মানিক পাল রাজা
রংপুর গীতিকা - বদিউজ্জামান
মানিক পাল রাজা
কাহিনী শুরু
দিশা :
কিছুই জানিনারে ভাই
শ্যাষে কি হবে॥
বাওয়া উজানী নগোরোত্ আছিল দ্যাকে রে
মানিক পাল আজা নাম
ওরে তারে’ ঘরোত্ আছিল কইন্যা এ্যাক
বুকে আজোল নাম॥
বারো বচ্ছোর হইছেরে কইন্যার
আরোর নাইরে পোরে
মাথাত্ হইলো দিগল১ চুল রে কইন্যার
কমরোত্ গেইচে পড়ে॥
এ্যাতো উপ দিচে আল্লায়
আজোলেররো গায়
যেই দ্যাকেঁ তাই পস্তায়
তামরা২ খালি করে হায় হায়॥
চাদে আস্তাব চাঁদে মাতাব
মুঙ্জে ঝলমল করে
শইল্লোত্ না ধরে উপ কইন্যার
উচলি উচলি পড়ে॥
ওরে পেদেঁনেতে চেকোর কাপড়
সওগে৩ দেখা যায়
১. তার ২. তারা ৩.
ওরে উত্তোরা বাতাসে কাপড় খ্যান
উড়িয়া ব্যাড়ায়॥
ওরে হাইট্ ব্যব্থার ধল্লে বুকের মাই
কাপে থরো থরো
ওরে দ্ব্যাকিলে অসিক চেংড়ার মোন
পাগোল হুয়া যায়॥
এই মত হালে এইগলা কতা
অইলো বা ভালে ভালে
ওরে মানিকনাল আজার দুই চাইর কতা
শুইন্যা খ্যাও সকলে॥
এ্যাকদিন দ্ব্যাকো মানিকনাল আজারে
উজিরোকে কয়
ওরে শোনেক প্রানের উজীর রে
কয়া বা বুজাঁও তোরে॥
বেটি এ্যাক আচে উঙ্গীর
হামারো ঘরোতে
ওরে দেইক্তে দেইকতে সেইনা বেটি
সেয়ানী ভালা হইলো॥
ওরে বিয়া দেওয়া নাইগবে এ্যাল।
বর উটকি দেও মোকে
এই কতা শুনিয়া উজীর দ্ব্যাকো
হাত জোর করিয়া কয়॥
ওরে শোন শোন প্রাণের আজা গো
ও আজা কয়া বুজাঁও তোরে
ওরে ঢোল পিটিরা দেও আজা গো
ওরে শওরে শওরে ॥
ওরে ঢোলাই পায়্যা সউগ মানুষে
জাইনবার যে পাইবে
ওরে যার ঘরোত য্যামোন ব্যাটা
এতেই সগ্গই আইস্পে।
দোতাল হাতে৪ বেটি
তামার৫ সগ্গইকে ডাকিবে
ওরে যাক মোনে করবে বেটি
ওরে তাক ধরিয়া নিবে ॥
( বাওয়া ) এই কতা শুনিয়া আজারে
বেলোম৬ নাই যে করে
ঢুলি ব্যাটাক কনে আজায়
নাইগ্চে ডাকাইবারে ॥
( মরি হায় রে হায় )
শোনেক শোনেক ঢুলি ব্যাটা
কয়া বা বুজাওঁ তোরে
ঢোলাই করি এ্যালায় দেও ঢুলি
শওরে বন্দোরে।
( মরি হায় রে হায় )
এই কতা শুনিয়া ঢুলি
বেলোম নাই যে করে
ঘাড়ে মইদোত ঢোল নিয়্যা
৪. তাদের ৫. হতে ৬. বিলম্ব।
নাইগ্চে ডাংগাইবারে।
( মরি হায় রে হায় )
বাওয়া এইড্যান করি ঢুলি ব্যাটারে
ভোলাই করিয়া দিলো।
ঢোল পায়া আইজ্জের মানুষ
সাজিবার নাগিলো।
( মরি হায় রে হায় )
শা-শুড়ি ঢুলি মালি
নাগিলো সাজিবারে
ছত্রিশ জাইতের মইদে বাপধন
বাকী কেউ না আচে।
( মরি হায় রে হায় )
ওরে মোচোলমান সাজিলো ভাইরে
মাতায় লম্বা টুপী
ওরে হেন্দুগণ সাজে বাওয়া
পেদঁনোত্ লম্বা ধুতি।
( মরি হায় রে হায় )
ডোম ব্যাটা সাজে দ্যাকে।
মাতাত নিয়া ডালি
মুচি বেটা সাইজব্যার নাগিলো
মাতাত ঢালুয়া পাগড়ী।
( মরি হায় রে হায় )
স্যাতোরগণ৭ সাজে ভাইরে
হাতোত কোদাল খানি
এ্যাক এ্যাক করি কবার গেইলে
৭. মেথর।
হয়া যাইবে দেরী।
( মরি হার রে হায় )
এইস্নান করি ছত্রিশ জাইত
সাজিয়া তইয়ার হইলো
মানিক পাল আজার বাড়ীত্ আসি সগ্লে
ওপোনীত হইলো।
( মরি হায় রে হায় )
আজায় কয় শোনরে দেওয়াল
মুই বা কওঁ তোমারে
বইস্পার দেও যতো মাইনষোক
যার যে মিচালে
( মরি হায় রে হায় )
মহোলোতে ধায়া আজা
বেটিক ডাকেয়া কয়
বর আইল্চে বাইরা বাড়ীত্
তামাক হু্যাকা দিতে হয়।
( মরি হায় রে হায় )
যে জনেক পচোন্দ মাগো
কইর্বেন আপোনি
সেই জনোক করমু মাগো
তোমার সোয়াগের সোয়ামী ।
( মরি হায় রে হায় )
এই কতা শুনিয়া কইন্যা
( হায়রে ) বেলোম নাই যে করে
ওরে দাসীর ঘরোক নিয়া কইন্যা চড়ে
দোমালার ওপোরে।
( মরি হায় রে হায় )
ইতি উতি দ্যাকে কইন্তায়
নজোর বা করিয়া
নিজের উপের সাতে না মেলে কাকো
সেই জন্মে গ্যালো তাঁই ঘুরিয়া।
( মরি হায় রে হায় )
ওরে সেত্তেই হাতে গ্যালো কইন্ত।
বাগান খ্যানার পরে
দাসীর ঘরে হাত ধরি কইন্ত।
নাইগচে কান্দিবারে।
( মরি হায় রে হায় )
দিশাঃ
পাকি এ্যকবার উড়াও দ্যাকিরে
আরে উড়িয়া যায় রে ময়না পাকি।
ছোট্ট হাতে পাইল_চেঁ। পাকিরে।
দুদভাতে খিলিয়া
কোন বা দ্যাশে আচে মোর সোয়ামী
খবর পটে দেও যাহিয়া॥
একতা শুনিয়া পাকি
কয় বা ধেরে ধেরে
দক্ষিনেঁ। মুল্লুকে আচে মা
ওরে নিশানী নগোর ধারে।
সেই দ্যাশোত_ আচে তোমার সোয়ামী মা
সে কতা কয়। বা দিনু তোরে
কইন্তায় কয় শৌনেক পাকিরে
ও পাকি দয়া বা করেক মোরে॥
তুই ছাড়া আর কঁহি যাইবে
নিচানী নগোরে
এ্যালায় যায়া শোনেক ময়নারে
ও ময়না সোয়ামীক খবোর দিবে।।
ওরে পাকি কয় শোনেক দুদু মা
ও দুদুমা ছবি দ্যাহে মোরে
ওরে সেই নিয়া যায়া দেইম
তোমার সোয়ামীর হাতে।
এই কতা শুনিয়া কইন্যা
তকোন নিজের ছবি কোনা তুলিয়া
পাকির গালাত ছবি কোনা
দিলো তাঁই বানদিয়া।।
ওরে দোনহাতে দুদভ্যত ময়নাক
খিলায় পেট ভরিয়া
ওরে কপোলোতে সোনার ফোটী দিয়া
ময়নাক দিলো রে উড়িয়া।
ওরে কইন্যার পাওয়েতে ময়না
ছালামো করিয়া
ওরে দক্ষিনো মুলুক বুলিয়া
ময়না যায় বা উড়াও দিয়া।।
দিশাঃ
ময়না উড়িয়া যায় রে ভাই
যায় ময়না হামার শ্বশুর বাওয়ার দ্যাশে।
দিনে আইতে যায় ময়নারে
ময়না এ্যাকনাও আরাম নাই যে করে
তিনে০ দিনে গ্যালো ময়না
এ্যাক পাহাড়ের উপরে।
ওপারোত নামিয়া ময়ন।
আদার। ভালা করে
আল্লার কাচোত্ অইন। ময়ন।
কান্দিয়া কান্দিয়া কয়
ওগো আল্লা মাবুদ মওল।
বোঝা নাহি যায় ॥
কঁাইবেন হয় কইন্যার সোযামী
তাকে চিনিয়ায দেও
পাঙ্কিরো কাদনোত্ হায়রে
আল্লার আরোশ তোলে ॥
ওরে আল্লায় ডাকিয়া কতা
জেবরাইলোকে কয়
ওরে পাহাড়োতে যাযা মইন। পাঙ্কি
দৈবে কতা দেও ॥
এই কতা শুনিয়া জিবরিল
কায়া বদোল যে করিযা
মাচির নাহান উপ ধরিষা
খবোর দ্যায় আসিয়া ॥
ওরে খবোর পায়া যাবার নাগিল ময়ন
আরাম নাইযে করে
ওরে কতোদিন বাদে গ্যালো ময়না
নিচানী নগোরে ॥
বাওয়া এ্যাল। দ্যাকে। এইগুল। কতা
অইলো ভালে ভালে
( অই আহা রে )
ছিল ভর আজার দুই চাইর কতা
শুনিয়া নেও সকলে।
(অই আহা রে)
নামোতে ছিল ভর আজা
ভাইরে নিচানী নগোরে
(অই আহা রে)
হায়রে ছোটু কালোতে বাপ মাও তার
মরি ভালা গেইচে।
(অই আহা রে)
ওরে ইতিম হয়া ছিল ভর আজা
বইসে সিংগাসনে
(অই আহা রে)
ধাই মা ছাড়া এই জাগাতোত্
আর কেহ তার নাই
(অই আহা রে)
হায়রে উপায় না দেখিয়া আজা
কাদে মাইরে মাই
(অই আহা রে)
দিনে দিনে বস দ্যাকো তার
এ্যাক কুড়ি বচ্চোর ধরে
(অই আহা রে)
হায়রে নেরোলে বইসলে আজার
মুক্তের কতা নাইসে সরে
(অই আহা রে)
এ্যাকদিন ড্যাকো কয় যে আজা
উজীরে রো তরে।
( অই আহা রে )
বিয়া করা নাইগবে উজীর
পাত্তুরি উটকিয়া দেও মোরে
( অই আহা রে )
নিয়া আইসপেন সোন্দরী কইন্যা
কওঁ বা তোর আগে
ওরে বিয়া না কল্পে মোর এই আইচ্ছো
কোন কামে নাইগবে।
( অই আহা রে’
এই কতা কয়া আজা
বাগানের ভেত্রোত গ্যালো
হ্যান সোমে ময়না পাখি
ড্যাকিবারে পাইলো।
( অই আহা রে )
পাখি কয় শোনেক আজা
না কানদিস তুই আর
পাবু তুই সোন্দরী কইন্যা’
খবোর বা শোনেক তার।
( অই আহা রে )
ওরে উজানী নগো রোত ঘর
মানিকপাল আজা হয়
ওরে তারে ঘরোত সোন্দরী কইন্যা
বুকে আজোল নাম
( অই আহা রে )
ওরে আইনচৌ। মুই কইন্যার ছবি
দ্যাকেক তুই তাকিয়া
ওরে এই ছবি নিয়া তোমার ছবি আজা
দ্যাহো না তুলিয়া।
( অই আহা রে )
ওরে এ কতা শুনিয়া আজা
ভাইব্বার যে নাগিলো
ওরে বোনের পাকি হুয়া আইজ মোক
কইন্যার খবোর দিলে।*
( অই আহা রে )
আইসেক আইসেক বুলিয়া পাকিব
নাগাইল ডঃকাইবারে
ডাক শুনিয়া পাইলে। পাকি
আজার মুক্কে র আগে ।
( অই আহা রে )
ওরে পাকির গালা হাতে ছবিকোনা।
নিলো তাঁই খসেয়।
ওরে ছবি’ দ্যাকিয়া পড়ে আজা
খ্যাঙ্গসোতে টলিয়া
( অই আহা রে )
( হায়রে ) ওরে বুকে আজোল কইন্যা তুই
তোর ছবিকোনা. দ্যাখাইয়।
কোনবা শ্বাশোত্ অলু তুই
মোক পাংগোল যে করিয়া।
( অই আহা রে )
ওরে খানিক বাদে দ্যাকে। আজা
হসোতে আসিলে।
পাকির কাচহাতে যতো কতা ওঁাঁই
শুনিয়ায় ভালা নিলে।
( অই আহা রে )
দিশাঃ
হামি বইরেগী হমেঁ।
যে দেশোত্ আজোল আচে
হামি সেই দ্যাশোত্ যামেঁ।।
( বাত্তয়া ) এই কতা কয় আজা
কানদে তাঁই জারে জদ্রে
শোনেক শোনেক বনের পাকিরে
জবান না শোনেক মোরে।
ছবিকোন। নিয়া যায়া অই
কইন্যার হাতোত্ দিবে
ওরে দয়া করে সেই কন্যাক
যদিকেল দিতে পারো
ওরে দুদ ভাত যতো সউগ ময়না
পেট ভরে খাবার পারো।।
ওরে ছবিকোন নিয়। ময়না পাখি
বিদ্যায় হুয়া গ্যালো
হ্যানসোমে আজার উজির রে
অই বাগানৌত্ আইলো।।
উজিরের পাও দুকনা ধরি
আজা কাদবায় নাগিলোঁ।
শোনেক শোনেক শোনেক রে উজীর
কতা বা শোনেক রে মোরে ॥
মোর সাতে যাওয়া নাইগবে তোক
উজানী নগোরে ॥
ওরে সেই দ্যাশোত্ আছে এ্যাক কইন্যা
সেই কইন্যায় হামাক পাগল করিলো ॥
কতা শুনি ভকোন উজিরে কয়
অই মহোলোতে হাটো
অই পোেক্কার কাচ হাতে বিদায় নিয়।
• অই উজানী নগরোত্ হাটো।
ধেরে ধেরে যায় আজারে
আর ছবির দিকে দ্যাকে
ওরে কাছারী ঘরোত্ যায়। আজা
পাগলা ঘর্ন্টাত বাড়ি দিলো ॥
পাগলা ঘণ্টার ডাং শুনিয়।
তামান পোজ্জাগোনে আইলো।
আজায় কয় শুনরে পোজ্জাগণ
হামার কতা শোন ।
আইচ্ছা হাতে নিচানীর বাশশাই
দেওয়ানের হাতোত্ দিনে।
শোন তোমরাগুলা ওরে পোজ্জাগোণ_
দেওয়ানোক জাইনবে মোর সমান ॥
ওরে কপাল পোড়া আজা হনু
সুকোত তোমারগুলাক না আকিনু
জন্সের মোৎ হয়া যাই এ্যালা
ফকিরো হয়া রে ॥
( হায় হায় রে )
শোনেক দেওয়ান কঙ্ বা তোর আগে
পাল্বু পোজার ঘরোক ব্যাটা বরাবরে,
কোন সোমে পোচ্ছাগোন
দুক যেন না পায়রে ।
( হায় হায় রে )
এক কতা আজায় যক্নে কয়
চউখের পানিত আজার বুক বিজি যায়
শোরপোটা৯ নাগিয়া আজা পড়ে
ভরা সবার মাজে রে
( হায় হায় রে )
ওরে খানিক বাদে দ্যাকে। আজা
হুস পায়া তাঁই হইলো খাড়া
পোচ্ছাগোনোক কয় খালি
কান্দিয়া কান্দিয়া রে ।
( হায় হায় রে )
ভাই ভাস্তা কেউ নাই মোরে
কনটই গেইলে হামার কইল্জা জুড়াই রে
৯. চিন্তিত হইয়া।
এ্যালা হেটেই হাতে যাঙ মুই
উজেনী নগোরে রে।
( হায় হায় রে )
দোয়া করেন তোমরা সগলে
পাচ চোরের খাজনা দিনু মাপ কইরে
খুশি হালে থাকো সগলে
নিচানী নগোরে রে।
(হায় হায় রে )
ধনমাল দ্যাকে। সউগে দিনু
উজীবোক খালি সাতে নিনু
না হইবে আর কোন কালে
হামার সাতে দ্যাখা রে।
( হায় হায় রে )
দিশা :
দিন মোর গ্যালো রে
ও ব্যালা গ্যালো।
সগ্ডহীর কাচ হাতে বিদ্যায় নিয়া
ও আজা উজিরোকে কয়
হাটৈক হাটৈক হাটৈক উজীর
বেলৌম আর না সয়॥
ওরে হুকুম দিলে ঘাসিয়ারোক তকোন
ঘোড়া সাজাইবারে
ওরে এ্যাক নিকাশে সাজাও ঘোড়া
নিয়া আইসেক মোর আগে॥
১৬-
ওরে হুকুম পায়া ঘাসিয়ার ভকোন
বেলোম না করিলে।।
ঘোড়ার পিঠির সাজগোজ নিয়া দেওয়ান
তনে ঘোড়ার ঘরোত গ্যালো
সোনার লাগাম দিলো রে মুখে
উপার লাগাম হাতে।।
চাঁদির গদি তামার ডোরা
নিলোরে সাজেয়া
আজার আগোত্ সেই না ঘোড়া
আনে খাড়া খাড়া।।
সেটেই হাতে যায় বা আজা
দাই মায়েরো আগে
বিদ্যায় দেও মাও কালানী গো
বিদ্যায় বা দেহ মোকে
এালায় হামি চলিয়া যাই মা
উজানী নগরে।।
বিদ্যায় নিয়া আইলো দ্যাকে। আজ।
দেওয়ানেরো আগে
মাতাত্ আটিল মাইনকের তাজ।
দেওয়ানের মাতাত্ দিলো।।
হাত বা ধরি তাকে আজায়
তক্তে তুলিয়ায দিলো
বাওয়া হ্যানসোমে উজীর দ্যাকে।
আসিয়ায় খাড়া হইলো।
দিশা :
উজির কি উজির হে
হাটো যাই আমরা বইন্যাশে
আল্লার নাম নিয়া উজিররে
ঘাড়াত্ শোয়ার হইলোরে।
বাওয়া মহা ব্যাগোত্ গ্যালো দুইজোন
আল্লা আল্লা বইলো
দিনে আইতে যাবার নাগিল ভাইরে
বেলোম নাই যে করে ॥
কতোদিন বাদে গ্যালো দুইজোন
এ্যাক বেরবোন জঙ্গোলের মাঝে
ওরে ভোকের জালায় অইনাহে আজা
না পায় আর থাকিতে
ভোকের জালায় আজা তকোন
উজীরোক নাগিলোদাকিতে।
ওরে ভোকের জালায় না বাচে পান
উজির, খিলাও কিছু মোকে
ওরে দুইজোনে নামিয়া বইসে
এ্যাক গাছেরে তলোতে ॥
হ্যানসোমে উজির ব্যাটারে
কোন বা বুদ্ধি করে।
পাহাড়ের ওপোেেরাত্ নেওয়া ফল কতো
পাইলোদ্যাকিবারে
ওরে সেত্তেই দ্যাকো সোন্দোর বেটি ছাওয়া
ফুলের মালা গাতে ॥
আজায় কয় শোনেক পানের উজীর গো
জবান বা শোনেক মোরে
চলিয়া যাও জংগোলের মাজে
ভালো ফল আনো তুলিয়া ॥
এই বাড়ীত্ বসি খামেঁ দুিজোনে
ওদ্দোরো ভরিয়া
যকোন কালে গ্যালো উজীর
জংগোলের মাঝখানে।
কটই হাতে ১০ দারুণ দ্যাও এ্যাক
নিলো তাক ধরিয়া।
ঘাড়ো করি নিয়া গ্যালো উজীরোক
অই কইলেশ বুলিয়া
বাওয়া ইতি দ্যাকে। ছিলভর আজারে
কোন বা কামেঁ করে
ধেরে ধেরে যায় বা আজারো
মাইলেনীরো আগে ॥
দিশা:
ফুলের মাইলেনী সই
আরে ফুলের ঝুনুরা হে ॥
কিবা কামে বসিয়া আচো
এই না অঘোর বোনে
বাপ মাও ছাড়িয়া তোমরা
এ্যাকল। হেটেই কেনে ॥
কতা নাহি শোনেরে মাইলেনী
ও মাইলেনী মাতা তাঁর না তোলে
১০. কোনখান থেকে।
বাওয়া অ্যাকো ডাকো দুইরো ডাকো
তিনেঁ১ ডাকো রে দিলো ॥
ওরে চাইর বা ডাকের কালে মাইলেনীটা
উটিয়ায় খাড়া হইলো ॥
মাইলেনী কয় শোনরে ব্যাহেয়া
ওরে হেটেই কি তোর কাম
জানিস না এই জাগাকোনা হইলো
পরীর ঘরে মোকাম ॥
ওরে পরীস্থানে থাকে পরী
গুলবাহার তার নাম
ওরে সাতদিন বাদ বাদ আসিয়া পরী
এই বাগানোতে বাতাস খান।
তারে জন্যে গাতোঁ মুই মালারে
সেই পরীর মাইলেনী মুই হওঁ
ওরে তোকে দ্যাখিয়া হইলোরে দয়া
তোক মুই মারিবারে নঙঁ।
জেぼনের যদিকেল আশা থাকেরে
ও মানুষ হেটেই হাতে ভাগিয়া পালায়
আরে ওই কতা শুনি ছিলভর আজারে
ভাবৈ বা মোনে মোনে ॥
ওরে আগে মরোন পাচে মরোন মোর
ওরে হেটেই১১ মরোন হবে।
ওরে তেইলে মুই কি পলেয়া যাইমু রে
না দ্যা কি পরীরে।
১১. এই ঠাঁইয়েই।
ত্যাকিম মুই ক্যামুন পরী জাইত্,
যিগলা আচে কপালে।।
ওরে এই কতা কয়া আজায়
মাইলেলীর পাও সাপটিয়া ধরে।।
দিশাঃ
গুণের মাইয়ারে
এইবার তরেরা ল্যাহো মোরে।
আসিয়া বেপো দোত পড়ছি
তোমারো বাগানে
ওরে হাত পাও ধরিয়া মাইলেলী
কানন্দে কানন্দে জারে জারে।
ওরে কানদোন ত্যাকিয়া মাইলেলী বুড়ি
আজাক তুলিয়া নিলো কোলে।।
ওরে যকোন ত্যাকো তুলিয়া নিলো কোলে
আজাকে মাইলেলী
ওরে মাও মাও বুলিয়া ডাকায় আজা
ও হায় ব্যাটা হইচে হামি।।
হায়রে, এই কতা শুনিয়া মাইলেলী
বড়োই খুশী হইলো
ওরে হাটুর ওগোর হাতে আজাক
কোলোত বা তুলিয়া নিলো।।
থাকেক থাকেক থাকেক বাচা
ও বাচা ভয় বা কি তোমারে
ওরে মুই বুড়ি থাইকতে রে বাপধন
কাই মারে তোমাকে।
ওরে কি কামে বেন কনটই যাইস
ও বাচা কওতো হামারে
ওরে গোট গোট করি যতো কতো
মাইলেমীর আগে বলে।।
ওরে এ্যালা মুই যাবার চাওঁ মা
উজেনী নগোরে
ওরে দয়া করি দ্যাঁকাও মাগো
সেই না পরী মোকে।।
ওরে ক্যামোন বা সেই পরী জাইত মা
দ্যাঁকো নাই কোনো কালে
ও বুড়ি কয় থাকেক ব্যাঁটা
মোরে কোলেতে বসিয়া।।
ওরে আল্লা যদিকেল দয়া করে
তে হইলে সেই পরী সাতে দেইম তোর বিয়া
সেই পরীর জেবোন আচে দ্যাঁকে।
মোর বা হাতের পরে
ওরে তুই যে কতা কইমরে
সেই কতা পরী মানিয়া
ভালা নিবে
ওরে ছয়দিন ব!দে আইসপে পরী
মোর যে বাগানে
ওরে একতা শুনিয়া আজা
ওরে থাকে তাঁই সেইখানে।।
ওরে দ্যাখ দ্যাগ্ করতে ছয়দিন দ্যাঁকো
গতো বা হয়া গ্যালো
ওরে দাসী বান্দী সাতে নিয়া পরী
আসিয়ায় হাজুর হইলো।।
ওরে পরীক ডাকি মাইলেনী বুড়ি
আজাক ঘুসিয়া১২ আকিলোঁ
ওরে ইতি ডাকি গোলবাহার পরী
মাইলেনীকে কয়।।
ওরে আইজ কেনে ফুলের মালা মোর
ও মালা ওখ্যান ড্যাকা যায়।।
ওরে সারা মালায় গন্ধ করে
ও মালা হাতো নেওয়া নাইরে যায়।।
মাইলেনী কয় শোন পরী
কয়া বুঝাওঁ তোরে
ওরে ক্যামোন ক্যামোন করে গোল্ড
সেই কতা কওনা হামারে।।
ওরে দিন গ্যালো সইন্ধ্যা১৩ কালে
বসিলে নেরোলে
শোনেনেক পরী কওঁব কতা
ও মোর মোন মানে না।।
আইলচে এন্তেই সোন্দোর আদোম এ্যাক
দিন চারি পাঁচ হয়
আদোম এ্যামোন রে জাতি
তাক দেইক্লে লোভ হয়।।
১২. আড়াল করিয়া।
১৩. সাঁঝ।
বাওয়া এই কতা শুনিয়া পরী
হাসিয়ায় উঠিল।
ওরে মাইলেনীকে কতা দ্যাকো
কবার যে নাগিল।
( ও আহা রে )
ওরে দ্যাকাও দ্যাকী সেই আদোম
আদোম বা ক্যামোন
দুই চউকে দ্যাকিয়া তারে
করিমুেঁ যত্তোন।
( ও আহা রে )
হায়রে মহোলোতে আচে আদোম
হাতো যে ধরিয়া
ও পরীর সবাত দিতে।
হাজুর করিয়া।
( ও আহারে )
ওরে পরীক দ্যাকিয়া আজা
পইলে।রে টলিয়া
ওরে মোনে হয় ছিলঙর আজা
গেইচে বুজি মরিয়া।
( ও আহা রে )
মাইলেনী কয় শোনেক পরী
কি কামেঁ করিলে
পরী হয়। নবীর বংশোক
মারিয়া ফ্যালাইলে।
( ও আহা রে )
আদম ছপি আছিল নবী
দুনিয়ারো পরে
তারে বংশোক মারিলু তুই
তোক নরোকোত্ জলা নাইগ্বে।
( ও আহা রে )
এ্যালায় বাচাও আদোমোক তুই
যদিকেল ভালাই চাও
ওরে ভালা চায়া ঔষধ আনি
তারে না খিলাও।
( ও আহা রে )
ছোলেমান নবীরে পরী
ভয় বা করিয়া
হাত ধরি তোলে অদোমোক
পড়ে তাঁই টলিয়া।
( ও আহা রে )
ধরি ধরি বসায় আদোমোক
টলি টলি পড়ে
মচ্চে কি বাচে আছে
না পায় বুজিবারে।
( ও আহা রে )
ওরে যকোন কালে নাকোত্ হাত পরী
দিলো রে তুলিয়া
ওরে গালা শাপটে ধরি উঠিল আদোম
হাসিয়া হাসিয়া।
( ও আহা রে )
গালা শাপটে ধরি কয় আজা
গোলবাহারের সাতে
ওরে তোমার সাতে হইলো মোর বিয়া
আদোমের শাস্ত্রো মোতে।
( ও আহা রে )
ওরে যে কোন জিনিস যদিকেল
মুঙ্কোত দ্যায় তুলিয়া
ওরে তাঁই ছাড়া সোয়ামী নাই তার
থাকো না খুঁজিয়া।
( ও আহা রে )
ওরে এদ্যান কতা শুনিয়া পরী
মাতা বা হ্যাঁট করে
ওরে বুচ্চো১৪ মুই এই আদোমে বুঝিকেল
মোর জাইত বুঝিকেল মারে
( ও আহা রে )
বাওয়া বারের ছোরা নিয়া পরীরে
আজাক যায় মার্লিতে
আকো আকো বুলিয়া মাইলেনী
নাইগচে ডাকাইতে।
( ও আহা রে )
সোয়ামীক মারো যদিকেল
তে হইলে গুনাগারো হইবে
য্যামোন মারিল সোয়ামীক
বিবি জায়েদায়।
( ও আহা রে )
১৪. বুঝেছি।
সেইস্থান পাপিনী যদিকেল
তুমি হবাম চাও
শুঙ্গিয়া দ্যাকে। নিজের গাওখান
আদোম আদোম গোল্ডায়।
( ও আহা রে )
ওরে এই মাইনষের গায়ের গোন্দো
তোর গাওয়েতে নাগিচে
আর কি খাবার পাবু তুই
পরীর ঘরে সমাজে।
( ও আহা রে )
এই কতা শুনিয়া পরী
আগ বা ক্ষমা করে
ওরে মাতা হালেয়া অইনাহে পরী
নাইগচে ভাবিবারে।
( ও আহা রে )
হায়রে যকোন কালে মাইনষের গোন্দো
পরীর গাওয়োত পাইলো
অতোত চড়ি সাতের পরীরা
পরীস্থানোত গ্যালো
( ও আহা রে )
এ্যাকলায় অইলো গোলবাহার
বাগানেরো পুৱে
ওরে মাইলেনীরো হাতো ধরি পরী
নাইগচে কান্দিবারে।
( ও আহা রে )
পরীর ঘরে মইদে মাও মোর
সোয়ামী না আচে
আদোমের সাতে জোড়া বুজিকেল
মোর কপালৌত লেখিচে।
( অই আহা রে )
শ্বাস কত ভাবিয়া পরী
আদোমোক নিয়া কোলে
বইসে যায়া দোনোজোন তকোন
নেরাল। পালোংগে।
( অই আহা রে )
ওরে কত্পা করে আলাপ দুইজোন
এ্যাক সাতে শুতিয়া
কেউ কয় কেউ শোনে
নেরোলে বসিয়া।
( অই আহা রে )
চউকোতে আছিল কইন্যার
চউকের কাজল খানি
টানিয়া ছিড়িল আজায়
গালার মালা খানি!
( অই আহা রে )
ককনো পরীক কোলোত্ ল্যায় আজায়
ককনো বইসে তার কোলে
কতো থের্ব্বান১৫ থ্যালা থ্যালায়
১৫. ধরণ।
নেরালা বাগানে।
( অই আহা রে )
এইন্যান হালে থাকে পরী
আদোমোক যে নিয়া
কতো ধেররান অংতামোশা
বিচনাতে শুতিয়া।
( অই আহা রে )
এইন্যান ভাবে কতোপা দিন ভাই
গতো বা হয়। গ্যালো
দ্যাকোনা তামোশা পয়দা
খোদায়ে করিলো।
( অই আহা রে ) -.
এ্যাকদিন দোপোর আইতোত
সোয়ামীক নিয়া কোলে
নিদেঁতে ব্যাভোলা পরী
সোয়ামীক নিয়া বুকে।
( অই আহা রে )
হ্যানকালে বুকে আজোল কইন্যাক
খোয়াবে দ্যাকিলো
ওরে কাইনূতে কাইনূতে অইনা কইন্যা
পাওয়োতে পড়িলো।
( অই আহা রে )
ওরে কাইনতে কাইনতে সেইনা কইন্যা
কতো কতায় কয়
ওরে পরীেক পায়া পাশরি অইলেন
হতভাগী আমায়।
( অই আহা রে )
ওরে তোমরা না করিয়া কড়াল
ছবি দিচেলেন তুলি,
ওরে তোমরা ছাড়া এই জগতোত্
কেহ নাই মোর পতি।
( অই আহা রে )
এই খোয়াব যকোন দ্যাকে আজ্ঞা
পাইলো দ্যাকিবারে
ওরে কান্তে কানতে পইলো টলি তাঁই
জইমুনের ওপোরে।
( অই আহা রে )
দিশাঃ
কপালে এই ল্যাকিতো
দারুণ বিদি কপালে
ওরে নিদ হাতে উটিয়ায় পরীরে
ও পরী কান্দে জারে জারে।
ওরে কি দোষ পায়া সোয়ামী মোর
ধুলাত্ পড়ি আচে।।
ওরে ধেরে ধেরে যায়া কইন্যারে
তুলিয়া নিলো কোলে।।
ওরে কি হইলো কি হইলো নাতো
কি হইলো তোমারে
ওরে সেইকনা কতা শুনিয়া আজ্ঞা
কান্তে কান্তে বলে।
ওরে শোনেক কইন্যা দুক্কের কতা
ওরে পরাণ মোর ফাটে
বিদ্যায় করিয়া দেহ মোরে
যাইম মুই উজেনী নগোরে॥
ওরে উজানী নগোরোত্ আছে
আজা মানিক পাল
তার ঘরোত্ আছে কইন্যা
নাম থইলো তার বুকে আজল।
সেই কইন্যার ছবি দ্যাকী
মোনে না মোর মানে
এই কতা শুনিয়া রে কইন্যা
সোয়ামীর পাউযোত্ পড়ে।
ওরে না যান না যান নাতো
সাগোরোত্ ভাস্যে।
তোম্রা মোক ছাড়িয়া গেইলে
কি যেন গতি হইবে।
ওরে ছাইড়ছেঁ মুই বাপ আর মাও
ছাইড়ছেঁ দাসীবান্দীগণ
তোমার দিকি দ্যাকিয়া নাতো
আছে মোর এ জেবোন।
ওরে আজায় কয় শোনেক পরী
যতো বা বুজাওঁ মোরে
এই দণ্ড্বে চলি যাইম মুই
আজোলেরো ঘরে॥
ওরে কাদাকাটি শুনিয়া মাইলেনী
আইলো বা ধেরে ধেরে
ওরে ঝাড়িয়া নাওয়ের ধূলা
ব্যাডাক তুলিয়ায় নিলো কোলে ॥
কিসোক ব্যাটা কাইদবার নাগচিস তুই
পড়িয়া জইমুনের পরে
ওরে সুন্দরী পরী দ্যাকিয়া যাদু রে
বিয়া বা দিচোঁ তোরে ॥
ওরে কিবা কতা কইচে পরী
কওবা মোরো আগে
ওরে মোনে যদিকেল করিয়া থাকিস
দো-বিয়া করিতে ॥
ফির তে হইলে বিয়া দেইম্ তোকে
সোন্দোরী কইন্যা আনি
ওরে হাত জোড় করিয়া রে আজা
কয় মাইলেনীরো আগে ॥
বিন্ধায় করি দেও মাগো
যাওঁ মুই আজোলোক উট কাইতে
ওরে সেই কইন্যা না পাওঁ যদিকেল মা
তে হইলে মরি যাইম তোর আগে ॥
ওরে চালাকি আছিল মাইলেনী
সউগে কতায় জানে
পরীর হাত ধরি কয়বা কতা
চাতুরালী ভাবে।
কও কতা মা
১৭-
এ্যালা কি করা নাইগ্বে
ওরে সোনার যাদুক মোর
নিয়া যা তুই উজেনী নগোরে ॥
এই কতা শুনিয়া পরীরে
কর বা ধেরে ধেরে
ওরে হাটেক এ্যালা নিয়া যাওঁ গো
উজেনী নগোরে ॥
ওরে খোপা ধরি আনি দেইম মামীক
তোমার পাউয়ের তলে
ওরে মাইলেনীর নেকোট হাতে বিদ্যায় হয়।
দুইজোন যায়বা ধেরে ধেরে ॥
(বাওয়া) আজার হাত ধরিয়া পরীরে
শূয়ে উড়াও দিলো
( ওই আহা রে )
এ্যাক পাজলানে১৬ উজেনী নগোর
দ্যাকিবাবে পাইলো
( অই আহা রে )
খানিক দূর বাকী আচে রে
উজেনী নগোরে।
ওরে নামিল যায়া দুইজোন দ্যাকো
জইমনের ওপোর।
( অই আহা রে )
(বাওয়া) খাওয়া দাওয়া করি
দোনোজোন আরাম করিলো
১৬. নিমিষে।
হায়রে জমের নিদ আসিয়া আমার
চউকেতে চাপিলো।
( অই আহা রে )
দ্যাকো ভাইরে খোদার থ্যালা
কঁাই বুজিবার পারে
ওরে সেই জংগোলোত্ অচিন এ্যাক পাখি
নজোরে দ্যাকিলো
( অই আহা রে )
ওরে আগে দ্যাকো যে ময়না কোনা
খবোর পটে দিচলো
সেইদিন হাতে সেই ময়না দ্যাকো
পত্ তাকেয়া অইলো।
দ্যাকিয়া আজাকো পাকি
যায় বা বাও ভরে
যেটেই আচিল আজোল কইন্যা
পাকি গ্যালো তারো আগে।
ওরে কঁাইদবার নাইগ্চে আজোল কইন্যা
মাও জননীর আগে
হ্যান সোমে ময়না পাখী যায়া
বইসে তার বুকে।
দিশঃ
কাইদোনা কাইদোনা লো
মায়ের চাদ বদনে॥
শোন শোন শোনরে জননী
কতা বা শোনেক মোরে॥
আইলচে এস্তেই১৭ তোমার সোরামী
তুলিয়া নেও তাক কোলে॥
ওরে দুই কোশ তপাতে আজ।
বইনোক নিয়া সাতে।
বরিয়া যায়া আনো তাক জননী
আনো সেই খবোর দিতে॥
পাকীর কতা শুনিয়া কইন্যা
আউলা ঝাউলা ভ্যাসে
ওরে কনটই হাতে ১৮ আলু মোর পাখি
আলু তুই এ্যাতো দিনে।
কোনটই আঢ়ে মোর পানের পতি
দ্যাকাও আগে মোরে
ওরে একা যকোন আনী
পাইলো শুনিবারে॥
ওরে কইন্যার সাতে কয় কতা
ক্যামোন সোয়ামী হয় তোরে
ওরে হাটে যায়া দ্যাকী
কোনটই আছে তোর সোয়ামী
আনি তাক মহোলে।
ওরে হাত বা ধরি মাও আর বেটী
যায় বা ধেরে ধেরে
ওরে চাইরো পাকে দাস আর দাসীগণ
সগগইরে চাইলোন বাতি সাতে॥
১৭. এখানে আসিয়াছে। ১৮. কোন ঠাই হইতে আসিণে
ওরে ধেরে ধেরে যায় বা কইন্যা
সোয়ামীক ছ্যাকবারে
ধেরে ধেরে যায় কইন্যা
পাকি যায় তার সাতে ॥
গেইতে গেইতে গ্যালো সগগই
আজারো সামোনে
ওরে দুর হাতে দউড়ি যায়া দ্যাকে।
গালা শাপটিয়া ধরে।
দিশা :
ওরে ভাবের কোড়া কি কোড়া রে
কোড়ার ডাল ভাংগি পড়ে ॥
এই বুলিয়া অসের কইন্যা
নাইগচে কানদিবারে
আইসেক আইসেক পানের পতি
আইসেক মোর কোলে
তোমার জন্মে আইকচোঁ মধু
কাঁচের বোতোলে।
ওরে খ্যাতো দিনে আইলেন নাতো
অভাগিনির কোলে
ওরে দিনে দিনে যৈবন কোনা মোর
নাইগচে বাড়িবারে ॥
ওরে তোমার জন্মে মোর ফুলের মধু
পড়ে টোপে টোপে
তোমর হইলনে আসিক নাগোর
হামরা হইনে পেয়ালা
এই পেয়ালা ধরিয়া তোমরা
করেন অসের খ্যালা॥
কি কইরমেঁ কনটই যামেঁ
না দ্ব্যাকি উপোয়
শরমে না কবের পারি
মাঁও বা গোসা হয়॥
মাঁও জনোনী আচে কাছে
কবার না পারি
খিলামেঁ ডাইল্মের কলি
হাটো আমার বাড়ী॥
নয়া ডালিম গাচোত হামার
ডগ মগ ডগ মগ করে
তোমার জইম্নে আইকচঁ মধু
এই না যত্তোন করে॥
এ্যাতেক দ্ব্যাকি আনী দ্ব্যাকো
ভাবে মোনে মোনে
সেত্তেই হাতে যায় আনী
আজাক খবোর দিতে॥
ওপোনীত হইলো আনী
আজারো আগোতে
পাওয়োঙ্ ছালাম করিয়া আনী
কয়বা ধেরে ধেরে
ওরে আইচে সোন্দোর জামাই এ্যাক
বেটিরে। সামোনে ।।
দিশাঃ
আনী কি বাইক্য শুনাইলেন আইজ হামারে।
এাতো দিনে ভাতারের মর্ম্মো
বেটি মোর পাইলো জানিবারে ।।
বড়ো সাদ আছিলে। মোনে
বেটিক বিয়া বা দিতে
ধুম ধাম কয়িরা দেমোঁ গো বিয়া
বেটি গো যে মোরে ।।
এ কতা শুনিয়া আজা
দেওয়ানোকে কয়
ওরে হামার জাইত যতোগুল। আচে দেওয়ান রে
তামার ঘরোক জিয়াপোত ১৯ দেওয়া যায়।
বেটি হামার নিচে বরো
ওরে তাতে মুই ব্যাজার২০ হইম বা ক্যান।।
মুল্লুকেতে আচে যতোরে
ভেন্স ভেন্ন জাতি
সগ্গইকে দিমু জিয়াপোত
করিয়া কাকোতি।
বাওয়া ঢুলি মালি ডোম দ্যাতোর
চান্ডা্ল আর জাল্লাদ
হন্দু মা ল [?] কই
১৯. [?]।
কেউ না রইলো বাদ
( আরে অই আহারে )
শা-শুড়ি নাউয়া ধোপা
কেউ বাকি না যে অইলো
ছত্রিশ জাইত্ গনিয়া দেওয়ান
জিয়াপোত্ করিলো।
( আরে অই আহারে )
যাবার নাগিল সগলে দ্যাখো
জিয়াপোত্ যে পায়া
মানিকপাল আজার কতা সগলে
শোন মোন দিয়া
( আরে অই আহারে )
গান বাজনা অংতামশা
চলিবার নাগিলো
বড়ো ধূমধাম আজার বাড়ীত্
পড়িয়ায় যে গ্যালেং।
( আরে অই আহারে )
কাঁইও বাজায় ঢোল বা খানি
কাঁইও বাজায় কন্সাল
সানাই কোনা কাঁইও বাজায়
ভো ভো আওয়াজ তার।
( আরে অই আহা রে )
কাঁইও বাজায় ডাইনা ডুলি
কাঁইও হারমোনি ব্যাহালা
ওরে এ্যামোন বাজোন বাজায় তাম্রা
কানোৎ নাগে তালো।
( আরে অই আহা রে )
ওরে বন্দুকের হিড় হিড়
গীদের ধাম ধুমো পড়িলো
ওরে প্যাট ওলি ব্যাটিছাওয়ার কতো
হামেলা পড়িলো।
( আরে অই আহা রে )
ওরে এ্যাৎ ধুমধাম করে দ্যাকো
আজা মানিক পাল
ওরে আজাক নিয়। আজোল কইন্যা
হইলো পাগোল
( আরে অই আহা রে )
নাচের জন্মে গিদেলী নিলো
সাতোতে করিয়া
বইরেতি আর আইয়ো নিলো
গীদেরো নাগিয়!
( আরে অই আহারে )
হাতির পিট্যত চড়ি যাবার নাগিল আজা
দায়ান্দোক আনিবারৈ
ওরে ওপোনীত হইলো যায়া
ছিলভর আজার আগে।
( আরে অই আহারে )
বাওয়া আইয়োর ঘরোক হুকুম দিলো
গাও ধোয়াইবারে
আতোর মিশি পানি আনে আইয়োয়
কাকেব কলসি ভইরে
( আরে অই আহা রে )
গাও ধোয়া দ্যাকে। তারে
কাপোড় পেদোঁয়ায় দিলে।
আরে ভালো ভালো জামা জোড়া
মাতাত্ পাগড়ী দিলে। ।
( আরে অই আহা রে )
আজাব নাহান সাজেয়া তারে
হাতির পিটাত্্ তুলিয়া
যাবার নাগিল মানিক পাল আজা
জামাইক সাতে নিয়।।
( আরে অই আহা রে )
ভরা সভার সাজোত্ ছাড়া
তাঁর কবার যে নাগিলে।
ওরে আকোন্দে আসি বিয়া কোন!
পড়েয়ার ভল দিলোঁ
( আরে অই আহা রে )
বাওয়া হয়া গ্যালো বিয়া কোনো
ঘুচিলো জঞ্জাল
খবোর পায়া বুকে আজেল কইন্য।
হইলো যে খোশাল
( আরে অই আহা রে )
আমোদ আহ্লাদে অব্দেক আইত্
গ্যালো গুজরিয়া,
বাসোর ঘরোত আকিয়া আইলো
দাসীগনে যাইয়া
(আরে অই আহা রে)
আমোদ আহ্লাদের মইদে কতো দিন
কাট্যিয়ায যে দিলো।
এ্যাক দিন দ্যাকে।গোলবাহার পরী
কবার যে নাগিলো
(আরে অই আহারে)
কানোর কাচোত মুক আনি কয়
আউটালোত২১ বসিয়া
হার্টেক এ্যালি যাই হামরা
দ্যাশোতে চলিয়া।
(আরে এই আহা রে)
দ্যাশের কতা যকোন আজায়
পাইলো তাঁর শুনিবার্রে
ওরে নিজের আইঞ্জের কতা তার
পড়ি গ্যালো মোনে।
(আরে অই আহা রে)
দিশা :
হামরা যাইগো কুল বোনোবাসে
জক্মের মতোন হে।।
২১. আড়ালে।
বিয়া উটি ছিলভর আজারে
শ্বশুরের আগোত কয়
বিদ্যায় দেও শ্বশুর বাওয়া গো
নিজ দ্যাশে যাওয়া খায়।।
ওরে কতোদিন হইলে। আইলচোঁ মুই
নিজের আইঞ্জে। যে ছাড়িয়া
ওরে তাড়াতাড়ি দেও মোক বাপধন
বিদ্যায় যে করিয়া।।
ওরে কথা শুনি আজার আনী রে
কানদিয়া কানদিয়া কয়
বিদ্যায় দিতে ওরে বাপধন
মোনে মোর নাইরে চায়।।
এ্যাল। তোমরা যদিকেল-যান চলিগো
আপোন বা দ্যাশের পরে
বুকে আজোল নামে বেটী মোর
কি হইবে তাহারে।।
ওরে আজায় কয় শোনেক জননী
কয়া বা বুঝাওঁ তোরে
তোমার বেটী হামার সাতে যাইবে
হুকুম বা দেও তাকে।।
ওরে নেওয়া দেওয়া খোদার খ্যেল। মাগো
এই জগতের পরে
ওরে পরাকে না দিয়া বেটী
কাঁইব। আকে ঘরে।।
ওরে এই কতা শুনি আজার আনীরে
দেওয়ানোেক ডাকেয়া কয়,
ওরে হাতী ঘোড়া নয় বা নস্কোর
নাজোন করিয়া দেও।
(আরে অই আহা রে)
দাসী বান্দি থরে থরে
দিলো কইন্যার সাথে
কানদি কানদি বেটি জামাইক্
দায় বা বিদ্যায় করে
শ্বশুর শউরিক ছালাম করি আজা
চড়ে তাঁর হাতিতে
দিনে আইতে যাবার লাগিল তাম্রা
বেলোম নাই যে করে।
(আরে অই আহা রে)
ওরে আর কতেক দূর হাতে নোকজন
আর কতেক দূর যায়
আম গাছে পাইকচে আম এ্যাক
কইন্যার দেইকপার পায়।
মাতার কাপড় টানিয়া কইন্যাটায়
সোয়ামী নেকোটে কয়
শোনেক শোনেক পানের পতি মোর
মোর বা এ্যাক হাউস হয়।
(আরে অই আহা রে)
আম গাছোত্ ঝুলবার নাইগ্চে আম
পাড়িয়া দেওয়া নাইগবে
এই কতা শুনি বা আজা
নাইগ্লো ভাঁই ভাবিতে।
আজা হয়া পরার গাছোত্ মুই
চড়িম বা ক্যামোনে
ওরে আগ হয়া কয় বা কতা
আনীরো সামোনে।
(আরে অই আহা রে)
ওরে নারী হয়া লজ্জা দেও বুজিমোক
মাইনষেরো আগে
ওরে বাড়ী যাযা খিলাইম আম
যতো ল্যায় তোর মোনে
এই কতা শুনিয়া আনী
আজার বা আগোত্ কয়,
আম না দিলে তোমার সাতে
যাওয়ার হবার নয়।
(আরে অই আহারে)
ওরে নয় সোয়ামী নয়া নারী
মুই আদেশ করুম ভারী
ভালো যদিকেল চাও আজা
আম দেও মোেক পাড়ি
আজায় কয় কালসাপিনী নারী
কয়া বা বুজাওঁ তোরে
তোক বিয়া করি বুজিকেল মোয়
জাইত্ কুল সউগে যাইবে।
(আরে অই আহা রে)
এহি কতা শুনিয়া আজোল
হায়রে ভাবে বা মোনে মোনে
জবান খুলিলী কইম কতা আর
দুরাচার আজার সনে।
বারো বচ্ছোরের জন্মে আজোল
তওবা করিয়ায় নিলো
মুক ঘুরিয়া আজোল কইন্যা
অইন্নদিকি বসিলো।
( আরে অই আহা রে )
দিশা :
চেংড়ি আয় মোরে সাতে
এ্যামোন ছাপোন কিনি দেইম তোক
তাঁই জলোতে ভাসে ॥
ওরে হাত বা ধরিয়ায় টানে আজারে
ও কইন্যা না আইসে ৰোগোলে
ওরে টানাটানি করিয়ায় আজারে
অই আজা উজীরোকে ডাকে ॥
ওরে তাম্বু টাংগাও অইনাহে উজীর
অই থাকিমেঁ এইখানে
অই তামবু টাংগেয়া বা থাকে আজারে
কইন্যাক বুজায় দিনে আইতে ॥
কতো মতো বুজায় আজারে
ও কইন্যায কতা নাইযে বলে
এই জাগার কতাগুলা ভাইরে
ডাইরে অইলো এই জাগাতে ॥
ছিলভর আজার উজিরের কতারে
তোমরা শুনিয়া ঘ্যাও সকলে
যেদিন ল্যাকো নিয়া গ্যালো উজিরেক
দুরাচার দেওয়োক ধরে ॥
দিশাঃ
ওরে বাওয়ার দেশের কাগা
ক্যানরে কাগা আইসাচো।
দানোবের আজায় ডাকেয়া কয়
উজিরোকে তারে
সাতে করি আকইনচেন মানুষ
কি কইরমেঁ। তারে ॥
উজিরে কয় শোন বাশুশা
কয়া বুজাওঁ তোরে
ওরে তোমার এ্যাক বেটি আচে
বইদ্যাশে নগোরে ॥
আরে তাকে আনিয়া খামেঁ। মানুষ
বসিয়া এ্যাকো সাতে
ওরে এই কতা শুনিয়া আজা
হুকুম বা করিয়ায় দিলে। ॥
ওরে তকনে ল্যাকো দুই দানোব গ্যালো
দেউনীক আনিবারে
ওরে বাওরাভরে যায় সেই দেওরে
কইলাশে নগোরে ॥
ওরে ওপোনীত হইল যায়া
অই দেউনীরো যে আগে
ডাকিয়া দেওয়ের বেটি
কয় বা ধেরে ধেরে
এ্যাতো দিনে ক্যানে আলু ভাইধন
মোক বা ডাকিবারে ।।
ওরে বহুদিনেঁ। গতো বা হইলো
থাকো এই জংগোলে ।।
উজীরে কয় শোনেক মাও মোর
তোক আনু বা নিয়া যাইতে
মানুষ এ্যাক আনচি ধরি
খামেঁ। এ্যাকো সাতে ।।
বাওয়া এই কতা শুনিয়া দেউনীরে
কিবা কামেঁ। করে
সাইজবার নাগিল অইনা দেউনী
ত্যাড়োং ব্যাড়োং করে ।।
( আরে ও আহা রে )
আশীগজ ছালা এ্যাক দেউনী
শাড়ী বা বানাইলে।
বড়ো বাড়ো হাতির মাতা
নাকোত্ সদেঁয়া দিলো ।
গাতিয়া ডাকো গরুর কাল্লারে
গালাত বা তুলিয়া দিলো
দ্যাকির্যা সেই গজোমোতি হার
দেউনী হাইস্ বার নাগিলো।
( আরে ও আহা রে )
১৮-
মরা কুন্তার মাতা দুইটারে
কানে তুলিয়ায় দিলো।
ওরে দ্যাকিয়া তাঁর কানের কানফুল
দেউনী হাইস পার নাগিলো।
ওরে ঢেকির নাহান দাতগুলারে
ক্যাড়া ব্যাড়া হইলো
কতো ধেরান কিড়া পোকা
তাতো বসিয়া অইলো।
( আরে ও আহা রে )
বাওয়া বুকের দুই পেস্তান হইলোরে
মটকা বরাবরে
বুকের উপর ঢোলে বা দুইটা
কিবা শোবা করে!
এইদ্যান করি সাজিয়া দেউনীরে
উঠিয়ায় খাড়া হইলো
ওরে বাপের চাকরের আগোত যায়।
কবার তাঁই নাগিলো।
(আরে ও আহা রে )
হাটো হাটো হাটো ভাইধন গো
যাইবা নিজে দেশে
মোর জন্মে দয়ার বাপধন
আচে ঘাটা২২ তাকে২৩।।
দানোবের এ্যাক বেটি আচিল রে
নামে যে সোন্দোরী
নওবা বচ্চোর হইলো বস তার
২২, পথ ২৩, তাকাইয়া।
নিলো তাক সাতে করি ॥
( আরে ও আহা রে )
দ্যাগ্ দ্যাগ ২৪ কইরতে যায় বা দেওরে
করিয়া দৌড়া দৌড়ি
ছয় দিনের আস্তা গ্যালো তাম্রা
ছয় বা দণ্ডে চলি।
হাজুর করিয়া দিলো বেটিক রে
আজারো সামোনে
ওরে এই দ্যানভাবে কতো দিনেঁারে
গতো বা হয়া গ্যালো।
(আরে ও আহা রে)
ওরে মানুষ দেইক্টে দেউনীর মনাত্
বড়ো আশা হইলো।
এ্যাক দিনো বেটি দ্যাকে।
বাপের আগোত্ কয়
মানুষ দেইক্টের জন্মে মোর
মোনৌত সাদ হয়
আনিয়া দ্যাকে। দিলো মানুষ
বেটিরো আগোতে।
( আরে ও আহা রে )
ওরে দ্যাকিয়া মাইনষের ছবি
তাই হায় হায় করে
ওরে দেউনী যকোন তার বেটিক
সাতে বা করিয়ায় নিলো।
২৪ দেখিতে দেখিতে।
ওরে মানুষের ছবি দ্যাকিয়া তাঁই
আশোক হয়া গ্যালো।
(আরে ও আহা রে)
দিশাঃ
বৃক্ষ শিমিল। হে আসমানে বান্ধো ডাল
বেটি ছাওয়া হয়া সোনার ধৈবোন
আইকমোঁ। কতোকাল।
ওরে কি করিন্মোঁ কনটই যামো রে
না দ্যাক্ি উপোেয়
বাপো মাও হইলো বৈরি রে
ককোনবেন ধরিয়াং খায়।
মোনের মইদে আশা আচিল রে
সোয়ামী করিমো মানুষে
ওরে ককোনবেন দয়ার বাপো মায়
তাক ধরিয়ািয় খায়।।
ওরে যে আচে কপালৌত্ মোর
না ছাড়িমোঁ তারে
নিয়াযাইম মাইনষোক মুই
ছাড়িয়া বাপ আর মায়ে।।
এইকতা ভাবিয়া রে দেউনী
ভাবে বা মোনে মোনে
যায়া কয় মাইনষোক তাঁই
হাটো হামার সাথে।।
তোমাক দ্যাকিয়া মোন মোর
মজিয়ায় ভালা গ্যালো
বাটপার যদিকেল থাকে আশা
তে হইলে হাটো হামার সাতে ॥
খেইল্মেঁ অঙ্গের খ্যালা
বসিয়া নেরোলে
এই কতা শুনিয়া রে উজীর
ভাবে বা মোনে মোনে ॥
দুই বা দিকি ছাকি দুঙ্কো
সুখ না পাওঁ মুই মোনে
এই জাগাতে থাইকলে মইরমোঁ হামি
অন্তই গেইলে দেউনী।
বাচিপার আশা মোনে বা করিয়া উজির
দুইজোনে করিয়ারে বুদ্ধি
শুতিল যায়া বিচিনাতে॥
দোপোর আইতে উঠিয়া রে দোনজোন
তামরা যাবার নাগিল বাওভরে
দ্যাগ্ দ্যাগ্ কইরতে বাপের আইজ্ঞো ছাড়িয়া
আর এ্যাক মুল্লুকোত্ গ্যালো।
আর কতেকদূর হাতে দুইজোন
আর কতেকদূর গ্যালো
সামনে দ্যাকে কাটোম বা পাহাড়
নজরোতে পড়িলো।
খোরাক বিনে দেউনী দ্যাকে আর
না পায় যে হাটিতে
ওরে দেউনী কয় শোনেক নাতো
জবান বা শোনেক মোরে
অইনা গাচে থাকেন তোমরা গো
মুই যাওঁ আহারো করিতে ॥
গাচোত আকিয়া দেউনী দ্যাকো যায়
আহার বা করিবারে
ওরে দেউয়ের চলোন হইলো উল্টা
উজীরে তাক জানে ॥
ওরে কাচোত্ গেইলে দুরোত্ যায়
আর দুরোত্ কইলে কাচে
ওরে কাচের কতা কয় দেউনী
চলিয়ায় যা গ্যালো দূরে ॥
যে গাচোত আচিলো উজীর
সেই গাছের কতা শোন
সেই না গাচোত আচিল ভাষা রে
অই বোন বা মানুষের ॥
অলপে খানিক বাদে দ্যাকো বোন মানুষ
আইস্পার নাগিলো—
ওরে দ্যাকিয়া মানুষ তায়রা
হাইস্বার যে নাগিলো।
ওরে ঘাড়োত করি উজীরোক তায়রা
নাইচপর্ নাগিলো।
ওরে নাইচ্তে নাইচ্তে বোন বা মানুষ
অষ্টোম শওরোত গ্যালো ॥
ওরে নাইচ্পার নাইগ্ছিল’ বোন মানুষ
এ্যাক ঠেংগিয়া পাইলো দ্যাকিব্যারে
দ্যাকিয়া দুই ঠেংগি মানুষ
এ্যাক ঠ্যাংগিয়া হাইস্পার নাগিলো ॥
ওরে এ্যাক ঠেংগিয়ায় কয় বা কতা
সাতোর সাতির ঘরোক
ওরে হাটা যায়া দুই ঠ্যৈরিয়াক ধরি
দৌড়িবার না পাইবে।
দুই ঠেংগে দেই বড়া বাজিয়া
উপ্টিয়ায় পড়িবে
এই বুলিয়া ঝাকে ঝাকে দ্যাকৈ
এ্যাক ঠেংগিয়ার দল
পাচে পাচে দেঁড়িয়া সগলে
কয়বা ধরো ধরো।
ভয় বা পায়া দৌড়ায় রে উজীর
ধরা তার না পায়
ওরে তাক দ্যাকিয়া ডাকিয়া কয়
এ্যাক ঠেংগিয়ার দল
দুই ঠেংগিয়া দৌড়ায় এ্যাতো
মরি হায় রে হায়।।
তাতো দ্যাকে না ফেরে সগলে
তামরা দৌড়ায় পাচে পাচে
কতো এ্যাক ঠেংগিয়া মইলো দ্যাকে
ঘাটার আরো পতে।।
ওরে এই দ্যান করি দশোঁ দিনেঁ রে
দউড়ায় পাচে পাচে
দউড়াইতে দউড়াইতে আইলো উজীররে
উজ্জেনী নগোরে।
এ্যাতো দিনোর দুক্ষো গেলো উজীরের
মাইনষের বসোেৎ দ্যাকী
ওরে ঢুলতে ঢুলতে যায় বা দ্যাকী
পাগোলেরো হালে।।
ওরে দুর হাতে আজার বা নোকজন
পাইলো দ্যাকিবারে
ওরে খাবার কিছু পাইবে বুলি
জোরে হাটিয়া চলে।
দিশা :
ফকির চেনা যায় নারে
ওরে ভাই নউটোন খেলুকা যার গলে
যাই আচিল আজার উজীররে
তাঁই ফকিরের উপ ধরে
ওরে আশা হাতে টুপি মাতে
ঝোল৷ ঢোলে তার ঘাড়ে॥
ওরে ধেরে ধেরে যায় বা উজীর
যেটেই আজা বইসে॥
বসিয়া আচিল ছিলভর আজা
পাইলোঁ দ্যাকিবারে
উজীর যায়৷ চিনিল আজাক
আজায় নাইরে চেনে॥
ফকিরের হালে যায়৷ উজীর
আজাক ছালাম করে
ম্যালাদিন২৪ হাতে ওপোবাসী আজা
খাবার বা দেও মোরে॥
ওরে এই কতা শুনিয়া বাশশা
কিছু নাই রে বলে
২৪. অনেকদিন।
ওরে এ্যাকে তো বিবির শোষকে
মোন মোর হুতাশন আচে ॥
হেটেই হাতে যাওরে ফকির
গেরামের ওপুরে
মোর বিবি বসিয়া রে আচে
ভাবি তারো জন্মে।
কোন বা ওগে আসি ধরিল বিবির
আও ক্যান বা না কাড়ে
এই কতা শুনিয়া রে উজীর
কয় বা কন্দো ভরে ॥
যার অচিলায় পালু বিবি
না চিনিলু তাকে
ওরে’ কিছুদিন থাকো রে বাশ_শা
বসিয়! এই জাগোতে ॥
তে হইলে তোমার মোনের সাদ
পুরা বা হয়া যাইবে
ওরে এই কতা শুনিয়া রে আজা
ভাবে মোনে মোনে
আহা রে ফকির ব্যাটা
কি শোনালু মোরে।
( আরে ও আহা রে )
ওরে কার অচিলায় পানু বিবি
জানিলু ক্যামোনে
ওরে উজীর হামার আচিল সাতে
তাঁই গ্যালো বেন কন্টই রে।
( আহা ও আহা রে )
তুই কি জানিস রে ফকির
উজীর কন্ঠেই আছে
এই বেপোদে উজীরোক হামার
কাঁই বা আনি দিবে
( আহা ও আহা রে )
উজীর কয় শোন রে বাশ্শা
খাবার মোক না দিলে
তোমার সাতে আসিয়া হামার
জাইত্ কুল সউগে গেইচে
( আহা ও আহা রে )
তোমায় হইলেন তখ্তের বাশ্শা
নিচানী নগোরে
ওরে ছিলভর আজ বুলি তোমার নাম
ধাইয়ে মানুষ করে
( আহা ও আহা রে )
ওরে সেই বা আজা হয় তুমি
মোকে না চিনিলে
ওরে যাত্রাার সোমে কাঁইবেন তোমার
সাতোতে আচিলে
( ওই আহা রে )
মুই দেখো উজীর ছাড়া
সিদিন কেহু না আসিলে।
ওরে আইজ হামাক খাবার না দেও
কি বেন দোষ হইলো
( অই আহা রে )
ওরে এ কতা শুনিয়া রে আাজা
কান্দিয়া কান্দিয়া
হাত বা ধরি কোলোত্ তুলি ল্যায়
আদোরে করিয়া
( অই আহা রে )
ওরে সেই জাগাতে কত পাদিন দ্যাকো
গতো হয়ায গ্যালো
ওরে তাম্বু উকু্রিয়া আাজা
শওরোতে চলিলো ॥
(অই আহা রে)
ওরে ঘাটায় ঘাটায় কতো মোতে
বিবিকে বুঝায়
ওরে ভালো মন্দ কতো কতার
এ্যাকনারো উত্তর নাহি পায় ॥
( ওই আহা রে )
দ্যাগ দ্যাগিতে গ্যালো আাজা
নিচানী শওরে
ওরে দেওযা আইজের আচা হচিল
পাইলো তাঁই শুনিতে
( অই আহা রে )
আগ বাড়ায় আনিলো আজাক
বসাইলো সিংগেসনে
ডাইনে উজীর হয় আাজা
বিচের আচার করে ॥
( অই আহা রে )
পোঙ্গাগোন হইলো খুশি
আজাকে যে পাইয়া
য্যামোন মরা গাছোত্ পাতা
ধরিলো আসিয়া।।
( অই আহা রে )
ওরে এ জাগার কতাগুলো
আইলো এ্যাকোন
বুকে-আজোল কইন্যার কতা
শোন দিয়া মোন
( অই আহা রে )
দিশা :
সোনদোরী নাকে তোলািম তোর
সোনার ফুর ফুরি।।
দিনে আইতে বুঝায় বাশশা
আজোলের হাত ধরি।।
কোন কতা না কয় কইন্যারে
থাকে তাই চুপ করি
ওরে কামের কতা কয় তাঁই বাশশা
করে তাড়াতাড়ি।।
ওরে এই দ্যান্ড ভান্দে দ্যাকো বচ্চোর
গতো বা হয়া গ্যালো
ওরে এ্যাক বচ্চোরের ভেতর বাশ_শা
না শোনে কইন্যার আশ।।
ওরে দিনে দিনে বাশ_শার মোনোত্
চড়িয়া গ্যালো আগ
ওরে এস্কোদিনেঁ দেওয়া নোক্রে
কয় বা ডাকো দিয়া
ওরে বাইশ্মোনী নোয়ার ঢেকি রে
দেওতো মোক আনিয়া॥
ওরে এ্যালায় যায়া আনো ঢেকি
দেইম্ মুই আজোলের নাগিয়া॥
ওরে এইবার দেকিম মুই আজোল
আও কাড়ে কিনা কাড়ে
হুকুম পায়া যায় বা দেওয়ান
কামারের বাড়ী বুইলে॥
বাওয়া কামারোক ডাকেয়া কতারে
কয় বা ধেরে ধেরে
শুনিয়া কতা কামারে তকোন
হাত জোড় করি কয় রে॥
শোন শোন শোন আজোল
এ্যালাও বোঝো মোনে
সকাল সকাল বানো বা বারা
এই না ঢেকির পরে॥
পাবু কিনা পাবু আজোল
কওতো মোর আগে
ভালো মোন্দো না কয় কইন্যা
আজারো সামোনে॥
ওরে আল্লার নাম নিয়া কইন্যা
ঢেকির পাড়োত্ গ্যালো
ঢেকির পাড়োত্ ধান বানিয়া
লাগিল কান্দিবারে॥
দিশা:
কলেমা বিনে
আর ভশশা নাই হে
আহা আল্লা মাবুদ মওলা গো
পরোবদিকার॥
কাঁই বুঝবার পারে আল্লা গো
মহিম্যে তোমার
তুমি যদিকিল এই রেপোদে গো
না করো উদ্ধের॥
ইতি দ্যাখো পানের সোয়ামী গো
ঝরি বা হইচে মোর
দয়া করো দয়েল বারি গো
আজোলের তরে।
ওরে সতিয়ানার দোয়াইতে আল্লা গো
ঢেকিক করো সোলা বরা-বারে
বেটি ছাওয়া হয়া সতিয়ানা গো
ঠিক আকিনু ভয়ে।
ওরে তার বদলে ওগো আল্লা
তারেয়া বা ন্যাও মোকে
আল্লা নবীর নাম নিয়া
আজোলে পাও বা তুলিয়া দিলা॥
ওরে আল্লার হুকুমে ঢেকির ওজোন
সোলার সোমান হইলো
সেই টেকিত্ দ্যাকে বুকে আজোল রে
নাচিয়া বারা বানে ॥
দ্যাকিয়া ছিলভর আজা রে
হায় হায় করিয়া কান্দে
না জানেঁ। মুই বুকে আজোল রে
কতো বেন শক্তি ধরে ॥
বাইশ মোনি ঢেকি তোলে আজোল রে
সোলা বরাবরে
ওরে ফির আজায় হুকুম করে দ্যাখো
দেওয়ানেরো তরে ॥
ওরে তেইশমোনি কুলা অ্যাকন! দেওয়ান
আনিয়া বা দেও মোরে।
ওরে সেই কুলাত্ ঝাইড়বে বারা গে’
দেখিম আও কাড়ে কিনা কাড়ে ॥
ওরে হুকুম পায়। যায় বা দেওয়ান রে
অই না ডোমের ঘরে
শোনেক শোনেক অইনা ডোমরৈ
কয়! বা বুজাতঁ তোরে ॥
তেইশমোনি কুলা এ্যাকো রে
বানেয়া দেওয়া নাইগবে
ডোমে কয় শোনেক দেওয়ান
কিবেন কতা কও মোরে ॥
বাপ দাদায় সকলে বল্লে
নড়বার না পাইবে
কোন বা জনে সেই কুলার রে
এর বার। ঝাড়িবে॥
বাওয়া এ্যাতো শুনিয়া কয় বা দেওয়ান
চউক যে গরোম করি
গরোম দেকি ডোমের। সগগই
গুষ্টি সুদ্দায় নাগে॥
ওরে তিন বা মাসে বানাইল কুলাখ্যান
অই নিয়া বা যাইবে কে?
ওরে কতো মানুষ আনিয়। দেওয়ান
কুলা বা সঁাই দিলে।॥
ওরে আজোলেরো আগোত্ লিয়া যায়।
কুলা হাজুর করিয়া দিলে।
কুলা দ্যাকিয়। বুকে আজোল কইন্যা
কাইদবার নাগিল কপালৌত্ হাত মারি॥
ওরে কিন। দোষের জন্যে অইনা আজামোেক
কইরবার নাইগচে জলাজলি
ওরে কাইনতে কাইনতে কয়রে আজোল
হক আল্লার দরবারে॥
ওরে আজোলের দোয়া দ্যাকো কবুল হইল
হক আল্লার দরবারে
ওরে তেইশমোনি নোয়ার কুল। করিল খোদার
সোলা বরাবরে॥
ওরে আজোলের দোয়া কবুল হইলো দ্যাকো
আল্লারো দরবারে
ওরে সেই কুলা তুলিয়া রে আজোল
হাসিয়াঁয় বারা ঝাড়ে ॥
হায়রে সেই বারা বানিয়া আজোল
চাউল ঝাড়িলো পচিলো।
ওরে সেই চাউল আদিয়া ভাত
আজাক খাবার করি দিলো ॥
ওরে ভাতের পাতোত্ বসিয়া আজা
আাজা কানদে জারে জারে
আহারে বুকে আজোল কইন্যা মোর
আও ক্যান বা কাড়ে ॥
ওরে বেটি ছাওয়ার কতা হুনলে তুষ্টি হয়
ব্যাটা ছাওয়ার মোন
বেটি ছাওয়ার জন্মে বেটা ছাওয়ার হয়
হায়াত্ থাক্তে মরোন ॥
ভাতের থালি আকিয়া আজা
আজোলের হাত ধরে
কতো মতে বুঝায় তাক
তাতো আও দ্যাকো না কাড়ে ॥
ওরে গোস্বা করি হুকুম দিলে।
আজ’য় দেওয়ানেরো তরে
ওরে পচিশ মোনি নোয়ার ঝাটা
আনিয়া দেহ মোরে ॥
দ্যাকিমো এ্যবার আজোল বিবি গো
কিবা কামে করে
১৯-
ওরে হুকুম পায়া যায় বা দেওয়ান
কামারের বাড়ীতে ।।
ওরে পঁচিশ মোনি নোয়ার ঝাটা কামার
বানেয়া বা দেও মোরে
আজোলের শামটিরে আইগ্ডা
সকালে বৈকালে ।।
ওরে পঁচিশ মোনি নোয়ার ঝাটা কামার
বানায় বা ধেরে ধেরে
পাঁচ মাসে শ্যাষ হইলো কাম
শোন ভাইরে সবে ।।
ওরে নোেকজোন নিয়া রে দেওয়ান
সেই ঝাটা আনে ঘরে
বসি আচিল বুকে আজোল কইন্যা
দিলো তারে আগে ।।
বাওয়া এ্যাল। দ্যাকো এইগ্ লা কতারে
আইলো বা ভালে ভালে
ক্যামোন বা করি বুকে আজোল কইন্য।
সেই ঝাটা দিয়া আইগন্য শমটে ।।
( আরে ও আহা রে )
ঝাটা কোনা দ্যাকিয়া কইন্যা রে
গড়গড়য়া কাইপতে থাকে
কাইনতে কাইনতে কয় খালি তাঁরাই
বাপ মায়ে দিতে মোক জমের হাতে ।।
( আরে ও আহা রে )
ওরে এ্যামোন নিদয়া আজারে
কতা তাঁর না বোঝে
পাঁচিশ মোনি নোয়ার ঝাটা
কাঁই নড়েবার পারে ॥
( আরে ও আহা রে )
ওরে আগে মরণ পাচে মরোন রে
ওরে মরোন এ্যাক দিন আচে
ধরিম যায়া মুই সেই ঝাটা
মোর যা কপালে আচে ॥
( আরে ও আহা রে )
যকোন কালে ঝাটা কোনা রে
কইন্যার হাতোতে ধরিলো
পাত্থরের নহান ভর বা আসি
ঝাটাতে যে হইলো ॥
( আরে ও আহা রে )
নড়বার না পারে ঝাটারে
কইন্যা কান্দে ঝারে ঝারে
ওরে দূর হাতে ছিলভর আজারে
পাইলো তাক দ্যাকিবায়ে ॥
( আরে ও আহা রে )
ছিলভর আজায় কয় কতা
নিজের মোনে মোনে
এইবার দেকিম আজোল কইন্যাক
কাঁপিবেন অঙ্কা করে ॥
( আরে ও আহা রে )
যকোন কালে আজোল কইন্যারে
খোদার নাম ছাড়িলো
ওরে আরোশ হাতে ধনি আল্লা
ব্যাজার হয়। গ্যালে। ॥
(আরে ও আহা রে)
আল্লায় কয় শোনেক রে জিব্ রিল
কয়া বা বুজাও তোরে
ঠিক সাজা দিম মুই আইজ
আজোলো কইন্যারে ॥
(আরে ও আহা রে)
দুইবার দ্যাহো নাম নিয়া তাঁই
গেইচে যে বাচিয়া
এইবার দ্যাকে। দুষ্ট আজালোেক
কাঁইবেন ন্যায় তরাইয়া ॥
(আরে ও আহা রে)
বাওয়। পনচাশ মোন ভর করিলো
দ্যাকো অইনা ঝাটার পরে
হালবার না পারে তাঁই ঝাটা
আজোল কান্দে বসি জারে জারে ॥
(আরে ও আহা রে)
হায়রে ছিল ভর আজায় যায়া তকোন [?]
আজালোকে কয়।
আইগনা শামটিতে দেরী করিস ক্যান্
সেই কতা মোক কও ॥
(আরে ওই আহা রে)
জবান খুলিয়া কওবা কতা
হামারো আগোতে,
না কইলে শির কাটি তোর
নটৈক দেইম দরবারে।।
(আরে ওই আহা রে)
ভালো মোন্দ না কয় আজোল
থাকে তাঁই হাট মাথাতে
বুক ভিজিয়া চউখের পানি
টোপ টোপ করি পড়ে।।
(আরে ওই আহা রে)
ওরে আগ হয়া কয় বা আজা
বেলদারের তরে
মাতা কাটিয়া আনো এ্যালায়
যা হয় হইবে পাচে।।
(আরে ও আহা রে)
বাওয়া ইতি ফ্লাকে অইনারে আজা
দেওয়ানোক নিলে তাঁই মাতে
চুপ করিয়া কয় তাঁই কতা
বসিয়া নেরোলে।।
(আরে ও আহা রে)
না কাটিস না কাটিস বেলদার
আজোলেরো তরে
খুলিয়া কমু মোর জেবান আচে
আজোলের ভেতোরে।।
(আরে ও আহা রে)
ছোরা হাতोत নিয়া কইন্যাক
ভয় বা দ্যাকাইবে
ওরে মাপ চাওয়ার কতা কোনা
শিকিয়ায় ভালা দিবে ॥
( আরে ও আহা রে )
ঘুরিয়া আইনবে ফিরতাক
হামারো সামোনে
ওরে ঘুরিয়া আইলে পুচ করিম তাক
মোর কতা মানে কিনা মানে ॥
( আরে ও আহা রে )
ওরে এই কতা শুনিয়া বেলদার
কোষ্টা২৫ পাকেয়া হাতে
কটকটা করি বান্দ কইন্যাক
পায়ে আরো হাতে ॥.
( আরে ও আহা রে )
মাপ চাও যদিকেল আনী
আজারো সামোনে
তে হইলে তোক না কাটোঁ মুই
হাটেক এ্যালা যাই ঘুরে ॥
( আরে ও আহা রে )
শোনেক শোনেক ওরে বেলদার
পাও বা ধরোঁ তোরে
মায়ের সমান খিলাইচোঁ তোক
২৫. পাট পাকাইয়া।
অতি আদোর কইরে ৷৷
(আহা ও আহা রে)
না মাইরো না মাইরো বেলদার
ঘুরিয়া যাওরে বাড়ী
আনীকে দ্যাকিয়া আজা
আইসপার নাগিল তাড়াতাড়ি ৷৷
(আহা ও আহারে )
কিসোক তুই ওরে বেলদার
কৈন্যক ঘুরিলে আনিলে
হামার হুকুম বুজিকেল
মানিয়া ও না মাইনূলো ৷৷
(আহা ও আহা রে )
শোনেক বাশশা আলোমপনা
দয়া হয় মোর মোনে
এ্যামোন সোন্দোর আনীক
কাইটপে কোন জোনে ৷৷
( আহা ও আহা রে )
ওরে ক্ষমা যদিকেল চায় আনী
ক্ষমা করিরায় দিবে।
সেই জনে ঘুরিয়া আনূ
তোমারো গোড়োতে ৷৷
( আহা ও আহা রে )
বাওয়া এই কতা শুনিয়া আনী
খুশি ভালায় হইলো।
ওরে হাত বা ধরি আনীক তকোন
কোলোত্ তুলিয়ায় নিলো।।
( আহা ও আহা রে )
কও দেকি পানেরানী
কিবেন চাও মোর কাছে
মাপ চাইলে মাপ করিম তোক
কইনেঁ। সত্যো করে।।
( আহা ও আহা রে )
চউখের পানি মোচায় আনীর
হাতেরো উমালে
কতো মোত্ বুজায় তাকে
আও না যে কাড়ে।।
( আহা ও আহা রে )
হায়রে গোস্বা হয়ে দ্যাকো আাজা
হুকুম বা দিলো করে
বাইশ্মোনি পাতোর এ্যাক কইন্যার
দিলো যে বুক্কোতে।।
( আরে ও আহা রে )
যাবারে না দিবে অনীক ,
কতা বা শোন মোরে
খাওয়া ব্যাগরে মারা যাইবে
দোষপোন আমারে॥
( আহা ও আহা রে )
২৬. বিনে।
হায়রে আঁদার ঘরোত রাখিয়া আনীক
বুঙ্কোতে চাপ! দিলো
হায় হায় করি আনী ক্যালোলরে
কান্দিবার নাগিলোঁ।।
( আহা ও আহা রে !
ওগো আল্লা মাবুদ মওলা
দয়া বা করো মোরে
তোমার দয়া ছাড়া আল্লা
উদ্ধর কাঁইবেন করে।।
( আহা ও আহা রে )
কতো কতো নবীকে তুমি
উদ্ধর করিয়া দিলে
য্যামোন কল্লে উদ্ধর
এব রাহিমের তরে।।
( আরে ও আহা রে )
মুই বা অদেেমা বুকে আজোল
নাম বা নিনু তোরো
উদ্ধর করো ওগো আল্লা
এই বেপোদ হাতে মোরে।।
( আহা ও আহা রে )
একে হইলো পাতোরের চাপা
এ্যকনাও ভাত নাই মোর প্যাটে
এ্যাতো দুক্ষো তাতো আল্লা
২৭. অধম।
জেবোন যায় না মোটে ॥
( আহা ও আহা রে )
যকোন কালে আল্লার নাম রে
আজোলে মুকোত্ নিলো
আল্লায় কয় তোর দুক্কো এবার
শ্যাষ হয়া বা গ্যালো ॥
( আহা ও আহা রে )
ইতি দ্যাকো ছিলভর আজা
আনীকে না দ্যাক্তি
ওরে বিছ্নাত শুঁতলে নিদঁ না আইসে
বিছ্নাত বসি ভাবে সারা আতি ॥
( আহা ও আহা রে )
হায়রে আজায় কয় শোনরে দেওয়ান
আনীক আনিয়া দেও মোরে
তেনাইলে এই দন্ডোতে
কাল্লা ছ্যাও২৮ দেইম্ তোরে ॥
( আহা ও আহা রে )
কতা শুনিয়া অই নারে উজীর
বেলোম না করিলো
তয়দণ্ডে আজার সাম্নোত আনীক
হাজুর যে করিলো ॥
( আহা ও আহা রে )
২৮. ছেদন।
আজায় কয় শোনেক আনীক
জবান বা শোনেক মোরে
কি অপরাধ কচ্চো আনীক মুই
ভাংগিয়া কওবা মোরে।।
( আরে ও আহা রে )
ট্যাকা পৈসা সোনাদানা
কম নাইযে মোরে
একবার আও কাড়েক কইন্যা
সউগে দেইমু ত্যোরে।।
( আহা ও আহা রে )
ওরে পাজতা করি ধরি আজায়
কতো যে বুজায়
ওরে মাতা হালে থাকে কইন্যায
এ্যাকনা কতাও যে না কয়।।
( আহা ও আহা রে )
আগ হয়া ছিলভর আজা
দ্যাকো কোন কামো করে
দশ বিশ্টা ছাগোল আনী দ্যায়
কইন্যাক চরাইবারে।।
( আহা ও আহা রে )
শোনেক আনী শোনেক কতা
হকুম বা ধরেক মোরে
খ্যাৎ যদিকেল খায় আনী
মাতা না আকিম তোরে।।
( আহা ও আহা রে )
ওরে আউলা ঝাউলা বেশে আনী
যায় দ্যাকে ছাগোল চরাইবারে
ওরে সারা দিনো চরায় ক্যাবোল ছাগোল
চইত২৯ মাসিয়া অইদে৩০ ৷৷
( আহা ও আহা রে )
এ্যাকদিন দ্যাকে কাতোর অইলো আনী
দারুণ তিয়াসোতে
পানি খাবার বুলি গ্যালে। আনী
অই কোটালের বাড়ীতে ৷৷
( আহা ও আহা রে )
ওরে হ্যান সোমে ছিলভর আজা
আজা কোন বা কামেঁ। করে
সউগ ছাগোলে দ্যাকে আনীর
চুরি করিয়া আনে ৷৷ -.
( আহা ও আহা রে।
ওরে আতার দিকে চায়া থাকে আজা
আনী আইস্পে কতোক্ষণে
সইনজের সোমে আইসে কইন্যা
আর ভাবে মোনে মোনে ৷৷
( আরে ও আহা রে )
দিশা :
দয়া করো হে ও দয়াল খোদা
দয়া করে হে
ওরে কইন্যায দ্যাকে এ্যাকনা ছাগোল নাই তার
ময়দানের ওপোরে ৷৷
চৈত্র। ৩০. রৌদ্রে।
ওরে কাইনৃতে কাইনৃতে ব্যাঁহুস হয়া কইন্যা
পড়ে ভাঁই জইম্ নোতে
আইজা বুজিকেল নিদেলুণ আজা মোক
কাটিয়া ফ্যালাইবে ॥
ওরে সারা দিনেঁ থাকে কইন্যা
আর কান্দে জারে জারে
ওরে সাঁজের সোমে ছাগোলের দড়ি সউগ
গোটৈয়া নিলো হাতে ॥
কাইনৃতে কাইনৃতে কয় কইন্যা
আজ বাড়ীরো পরে
অই বাইরা খুলিত্_ যায়া আজোল
খাড়ু হয়া থাকে ॥
আগ হয়া কয় আজা
ছাগোল কি হইলো তোমারে
কও দ্যাকোঁ সেই কতা
ছাগোল কেটা নিচে?
ওরে আইজ তামান আইত্_ থাকা নাইগবে কইন্যা
খুলির মইদোতে
এ্যকে হইলো ভোকের জ্বালা
তাতে হইলো শীতের কাল
ওরে খুলিতে পড়িয়া অইলো কইন্যা
হয়া ভাঁই ব্যাহাল ॥
ছাগোলের দড়ি মাতাত্_ দিয়া কইন্যা
শুতিয়া নিদঁ বা গ্যালো ॥
যকোন দ্যাকো শুতিল কইন্যা
ছাগোলের দড়িগুলা দিয়া মাতে
আল্লায় কয় এ্যালায় যাও জিব্রিল
নিচেনী নগোরে ॥
সোনার পুরী অই জাগাতে যায়।
এ্যালায় তুলিয়া দিবে
সোনার খাট উপেের পালং
মাইন্কের বালিশ মাতে ॥
আইপ্কে যায়া বুকে আজোল কইন্যাক
তারে যে ওপোের ॥
দিশা :
হাটোরে কামেল। ভাই
পুরীত্ গইড়তে হাটো হামরা যাই ॥
নাকে নাকে সাজোরে কাম্লা
পুরী বানাইবারে
ওরে আইত্ দোপোরে আইলে সগগই
আজোলেরো কাচে ॥
ওরে শুতি আছে বুকে আজোল কইন্য।
পাইলে। তাগ্রা দ্যাকিব্বারে
ওরে সোনা উপা দিয়া পুরী এ্যাক
তইয়ার করিয়া দিচে ॥
ওরে হাওয়া বা্লাখান যাদু
তোস্সাই খ্যানার ঘর
দ্যাকিতে দ্যাকিতে সউগে
হইলো যে তইয়ার ॥
সোনার খাটো উপেের পালেং
মাইন্কের বালিশ খ্যানি
৩ ০৩
তারে ওপরোৎ দ্যাকে।
কইন্যাকে দিলে তাই তুলি॥
ওরে বিয়ানা উঠিয়া রে বাশশা
দ্যাকিব্যারে পায়
ওরে সোনার পুরী এন্তেই তুলিল কাঁই
এ্যাকো আইতের পর॥
তার ভেতরে বুকে আজোল বিবি মোর
শুঁতিয়া বা নিদ যায়॥
দিশাঃ
নারী কি নারী হে
এঁ্যাতো ময়া পি৩১ জানো হয়া॥
ধেরে ধেরে যায় বা আজা
আজোলেরো কাচে
গাও ধরিয়া ডাকায় কইন্যাক
তোলে বিচিনাত হাতে॥
ওরে হাত পাও তুলিয়া আজা
কোলোত নিলো তুলি
ওরে আল্লার কসোম নাগে বিবিরে
কওবা কতা খুলি॥
কাঁই তোকে এই পুরী দিলো
তৈয়ার ভালা করি
মানুষ তঁই না জেন পরী
কাঁই গড়াইচে পুরী॥
ওরে ধরমের দোয়াই
বাপ মায়ের কিড়া মোর মাতা খাও
৩১. মায়া।
যদিকেল না কাড়িস আও
তে হইলে তোমার ধরমের মাও ॥
এই কতা শুনিয়া রে কইন্যা
হাসিয়া উঠিয়া কয়
ভাতার হয়। অই মুকোত ক্যান্
এ্যাদান্ কতা কয় ॥
এই কতা শুনিয়া রে আজা
আকুল ভাল হইলে
গাল মুকোত চুমা রে দিয়া
কইন্যাক কোলোত তুলিয়া নিলো।
ওরে দাসী দাসী বুলিয়া আজা
ডাক্পার যে নাগিলো—
এই দণ্ডোতে খাবার তোমরা
জোগার করিয়া আনো ॥
হায়রে হুকুম পায়া তকোন দাসীগণ
খাবার করি আনিল ত’ড়াতাড়ি
নিজ হাতেত খিলিয়া আজায়
মুকোত দেয় রে তুলি।
খাওয়া দাওয়া সারিয়া আজায়
আনীক বসাইলো পালোংগে
ওরে কও দ্যাকি এ্যাতোদিন আনীগো
হামার সাতে আওনা কাড়ুল ক্যানে ॥
শোনেক সোরামী কঁও মুই কতা
সেই দুঙ্কোতে ওটে মোর পান জ্বলি
বিয়ার আইতে সেজে নাই কতা মোর
সেই দুক্কোতে মরি॥
সেদরিয়া৩২ আম বিয়ার আইতে
চাচনু এ্যাক মুই পাড়ি
নাই জ্ঞান মোক সেই আম পাড়ি
মোনে দ্যাকে। ভাবি॥
আর কি সিজবে কতা
যতো কইনা কেনে হামি
সেই কারোনে নাই কাড়োঁ আও মুই
কনু কতা খুলি॥
ওরে দেওয়ানোকে হুকুম দিয়া আজা
আম বা পাড়িয়া দিলো
যতো গোস্সা মোনোভ্ আচিন দুইজনোর
সৈঙ্গে মিটিয়া গ্যালো॥
সমাপ্ত
৩২. পাকা।
২০ -
এ পৃষ্ঠায় কোনো লেখা নেই।