Cover illustration for হলুদ বাদশা

হলুদ বাদশা

CATEGORY
Bengali Folktale

BASED ON THE BOOK

রংপুর গীতিকা

by বদিউজ্জামান

অনেক কাল আগে বল্লোব নামে এক শহর ছিল, যার রাজা ছিলেন হলুদ বাদশা। সেই রাজার ঘরে জন্ম নিলো এক রাজকন্যা, নওবাহার। তার হাসি, তার চাহনি—সবকিছুই এমন নির্মল, এমন উজ্জ্বল যে পরী থেকেও লজ্জা পায়। জগৎ থেকে তাকে আড়াল করে রাখার জন্য রাজা এক মায়াবী বাগান তৈরি করালেন, যেখানে পাঁচজন দাসীর তত্ত্বাবধানে নওবাহার বড় হতে লাগল।

​নওবাহারের বয়স যখন বারো, তার রূপে চারদিক ঝলমল করত। ঠিক সেই সময়ে, ফুলপরী নামে এক পরীর মনে মানুষের দেশ দেখার শখ জাগল। তার ইচ্ছে পূরণের নিমিত্ত দাসীরা রথ সাজিয়ে তাকে নিয়ে নেমে এলো মানুষের শহরের পথে। চলতে চলতে রথটি পৌঁছালো সেই বল্লোব শহরের বাগানের প্রাচীরের কাছে, যেখানে নওবাহার ছিল বসে। রথ থেকে নেমে ফুলপরী তার সঙ্গীদের নিয়ে বাগান ঘুরে দেখতে লাগল; তার গায়ের আভায় চারপাশ যেন আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠল। দেয়ালের এক ফাটল দিয়ে নওবাহার সেই আলো দেখতে পেয়ে ভাবল, যেন আকাশ থেকে সূর্যটাই মাটিতে নেমে এসেছে। ভয় আর কৌতূহলে সে দাসীদের বলল, “দেখো তো, কোনো দৈত্য এলো নাকি?” ​আড়ালে থাকা ফুলপরী কথাটা শুনে ফেলল। এই মানব কন্যার সরলতায় মুগ্ধ হয়ে সে তার বন্ধু হতে চাইল। মিষ্টি সুরে সে বলল, “আমি তোমার বন্ধু হতে চাই।”

​নওবাহার কণ্ঠ শুনল, কিন্তু কাউকে দেখতে পেল না। অনেক অনুরোধের পর ফুলপরী মানুষের রূপ ধরে তার সামনে এসে দাঁড়াল। সে বলল, “আমি চাই, আমাদের দুই জগতের মধ্যে বন্ধুত্বের এক নতুন সেতু তৈরি হোক।” নওবাহার খুশিতে রাজি হয়ে গেল এবং তার নতুন বন্ধুর জন্য সোনার আসন আনতে ভেতরে গেল।

কিন্তু কাহিনীতে এলো এক অনিশ্চিত মোড়। নওবাহারের ভাই, রাজকুমার নওরাজ, আড়াল থেকে ফুলপরীর স্বর্গীয় রূপ দেখে নিজেকে সামলাতে পারল না। এক দুরন্ত ঝোঁকের বশে সে পরীর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল তাকে ধরবে বলে। ভয়ে আর আতঙ্কে ফুলপরী পালাতে গেলে নওরাজ তার পরনের কাপড় টেনে ছিঁড়ে ফেলল। চরম অপমানে বিবস্ত্র হয়ে পরী নিজেকে আড়াল করে চিৎকার করে বলল, “আমি তোমার বোন আর তুমি আমার ভাই। তুমি কেন আমার গায়ে হাত দিলে। এটা তোমার করা উচিত হয়নি।”

​“আমি কিচ্ছু জানি না,” নওরাজ অহংকারী গলায় উত্তর দিল, “আমি তোমার জন্য পাগল।” তার কণ্ঠে ভালোবাসার চেয়ে অধিকারের দম্ভই ছিল বেশি। ​ঘটনা জানতে পেরে নওবাহারের মন সন্দেহে বিষিয়ে গেল। সে ভাবল, ফুলপরী নিশ্চয়ই তার ভাইকে লোভ দেখানোর উদ্দেশ্যেই এখানে এসেছিল। “বন্ধুত্বের কথা ভুলে যাও,” সে শীতল কণ্ঠে বলল। “আজ থেকে তুমি আমার ভাবী, আর আমি তোমার ননদ।”

​এই অপমান ফুলপরীর আত্মসম্মানে আগুনের মতো আঘাত করল। তার কণ্ঠ দিয়ে যেন আগুনের হলকা বেরিয়ে এলো, “এর শাস্তি তোমাকে পেতেই হবে! তুমিই আমার সম্মান নষ্ট করেছ!” সে তার নিজের জগতে ফিরে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে বলল যে তার নব্বই হাজার সৈন্য নওরাজের বিয়ের শখ মেটানোর জন্য যথেষ্ট। নওবাহারও পাল্টা জবাব দিল, বলল যে পুরুষেরা পরীদের চুল ধরে টেনে নামানোর ক্ষমতা রাখে।

​এদিকে, নওরাজ তখনও ফুলপরীকে পাওয়ার জন্য মরিয়া। পরী অসহায়ভাবে তার পোশাক ফেরত চাইল। বিনিময়ে সে তার হাতের একটি জাদুকরী আংটি খুলে দিতে চাইল। নওরাজ আংটিটি হাতে তুলে নিল, কিন্তু এরপরও তার পোশাক ফিরিয়ে দিল না। পরাজিত, অপমানিত ফুলপরী বিবস্ত্র অবস্থাতেই নিজের জগতে ফিরে গেল।

​সেখানে ফিরে সে কাঁদতে কাঁদতে তার মাকে বলল যে নদীর ঘাটে তার আংটি হারিয়ে গেছে। রানীর মুখ ফ্যাকাসে হয়ে গেল। “ওটা কোনো সাধারণ আংটি ছিল না,” তিনি বলে উঠলেন। “ওটা তোর বাবার দেওয়া। সেই আংটির জাদুতে, যে পুরুষ ওটা হাতে পাবে, সেই তোর স্বামী হবে।” ​একথা শুনে ফুলপরীর পৃথিবী যেন দুলে উঠল। সে সারাজীবন দেবলোকের কাউকে বিয়ে করার স্বপ্ন দেখত, আর আজ তার ভাগ্য এক মর্ত্যের মানুষের হাতে বাঁধা পড়ে গেল। দুঃখে আর অভিমানে সে শপথ করল, জীবনে সে আর বিয়েই করবে না।

​বছর গড়িয়ে গেল। বারো বছরের সেই ছোট্ট পরী আজ ত্রিশ বছরের এক তরুণী। রাজ্যে তাকে নিয়ে কানাঘুষা শুরু হলো—এত বয়সে কোনো নারী অবিবাহিত থাকে না। দূর-দূরান্তের রাজপুত্রেরা বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে এলেও সে সবাইকে ফিরিয়ে দিত। অবশেষে একদিন চাপের মুখে সে সত্যিটা স্বীকার করল: তার ভাগ্য বল্লোবের রাজকুমার নওরাজের কাছে বাঁধা, যার কাছে তার জাদুকরী আংটিটা রয়ে গেছে।

​সব শুনে পরীর বাবা, পরীদের রাজা, দুই রাজ্যের মধ্যে একটি বিশাল রাস্তা তৈরির আদেশ দিলেন, যাতে বিয়ের আয়োজন সম্পন্ন করা যায়। দিনরাত খেটে শ্রমিকেরা এক আশ্চর্য সুন্দর পথ তৈরি করল, যেখানে কিছুক্ষণ পর পর ছিল বাগান আর বিশ্রামের জায়গা। রাস্তা তৈরি হয়ে গেলে রাজার দূত বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে বল্লোব শহরের দিকে রওনা হলো।

​হলুদ বাদশা চিঠি পড়ে ছেলের মতামত জানতে চাইলেন। কিন্তু নওরাজ, কনে কে তা জানার চেষ্টাও না করে, নিজেকে ঘরের মধ্যে বন্ধ করে ফেলল। বাবা-মায়ের হাহাকার শুনে নওবাহার এগিয়ে এসে সবাইকে সেই পুরনো দিনের ঘটনা খুলে বলল। তারপর সে ভাইকে ঘর থেকে বের করে এনে জানাল, “ফুলপরী তোমার জন্য বিয়ের প্রস্তাব পাঠিয়েছে।”

​একথা শুনে নওরাজ রাজি হয়ে গেল। রাজা খুশিতে আত্মহারা হয়ে গেলেন এবং রাজ্যজুড়ে বিশাল আয়োজনের নির্দেশ দিলেন। হাতি, ঘোড়া আর রথ রঙিন পতাকা আর মণিমুক্তোয় সাজানো হলো। নওরাজকে সোনার আসনে বসিয়ে সুগন্ধি জলে স্নান করানো হলো, তারপর রাজকীয় পোশাকে আর সোনার গয়নায় সাজিয়ে তোলা হলো। দেখতে তাকে চাঁদের মতোই লাগছিল। ​এরপর এক বিশাল হাতির পিঠে চড়ে নওরাজের বরযাত্রী রওনা হলো। সামনে পতাকাধারী সৈন্য, পেছনে দাসদাসীদের সোনার রথ, আর ঢাক-ঢোল-সানাইয়ের শব্দে চারদিক মুখরিত। মাঠ, ঘাট, নদী, জঙ্গল পেরিয়ে সেই শোভাযাত্রা অবশেষে এসে পৌঁছাল এক রহস্যময় ডাকিনীর শহরে।

নওরাজ এক রহস্যময় রাজ্যে পা রাখল—ডাকিনীদের বাসস্থান । পথের দু’পাশে কেবল মায়াজাল আর বিভ্রম ছড়ানো । কেউ বসন খুলে আহ্বান জানায়, কেউ চোখের ইশারায় গোপন মন্ত্রবলে টেনে নেয়, আবার কেউ লাস্যময় দেহভঙ্গিমায় সাধু-সন্ন্যাসীর তপস্যাও ধ্বংস করে দিতে চায় । সেই মায়াপুরীতে এসে নিতান্ত মানব সন্তান নওরাজ পথ হারাল । ফুলপরীর কথা ভুলে তার হৃদয় কামের মোহে বিভ্রান্ত হলো । ডাকিনীরা রাজকুমারকে ফাঁদে ফেলার সিদ্ধান্ত নিল । তারা এক ভয়ংকর রাক্ষসকে নওরাজের রূপ দিয়ে হাতির পিঠে চড়িয়ে পরীস্থানের দিকে পাঠিয়ে দিল । কেউই জানতে পারল না, যাকে রাজপুত্র ভেবে বরণ করে নেওয়া হচ্ছে, সে আসলে এক রূপবদলকারী দানব ।

এদিকে পরীস্থানে রাজা সৈন্য-সামন্ত, গায়ক-বাদক ও অলংকৃত রথ দিয়ে প্রাসাদ সাজিয়েছেন । ফুলপরীকেও অপরূপ সাজে সাজিয়ে তোলা হচ্ছে । শুভদিন দেখে বিয়ে, ভোজ এবং উৎসবের আয়োজন সম্পন্ন হলো । কিন্তু এই বর তো মানুষ নয় । রাক্ষসটি কিছুই খেল না, বরং রেগে উঠল । সে অজুহাত দিল যে, শৈশবে সে প্রতিজ্ঞা করেছিল, বিয়ের পর সাতদিন শ্বশুরবাড়িতে কিছুই মুখে তুলবে না । রাজা এই কথায় গর্বিত হয়ে রাজকুমার ও তার কন্যাকে বল্লোব শহরের উদ্দেশ্যে পাঠিয়ে দিলেন । পথে আবার সেই ডাকিনীর দেশ পড়ল । সেখানে আসল নওরাজ তখন লোহার শিকলে বাঁধা ।

ফুলপরীকে দেখতে পেয়ে দুজন দানব তাকে আক্রমণ করল । কিন্তু আড়াল থেকে হলুদ বাদশা সব দেখছিলেন । তিনি তার সৈন্য নিয়ে পুত্র ও পুত্রবধূকে উদ্ধার করলেন—অথবা অন্তত তিনি তাই ভাবলেন । তিনি ঘুণাক্ষরেও টের পেলেন না যে, নওরাজের ছদ্মবেশে এক রাক্ষস তার রাজ্যে প্রবেশ করেছে । বল্লোব নগরীতে উৎসবের জোয়ার বইছে । নতুন বধূ এসেছে, রাজা আনন্দে আত্মহারা । কিন্তু বাসর রাতে ঘটল এক ভয়ঙ্কর ঘটনা । ফুলপরীর চোখের সামনেই রাজপুত্রের রূপ বদলে গিয়ে এক ভয়াল রাক্ষসের চেহারা বেরিয়ে এলো । ফুলপরী চিৎকার করেও কাউকে পেল না । সে তার পাখা মেলে মুহূর্তে উড়ে পরীস্থানে পালিয়ে গেল, পেছনে রেখে গেল এক বিভ্রান্ত রাজ্য আর এক বিভীষিকাময় রাত ।

অন্যদিকে ডাকিনী রাজ্যে, এক বৃদ্ধা ডাকিনী নওরাজের আর্তনাদ শুনে দয়া করল । সে মন্ত্র পড়ে তার শিকল ভেঙে দিল । একটি চন্দনগাছকে জীবন্ত করে সে নির্দেশ দিল, “ওকে পরীস্থানে নিয়ে যাও।” ছয় মাসের পথ তারা ছয় দণ্ডেই পাড়ি দিয়ে কুকাপ জঙ্গলে এসে নামল । সেখানে চারপাশে ছিল হিংস্র পশু আর মৃত্যুর ভয় ।

বল্লোব শহরে তখন এক অন্ধকার যুগ নেমে এসেছে । রাক্ষসটি তার আসল রূপে ফিরে প্রজাদের ধরে খেতে শুরু করেছে । গবাদিপশু, শিশু, বৃদ্ধ—কেউই তার হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছিল না । রাজা আত্মগোপন করতে বাধ্য হলেন, আর নগরী ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছাল ।

হঠাৎ করেই ফুলপরীর কুকাপ জঙ্গলে যাওয়ার শখ হলো । সেখানেই তার সঙ্গে নওরাজের দেখা হলো । কিন্তু নওরাজের দিকে তাকাতেই সে চমকে উঠল—এ তো সেই দানব! সে বুঝতেই পারল না যে, তার সামনে তার আসল স্বামীই দাঁড়িয়ে আছে । নওরাজ তাকে সব বোঝানোর চেষ্টা করল, অশ্রু ঝরিয়েও নিজের পরিচয় প্রমাণ করতে পারল না । ফুলপরী তাকে বন্দী করে বাইশ মণ পাথরের নিচে চাপা দেওয়ার আদেশ দিল । সেই কারাগারে শ্বাসরুদ্ধ অবস্থায় নওরাজ কেবল আল্লাহর কাছে মিনতি জানাল: “দয়া করো, সত্য প্রকাশ করো।” ফুলপরীও প্রার্থনা করল, “যদি সে দানব হয়, তবে এখানেই যেন তার মৃত্যু হয়। আর যদি সে আমার স্বামী হয়, তবে সে যেন বেঁচে থাকে।” খোদার আরশ কেঁপে উঠল । পাথর শোলার মতো হালকা হয়ে গেল আর শিকল ছিঁড়ে পড়ল । নওরাজ উঠে দাঁড়িয়ে কাঁদতে লাগল, তার হৃদয় সত্যের আলোয় ভেসে গেল ।

তবু ফুলপরীর সন্দেহ গেল না । সে নওরাজকে আগুনের ওপর দিয়ে হেঁটে যেতে বলল । নওরাজ আগুনে পা রাখামাত্রই তা ফুল হয়ে গেল । তবুও তার বিশ্বাস এলো না । সে নওরাজের গলায় তুলার মালা পরিয়ে বলল, “যাও, স্বর্গপুরীতে যাও।” এরপর সে স্বামীকে ফিরিয়ে আনার জন্য ফিরানী মালা ছুঁড়ে ফেলল । কিন্তু মালা একাই ফিরে এলো , নওরাজ আর ফিরল না ।

স্বর্গপুরীতে, গোলকজান নামের এক দেবী—যার বহু যুগ ধরে বিয়ে হয়নি—নওরাজকে দেখে তার প্রেমে পড়ে গেল । সে নওরাজকে বিয়ে করে দেবপুরীতে নিয়ে গেল । তখন ফুলপরী নিজের ভুল বুঝতে পারল । সে তার মায়ের কাছে গিয়ে সব খুলে বলল । মা রেগে গিয়ে বললেন, স্বামীকে না চিনতে পারাটা চরম বোকামি । পরীস্থানের রানী তখন স্বর্গপুরীতে বানের মালা পাঠাতে শুরু করলেন , কিন্তু গোলকজান সবকিছু ধরে ফেলল । পরে সে নিজেই রথে চড়ে পরীস্থানে এলো । ফুলপরী রাগে তার চুলের মুঠি ধরে মারতে গেল । গোলকজান তখন জানাল যে, সে জানত না নওরাজ বিবাহিত । গোলকজান নওরাজকে ফিরিয়ে আনল । নওরাজ তার দুই স্ত্রীকে নিয়ে পরীস্থানে ফিরে এলো । কিছুদিন সেখানে থাকার পর সে তার বাবা-মাকে খোঁজার ইচ্ছার কথা জানাল ।

দুই বধূকে নিয়ে নওরাজ রথে চড়ে কুকাপ শহরে এলো । তারপর গেরুয়া বসন পরে আর কাঁধে ঝোলা নিয়ে সে গ্রামে গ্রামে তার বাবা-মাকে খুঁজতে লাগল । ততদিনে বল্লোব নগরী এক ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে । রাক্ষসের ভয়ে সব প্রজা পালিয়ে গেছে, রাজা-রানীও নিরুদ্দেশ । রাক্ষসটি সেখানে অশান্তির প্রতীক হয়ে উঠেছে । তখন ফুলপরী তার জাদুকর মাকে স্মরণ করল । পরীর রানী মন্ত্রের জোরে ঘুমন্ত রাক্ষসকে বেঁধে ফেলে চারদিকে আগুন ধরিয়ে দিলেন । সেই আগুনে পুড়েই রাক্ষসটি মারা গেল এবং দীর্ঘদিনের আতঙ্কের অবসান হলো ।

এদিকে নওরাজ মরিয়া হয়ে তার বাবা-মাকে খুঁজে বেড়াচ্ছিল । আড়াল থেকে তার মা ছেলের কণ্ঠ চিনতে পারলেন । তিনি রাজাকে জানালেন যে তাদের আদরের পুত্র ফিরে এসেছে । কিন্তু রাজার ভয় গেল না; তিনি ভাবলেন, এ হয়তো রাক্ষসেরই আরেকটি রূপ । কিন্তু ছেলের কাছে যাবার আকুলতায় রাণি বের হয় আসে। নওরাজ মাকে বুকে জড়িয়ে ধরে। ছেলের কথা শুনে হলুদ বাদশা “আমার জাদু, আমার জাদু” বলে আড়াল থেকে বেরিয়ে এলেন এবং সকল সত্য প্রকাশ পেল ।

অবশেষে, নওরাজ, ফুলপরী আর গোলকজানকে নিয়ে রাজা-রানী মিলেমিশে আবার শান্তির বল্লোব নগরী গড়ে তুললেন । ভ্রান্তি, বিশ্বাস আর প্রেমের কঠিন পরীক্ষায় শেষ পর্যন্ত হৃদয়ের সত্যেরই জয় হলো ।