সে বেশ অনেক বছর আগের কথা। এক গরিব ঘরের ছেলে ছিল, নাম তার বিনাথ। নামেই যার অমন দশা, জন্ম থেকেই চলতে থাকে তার বিভিন্ন দুর্দশা। জন্মের কয় মাস পরেই বাপ হারায়, মা বেচারি কোত্থেকে কী করে খাওয়াবে সোনার ছেলেকে, বুঝতে না পারে। এর ঘরে, ওর ঘরে কাজ করে ছেলেকে পালে সে। কিন্তু হায় রে বিনাথ, এইটুকু সুখও বুঝি কপালে সইলো না। সাত বছর বয়সে পা দিতে না দিতেই মারও মৃত্যু হোল।
বিনাথ নামের সেই অনাথ ছেলে চারদিকে চেয়ে দেখে, ত্রিভুবনে তার সত্যিই কেউ নেই।
মা-বাপ হারিয়ে বিনাথ গরু চড়িয়ে খায়। রাখাল বালক হয়ে মাঠে মাঠে বাঁশি বাজায় আর দুঃখের জীবনের কথা ভাবে। একদিন গাঁয়ের চাঁদ ব্যাপারী তার বাড়িতে বিনাথকে রাখালের চাকরি দেয়। বিনাথ তারই কাছে আরো ভালো করে বাঁশি বাজানো শেখে।
সুজন্তী তাদের কন্যা চান্দের সমান।
এহিমত সুন্দর কন্যা নাই তিরভুবন।।
পুষ্প যেমন হেইলা পড়ে পবনার বায় বায়।
হাসিয়া খেলিয়া কন্যার বারো বচ্ছর যায়।।
কন্যার বয়স বারো, আর বিনাথের বিশ। দুইজনে মিলে মাঠেঘাটে ঘুরে বেড়ায়। চিরল দাঁতের সে কন্যার মুখ দেখে বিনাথ যেন জগতের সব দুঃখ এক নিমেষে ভুলে যায়। কন্যা হাসে, আর তাকে দেখে বিনাথ বাজায় বাঁশের বাঁশি। বিনাথের বিষাদময় বাঁশির সুর সুজন্তীর কাছে এসে যেন প্রেমের গান গাইতে লাগলো।
চাঁদ ব্যাপারি বেশ পাক্কা ব্যবসায়ী। প্রায়ই সে বিদেশ-বিভূঁইয়ে বাণিজ্য করতে যেত। একবার সে ঠিক করলো, এবারে নারই মুলুকে যাবার সময় সে বিনাথকে সাগরেদ করে নিয়ে যাবে। বাপ-মা হারা ছেলে, যদি একটু ব্যবসাপাতি শিখতে পারে, মন্দ কী। চাঁদেরও সাহায্য হবে। যে-ই ভাবা, সে-ই কাজ। বারো নাও তেরো পানসি নিয়ে তারা দুজন বের হয়ে গেল ভিনদেশের পথে, কংস নদীর বাঁকে। যাবার পথে মাঝে মাঝেই বিনাথ বাঁশিতে সুর টান দেয় আর নদীর কিনারে শত শত লোক মুগ্ধ হয়ে শোনে। এইমতো বেশ কিছুদিন গেল নদীতেই। চাঁদ ব্যাপারি বললো,
“বুঝলে বাবা, আর মাত্র সাত দিনের পথ নৌকা বেয়ে গেলেই আসবে নারই মুলুক। আহা লোকের মুখে শুনি, সেখানে ব্যবসা করে বড় আরাম। গেলেই সব জানতে পারবে।”
বিনাথ মুচকি হাসে ব্যাপারির কথা শোনে। কিন্তু বিধিবাম! তাদের নৌকা যখন কংস নদীর একেবারে মাঝখানে, রাত্তিরে এক ভয়ানক তুফান এসে পানসির কাছি গেল ছিঁড়ে। ঘুমের মধ্যে বিনাথ জলে ভেসে গেল।
সেই কংস নদীর পাড়ে বাস করতো এক ওঝা। নাম তার সুমাই। লোকের মুখে মুখে শোনা যায়, এ ওঝা বড় ভালো ঝাড়ফুঁক জানে। তার থানে রাখা আছে বিরল এক পঞ্চকড়ি। জঙ্গল থেকে যত ইচ্ছা সাপ ধরে আনে, একটুও ভয় করে না— এমনই সে ওঝার শক্তি। ওদিকে তাকে নাকি দেশের রাজা-বাদশাও ভয় পায়।
কেউটা গোখা বহ্মজাল নোয়ায় দেইখ্যা মাথা।
বনের বিরিক্ষ ওঝার দেখ মাথায় ধরে ছাতা।।
সেই সুমাই ওঝার ঘরে ছিল এক পালিত কন্যা। বহুদিন আগে তাকে খুঁজে পেয়েছিল, সেই থেকে পেলেপুষে বড় করেছে। সে কন্যা যে কংস নদীর পাড়ের রাজকন্যা। নাম তার বাতাসী।
দেখিতে সুন্দর কন্যা বনের হরিণী।
সপ্পের মাথায় যেমন জ্বলে দিব্যমণি।
সিন্দুর মাখা ঠোঁট কন্যার কাজল মাখা আঁখি।
এহিমত সুন্দর কন্যা কভু নাই সে দেখি।।
ঝড়ের সে রাতের পর সকালবেলা বাতাসী গেল নদীতে জল আনতে। ওখানে গিয়ে সে দেখে, কে এক সুন্দর ছেলে পড়ে আছে। মরেছে কি বেঁচে আছে— ওসব না ভেবে সাহসী কন্যা তাড়াতাড়ি করে পানিতে নেমে গেল, ছেলেটিকে বাঁচাতে।
ঝম্প দিয়া পড়ল কন্যা নদীর সুত জলে।
টাইনা আনিল বিনাথরে ঘাটের সেই না কূলে।
এরপর বিনাথকে নিয়ে বাতাসী গেল তার ওঝাবাপের কাছে। দুজনে মিলে সেবা-শুশ্রূষা, ঝাড়ফুঁক করে বিনাথরে সারিয়ে তুললো। জ্ঞান ফেরার পর বিনাথ চেয়ে দেখলো, অচেনা এক মেয়ে তার জন্য কেঁদেকেটে চোখ ফুলিয়ে বসে আছে। আহা, কী মায়াভরা চোখ দুটো। সে চোখে বিনাথের হারাতে মন চাইলো।
কে বা তুমি সুন্দর কন্যা মোরে বাঁচাইলে।
কোন বা দেশে আইলাম আমি ডুইবা ঝড় জলে।।
তখন লজ্জা লজ্জা চোখে বাতাসী উত্তর দেয়—
নাই রে আমার মাতা পিতা থি ভেউর বনে।
ছেউড়া শৈশব হইতে মোরে পালে অন্য জনে।।
দুই অভাগার দেখা হোল এমন করে, এও ভাগ্যেরই লিখন, ভাবে দুইজনে। ওঝা সারাদিন এ বাড়ি, ও বাড়ি ঝাড়ফুঁক করতে যায়, জঙ্গলে সাপ ধরতে যায়। আর ওদিকে দুইজনে মিলে হাসি-আনন্দে সময় কাটায়। বিনাথ বাঁশি বাজিয়ে শোনায়, বাতাসী রান্না করে তাকে খাওয়ায়। রাত্তিরে ওঝা ফিরে এলে বিনাথ তাকে ওস্তাদ মেনে মন্ত্রপড়া শেখে।
ফুলকড়ি, বাখানি, বরম্মজাল, কালবিষ— কত না অদ্ভুত সব মন্ত্র সে শিখতে থাকে সুমাই ওঝার কাছে। যত জানে, তত অবাক হয় বিনাথ। এমনি করতে করতে সে শিখে যায় ছয় মাসের মরা জিইয়ে তোলার মন্ত্রও। বিনাথ এত জলদি সব শিখে ফেলে যে গাঁয়ের লোকে আর সুমাইকে না ডেকে এখন বিনাথকে ডেকে নিয়ে যায়, এমনি তার পসার হয়। আর বিনাথ সুমাইয়ের মতো অমন অহঙ্কারীও না, লোকের সাথে সে ভালো ব্যবহার করে— এজন্যও মানুষ তাকে পছন্দ করে।
এসব দেখে দিনে দিনে সুমাইয়ের বড় হিংসা হয় তাকে। কে না জানে, হলে গুরুমারা বিদ্যে— আসে ভীষণ রাগ সে গুরুরই মধ্যে! সে ঠিক করে, তার হারানো সম্মান ফিরিয়ে আনতে হলে বিনাথ নামের পথের কাঁটাকে সরাতে হবে। গোপনে সে শলাপরামর্শ করতে থাকে। কিন্তু কপালগুণে বাতাসী সব শুনে ফেলে এবং বিনাথকে সাবধান করে দেয়।
প্রাণের ভয় অত ছিল না বিনাথের মনে, কিন্তু গুরুর এমন আচরণ দেখে সে মনে খুবই কষ্ট পেল। বাতাসীকে সে বলে, “গুরুর অমান্য করে তোমাকে নিয়ে যাওয়া আমার সাধ্য নয় গো কন্যা। তবে একথা বুঝেছি, আমার এখানে থাকা আর চলে না।”
ডাক দিয়া বলে বিনাথ— “কন্যা ঘরে ফিইরা যাও।
আমারে ভুলিয়া যাইও কন্যা, আমার মাথা খাও।।
এই দেখা শেষ দেখা লো কন্যা,
আমি আইব না আর ফিরি।
তোমারে ভুলিলে কন্যা,
যেন জলে ডুইব্যা মরি।”
এমনি করেই সন্ধ্যার নিবু নিবু আলোতে বিনাথ চলে যায় অজানা আরেক যাত্রায়। কংস নদীর এ পাড়েতে পড়ে রয় তার প্রেয়সী, কন্যা বাতাসী। বাতাসীর দিনরাত যায় বিনাথের কথা ভেবে ভেবে।
রাইতদিন কান্দে কন্যা না খায় দানা পানি।
দিনে দিনে শুখায় কন্যার সোনার অঙ্গখানি।।
বিনাথ আর বাতাসীর এ দেখাই কি ছিল শেষ দেখা? নাকি ভাগ্যসর্পের ছোবলে আবার দুজনের পথ কখনো এক পথে আসবে? সুমাই ওঝা কি আবারো তাদের মাঝে দেয়াল হয়ে দাঁড়াবে, নাকি বুঝতে পারবে নিজের ভুল? জানা যাবে সব কিছুই ‘পীর-বাতাসী কন্যার পালা’র ২য় পর্বে। ততক্ষণ চোখ রাখুন অতিবেগুনীতে।
নগর থাইক্যা বিজন ভালা আপন থাইক্যা পর।
ঘর থাইক্যা বাহির ভালা আশায় করলে ভর।।
বাতাসীকে রেখে বিনাথ আর কোথায়ইবা যাবে, তিনকূলে তো কেউ নেই। তবু আস্তে আস্তে সে ফিরে গেল নিজের গাঁয়ে। নিজের তো আর বাড়িঘর, পরিবার নেই— তাই সোজা সে চলে গেল চাঁদ ব্যাপারির বাড়িতেই। গাঁয়ে ফিরে ওঝা বলে তার বেশ নামডাক হোল বৈকি। চাইলেই সে এখন মন্ত্র পড়ে মরা জিইয়ে তুলতে পারে। ঘটনাক্রমে চাঁদের এক ছেলেও সাপের কামড়ে মরতে বসেছিল, বিনাথই বাঁচালো তাকে।
সেই যে চাঁদের সঙ্গে বাণিজ্যে বেরিয়ে হারিয়েছিল বিনাথ, চাঁদ তাকে এক বিন্দুও ভোলেনি। তাইতো বিনাথকে ফিরে পেয়ে সে সাততাড়াতাড়ি নিজের মেয়ে সুজন্তীর সাথে বিনাথের বিয়ে দিয়ে দিলো। ছোটবেলার বন্ধু বটে, কিন্তু এখন যে বিনাথের মনে অন্য কেউ বাস করে। ওদিকে আবার সুজন্তীও পাড়ার এক যুবকের সঙ্গে প্রেম করে। বাপের দেয়া এ বিয়েতে সে-ও খুশি হয়নি একেবারেই। তবু চাঁদের মুখ চেয়ে তারা একসাথে থাকার চেষ্টা করে।
কোনোমতে দিন কেটে যাচ্ছিল। হঠাৎ বিনাথের গাঁয়ে এসে হাজির হলো সুমাই ওঝা। সকলকে সে পরিচয় দিলো, বিনাথের গুরু বলে। বিনাথেরই এত সম্মান এখন এখানে, বিনাথের গুরুকে তো সবাই মাথায় তুলে রাখলো। কিন্তু সুমাইয়ের মনে তো কুমন্ত্রণা শুধু। সে সুমন্তীকে কাজে লাগিয়ে বিনাথের জীয়নমন্তর কেড়ে নিলো। এ মন্ত্র না থাকলে বিনাথ আর শত চেষ্টা করেও কাউকে বাঁচাতে পারবে না। দুঃখেশোকে বিনাথ আবারো বাড়িঘর ছেড়ে হন্যে হয়ে বেরিয়ে গেল।
হাতে শুধু বাঁশের বাঁশি, আর চোখে বাতাসী কন্যাকে এক পলক দেখার ইচ্ছা। আবার সে চলে গেল সর্বহারা হয়ে, কংস নদীর তীরে। ওদিকেও বাতাসীও এলো চুলে, উদভ্রান্তের মতো এ ক’দিন শুধু বিনাথেরই নাম জপেছে, কেঁদেছে রাত্রিদিন। এতগুলো দিন পর তার সেই প্রিয় বাঁশির সুর শুনে সে আর ঘরে টিকতে পারলো না, দৌড়ে এলো নদীর কাছে।
“তোমার বাঁশি শুইনা রে বন্ধু আইলাম জলের ঘাটে।”
কিন্তু মিলনের সুখের পরেও বাতাসীর মনে চিন্তা। যদি কেউ দেখে ফেলে? যদি তার ওঝা-বাপ এসে আবার কুমন্তর করে বিনাথকে তার কাছ থেকে সরিয়ে দেয়? এদিকে সুমাই তাকে বিয়ে দিয়েছে বিরাট ঘরে। কিন্তু বাতাসীর তো সোনার খাট-পালঙ্ক চাই না; শুধু চাই বিনাথ, আর তার বাঁশের বাঁশি।
তাইতো দুজনে মিলে ফন্দি করে—
“ভমরা হইয়া রে বন্ধু লুকাও বনফুলে।
আইজ নিশিতে হইব দেখা এই না নদীর কূলে।।
দুই জনা পরামিশ আর না থাকিব দেশে।
এমুন দেশে যাইব তারা কেউ না পায় উরদিশে।”
এরপর রাত্রিবেলা দুজনে মিলে গহীন বনের পথে যাত্রা করে। আসার সময় বাতাসী নিজের গায়ের সব অলঙ্কার ফেলে আসে। একটি ফুটো কড়িও নিয়ে আসে না।
পাগলের মতো ছুটতে ছুটতে গিয়ে যখন বনের একবারে মাঝে গিয়ে পৌঁছালো তারা, তখন বিনাথ বললো, “বাতাসী, এসো— এইখানে ঘর বাঁধি।”
লতায় বান্ধিয়া ঘর পাতায় দিল ছানি।
সেই ঘরে বসত করে তারা দুইটি প্রাণী।।
কাছে আছে মিঠা জল বিরিক্ষে নানান ফল।
বড়ো বড়ো বিরিক্ষ আচে ছায়ায় শীতল।।
দুজনে মিলে বড় সুন্দর, সহজ-সরল জীবন কাটতে লাগলো তাদের। সারাদিন ভর তারা ঘরের কাজ করে, বাতাসী লতাপাতা-কাঠকুটো দিয়ে সুন্দর সব জিনিস বানায় আর সেগুলো দূরে হাটে গিয়ে বিনাথ বিক্রি করে আসে। এই দিয়েই তাদের চলে যায়।
কিন্তু পালিয়ে এলেই কি আর অতীতের সবকিছু পেছনে ফেলে আসা যায়? সকালে ঘুম থেকে উঠে সুমাই ওঝা যখন দেখলো, বাতাসী ঘরে নেই— তখন সে রেগেমেগে জ্বলে উঠলো।
পরভাতে সুমাই ওঝা কি কাম করিল।
বাতাসী কন্যারে ওঝা খুঁইজ্যা না পাইল।।
ঘাঠ খুঁজে জঙ্গলা রে খুঁজে কুথাও না পায়।
হিক পাড়িয়া ডাকে ওঝা করে হায় হায়।
যতই মন্দ বলুক, বাতাসীর জন্য ওঝার মনে বড় টান। তিন দিন তিন রাত সে কন্যার শোকে না খেয়ে থাকলো। এরপর ঘর ছেড়ে বেরিয়ে গেল তাকে খুঁজতে। একে-ওকে জিজ্ঞেস করে কোনো খোঁজ না পেয়ে ক্লান্ত হয়ে যখন হাটের পাশে বসে থাকলো, হঠাৎ তার নজরে পড়ে— বিনাথ পসরা সাজিয়ে বসে আছে। এই না দেখে সুমাই ওঝা বিনাথের দিকে লেলিয়ে দিল পদ্মনাল নামের এক কালনাগকে। রাতে যখন বিনাথ বাতাসীকে বুকে নিয়ে ঘুমিয়ে আছে, তখনই তার পায়ে ছোবল দিল সে সাপ।
“উঠ উঠ উঠ লো কন্যা, তুমি কত নিদ্রা যাও।
জীয়ন মন্তর হারাইছি আমি আইজ সপ্পে খাইল পাও।।
কাল নাগে খাইল মোরে বিষে ছাইল অঙ্গ।
সংসারের সুখের খেলা আইজ হইল ভঙ্গ।।”
আচমকা বিনাথের এই আর্তনাদে চোখ খুলে বাতাসী দেখে, ব্যথায় নীল হয়ে আছে তার মুখ। নিজের মাথার চুল ছিঁড়ে বাতাসী বিনাথের পায়ে গিঁট দেয়, কিন্তু কোনো লাভ হয় না। আস্তে আস্তে তার চোখের সামনেই নিস্তেজ হয়ে যায় বিনাথ। আকুলিবিকুলি করে কাঁদতে থাকে বাতাসী। আর তার সঙ্গে কাঁদের বনের পশুপাখি, প্রকৃতি।
পদ্মনালের পিছু পিছু আসে সুমাই ওঝাও। যতই রাগের মাথায় বিনাথকে মারতে সাপ পাঠাক, মেয়ের এমন অবস্থা দেখে তার মতো পাষাণেরও মন গলে যায়। বাতাসীর কান্না শুনে সে বিনাথকে বাঁচাতে যায়। কিন্তু সে নিজেই সাপের ছোবলে আরেকজনকে মারতে চেয়েছে, তাই তার জন্য আর জীয়ন মন্তর কাজ করতে চায় না। মন্ত্র ওলটপালট হয়ে ফিরে আসে। বিক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে সুমাই ওঝা।
কোরধেতে পড়িয়া ওঝা সপ্প চালান দিল।
সেইনা দোষে জ্ঞান মন্তর তাহারে ছাড়িল।
কন্যার কান্দনে হায় রে কডিন পাষাণ গলে।
বনে কান্দে বনের পশু পঙ্খী কান্দে ডালে।।
ধন্বন্তরী ওঝা যখন রাগের বশে হয়ে যায় ধ্বংসের কারিগর, তখন কি আর মন্ত্র পড়লেই তা সত্যি হয়ে যায়? হয় না। তাইতো বাতাসী কন্যা তার প্রিয়তম বিনাথকে নিয়ে বসে থাকে কংস নদীর তীরে— সেই নদীতে, যেখানে তাদের মিলন, বিরহ সবই হয়েছে। কিছুক্ষণ সেখানে বসে বিনাথকে নিয়ে ভেসে গেল সে নদীরই জলে।
সাক্ষী রইল সুমাই ওঝা আর বনের তরুলতা।
কি দোষ পাইয়া বিধি কন্যারে দিল এমুন বেথা।।
চান্দ সুরুজ সাক্ষী কইরা কন্যা কোন কাম করিল।
বন্ধেরে ভাসায়্যা সুতে আপনে ভাসাইল।।