায় হায় রে) এ্যাক দুয়ারোত্ দরোয়ানী আচিলো সেই পাপী দেইকপ্যারে আচিলো দারোয়ানীর আগোতে কতা নাইগচে বলিবারে।। (হায় হায় রে) শোন দারোয়ান কঙ তোরে সাদী করো হামাক দুইজোনোক হামরা দুই বইন থাইকমেঁ। তোমার দাসী হয়া রে।। (হায় হায় রে) বেটিছাওরা দেইকলে ব্যাটাছাওয়ার লোভ বেশী লোভে দারোয়ান হইলো বন্দি পাচে দুক্ষো ব্যাটার না থ্যাকে গনিয়া রে॥ ( হায় হায় রে ) দুষ্টা নারীর মিটা কতা শুনিয়া ভোলে দারোয়ান ব্যাটা দুয়ার হোসকেয়া কইয়াক নিলো তাঁই ভেতরে॥ ( হায় হায় রে ) অই কতো ধের্বান ভংগিমা করে চিকরিয়া কইয়্যা জইমনে পড়ে মনু মনু বুলিয়া কইয়্য উঠিলো কান্দিয়া রে॥ ( হায় হায় রে) শোন সাহেব কতা মোরে অই বিষের জ্বালা না পাউঁ সহিতে আনেোঁ অউযোদ মোরে পটি বান্দো প্যাটের॥ ( হায় হায় রে ) দুষ্টা নারীর মিটা বাণী ভুলিয়া গ্যালো দারের দরোয়ানী পহোরো ছাড়িয়া দরোয়ান গ্যালো অউযোদ উটকিবাবে রে॥ ( হায় হায় রে ) সেইটেই হাতে গ্যালো কইন্যা আর এক দারে সেই জাগাত্ বেটিছাওয়া পওরা থাকে বেটিছাওয়ায় বেটিছাওয়ায় পুছাপুছি করে রে ।। ( হায় হায় রে ) কি কামে এ্যাস্তেই আইলে কাঁই তোমাক পঠৈয়া দিলে কও কও মো নের কতা নিজ জবান খুলিয়া রে ।। ( হায় হায় রে ) শোন দারোয়ান কওঁ বা তোরে আজায় দিলে এই কাগজ বানায়ে এ্যালা হাতে এই দারের পহোল্লা আমরা আইজকা হাতে তোমার ছুটি রে ।। ( হায় হায় রে ) তিনেঁ মাসের ছুটি দিলে। যায়া তোমার মাও বাপোক দ্যাকে। তিন মাস বাদে ও দরোয়ানী আইসপেন ঘুরিয়া রে ।। ( হায় হায় রে ) শুনি দরোয়ানী বিদ্যায় হইলে। চইন্দো দুয়ারের চাবী সউগে দিলে। গ্যালো দরোয়ানী আপোনারো দ্যাশে রে ।। ( হায় হায় রে ) চাবি যদিকেল হাতে পাইলো। চইদ্দো দার খুলিয়া নিলো। গ্যালো স্তাকো দুইজোন তংকান অঙশনের মহোলে রে॥ ( হায় হায় রে ) শুতিয়া আচে অঙশন ভানু পাইচলা মোটা কমোর সরু শুতিয়া আচে তাঁই যেন আসমানেরে। তারা রে॥ ( হায় হায় রে ) হ্যানকালে জরিনা বালী নিয়া আইসে তাঁই জালালোক তুলি শোতেরা দিলে জালালোক অঙশনেরো বুকোৎ রে॥ ( হায় হায় রে ) যকোন জালালে দেইকপ্যার পাইলো ব্যাহসোতে টলিয়া পইলো আগুন জলে ক্যান বা অঙশন কন্ঠই গ্যালো রে॥ ( হায়_ হায় রে ) কোমল। বুকোত্ হাতো দিলো দুই হাতো মিশিয়া গ্যালো কাপাসের তুল। যেন হাতোতে মিলাইলো রে॥ ( হায় হায় রে ) দুই গালোতে চুমা খায় হাওয়া মিঠাই বুলি মনে হয় বাতাস নাইগলে যেন যায় ও গলিয়া রে।। (হায় হায় রে) কানচোেন আর গোলমেহেরী তামসা দ্যাকে ত पाते থাকি নাহি জাগে এ্যালাও ক্যানে আজার আজকুমারী রে।। (হায় হায় রে) যকোন ভানুর আবেশ হইলো হঠাত অঙশন চ্যাতোন পাইলো জালালোক দ্যাঁকিয়া কইন্যা উটিলো জ্বলিয়ায রে।। (হায় হায় রে) হীরার ছোরা হাতোত্ নিলো জালালোক মাইরব্যার বুলি তইয়ার হইলে হ্যান সোমে কয় বা কতা পোষা ময়নাক ডাকেয়া রে।। (হায় হায় রে) কি করেন কি করেন ভানু না মারেন জালাল সাদুক এই* ছাড়ো সোয়ামী নাই তোর এ জগোত্ জুড়িয়া রে।। (হায় হায় রে) তালে নামা ছ্যাতেরা গনে’। গনিয়া দ্ব্যাকি চিতা করো না মারেন না মারোন তোমার যৈবোনের মোন চেরাগ রে॥ ( হায় হায় রে ) পকির কতা শুনিয়া ভানুর উড়াইলৌ যেন কইলজা খ্যানি তালে১ নামে দ্ব্যাকে। কইল্যায় নাইগচে গনিবারৌ রে॥ ( হায় হায় রে ) এই হইবে মোর পতি এই ছাড়া মোর নাইও গতি এই আছিল মোর অদ্রিষ্টৈর দ্ব্যাকা রে। ( হায় হায় রে ) শোন সাহেব মোর কতা ধরো মাটি ছাড়ি মোরে কোলোত্‌ বইসো আইজ হাতে হইলে মোর যইবনের বেপারী রে॥ ( হায় হায় রে ) তারপাচে গনিয়া দ্ব্যাকে আইত্‌ পোয়াইলে পাচ জোনের মরোন হইবে মুলুক ছাড়ি গেইলে ১. ভাগ্য গণনার বই। পাচো জোনের জেবোন বাচিরে রে।। ( হায় হায় রে ) শোনেক সাহেব কতা ম্যাও কোন শগুরোত বাড়ী সেত্তেই যাও মুই অসের বেটি ছাওয়া তোমার হইলু বৈरागিনী রে।। ( হায় হায় রে ) এই বুদ্ধি করিয়ায় নিলো আইতোতে অণ্ডশন চুরি হইলো যায় চারিজোন কোবোল দেবোস শগুরে রে।। ( হায় হায় রে ) দুই পাওয়ে হাটিয়া যায় কতোদিন বাদে দেবোস শণ্ডর পায় সেই জাগাতে থাকে অণ্ডশন জালালোক নিয়া কোলে রে।। ( হায় হায় রে ) জালাল সাদুর ময়াভারী দুইজোনের কতা গেইচে ভুলি দিনে আইতে থালায় থালা অণ্ডশোনোক নিয়া রে।। ( হায় হায় রে ) সমাপ্ত