হলুদ বাদশাহ

রংপুর গীতিকা - বদিউজ্জামান

হলুদ বাদশাহ

কাহিনী শুরু হলুদ নামোতে বাশ্‌শা বল্লব শওরে নওবাহার নামে কইন্যা আচে তার ঘরে। চাদ সুজ্জের নাহান কইন্যা নাইগচে জলিবারে এ্যামোন উপ দিচে আল্লা নওবাহারে গায়ে ॥ পরীরা পায় নজ্জা দ্যাকিয়া তাহারে হলুদ শাহা দ্যাকিয়া উপ আপোনার কইন্যার ফুলের বাগান এ্যাক করিল তাঁই তঁইয়ার ॥ দিনে আইতে থাকে কইন্যা পনচো দাসী নিয়া বাগান ছাড়িয়া কইন্যা না যায় চলিয়া ॥ বারো বচ্চোর হইচে কইন্যার বিয়া নাই হয় তারে ( হায়রে ) নওবাহার কইন্যার উপোতে চাইরপাকে ঝলমল করে ॥ এ্যালা দ্যাকে। ইঙ্গুল। কতা অইলো ভালে ভালে ফুল পরীর কতা কিছু শুনিয়া দ্যাও সকলে ।। ফুল পরী নামোতে কইন্যা পরীরো শওরে দাসীর ঘরোক ডাকিয়া কতা নাইগ্ঞ্চে বলিবারে ।। শোন শোন দাসী বান্ধি মুই বা বলোঁ তোরে দেইকৃতে মানুষের দ্যাশ সাদ হইচে মোর দেলে ।। এই কতা যকনে দাসী পাইচে শুনিবারৈ ততোত্ চড়িয়া ছয় পরী ধায় মানুষের দ্যাশ দেইকতে ।। আসমান দিয়া যায় পরী অতে শোয়ার হইয়া বল্লোব শওরোত্ অত পঁচিলে সে যাইয়া।। যকোন কালে পঁচিলো পরী বল্লোব শওরে সোন্দোর ফুলের বাগান এ্যাক পাইলো দ্যাকিবারে । ফুল পরী কয় কতা দাসীর ঘরে আগে এত্তেই নামাও অত যাইম মুঁই অই বাগান ত্যাকিতে ॥ হুকুম পায়া দাসী বান্দি অত নামৈয়া নিলো হাত ধরাধরি সগলে মিলি ব্যাড়াইতে নাগিলে ॥ গলি গলি ঘুরবার নাগিল কইন্যা আনোনদিত হইয়। কইন্যার উপৈতে বাগান খ্যানা উটিচে জলিয়া ॥ হ্যানকালে নওবাহার কইন্যা দাসীক নিয়া সাথে দেইকৃপার বুছি ত্যাকে কইনা পঁচিলে সেইখানে ॥ আইগনের নাহান বাগানে নাইগ্চে জলিবারে ত্যাকিয়া নওবাহার কইন্যা ভাবে মোনে মোনে ॥ কোন বা জনে জলায় আগুন না পাওঁ ত্যাকিবারে বুজিকেল কোন দেওদানোর বাগানোত্ আসিচে ॥ এই কতা যকোন কইন্যা বলিতে নাগিলোঁ আউটাল হাতে ফুলপরী সউগ শুনিবার পাইলো ॥ ফুলপরী কয় কতা নওবাহারের তরে শোনেক শোনেক নওবাহার কইন্যা মুই বলেঁ১ তোমারে ॥ ড্যাকিয়া তোর সোন্দোর উপ ভুলবার না পারি সই কইরমেঁ১ তোমার সাতে সেই জন্মেতো আলচি১ ॥ এই কতা যকনে নওবাহার শুনিবারে পাইলৌ [?] আগে পাচে ডাইনে বায়ে ড্যাকিতে নাগিল ॥ কোন জাগাত্‌ না পায় তামরা গাইনঘেরো দিশা দাসীর ঘরোক ডাকিয়া কয় ডাকান কেনে মিচা ॥ তুই কি শুনিবার পাইস কাঁই ডাকায় আমারে সই কইরবার চায়া তাঁই ক্যানবা দ্যান্ডা না দেয় মোরে ॥ ১ এসেছি। কোনজোনে ডাকাও তুমি দ্যাকা দেও আসিয়া তে না হইলে মোর বাগান হাতে যাওতো চলিয়া ৷৷ এই কতা শুনি ফুলপরী নিজের উপ ধরিয়া নওবাহার কইন‍্যার নেকোটে খাড়া হইলো আসিয়া ৷৷ শোনেক শোনেক নওবাহার কইন‍্যা মুই বা বলেঁ। তোরে কইরবার চাত্ত সই মুই পরী আর মানোষে ৷৷ এহি কতা শুনিয়া মানোষে আজী হয়া গ্যালো বইসপার জন্নে সানার আসন আনিয়া ভালা দিলো ৷৷ মহোল বুলিয়া গ্যালো কইন‍্যা খোরাকের নাগিয়া এ্যাকল্যায় অইলো পরী বাগানৌত বসিয়া ৷৷ নওবাহার কইন‍্যার এ্যাক ভাই যে আচিলো নাওরাজ বুলিয়া তাকে তার নাম আকছিলো ৷৷ ৩৮ ৪ তপাত হাতে নওরাজ কুমার
কইন্যাকে দ্যাখিয়া
হুস আক্কেল সউগে দ্যাকো
ফ্যালাইল তাই হারিয়া।।
মোনে মোনে কয় নওরাজ
ধরিম মুই পরীকে
কমোর বান্দিয়া নওরাজ যায়
হওয়া খ্যানার ঘরে।।
নাপদিয়া সেই পরীর
গায়োত্ যায়া পড়িলো
তাক দ্যাকিয়া ফুলপরী ক্যাবোল
উটিয়। দউড় দিলো।।
থাপা মারি নওরাজ কুমার
পেন্দনের কাপোড্যেমধরিয়া
পেন্দনের কাপোড় খ্যানা তাঁই
নিলো যে খুলিয়া।।
ন্যাংটা হয়া পরী দ্যাকো
আউটালোত্ ২ সরিয়া গ্যালো
গোম্বা হয়া নওরাজে তকোন
কবার যে নাগিলৌ।।
শোনরে ব্যালহাজ পুরুষ
আদোমেরো জাত্
পরীর পেন্দনে কাপড়াতে তুমি
ক্যানে দিলে হাত।।
২. আড়ালে। মুই হনু তোর বইন তুই হলু মোর ভাই এইটা কি তোর ধরগের উচিত, ক্যানে করিস বড়াই।। নওরাজ কয় শোনেক পরী হামি সিগলা৩ না জানি তোকে যদিকেল পাওঁ মুই তে হইলে করেঁৗ সাদি খ্যানি।। এই কতা শুনিয়া কইন্যা গোস্বাতে জলিলো নওবাহার কইন্যাক ডাকেয়া কবার যে নাগিল।। ডাক শুনিয়া নওবাহার কইন্যা দউড়িয়ায় চলিলো দ্যাকেয়া ভাই তার সেটেই হাতে ভাগিয়া যে গ্যালো।। নওবাহার আসিয়া কয় পরীকে ডাকিয়া কার সাথে এ্যাতো গোস্বা কওতো মোক খুলিয়া।। পরী কয় শোনেক সই কি বেন কইম আর তোরে তোমার ভাইয়ে হামার পেদঁ নের কাপোড় চুরি করে।। ৩. সেগুলো। ২৫- উদ্যাওঁ ৪ হয়া কও দ্যাকিরিয়া ক্যামনে যাইম মুই ঘরে ব্যালহাজ ভাইয়োক ক্যানবা সাতে করি আনিলে॥ এই কতা শুনি নওবাহার পরীর ঘরোক বলে তুমি বুজিকেল মোর ভাইয়ের সাথে ভাব কইর_বার ধচ্ছিলে॥ তে না হইলে ক্যানে ভাই কাপড়া নিলে তোরে কিসের জন্মে আইলে তুমি মোর বাগানের পরে ॥ এই কতা শুনিয়া পরী শরোম পায়া গ্যালো সইয়ের সামোন হাতে তপাতোত_ চলি গ্যালো ॥ দ্যাকিয়া নওবাহার কইল্লা ব‍্যাজার হয়া গ্যালো সই পাতেয়া মোকে বুজিকেল তোর পচোন্দ না হইলো ॥ সই করি কিসোক তুমি তপাতোত_ থাকো বসি তোমার সাথে সই আর পাতপারে না পারি ॥ ৪. উলঙ্গ। না করিম সই আর শোন সকি বলি তুমি হইবে মোর ভাবী মুই হইম ননোধি ।। এইকতা যকোন ফুলপরী পাইলো শুনিবারে বারূতের ঘরোত্‌ যেন আগুন নাগেয়া দিচে ।। ডাকে আনিয়া আইজ বুজিকেল জাইত্‌ মারিলে মোরে উচিৎ সাজা দেইম মুই সেই ঘাট পাইলে ।। মুই তোক নাই আনেঁ। শোনেক পানের সই তুমি আইলে মোর সামনোত্‌ ভাইয়োক আইকলেন কই? পিরীত কল্পেন তুমি আমার ভাইয়ের সাতে আশেক হইচে ভাই তোমারো উপোতে ।। যিদিন হাতে ভাইয়ের সাতে কইরচো পিরীত খ্যানি সেইদিন হাতে ভাইয়ে দ্যাকো ঘরোত্‌ না খায় পানি ।। এ দ্যান কতা দ্যাকো তোমরা না কন আর মোরে তোমার ভাইয়ে কাপোড় মোর চুরি করিরায় নিচে।। উড্যাওঁ হয়া যাইম মুই পরীস্থানের পরে নব্বই হাজার পাইক পেয়াদা আচে হামার ঘরে।। দ্যাকিম তোমার ভাইয়ে কতো শক্তি ধরে পুরা করি দেইম যতো বিয়ার সাদ তারে।। এ দ্যান বড়’ই না করেন সই তোমরা হইলেন পরীজাতি মোন কল্লে মোর ভাইয়ে তোমাক আইনবে খোপা ধরি।। মোর ভাই নাই যায় দ্যাকো পরীর অই শওরে তুমি আইলচো এন্তেই বিয়া বসিবারে।। দুইজোনে গাইল বোল বাগানেরো পরে আউটাল হাতে নওরাজ কুমার পাইলো দ্যাকিব্যারে।। শুনি বইনের কতা নওরাজ কুমার পরীর সামনোত যায়। কয় হুসিয়ার ।। শোনেক শোনেক অবোদ বেটি ছাওয়া নাহি জানোঁ তুমি চুলের খোপা ধরিয়া তোমাক নিয়া যাবার পাওঁ বাড়ী ।। এই কতা কয়া নওরাজ কমোর বান্দিয়া পরীক ধইরবে বুলিয়া যাবার নাগিল দউড় দিয়া ।। পরী কয় শোনেক কুমার না ধরিস তুই মোকে কাপোড় আনিয়া দিলে হামাক হাতের আংগুট দেইম তোকে ।। হোসকেয়া হাতের আংগুট সামনোত ফ্যালেয়া দিলো মাটি হাতে তুলিয়া আংগুট নউকোতে নাগাইলো ।। নওরাজে কয় যাও কইন্যা যেটেই মোনোত যায় না দেইকলে হাতের আংগুট পুচ কইরবে বাপ মায় ।। ৫. খুলিয়া। কিবা উত্তর দিবে তকোন বাপ মাওয়ের আগে মোণ্ড কাটিয়া তোমার সাগোরোত্ দিবে ভাসে ৷৷ ( বাওয়া ) এইনা কতা শুনিয়া পরীরে ভাবে মোনে মোনে উড্যাও শল্লে হেটেই হাতে যাইব ক্যামোনে ৷৷ কিবেন করে ফুলপরী বুদ্ধি নাই তার ঘটে ওলোঙ্গ হয়া যায় পরীস্থান শওরে ৷৷ বাগানোত্ আছিলে দাসী পাইলো দ্যাকিবাবে দাসীর কাপড় পিন্দি নিলো কোনোমোতে ৷৷ মায়ের আগোত্ যায়া ফুলপরী কয় হাতের আংগুট খ্যানা মা বাটতে হার’য় ৷৷ দাসীর ঘরোক নিয়া ঘাটাৎ কতো উট্কা পাটন করিলু না পায়া সেই আংগুট তোকে আসি কনু ॥ মায়ে কয় শোনেক কইন্যা কোন কাম করিলে সইত্তো কিড়া কাড়ি তোমার বাপে আংগুট তোমাক দিচে ॥ যিদিন তোমার আংগুট যে ব্যাটা ছাওয়ার হাতোত্ খাইবে সোয়ামী হইবে সেই পুরুষ এই দান সইত্তো কইরচে ॥ এই কতা শুনি কইন্যা কান্দে জারে জার ॥ যে জংগোলোত্ বাগ নাই বাগের ভয় করি ঘুরি ঘুরি হামি নারী বাগের হাতোত্ পরী ॥ মোনে আচিল করিম মুই সোয়ামী দ্যাভোগনের তরে কপালোত আচিল দ্যাকা মানোবের সাতে ॥ যতোদিন হায়াতে আচি সোয়ামী না ভৈজমেঁ আমি মোনের কতা কওঁ যে ভাঙ্গিয়া যিদিন ভজিম সোয়ামী সইত্তো যে করিয়া সেইদিনে যাইম মুই এ জগতে_ ছাড়িয়া ॥ হয় মারিয়া ফ্যালাইম সোয়ামী নাতে মারা যাবো মাইন্যষের সাতে সাদী কোনদিন না বসিবো ।। এ্যালা দ্যাকে। ইগলা কতা অইলো ভালে ভালে দিনে দিনে বাইড়বার নাগিল কইন্যা ডগমগ করে ।। বারো বচ্চোর বসে কইন্যা সইত্তো যে করিলো এ্যাক এ্যাক করি তিরিশ বচোর পুরা হয়া গ্যালো ॥ নানা থেরান কতা কয় দাসী কতো না বুজায় বুজ নাহি মানে কইন্তায় কান্দে হায়রে হায় ॥ কলোংকো পড়িয়া গ্যালো পরীস্থান শওরে আজার আজকুমারী কইন্যা বিয়াও নাহি করে ।। যেটেই সেটেই নোেক দ্যাকে। করে ফাসুর ফুসুর বেটি ছাওয়া হয়া ক্যামোন করি থাইকপে তাঁই গাবুর৬ ॥ ৬. অবিবাহিত দাসীর ঘরোক ডাকেয়া কতা আজা অনেক বুজায় দিনে আইতে বুজায় কইঞ্চাক যাতে আজী হয় ৷৷ কতো কতো আজার ব্যাটা আইল্‌চে বিয়া করিবারে কিসোক কি হইলো তোমার বিয়া না করো ক্যানো তারে ৷৷ এই কতা শুনি পরী নাইগ্‌চে কান্দিবারে মোর জোড়া আইক্‌চে আল্লায় মানুষেরো সাতে ৷৷ ব্যাড়বার বুলি গেনু বাপজান বল্লোব শওরে হলুদ বাশশার ব্যাটা নওরাজে আংগুট নিচে মোরে ৷৷ কি করে কপালের ল্যাকা সইত্যে কইরচে আগে। বেটিকে দেওয়া নাগে এ্যালা মানুষেরো হাতে ৷৷ বিশেষ ও কামেলাক ডাকেয়া নাইগ্‌চে বলিবারে পরীস্থান হাতে বল্লোব শওর সড়ক বানিয়া দে ৷৷ হুকুম পায়া বিশেষ ও কামেলা বেলোম নাই যে করে চইদ্দো গজ করিয়া সড়ক নাইগচে বান্ধিবারে ॥ দুই পাকে হাওয়া খ্যানা তোস সাই খানার ঘর জাগায় জাগায় কতো নাকারী করিলে তৈয়ার ॥ মহিদে মহিদে ফুলের বাগান উপে ঝলমল করে ছরে বরো আচে কতো সান বান্দা ঘাট তাতে ॥ বারো জাগাত্ উপার গ্যাট সাজোন করিয়া নিলে বাড়ী হাতে বল্লোব শওর পাতোর বসেয়া দিলে ॥ হাতী ঘোড়া নয় নস্কোর কতো ধের্রান বাজনা বাজে কতো কতো নাচনিরা সাজ ধরিয়া নাচে ॥ ধুম ধামের সাতে বাদশা খত্ নেইক্ পারে বসিলো কাসেদোক ডাকেয়া সেই খত পাঠেইরাই যে দিলো ॥ দিনে আইতে দউড়ায় কাসেদ আরাম নাই রে করে ॥ কতোদিনে গ্যালো কাসেদ বল্লোবো শওরে বসি আচে হলুদ বাশ্‌শা পাইলো দ্যাকবারে ॥ ডাইনে ছালাম করিয়া কাসেদ বামে খাড়া হইচে ছালামেঁ। আলেক দিয়া পত্তরো হাতে নিলো ॥ সেই পত্তরো নিয়। বশ্‌শা পইড়বারে নাগিলো ॥ কুলকুলা হইলো শাহা পত্তরো খ্যানা নিয়া ফরাইম পরীর সাতে নওরাজেরো বিয়া ॥ নিজের মুল্‌কোত যতো পোজ্জা পাইট আচিলো চুলি মালিস্যাতোর জাল্লাদ জিয়াপোত্‌ করিলো ॥ জিয়াপোত্‌ পায়া দ্যাকো তামান ঢাকার নোকজন হলুদ বাশ্‌শার বাড়ীত আসি ওপোনীত্‌ হন ॥ নিজে দ্যাকো হলুদ বাশ্‌শা নওরাজোক ডাকিয়া বিয়ার কতা দ্যাকো কয় যে খুলিয়া ॥ বিয়ার কতা শুনি নওরাজ কুমার বিয়ার কতা দ্যাকো তাঁই না করে শিকার ॥ ভাত দ্যাকো না খায় শাহা না কাড়ে তাঁই আও গোসা ঘরোত্‌ যায়া কুমার কপাট বন্দো করিয়া দ্যায় ॥ কি হইলো কি হইলো শাহার গোসা ঘরোত্‌ গ্যালো শাহার মোনের কতা কেউ কবারে না পাইলো ॥ দাসী বান্দি বাপো মায়ে কবার নাগিলো কি হইলো তোমার বাচা খুলিখালি বলো ॥ কপাট খোলো কতা ব্যেলো মোনোত্‌ কিবা হইলো বাশ্‌শাই কইর্‌বার্‌ মোনোত্‌ থাকে এ্যালার সাজিয়া চলো ॥ এই কতা শুনিয়া নওরাজ গোসাতে জ্বলিয়া দোহারা করি কপাট কোন। দ্যায় তাঁই মারিয়া ।। কান্নাকাটি শোরগোল মোহোলোতে হইলো বাগান হাতে নওবাহার কইয়্যা শুনিবারে পাইলো ।। কি হইলো কি হইলো বুলি আইলো দউড়িয়া দ্যাকে মাও কাইদবার নাইগ্চে ধুলাতে লুটিয়া ।। মায়ে কয় শোনেক বাহার মুই বলো রে তোরে কিবা মোনে করি তোর ভাই গ্যালো গোস্নাঘরে ।। এই কতা শুনি নওবাহার কান্দে জারে জারে ফুলপরীর কতা তাঁই পাইলো জানিবারে ।। গোস্সা ঘরোত্ যায়া বাহার নওরাজোকে ডাকে বিচনা হাতে উঠিয়া দ্যাক ভাই পরী তোর নেকোট আইল্চে ।। এই কতা শুনিয়া নওরাজ উঠিয়া বসিলো উদ্যাওঁ করি দিদিক তাঁই মহোলের ভেত রৌত নিলো ॥ কথাঃ ক্যা ভাই কাদিস! কি হইচে তোর কওতো শোন! শোনেক দিদি কওঁ তোরে মোন পাগল করিলো মোরে ফুল বাগানৌত কাঁই আইসে তোমার সাথে আও কাড়ে কিবা নাম হয় তার বাড়ী কোন শওরে ॥ খুলি খালে কও দিদি দুই পাও তোমার ধরি, সেই পরী দেও মোক আনিয়া ॥ এই কতা শুনবারে পাইলোঁ নওবাহার হাসিয়া কইলো, ক্যামোন কইরবে সাদী বইন হয় তোমারে শোন নওরাজ কওঁ তোরে ॥ কোন শাস্ত্রেত এইদ্যান ল্যাকে বইনেকে কইরবে সাদী ক্যামোন করিয়া ॥ পরীস্থান শওরোত ঘর’ ফুলপরী নামো তার বাগান দেইক্তে আইসে পরী অতে করিয়া ভর অ্যামোন সোন্দোর উপ কাচা সোনা চমৌতকার নিনু তাকে সই যে করিয়া ॥ চাদের নহান জলেপরী নউতোন নউতোন উপ ধরি বারো বচ্ছোর হইচে রে পরী নাই হয় শাদী তাঁই হইলো পরীর কইন্যা তামান গাওতে উপের আলো, চাদ সুজ্জের থাকি ভালো॥ আদোম হয়া পরী চাও খালি ব্যালহজের ধেরান কতা কও ক্যানে তুমি হইচো উতালা॥ ব্যাহসি ছাড়িয়া ওঠ দুই পাওতে হাটিয়া চল পাইবে পরী ঘরোতে বসিয়া এই কতা শুনবার পায় বইনোকে ডাকেয়া কয় মোনের কতা কওঁ যে ভাংগিয়া॥ সেই পরী না আনি দিলে বিয়া না করিম কারে বাপে ক্যানে বিয়া দিবার চায়॥ হয় পরীকে বিয়া করিম নাতে জেবোন কোরবাণী করিম এই পুতিজ্ঞত’ শোনেক দিদিজ্ঞান॥ নওবাহারে হাসিয়া কয় আইসেক ভাই হামার সাও আল্লায় অহোম কল্পে পুরাইবে আশ॥ দুই পাওয়ে হাটিয়া চলে
গ্যালো দুইজোন ফুল বাগানে
কয় বা কতা নেংরোলে বসিয়া ।।
শোনেক ভাই কওঁ তোরে
সেই পরী পত্ রো নেইকচে
তার সাতে হইবে তোমার বিয়া ।।
তিসিরিয়া শাহা আজী হইলো
এই খবোর যায়া বাপোক দিলো
সাজায় শূর কাতারে কাতার ।।
হাতি ঘোড়া আগোত্ সাজে
গাড়ী ঘোড়া পাচে পাচে
বন্দুকের আওয়াজ ধুমধাম ।।
আইয়োর ঘরোক ড্যাকেয়া বলে
দ্যাও বাচাক সাজোন করে
হুকুম পায়া আইলো বইরেতিগণ ।।
ঝলঝলা জলোত্ গাও ধোয়ায়
সোনার পিড়াত্ আনি বসায়
গাও মোচে দ্যায় সোনার উমাল দিয়া ।।
গোল্দ করা নাইড়োলের ত্যাল্
আতোর গোলাপ গাওরোত্ দ্যায়
হুড়াহুড়ি করে আইয়োগান ।।
চাইরোপাকে আইরোগণ
নিলো যে ঘিরিয়া
দুই হাতোত্ দ্যায় তুলিয়া ।। আবের কাকই দিয়া দ্যাকে। কৱে সিতাখানি তার ওপরোত্ তোলে ঢেউ সোনারো গাথুনি।। আংগা দিয়া গাওরোত কভো সউগে জরিরো গাথুনি চাদের নাহান জলে নওরাজ তক্তের গাবুর খানি।। এইঙ্গান ভাবে করিয়া সাজোন শ্যাষ করিয়া দিলোঁ বিদ্যায় হয়। নওরাজ কুমার হাতিতে উটলো।। আগোত্_ যায় হাতি ঘোড়া পাচোত যায় সোয়ারী চউহারা করিয়া চলে শুনে। আবেদাল্লী।। হাওযাথ্যান বালাখ্যারা যতো ঘর আচিলো পোতেক ঘরোক পরীর আজায় শুমো আকিছিলে।। এ্যাহেক দিনে যায় সাহা এ্যাক মন্‌জিল ছাড়িয়া যায় তাঁর চলিয়া।। ঝাড় জংগোল ছাড়িয়। তাঁহ যায় বা ধেরে ধেরে ৪’২ ডাকিনীর শওরোত্ যায়। ওপোনীত হইচে ৷৷ এ্যাকে তো ডাকিনী জাইত মায়া আইঙ্কোসিনী ময়া করি ভোলবার পায় দরবেস আর সইয়েসী ৷৷ কতো কতো ডাকিনী দ্বাকে। কাতার বান্দিয়া দেইকপার বুলি আজার কুমার আইলে। চলিয়। ৷৷ ওপোনীত হইলো সগলে ঘাটার দুই পাকে টরটর। করি বুকের দুই দুদ মুচকি মুচকি হাসে ৷৷ আড় চউকে চায় কেউ কেউ ফির .পদনের কাপড় ছাড়ে উলকৃত ভূলকৃত করিয়া সগলে বারে বারে ইশার। করে ৷৷ দ্বাকিয়া নওরাজ কুমার তাঁই হইলো মাতোয়ারা ফুল পরীর কতা মোনত্ উঠি হইলো দিশাহারা ৷৷ ছাড়িয়া গেইলেন ফুলপরী অইলেন ভুলিয়া তোমার ধেরান কতো সোন্দরী পাই আস্তাতে আসিয়া ॥ তারপাচে দ্যাকো আজার দেওয়ান নিশান নিয়া হাতে কোন জাগাত না থামে তাঁই যায় মহাব্যাগে ৷৷ এ্যাতেক এ্যাতেক দেকিয় ৷ ডাকিনী ভাবে মোনে মোনে কি করিয়া আকিম কুমারোক্ তার উপেয় নাহি জানে || মোন্তোর ঢালিয়া ডাকিনী আইঙ্কোস ধরিয়া নিলো মোন্তোরোতে সেই আইঙ্কোস কুমারের উপ ধরিলো ৷৷ কুমারোকে ডাকেয়৷ ডাকিনী নামেয়া যে নিলো দানোবোক অই হাতির পিটিত্ চড়েয়৷ যে দিলে৷ ৷৷ যকোন নামাইল কুমারোক্ এ্যাক জোনেও না জানে, ধুমধামের সাতের যাবার নাগিল অই না পরীরস্তানে ৷৷ দিনে আইতে দউড়ায় সগলে বেলোম নাই যে করে ৪°৪ দ্যাগ দ্যাগ কইরতে গ্যালো সগলে পরীরো মুলুকে ৷৷ ইতিদ্যাকে বাশশা নামদার সুমসেন নিয়া আগবাড়ে জামাইকে তাঁই নিলো যে বরিয়া ৷৷ মজলিস করিয়া সগলে নিলো যে ঘিরিয়া অংতামাশা কইবার নাগিল সগলে আমোদে মাতিয়া ৷৷ এইদ্যান ভাবে কতো দিন গতো হয়া যায় সাগাই-সোদোর সগকে বাশশা জিয়াপোত দ্যায় !! ওপোনীত হইলো সগলে আজার দরবারে অংতামাসা করে সগলে মজলিশের ভেতরে ৷৷ কাঁইও নাচে, কাঁইও হাসে কাঁইও গীত গায়, কাঁইও পাত্তোরিক উতি , সাজোন করিয়া দ্যায় ৷৷ গাও ধোয়া কইন্যাক তামরা বসায় তক্তের পরে চাইরো পাকে দাসীবান্দি নাইগচে নাচিবারে।। দুই হাতে তুলিয়া নিলো। হাড়ের কাকই খ্যানি, ঝাড়িয়া মাতার চুল বাঁদে খোপা খ্যানি ॥ আজায় ডাকেয়। কতা দেওয়ানোকে বলে এ্যালায় আনো মুন্সী বেলোম না করিবে ॥ সুবো দিনে বিয়া দিব। য়্যাকিনু গনিয়া দেপরের আগোত্‌ বিয়া দেখেঁ। যে পড়িয়া ॥ হকূম পায়া তকনে আইলো আশ পশ্শিগণ অংতামশ। বন্দো করি সগ্গই বসিলো তকোন ॥ পাত্তোর পাত্তোরিক দুইজ্নোক আজি যে করিয়া য়্যাশের চলোন মোেত বিয়া দিলো যে পড়াইয়া ॥ এ্যাক এ্যাক করি বিয়া পড়ে দিয়া সগলে বিদায় হইলো বাশশায় জামোতাক তকনে মহোলোতে নিলো ॥ দিন গ্যালো সইন্জা কালে দাসী বান্দিগণ বাসোর ঘরোতে কইন্যাক হাজুর করিয়া স্থান ॥ নানা জাতের খাবার আর ভালো ভালো ছামোনা হাজুর করিলো দাসী যেটেই দেওয়ানা ॥ নাহি যায় জামাতা তার না কাড়ে কোন আও ড্যাকিয়া দাসীবান্দি সকলে ক্যাবোল করে মাও মাও ॥ নঙতোন জামাতা তুমি আও ক্যানে না কাড়ো কি হইচে কি হইচে তোমার সেইগলা কতা বলো ॥ এ্যাতক শুনিয়া কুমার ভাবে মোনে মোনে আইঞ্চসের জাইত হয়। মুই ভাত খাইম ক্যামোনে ॥ গোস্বা হয়া কয় কতা দাসীবান্দির তরে না খাইম ভাত মুই এই শ্বশুরের ঘরে ॥ ৪-৭ কন্টই মাচে ফুলপরী দেও হাজুর করিয়া। নিজের মুল্লোকোত যাইম কইন্যাকে যে নিয়া ॥ এই কতা শুনি দাসীগণ আজাকে বলিলো। তোমার জামাই কেনেবা এ্যাতো গরোম হইলো ॥ এ্যাতেক শুনিয়া আজ। দেওয়ান উজির নাজীবোক নিয়া যেটেই আছে নউতোন জামাই হাজুর হইলো গিয়া ॥ ক্যানে বাচা এ্যাতো গোস্বা না খাও ক্যানে খানা। খাইতে এ্যামোন খানা কাঁই করচে মানা ॥ দুই হাত কচলেয়া কয় শ্বশুরেরো আগে। শোন শোন শ্বশুর বাজান মুই বা বলো তোরে ॥ বাচ্চাকালের শ্বশুর এ্যাক দ্যাশোহ্ আচে মেরা। তাতে সাতোতে মুই কইরচো ওয়াদা ॥ যিদিন হইবে বিয়া কইচে তাঁই আমারে ৪-৮ সাতদিন না খাবু খানা শ্বশুরের ঘরে ।। ওয়াদা কইরচোঁ মুই হাত ধরিয়া তারে বিদায় দেও যাওঁ এ্যালা মুই আপোনার মুলুকে ।। এ্যাতেক শুনিয়া বাশশা কিছুই না কহিলো হাতি ঘোড়া নয় নস কোর সাজোন করিয়ায় নিলো ।। সাজোন করিলো পাইক পেয়াদা হাজারে হাজার বন্দুক কামান আর আইঞ্জের হাতিয়ার ।। ধুমধামের সাতোতে দিলো বিদ্যায় করিয়া যাবার নাগিল বেটি জামাই হল্লোব বুলিয়া ।। ঘাট। ধরিয়া সগলে বাড়ী বুলিয়া যায় সামোনোতে ডাকিনীর দ্যাশ ত্যাকিবারে পায় ।। দেইকলে বেন কি হইবে ব্যাটার বনিক বেটি ছাওয়ার হাতে মোহোনি কইরচে ডাকিনী কাঁইবেন ছোড়বার পারে॥ জুলজুল করিয়া দ্যাকে নওরাজ কুমার তাক দ্যাকিয়া ডাকিনী সউগ বান্ধি নিলো তারে॥ বাঁদি ধরি আকে তারে নোয়ার শিকলে ফুল পরীক নিয়া যাবার নাগিল দুরজোন দানৌবে॥ ওপোনীত হইলে সগ্‌গই হল্লোব শওরে তপাত হাতে হলুদ বাশ্‌শা পাইলো দ্যাকিবাবে॥ সুমসেনা নিয়া সগলে আগ বাড়ৈয়া দিলো ব্যাটা বউয়োক বরিয়া সগলে মহোলোতে নিলো॥ দিন গ্যালো আইত হইলো দাসীগণ সগলে কইন্যাকে নিয়া গ্যালো শেতোল মন্দির ঘরে॥ শুতিয়া আচে আইসের জাঙ মোনোত বড়ো সাদ আইজা আইতোর এই কইন্যার
সাতে হামার মিটবে মোনের আশ॥
যকোন কালে বসিল কইন্যা
শাহার পালোংগে
ডাকিনীর কতাগুলা এ্যাল।
শুনিয়া দ্যাও সকলে॥
দুষ্টা ডাকিনী কয়
শাহা বরের তরে
ফুলপরীকে কাঁইবেন
সদী করিয়া নিচে॥
মোঁনতোর পড়িয়া এ্যাক
হুংকার মারিলো
ফুলপরীর মহোলোত দানোব
গিন্ধিয়ায় উঠিলোঁ॥
নিজের উপ ধরিয়া দানোব
মারিলোঁ হুংকার
কইন্যার সামনেত্ খাড়া হয়া
ক্যাবল কইরবার নাগিল মারমার॥
দ্যাকিয়া এইদ্যান উপ ফুলপরীর তরে
শাউড়িকে অইনাহে পরী
নাইগটে ঢাকাইবারে॥
ডাক শুনি শশুর সউড়ি
শুনিয়াও না শুনে
ব্যাটার বউ ঘরে ভেতরোত্ আচে
সেজাগাত্ যামেঁবেন ক্যামোনে॥ আইসেনা কেউ দ্যাঙ্কিয় কয়িন্যায় ভাবে মোনে মোনে আইজ বুজিকেল জাইত্ মারে মোর দূরজোন দানোবে ।। এ্যালা বুজিকেল যাওয়া যায় পরীস্থান শওরে এতেই থাইক্লে নেশ্চয় জাতী যাইবে মোরে ।। এ্যাকে তো পরী জাতী পাকা আচে শরীলে পলকের ভেতোর যাবার পায় তাই যে জাগাত্ ল্যায় মোনে ।। এ্যাক নওজাতে চলিয়া গ্যালো পরীস্থান শওরে নওরাজ কুমারের কতা শুনিয়া ল্যাও সকলে ।। নওরাজ কুমার সেত্তেই রইলো পাগোল যে হইয়া ফুলপরী বুলিয়া সদায় ব্যাড়ায় তাঁই কানদিয়া ।। আহা রে পরীরো জাইত হমাকে করিবে সাত যাইম মুই পরীস্থান শওরে ।। আহা রে মোর ফুলপরী মোকে পাগল করি ক্যামোন করি আইলেন অইনা সরগোপুরে ॥ পরীস্থানে যামো হামি তুমি ক্যানো দিলে ফাঁকি সেই কতা শুনিমু মুই বসিয়া ॥ ওরে তুমি যদিকেল ফাঁকি দিলে তে হইলে ক্যানে সইতো কল্লে সইতো ভংগো কারণে তুমি জইলবে দোজোগে ॥ ( হায়রে ) এ্যাতেক কবার নাগচিলো বুড়া ডাকিনী এ্যাক সামনোৎ আইলো কয় বা কতা কুমার বুড়ীর পাও ধরিয়া ॥ শোনেক জনোনী কঙ তোরে মাও ভুলিয়া ডাকিনু তোরে এহি বেপোদে মাও স্থাহো তরেয়া গো ॥ এই কতা কবার নাগছিল কানদিয়া বুড়িয়া পাওয়োৎ পড়িলো দয়া করো ওগে মাও ব্যাটা বুলিয়া মোরে ॥ যকোন বুড়ির পাওয়োৎ পড়িলো বুড়ির মোনোৎ দয়া হইলো ওরে হাত ধরিয়া কয় বা কতা নওরাজেরো আগে। শোন বাচ্ছা কওঁ তোরে যাবার যাইস্ তুমি কোন শওরে সইত্য করি কও বাচা কওনা আমারেও ॥ ওরে এই কতা শুনবার পাইলো মোনের কতা ভাংগিয়া কইলো এ্যালো মুই যাইম জনোনী পরীরো মুল্লুকে ॥ কতা সাতে শাহার হাত ধরিলে চন্দোন বিন্ধের গাছ আচিলো সেই গাছোত্ দিলো শাহাক বন্দেন্ করিয়া ॥ যাও গাছ বাতাসোত্ উড়ি যেটেই আচে ফুলপরী হজুর করি দেও শাহাক তাহারো যে আগে ॥ এই কতা যকনে কইলো হাওযাতে গাছ উড়ি চলিলো যাবার নাগিল গাছ অইনা পরীস্থানে ছয় মাসের ঘাটা আচিলো ছয় দণ্ডেতে চলিয়া গ্যালো থামিলো গাছ কুকা্পের জংগোলে ॥ কুমার নামিয়া দ্যাকে বাগ ভাল্লুক বোনে বোনে দ্যাকেয়! কান্দে শাহা অজোর নয়ানে কালে দ্যাকে। যাদুমানি
কনটই আচে মোর ফুলপরী
দ্যাকে। দ্যাও পিয়া থাকিতে জেবোন।।
এ্যাল। দ্যাকে। ইগল। কতা
আইরো ভালে ভালো
দুররোজান আইঙ্কসের কতা
শুনিয়। দ্যাও সকলে।।
যিদিন গেইচে কইন্যা
কু কাপোত্‌ চলিয়া
সেইদিন হাতে খায় মানুষ
আইক্কোসে ধরিয়া।।
আইত পোয়াইলে দিন হইলো
মরি হায় রে হায়
আইঙ্কোসে শোন বাশ_শ।
জেবোন বাচ। দায় রে।।
(আরে বলো )
এই বুলি দ্যাকে। আইঙ্কোস
আইঙ্কোস নাইগ্‌চে যাহিবারে
নগোরোত্‌ নামিয়। আইঙ্কাস
মানুষ নাইগ্‌চে খাইবারে রে।।
( আরে বলে: )
বেটি ছাওয়া ব্যাটা ছাওয়া ভেড়াভেড়ি
আইঙ্কোস কিছুই নাইরে মানে রে
তাক দ্যাকিয়া নগোরবাসী
কয় ব্য মরি মরি রে।।
(আরে বলো ) যেটেই আছিল হলুদ রে বাশ্‌শা দরবারোত্ বসিয়া রে কাতার বান্দি পোঙ্গাগনো ওরে ছালাম করিয়া বলে রে ॥ ( আরে বলো ) বিদ্যায় দ্যাহো হলুদ রে বাশ্‌শা বিদ্যায় দ্যাহো মোরে রে সগ্ গেই হামরা চলিয়া যামো তোমার মুলুক ছাড়িয়া রে ॥ ( আরে বলো ) তোমার ঘরোত্ আইক্কোস পয়দা করিলো নেরনজনে রে এ্যাতোদিন অঃইকচে থৈবোন গোপোন করিয়া রে ॥ ( আরে বলো ) নিজ মুত্তি এ্যালা দ্যাকো দানোব নিলো তঁই ধরিয়া রে এই না কতা শুনিয়া রে বাশ্‌শা কানদে জারে জারে রে। ( আরে বলো ) কি করিবে কপালের দুক্ক কপালোত্ চড় মারে র ! ওরে এ্যাতে দিনে এাইচ্চে পাট ওরে ছারখর হয় গ্যালো রে ॥ ( আরে বলো ) কি কইরবে নগরবাসী পলাইতে নাগিল রে ॥ কান্দিতে কান্দিতে বাশ্‌শা ও বাশ্‌শা মোহোলোতে গ্যালোরে ॥ ( আরে বলো ) জানের ভয়ে হসুদ গো বাশ্‌শা ও বাশ্‌শা কপাট মারিয়া দিলো গো এ্যাল দ্যাকে। ইগ্লা কতা অইলো ভালে ভালে রে ॥ ( আরে বলো ) নওরাজ কুমারের দুই চাইর কতা শুনিয়া ল্যাও সকলে রে গাছোেত উঠিয়া অইনারে কুমার কুকা্পোতে গ্যালো রে ॥ জংগোলোতে নামিয়া কুমার কান্দিতে নাগিলো রে কনটই অইলে ফুল রে পরী দ্যাকে দেও আসিয়া রে ॥ ( আরে বলো ) জংগোলে জংগোলে রে কুমার ঘুরিতে নাগিলোহ রে এ্যাকে দিনে ফুলে রে পরী জনোনীর আগোৎ গ্যালো রে ॥ ( আরে বলো ) শোনোক শোনোক মাও জনোনী মুই বোলেঁ তোমারে রে দ্যাকিতে বাগান খ্যানি মোনোতে জাগিলো রে।। ( আরে বলো ) এহি কতা শুনিয়া গো আনী বিদ্যায় ভালা দিলো রে দুই বা দাসী নিয়া রে কইন্যা অতোতে ভর করে রে ৷৷ ( আরে বলো ) অতোতে চড়িয়া তিনেঁ কইন্যা নাইগচে যাহিবাহরে রে জংগোলোতে যায়া রে পরী অই নওরাজোকে দ্যাকে রে ৷৷ ( আরে বলো ) নওরাজোকে দ্যাকিয়া রে কইন্যা ভাবে মোনে মোনে রে শোনেক শোনেক অইনা রে দাসী জবান শোনেক মোরে রে। ( আরে বলো ) এ্যাতো দিনে ধৈবোনে জ্বালা দাউ দাউ করিয়া জ্বলে রে আইলচে পতি এতেই পানু থ্যাকিবাহরে রে ৷৷ ( আরে বলো ) অরে এতেই নামাও অত পানু দ্যাকিবাহরে রে ২৭- এই কতা শুনিয়া দাসী অত নামের। দিলো রে।। ( আরে বলো ) ওপাত হাতে ফুল রে পরী দ্যাকিতে নাগিলো রে দ্যাকির‍্যা সোয়ামীক তার কান্দিতে নাগিলো রে।। ( আরে বলো ) আহা আল্লা মাবুদ মওলা এই আচিল কপালে রে দানোবের সাতে জোড়া বিদি দ্যাকির‍্যায় দিলো রে।। ( আরে বলো ) ওরে ঘিংলা আচিল কপালওত্‌ মোর বান্দিয়ায় নেবো তারে রে ওরে ভ‍্যাদের কতারে কইঞ্জা আকে মোনে মোনে রে।। ( আরে বলো ) নওরাজের আগোত্‌ কইঞ্জা নাহি যায় ভয়েতে রে তপাত হাতে দাসীগনোক হুকুম ভালা করে রে।। ( আরে বলো ) এই ব্যাটা ছাওয়াকে তোমরা বান্দিয়া ন্যাও সগলে রে হুকুম পায়া দুই নারে দাসী বান্দে নোহার শেকলে।। (আরে বলো) তবে দ্যাকে নওরাজ কুমার কান্‌দে জারে জারে রে শোন শোন ফুলপরী আরে নাহি চেনো মোরে রে।। (আরে বলো) আরে মুই হনু তোমার আশেক বলিনু তোমারে রে ওরে বিয়া কইরতে আসিয়া রে তোরে ডাকিনী মোকে নিলো রে।। (আরে বলো) এইনা কতা যকনে রে কইন্যা পাইলো শুনিবারে রে দানোব বলিয়া রে কইন্যা পাইলো শুনিবারে রে।। (আরে বলো) ওরে চতূরালি কল্লু ক্যান মোর সাতে না পাওঁ বুজিবারে রে ওরে বিয়া করি নিয়া যায়া মোরে ক্যানে দাগা দিলে রে।। (আরে বলো) কান্দিয়া কান্দিয়া কুমার গো নাইগ্‌চে বলিবারে শোন শোন ফুল পরী মুই বলেঁ। তোমারে রে ॥ ( আরে বলো ) ডাকিয়া ধরিয়া মোরে দাগাবাজি করে রেঁ ধরিয়া ডাকিনী মোরে বন্দো করি আকচিলো রে ॥ ( আরে বলো ) শোন শোন অইনারে কইন্যা মুই বলে। তোমারে রে সৈত্যো করি কনু কতা তোমারো সামোনে রে ॥ ( আরে বলো ) ওরে কইন্যা কয় শোনেক দানোব কি কতা বলিলে রে দানোব মূর্ত্তি ধরিচিলেন মহোলেরে। পরে রে ॥ ( আরে বলো ) জেবোনেরো পরে দানোব মুই আইলটেঁ। পরীস্থানে ধরিয়া পোঙ্কগনোক খায়ায় ফ্যাল৷ইলে রে ॥ ( আরে বলো ) মাইরবে বুলিয়া মোকে পাচে পাচে আইলে রে এহি কতা যকোন রে কুমার পাইলো শুনিবারে ৷৷ ( আরে বলো ) বাপ মাওয়ের শোকেতে কুমার নাইগচে কান্দিবারে রে কও কও ফুলপরী মোর বাপ মাও মইরিছে কি আচে রে ৷৷ ( আরে বলো ) এই কতা শুনিয়া রে পরী বেলোম নাইযে করে রে অতের খুরায় বাদিয়া রে দানোব মহোল বুলিয়া চলে রে ৷৷ ( আরে বলো ) ওপোনীত হইলো রে কইন্যা আপোনার মন্দিরে রে কোটালেরো আগোত্ কতা নাইগ্ চে বলিবারে রে ৷৷ ( আরে বলো ) শোনেক শোনেক শোনেক রে কোটাল মুই বঁলো তোমারে রে ছুয়ার ভিত্রোত্ আকে ইয়াক বন্দো না করিয়া করিয়া রে ৷৷ ( আরে বলো ) বাইশ্ মোনি পাতোর দাও বুকের ওপরোত্ তুলি রে এই কথা শুনিয়া কোটোয়াল বেলোম নাহি করে রে।। ( আরে বলো ) ধরিয়া গালার দড়ি টানিবার নাগিলো রে হায় হায় করিয়া কুমার কানদিতে নাগিলো রে।। ( আরে বলো ) এ্যাকে তো কোটাল জাতী দয়া নাই তার মোনে হাত ধরিয়া নিয়া গ্যালো গারোদের ভেতোরে রে।। ( অরে বলো ) হাত পাও বান্দিয়া বাচায় পাতোর তুলি দিলো পাতোরের চপোতে তার দোম বন্দো হয়া গ্যালো রে।। ( আরে বলে ) ইতি দ্যাকো ফুলপরী নেরোলে বসিয়া দুই হাত তুলিয়া কয় আল্লাহকে ডাকিয়া রে।। ( আরে বলে ) দিশা : আরে ও দেয়ানো হে আরে মাধোব।। দুই হাত তুলিয়া পরী হক আল্লাকে কয় বা ডাকি সইত্যে বদিকেল হয় মোর ভাতার হে ॥ ওরে যদিকেল পতি দানোব হয় গারোদ ঘরোত যেনো মরিয়া যায় এই মেন্নোতি জাইনবেন আপনি হে ॥ ওরে পাতোর তুলিয়া দিচে বুকে বাইশমনি ওজোন তাতে নিজের পতি হইলে তাঁই যেন থাকে বাঁচিয়া হে ॥ ওরে যাকোন পরী দেওয়া করে হক আল্লায় তাক কবুল করে কবুল হয় গ্যালো দোয়া হক আল্লার দরবারে হে ॥ ওরে বুকের ওপরোত পাতোর আছিল কইন্যার দোয়ায় শোলা হইলো হাতের বাদোন গ্যালো যে ছিড়িয়া হে ॥ কান্দে যাদু গারোদ ঘরে কন্টাই অইলো ফুলপরী মোরে আশা দিয়া কইন্যা ম্যাকা নাহি দিলে হে ॥ ওরে কান্দে যাদু গারোদ ঘরে তামাম পাকে আদারোতে তপাত হাতে কইন্যা পাইনু দেকিবারে হে ॥ দাসীর ঘরোক সাথে নিলো গারোদ খান্যা বুলি অওনা দিলো যায় কইন্যা ক্যাবোল গারোদ খ্যর ঘরে হে ॥ ওরে গারে’দ থ্যানার ঘরে গ্যালো ঘিউয়ের বাতি জ্বলেয়া দিলো দ্যাকে কইন্যার ভাতারের মুকের দিকি হে ॥ শোনেক দানৌব কঁত্ত তোরে চতুরালী করিলে ক্যানে এই বেপোদে তোমাক কাঁই বোন উদ্ধার করে হে ॥ ওরে কান্দে কুমার হায়রে হায় ধরো তোমার দুকনা পায় বইন হয়া এ্যাতো সাজা দেও হে ॥ শোনেক দিদি কঁত্ত তোরে যিদিন গেইচলো মোর ফুলবাগানে নওবাহার কইন্যার কিবা কতা কয় হে ॥ যকোন বাহারের নাম শুনিলে। দুই চউকোতে জল নামিলে৷ কান্দে পরী সই সই বুলিয়া হে ॥ এই কতা শুনিতে পাইলে। কইন্যার মোন নরম হইলে। সোয়ামী বুলিয়া মহোলোতে নিলো হে ॥ শোনেক ভাতার তোমায় বলি ওরে বিয়ার আইতে কল্লেন চুরি কিবা মাতাত বান্ধিয়া আসিলে হে ॥ কুমার কয় শোনেক পরী সাতাত বাদ্‌নু সোনার পাগড়ী হাতোত আচিল সোনার আংগুট হে ॥ এহি কতা শুনবার পাইলো কইন্যার মোনোত ছন্দে হইলো ঘাড় ধরিয়া তাক বাইর করি দিলো হে ॥ ওহে শোনেক দানোব কঙ তোরে চাদোর বাদা আচিল মাতে হাতোত এ্যাকখ্যান আচিল মোহন বাঁশি হে ॥ ওহে বেলদারোক ডাকৈয়া কয় শোনেক ব্যালদার মহাশয় আগুন জলাও ময়দান জুড়িয়া হে ॥ ওরে কতো খড়ি আনিয়া নিলো এ্যাক কোশ বিছিয়া দিলো ধরায় আগুন কইন্যারো হুকুমে হে ॥ কুমাঙোক ডাকৈয়া কয় শোন দানোব মহাশয় সইত্যে যদিকেল হও সোয়ামী কঙ যে তোমারে হে ॥ আগুনের অই পাকে যাও আইগনোতে ফ্যালাও পাও হাটিয়া আইসো আমারো না কোলে হে ॥ এই কতা যকনে শুনিলো আল্লা বলিয়া পাও ফ্যালাইলো যায় নওরাজ এলাহির হুকুমে রে ॥ নওরাজ দ্যাকো হাটিয়া যায় বাগ ভাল্লুকে বইটা রয় কেন্দুয়া বাগে আইগতে পানি দ্যায় হে ॥ আগুন তকোন ফুল হয় নওরাজ হাঁটিয়া যায় যায় নওরাজ কইন্যাকে। আগোতে হে॥ ওরে কইন্যার যে আগোত্ আইলো এ্যাকনা পশোম্ না পুড়িলৌ থ্যাকিয়া কইন্যা ভাবে মোনে মোনে হে॥ কইন্যায় কয় শোনেক দাসী ইয়ার উপায় বেন হামি কি করি মোনের কতা কবার না পারি হে॥ ওরে কইন্যায় ফির ডাকেয়া কয় শোনেক দাসী হুকুম ন্যাও আনো তূলা শোয়ারীত্ ভরিয়া হে॥ ওরে হুকুম পায়। তূলা আনি বিনা সুতায় মালা গাতি অই দানোবোক ডাকেয়া নাইগচে বলিবারে হে॥ শোনেক দানোব কওঁ তোরে শ্যাষ পরীক্ষা জানবু মোরে তূলা পড়া দেইম মুই কওঁ যে তোমারে হে॥ এইবার যদিকেল বাচিয়া থাকো ঘুরি আসি মোর বুকেতি বইসো এই বলিয়া কইন্যা তূলা চালিয়া দিলো হে॥ দিশা : মালা গাখিলো কে রে কইন্যা ইশারা করে এই বুলিয়া দ্যাকো কইন্যা কোন বা বুদ্ধি করে ৷৷ নিয়া তুলার মালা গালাত্ বান্ধিয়া দিলে। ৷৷ ওরে যকনে বান্দিলো মালা কুমারেরো গলে ওরে সরগোপুর বুলিয়া নাইগচে দৌড়াইবারে ৷৷ ওরে কিছুদূর যায়। কইন্যা ফিরানী মালা চালে ওরে না আইসে সেই পানের পতিরে কইন্যা ভাবে মোনে মোনে ৷৷ ওরে সইতে। যে হইলো পতি পাইলো জানিবারে ওরে হুসকিয়া তুলার মালারে আইলো কইন্যার আগে ৷৷ মালা দ্যাকিল দ্যাকেক পরী নাইগচে কান্দিবারে নিজের দোষে হারানু সোয়ামীক্ এ্যালা পাইম মুই ক্যামোনে ৷৷ ওরে চাইলবার নাগিলোঁ সাদোন সোয়ামীক্ নামাইবারে ওরে এ্যালা দ্যাকো ইরালা কতা অইলো ভালে ভালে ৷৷ ওরে সরোগ পুরোত্ ত্যাযোগণ কিবা কামেঁ। করে ওরে সরগোপুরোত্ থাকে কইন্যা নামে গুলুকজান ॥ এ্যালা ও ত্যাকো নাই হয় বিয়া মাও বাপের পরান যকনে গ্যালো কুমার সরোগপুরে ত্ চলিয়া ॥ গুলুকজান কইন্যার নিলো। বন্দি করিয়া। বন্দি উপে থাকে শাহা ত্যাব পুর শওরে ॥ গুলুকজানের সাতে বিয়া নওরাজেরো হইচে কিবেন করে ফুলপরী দিশা না পাইয়া ॥ মাও জনোনীর আগোত্ কয় কান্দিয়া কান্দিয়া শোন শোন মাও জনোনী মুই বা বোলেঁ। তোয়েন ॥ আইলচিল তোমার জামাই পরীস্থান শওরে চিনবার না পায়া তাক তুলা পড়া দিনু ॥ সরোগপুর থাকিয়া তাক আইনবার না পানু এই কতা শুনিয়া আনী গাইল পইড়বার ধরে।। কতো দিন আচলু তুই তাহারো না ঘরে চিনিয়া ও না চিনলু তাকে নিরবুজ নারী।। তুলা পড়া দিয়া ক্যানে তুই হলু কালোংকিনী এই কতা শুনিয়া কইন্যা কান্দে জারে জারে।। দয়া করো মাও জনোনী দয়া করো মোরে কইন্যার কাদোন শুনিয়া তকোন সবার না পায়া।। মারিলো ফিরানী চাইল মালা হাতেতে নিয়া দ্যাগ দ্যাগ কইরতে যাবার নাগিল মালা অইনা সরোগপুরে।। খ্যাকে খ্যাকে গুলুকজান কইন্যা সউগে নিলো ধরে মোনে মোনে ভাবে আনী উপোয় এ্যালা কি করি।। গোম্মাতে মারিলো বান
নামোতে কাচালী
যায়। নাইগ্লো সেই বান
যেটেই কইন্যাগুলুকজানী।।
টিকবার না পারে কইন্যা
কয় খালি মরি মরি
অতে ভর করি নামে কইন্যা
কয় এ্যাল। তরেঁ। ক্যামোন করি।।
হানিল যায়। সেই বান
না পারে খসাইতে
বাও ভরে আইলো কইন্যা
অই ফুলপরীরে। আগে।।
ডাকিয়া ফুলপরী দ্যাকো
গোম্মাতে জলিলো
ধরিয়া চুলেঁর গোচা
কবারে নাগিলৈ।।।
কও দ্যাকোঁ দ্যাব্যের কইন্যা
কও সইন্তো করি
কনটই আইচেন মোর সোয়ামীক
করিয়া চাতুরি।।
এই কতা কয়। ফুলপরী
করে হায় রে হায়
মুই পাচনু যে ধন
অইয়ে বুজিকেল খায়।। কি করিন হাতছাড়া বন্দি তারো হাতে না দিলে অই বেটি ছাওয়াকে বদ করি জেবোনে ॥ মারিলোঁ নামানি বান কইন্যা গোলোকজানী সেই বানোতে দ্যাকো কুমার আইলৌ তাড়াতাড়ি ॥ পড়িয়া সঙ্গীত হইলো হুস নাইরে তার ঢলিয়ায় পড়ে দ্যাকো মরার আকার ॥ সারা গাওয়োত বাতাস করে চউকে মুখে জল চালে খানিক বাদে শাহা উঠিলৌ বসিয়া গো ॥ কিছুদিন থাকে শাহা শ্বশুরেরো দ্যাশে গোলোকজানী কইন্যা আর ফুলপরীর সাতে ॥ এই দ্যান ভাবে কতো দিন গতো হয়। যায় কুমারে ডাকেয়া কতা দুই পরীক কয় ॥ দিশা : সোন্দোরী পেমে মজিচি হামরা হাট হামার বাড়ী না জানি বাপ মাও হামার কিবা হালে আচে রে ॥ এই বলিয়া অইনা রে কুমার বিদ্যায় ভালা হইলো রে শইরের আগোত কতা নাইগ্চে বলিবারে রে ॥ বেটি জামাই আর গোলোকজানী বিদ্যায় ভালা হইলো রে হাতি ঘোড়া ছাড়িয়া রে কুমার অতে শোয়ার অইলো রে ॥ কতো আইজ্ঞো ছাড়িয়া ক্যবোল মাইনষের আইজ্ঞোৎ আইলো রে ॥ নামিলে আসিয়া কুমার ওরে মানোবেরো দ্যাশোৎ রে ॥ বিদ্যায় হয়া গ্যালো রে সারোতি কুকাঁপো শওরে রে দুই বা কইন্যা নিয়া রে সাতে বইরাগিনী সাজে রে ॥ কান্দে ঝোলা হাতোৎ মালা গেরুয়া পোষাক পরে হরি হরি বলিয়া কুমার বাড়ী বাড়ী ফেরে ॥ দ্যাশে দ্যাশে ফেরে আর পুচ করে যারে তারে সগগই কয় অই দ্যাশোতে নাহি যাবে ভাই ।। হলুদ বাশ্ শার ব্যাটা হইতে দানোব তাঁই মানুষ ধরিয়া খায় মাতা পিতা হইতে বরি আরো নগোরবাসী ।। আইঙ্কো ছাড়ি পোঙ্কোগোন হইতে দ্যাশান্তরী কি কইরচে আজার কুমার ভাবে মোনে মোনে ।। ফুলপরী ডাকেয়া কতা নাইগচে বলিবারে কতা শুনি ফুলপরী মাওযোক সরোন করে ।। অতে ভর করি আইসে আনী মাইনূষের গ্যাশোতে ড্যাকিয়া আজার কুমার পাওয়োত ছালাম করে ।। গোট গোট করি সউগ কতা বলিতে নাগিলো আনী কয় শোনেক বাচা না কানদিস তুই আর ।। ২৮- দেকিম দানোব ব্যাটা কতো দুয়াচার বাপ মাওয়েক মারিয়া গেইচে ব্যাটার অহোংকার বাড়িয়া ॥ আল্লা চায় পলোকে ব্যাটাক মুই নেইম যে বান্দিয়া অতে ভয় করি যায় হুল্লোব শওরে ॥ শুতি আচে দানোব ব্যাটা নাকঃরী ঘরের পরে অচম্বিতে যাদু করি আনী আচলি করি নিলে। ॥ উটপার না পারে দানোব শকতি কমি গ্যালো হাত পাউয়োত্ লোহার জিঞ্জির নিলে তাঁই বান্ধিয়া ॥ আগুন করিয়া তাক দিলে যে জ্বালাইয়া ॥ সাতে আচিল যতো দেও কমোর বান্দি আইলো তাকা দেকি আজার আনী অগ্নিবান ছানিলে। ॥ ছাড়িলে অগ্নিবান অইনা আনী পাটেশ্বরী তামান ময়দান জুড়ি ক্যাম্বোল আগুন জ্বলে দাউ দাউ করি ॥ টিকিতে না পারে দানোব ছ্যাকিয়া আগুন পলেয়া গ্যালো সগগই আইক্কোসের ভোবোন ॥ কাইদবার নাগিল বাচা বাপো মায়ের শোকে কনূই তই আইলেন বাপ মাও ছাড়িয়া আমাকে তোমারে হুকুমে গেচণু বিয়া করিবারে কি করিম বিয়া মুই মোকে বিয়া করে ॥ ডাকিনী ধরিয়া মোকে আকে বন্দে। করি হাতে পায়ে নোহার জিঞ্জির বুকে পাতোর তুলি ॥ হুক হুক করিয়া কাইদবার নাগিল বাচা জনোনীক বুলিয়া খল্পোক হাতে দ্বাকো আনী শোনে কান আড়ি দিয়া ॥ ব্যাটার কান্দোন নাখান মালুম করিলো ব্যাটার শোকোতে কইল্‌ জা
জলিয়া উঠিলো ॥
আজাকে ডাকেয়া কয়
মোনোত আইজা মোর এই কয়
শোন আজা কওঁ যে তোমারে ॥
দোর হোস্কেয়া বাইরোত্‌ হাটো
ব্যাটা আইল্‌চে তাক কোলোত্‌ ল্যাহো
আইলচে ব্যাটা মোহোলের মাজার ॥
এই কতা শুনবার পাইলো
আনীর কানোত্‌ চড় মারিলো
চুব করো মায়া আইঙ্কোসীনী ॥
আইঙ্কোস বসিয়া আচে
ময়া করি তাই কান্দে হাসে
না যাইম্_ বাইরোতে আর ॥
এই কতা শুনি কান্দে আনী
দুই চউকোতে বয় পানি
কান্দে আনী ধুলাত্‌ পড়িয়া ॥
যার কোলোত্‌ আচে ব্যাটাধন
না মানে যে তার মন
কান্দে আনী ব্যাহস হইয়া ॥
আইতোতে আনি বুদ্ধি করে
আজায় তাক নাহি জানে
যায় আনী বাহির হইয়া ॥
তপাত্‌ হাতে ল্যাকে চয়া
তিন কইন্যাক সাতে নিয়া আচে ব্যাটা ধুলাত্ পড়িয়া ।। দিশাঃ কাইন্দোনা লো মায়ের চান্দ বদোনে ।। এই কতা শুনিবার পাইলো শুকান মুকোত হাসি আইলো থ্যাকে আনী ত पाते থাকিয়া ।। বোগোলোতে নাহি যায় মোনোত बड़े লাগে ভয় কখন যেন দানোবে ধরে খায় ।। ব্যাটার থ্যাকিয়া মুক ভাংগিয়া পড়ে মায়ের বুক যায় মাও মোর মরোন ভাবিয়া চিন্তা করিয়া যায় আনী রে ।। অইনা ব্যাটার আগে তপাত্ হাতে নওরাজে শাহা পাইলো থ্যাকিবারে ।। মায়ের পাওয়েতে শাহা ছালাম করিয়া ব্যাঙ্গসেতে টলিয়া পইলো মাও মাও বুলিয়া ।। আচলাতে মুছিয়া ধুলা টানিয়া নিলো কোলে মায়ের কান্দোনে যাদুর বুকের কাপড় ভিজে ।। এই শুনিয়া নওয়াজ মাও জনোনীক বলে আইজ হাতে যতো দুঙ্কো মা সউগে গ্যালো দুরে ॥ কপালোত্ আচিলো দুঙ্কো কীই খণ্ডাইবে মাও দুই বউ নিয়া এ্যালা মহোলোতে যাও ॥ শাউড়ি আইলো মোরে বাড়ী ছ্যাকিবারে আদোরোতে নিয়া যাও তাক মহোলের মাজার ॥ কনটাই আচে দয়ার বাপজান কয়া দেও মোরে না ছ্যাকিয়া তাহার মুক মোন নাহি মানে ॥ দিশা : বাচা ডাইকো কি ডাইকো রে এ্যাকবার বাপজান বুলিয়া ॥ শোনেক বাচা কই তোরে আজ্ঞা আচে এই খন্দকে যাও বাচা না কইরবে আর দেরী ॥ এই কতা শুনবার পায় কমোর বান্দিয়া খ্যায যায় শাহা অই সপ্‌তে মোন পাতালে ॥ যারা দেইকপার পায় বাপ বলিয়া ডাক দেয় চলো বাপদন মহোলোত্ তোমার ॥ মুই হুনু তোমার ব্যাটা আসনু ফিরিয়া হাটো এ্যলা যাই বাপদন মোহোল বুলিয়া॥ এই কতা যকোন আজা পাইলৌ শুনিবারে যাদু যাদু বুলিয়া ব্যাটাক কোলোত্ নিলেো তুলে ॥ আচিল বন্দে বুড়া গারোদ থানার ঘরে ঝাড়া দিয়া ওটে বুড়া লাইলাহা বুলে ॥ যকোন আইলো শাহা মহোলেৱো পরে ছালাম করিলো আনী আজারো চরণে ॥ মেলোন হয়া সগলে ব্যাটা বউ আর সুকোতে চলায় শাহা আইঞ্জের কারবার। শওরে শওরে দিলেো ঢোলাই করিয়া বিপোদ কালে যতো পোচ্ছা
গেইছিলেন ছাড়িয়া ।।
নাখেরাজ করিয়া দিলো
খাজনা পাইট তার
সগগই চলিয়া আইলো
বল্লোবের মাজার ।।
সমাপ্ত